ডোরা ব্রুডার বা Dora Bruder ( ফ্রেঞ্চ উচ্চারণ দোহা ব্রুদার)

mod

mod-doএক কিশোরীর অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে Dora Bruder ( ফ্রেঞ্চ উচ্চারণ দোহা ব্রুদার) উপন্যাসটি। মোদিয়ানোর বিখ্যাত ‘আউট অব দি ডার্ক’ উপন্যাসটির মতো এই উপন্যাসটিও বেশ ছোট। এই উপন্যাসটিও ‘আউট অব দি ডার্ক’ এর মতোই নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখা। কিন্তু Dora Bruder যেন আরো বেশি বিষণ্ণ, আরো বেশি স্মৃতিকাতর।

কনভেন্ট স্কুল থেকে পালিয়ে যাওয়া এক কিশোরীকে খুঁজে বের করার চেষ্টার জটিল এক কাহিনী এটা। এর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে যৌক্তিক অনুমান আর আবেগ মিশ্রিত কল্পনা। মোদিয়ানোর এই খুঁজে বেড়ানোর গল্পটা শুরু হয় ১০ বছর আগে, যেদিন সে ১৯৪১ সালের এক পুরনো খবরের কাগজে Dora Bruder  নামে ১৫ বছরের এক কিশোরীর নিখোঁজ সংবাদ দেখতে পায়।

চরিত্র নির্মাণের যে অসাধারণ দক্ষতা মোদিয়ানোকে সমসাময়িক ফরাসী উপন্যাসিকদের থেকে আলাদা করেছে তা ব্যবহার করে মেয়েটির খোঁজে মোদিয়ানো দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, সরকারী-বেসরকারি অফিসে হন্যে হয়ে দলিল দস্তাবেজের পেছনে ছুটেছেন। মেয়েটি এমন এক জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়েছে যে জায়গাটিতে ৫০ বছর আগে লেখকের নিয়মিত পদচারনা ছিল। কিন্তু মোদিয়ানো মেয়েটি সম্পর্কে কোন প্রকার তথ্যই পাচ্ছিলেন না। অনেক খেটেখুটে যা পাওয়া গেল তা হচ্ছে ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে সব জীউস প্যারিস থেকে আউশুইচ (Auschwitz) গিয়েছে তাদের তালিকায় মেয়েটির নাম।

পুরনো খবরের কাগজের সেই বিজ্ঞপ্তি আর এই তালিকাটি ছাড়া মোদিয়ানোর কাছে Dora সম্পর্কে আর কোন তথ্য ছিল না। কিন্তু এইটুকু সম্বল করেই তিনি অতীত খুঁড়ে মেয়েটির হদিশ বের করার চেষ্টা চালিয়ে যান। তাঁর এই নিরন্তর খুঁজে চলার ভেতর দিয়ে নাৎসি অকুপেশনের সময়কার প্যারিসের ভয় আর অনিশ্চয়তার এক পরাবাস্তব দৃশ্য আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে! ইতিহাস কে কি করে গল্পের আকারে বলতে হয় তা এই উপন্যাসটি নতুন করে দেখিয়েছে।

মোদিয়ানো এমন একজন লেখক যার লেখা সবার হয়তো ভাল লাগবে না। তাঁকে ও তাঁর লেখাকে কোন একটি নির্দিষ্ট ছকে ফেলা দুষ্কর। তিনি একাধারে বিষণ্ণতার প্রতিচ্ছবি, আবার আশার আলোকবর্তিকা। গল্প বলার স্বতন্ত্র ও স্বকীয় শৈলীই তাঁকে অনন্যসাধারণ করেছে।

Write a Review with Facebook