এ স্মল টাউন ইন জার্মানি

A Small Town in Germanyথ্রিলার টাইপের এই উপন্যাসটি পড়ে খুব আনন্দ পেয়েছি। আমার কাছে  থ্রিলার বই মানে হলো প্রতিটি পাতায় থাকবে প্রচুর পরিমান উত্তেজনা এবং শ্বাসরুদ্ধ অবস্থা। অনেক দিন পরে মনের মত একটি থ্রিলার পড়লাম। জন ল্য ক্যারের লিখা বই আগে আর পড়িনি। অসাধারন লিখেছেন লেখক। নেটে খুজতে, খুজতে ল্য ক্যারের আরো দুটি পেয়ে গেলাম। থ্রিলার টাইপের বই পড়তে যারা পছন্দ করেন তারা জন ল্য ক্যারে পড়ে দেখতে পারেন। হঠাৎ করেই নিখোজ হয়ে যায় ব্রিটিশ একজন লোক। সে কাজ করতো পশ্চিম জার্মানির রাজধানী বনের ব্রিটিশ দূতাবাসে। হোমরা-চোমরা কেউ না। নিচের স্তরে কাজ করা সাধারন একজন কর্মচারি। ব্রিটিশ দূতাবাসের মাথা ব্যাথা হাড়িয়ে যাওয়া কর্মচারির জন্য না। লোকটির সাথে সাথে অনেক গুলো টপ সিক্রেট দলিলও গায়েব হয়ে যায় ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে। যে কোন মূ্ল্যে কাগজ গুলো ফেড়ত চাই ব্রিটিশ দূতাবাসের। না হলে চরম মূল্য দিতে হবে দূতাবাস। এবং খুব লজ্জার মধ্যে পরবে বৃট্রিস সরকার। ঘটনার তদন্ত করতে লন্ডন থেকে উড়িয়ে আনা হলো অ্যালান টার্নার নামের একজনকে। ভিঞ্চি-কোড বইটি যাদের ভাল লেগেছে তাদের অবশ্যই বইটি পড়ে দেখতে পারেন। বইটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বেঁচে যাওয়া নাৎসীরা আবার কিভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছানোর জন্য কাজ শুরু করে, কিভাবে তারা সরকারের সাথে যোগসাজশ গড়ে তোলে, কিভাবে ব্যবসা–বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে তার একটা সাবলীল বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

তিন নম্বর চোখ(কিশোর কল্পবিজ্ঞান)

Kishor_Kalpobigyan_Samagra_সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। এই নামটির সাথে পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু তার লেখার সাথে পরিচয় হয় বেশ পরে। মুলত ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে কাকাবাবু সমগ্র পড়ি। সেই ছিল প্রথম তার কোন লেখা পড়া। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার অনেক লেখা পড়ার সুযোগ এসেছে। কিন্তু ২-১টি ছাড়া তেমন একটা পড়া হয়নি। আসলে আগ্রহ পাইনি। এর মধ্যে একদিন তার একটা বইয়ের নাম জানতে পারলাম। তিন নম্বর চোখ, একটি কিশোর কল্পবিজ্ঞান। কল্পবিজ্ঞান শুনেই মুলত আগ্রহ জন্মায়। এরপর তার অন্যান্য কল্পবিজ্ঞান নিয়েও খোঁজ করা শুরু করলাম। জানতে পারলাম আকাশ দস্যু, অন্ধকারে সবুজ আলো উপন্যাসের কথাও। এসব খোঁজের মাঝে একদিন তার লেখা “কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র”  খুঁজে পেলাম। তারপর আর দেরি না করে পড়া শুরু করি তিন নম্বর চোখ।

সুজয়।ডাকনাম জয়।বার-তের বছরের এক ছেলে।এই জয়কে ঘিরেই তিন নম্বর চোখ বইয়ের কাহিনী।জয় তার বাবা,মা আর ছোড়দির প্রত্যেক বছর দূরদূরান্তে বেড়াতে যায়।এবার তারা জলগাঁও গিয়েছে।জয়ের মামাবাড়ি।দুই মামাত ভাইয়ের সাথে জয় বেশ আনন্দেই সময় কাটাচ্ছে।সারাদিন ক্রিকেট খেলা,ছুটোছুটি,হাসাহাসি করে তাদের দিন কাটচ্ছে।জয়কে ওর কাকাবাবুর দেওয়া এয়ার গান দিয়েছিল।সেটা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা।এসব পর্যন্ত ঠিকই ছিল।কিন্তু এরপর একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল।তারপর থেকে জয়ের জীবনটাই বদলে গেল।

কাহিনী সংক্ষেপ-
ঘোড়ার আবার শিং হয় না কি!!কিন্তু জয় যে দেখল!তার দুই মামাত ভাই রাণা আর খোকন যে এ কথা মানতেই চায় না।তাই বাধ্য হয়ে ঘোড়ার গাড়িটিকেই থামায় ওরা।কিন্তু কোথায় শিং!শিং যে হাওয়া।উল্টো জয় দেখল,যে গাড়িটিতে একটু আগে ১ জন ছিল এখন কিভাবে যেন ২ জন এসে গেছে।কি করে এটা সম্ভব।এ কথা রাণা-খোকনদের বলতে তারা বলল লোক ১জনই ছিল,১জনই আছে!!তারা তো জয়ের উপর হেসেই অস্থির।কি হয়েছে জয়ের।ও কি পাগল হয়ে গেল,নাকি ও অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই দেখতে পায়!

একটু বিজ্ঞান আর অনেকখানি কল্পনা।এই দুই এর মিশেলেই তিন নম্বর চোখ।যদিও লেখাটিকে আমার ঠিক সায়েন্স ফিকশন মনে হয়নি।আসলে এর আগে জুল ভার্ন,মুহম্মদ জাফর ইকবাল,আইজ্যাক আসিমভ এদের লেখা পড়ে এসেছি।তাদের লেখা সায়েন্স ফিকশনের সাথে এই লেখার ধরন ঠিক মেলে না।উল্টো কাকাবাবুর উপন্যাসগুলোর লেখার স্টাইলের সাথে তিন নম্বর চোখের কিছুটা মিল আছে!(এটাই তো স্বাভাবিক)তবে তা বলে লেখাটি পড়ার মজা বিন্দুমাত্র কমে না।লেখাটি পড়ার সময় বেশ অন্য ধরনের একটি আনন্দ পেয়েছি।তাই পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা বেশ দ্রুতই পড়েছিলাম।

মাত্র ৫৬ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস।উপন্যাস না বলে হয়ত উপন্যাসিকা বললেই ঠিক হত।কিন্তু এই ছোট লেখাটিতেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর চমৎকার লেখনী ফুটে উঠেছে।লেখাটি ছোট হলেও দুর্দান্ত এ কথা বলা চলে।কিন্তু সমস্যা হল লেখাটি হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল।অন্তত আমার কাছে তাই মনে হল।লেখাটি আরেকটু বড় হতেই পারত।কাহিনী যেভাবে এগোচ্ছিল তাতে আরও কিছু আশা করাটা অন্যায় নয়।লেখাটি যে সকল চরিত্র,ঘটনা দিয়ে সাজানো হয়েছে তাতে আরও জমজমাট কিছু দিয়ে লেখাটি শেষ হবে আশা করেছিলাম।কিন্তু এ দেখি ছোট গল্পের মত আশা জাগিয়েই শেষ।এসবের কারনে আমার মনে কিঞ্চিৎ হতাশা থাকলেও তাতে লেখাটির আবেদন কমে যায় না।লেখাটি মুলত কিশোরদের জন্য লেখা হলেও আমার মতে সকল বয়সী পাঠকই পড়তে পারে।

এক নজরে
উপন্যাসের নাম-তিন নম্বর চোখ।
বইয়ের নাম-কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র।
লেখক-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রকাশক-পত্র ভারতী।
আমার রেটিং-৩.৭৫/৫

ভার্টিকাল রান

Vertical Runজোসেফ আর গারবারের ভার্টিকাল রান  বইটি পড়ে শেষ করলাম মাত্র। বইটি যে কিভাবে শেষ হলো বলতে পারছি না। টান টান উত্তেজনায় পাতার পর পাতা পড়ে গেছি শুধু। কাহিনীটাকে কি বলা যায়, এ্যাকশন? থ্রিলার? নাকি ক্রাইম? সবকিছু আছে উপন্যাসটিতে। একবার ভাবুনতো হঠাৎ যদি পরিচিত পৃথিবীটা পাল্টে যায় আপনার, খুব কাছের মানুষগুলো যদি খুন করতে চায় আপনাকে, কেমন লাগবে আপনার? এমনই ঘটেছে বইটির কাহিনীতে। প্রায় দের মাস কোন বই পড়িনি কাজের চাপের কারনে। দের মাস পর হাতে নেওয়া বইটি এতটা দুর্দান্ত, এতটা রহস্যময় হবে ভাবতেও পারিনি। শুরু থেকে কাহিনীটিকে আমার অসম্ভব গতিময় মনে হয়েছে। এধরনের বই অনেক দিন পর পড়লাম। এক কথায় উপন্যাসটি এ্যাকশনের একটি মজার কেন্ডি। যে কেন্ডি খেলে পাঠকরা অসাধারন মজা পাবে, কোন ভুল নেই। মাত্র একটি দিনের কাহিনী নিয়ে এমন উপন্যাস আর আছে কিনা মনে করতে পারছি না। অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ডেভ এলিয়ট এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পজিশনে কাজ করে একটি মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিতে। সকাল হওয়ার সাথে সাথে নিঃতেজ নিউইয়র্ক সিটি জেগে উঠছে ধীরে ধীরে। প্রতিদিনের মত আজও ডেভ এলিয়ট সকাল সকাল তার অফিসে পৌছে গেলো। পঞ্চাশ তলা অফিসের ৪৫ তলায় সে বসে। অফিস টাইম এখনো শুরু হয়নি, ঘড়িতে বাজে মাত্র সকাল ৭:২০। ডেভ এলিয়ট কল্পনাও করতে পারবে না আজ তার কেমন দিন! কি নেমে আসছে তার উপর আগামী কয়েক ঘন্টায়। কম্পানির প্রেসিডেন্টকে দিয়ে শুরু হয় বহুতল ভবনের ভেতরে ইঁদুর বেড়াল অসামঞ্জস্য লড়াইয়ের শুরু। কেন তাকে মেরে ফেলার জন্য এমন পাগল হয়ে উঠছে সবাই বুঝতেই পারছে না ডেভ। কি তার অপরাধ? এটা না-জেনেই কি তাকে এই পৃথিবী ছাড়তে হবে? প্রিয়তমাস্ত্রীকে আর কখনও বলা হবে না ভালবাসি কথাটি, নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয় সন্তানকে আর বুঝি বুকে জড়িয়ে ধরা হবে না। কারন তারাও যে খুন করতে চায় ডেভকে। বাসা থেকে অফিসে আসার সময় পৃথিবীটা ছিল ভালবাসায় পরিপূর্ন মাত্র কয়েক ঘন্টায় পাল্টে গেল সব কিছু। কেন সবাই এমন আচরন করছে ডেভের সাথে? জানতে হলে পড়ে ফেলুন ভার্টিকাল রান বইটি।

এভেন্জার-ফ্রেডরিক ফরসাইথ

Avengerথ্রিলার কাহিনী যারা পড়তে পছন্দ করে এবং ভালবাসে, তাদের বেশী ভাগের সাথে ফ্রেডরিক ফরসাইথের লেখার পরিচয় হয়ে গেছে বলে আমার মনে হয়। এখনকার থ্রিলার লেখকদের মধ্যে ফ্রেডরিক অন্যতম। তার লেখা মানেই হলো অসাধারন কোন থ্রিলার কাহিনীর গুপ্ত-ভান্ডার। থ্রিলার কাহিনীতেও যে এত ধরনের অথেনটিক ডাটা আসতে পারে তা আগে বুঝতে পারিনি। তার লেখা প্রতিটি বই পাঠককে নিয়ে যাবে অন্য রকম এক থ্রিলিং জগৎতে। দ্য ডে অফ দ্য জ্যাকেল যে পাঠকরা পড়েছেন তারা আবশ্যই ফ্রেডরিক ফরসাইথ লেখার ক্ষমতা সম্পর্কে জেনে গেছে। এভেন্জার উপন্যাস কাহিনীটি সত্যি আমাকে অনেক মজা দিয়েছে। অনেক চালাকি দেখিয়েছেন লেখক সাহেব। উপন্যাসটিতে যে সমস্ত ডাটা এসেছ তা সবই সত্য। ত্রানকর্মি হিসাবে বসনিয়ায় কাজ করতে গিয়ে রিকি নামের ১৮ বছরর তরতাজা একজন আমেরিকান তরুন লাপাত্তা হয়ে যাওয়া এবং তাকে উদ্ধার করা নিয়ে মূল কাহিনী। রিকির হাড়িয়ে যাওয়া নিয়ে কেউ কিছু জানে না, জানলেও বলার মত সাহস নেই। রিকির নানা পাগল হয়ে উঠে তাকে উদ্ধারের জন্য। কিন্তু আমেরিকার কোন সংস্থাই তাকে আশার আলো দেখাতে পারে না। এক সময় তিনি জানতে পারেন রিকি বেঁচে নেই। কিন্তু খুনি বেঁচে আছে। খুনিকে জীবন্ত ধরে তার কাছে আনার জন্য একজনকে ভাড়া করেন তিনি। সেই একজনটি কে? এবং এই রহস্যময় মানুষটি কিভাবে খুনির কাছে পৌছায় জানতে হলে পড়তে হবে এভেন্জার বইটি। এরকম বই একমাত্র ফ্রেডরিক ফরসাইথকে দিয়েই লেখা সম্ভব।

ড্যানি নামের ছেলেটা এবং তার মজার বাবা

ড্যানি নামের ছেলেটা এবং তার মজার বাবাড্যানি নামের ছেলেটা এবং তার মজার বাবা রোয়াল ডালের এই বইটি পড়ে অসম্ভব আবেগ আপ্লুত হয়েছি। ছোটদেরকে নিয়ে যতগুলো উপন্যাস এখন পর্যন্ত লেখা হয়েছে তার মধ্যে এই বইটিকে প্রথম ধরা হয়। পৃথিবীতে কিছু সম্পর্কে বলা হয় স্বর্গিয় সম্পর্ক। যেমন মা-ছেলের সম্পর্ক, বাবা-মেয়ের সম্পর্ক ইত্যাদি। আমার মনে হয় বাবা আর ছেলের সম্পর্ক যদি বন্ধুর মত হয় তাহলে সেটার মত অসাধারন আর কিছু হতে পারে না। যে ছেলেগুলো একদম ছোট থাকতে মাকে হাড়ায় এবং বাবা যদি দ্বিতিয় বিয়ে না করে তাহলে সেই সব ছেলেগুলো হয় বাবার একদম কাছের মানুষ, বন্ধুর মত। বাবা আর ছেলের কাহিনী নিয়ে এত সুন্দর উপন্যাস আর পাওয়া যাবে না। ছোট্ট ড্যানির সব কিছু বাবাকে ঘিরে। বাবাই তার সব। মাকে হাড়িয়েছে বলতে গেলে জন্মের সময়ই। তাই বাবার সাথেই সব কিছু শেয়ার করে। ড্যানির কাছে মনে হয় তার বাবার মত জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান মানুষ আর নেই। ছোটবেলায় সব বাচ্চারা তাদের বাবাকে সুপারম্যান অথবা খুব বড় মেজিশিয়ান ভাবে। ড্যানির কাছে তার বাবাও সেরকমের একজন। সে থাকে বাবার সাথে পুরনো একটি ক্যারাভানে। নয় বছর বয়সে সে একটি সত্য জেনে যায় তার বাবা সম্পর্কে। তার পরের কাহিনী হলো বাবা আর ছেলের এ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী। এক দুষ্ট জমিদারকে জব্দ করার ভয়ানক ফন্দি।

আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে

আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছেরোমিও-জুলিয়েট টাইপ না-হোক, আমাদের সবারই একটি করে প্রেম কাহিনী আছে স্কুল-জীবনে অথবা কলেজ-জীবনে। হয়তো অনেকে সাহসী হয়ে বলতে পেরেছি ভালবাসার কথাটি। কেউ হয়তো বলতে পারিনি গোপন কথাটি। নিজের ভেতরই রয়ে গেছে না-বলা কথাটি। বইটি হাতে নিয়ে সেধরনেরই একটি কাহিনী পড়ার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হয়েছিলাম। প্রেম-ভালবাসার বই এখন আর ভাল লাগে না। ফালতু পেচাল বলে মনে হয়। উপহার হিসেবে পেয়েছি, আর লেখক নিজেই যেভাবে ঢোল পিটিয়েছেন তাই না-পড়ে থাকতে পারলাম না। পড়ার পরে স্বীকার করতে বাধ্য হলাম, ফালতু প্রেম-ভালবাসার কাহিনী মনে করে বইটি না-পড়ে ফেলে রাখলে নিজেই ঠকতাম। আসলে এটি লেখকের কোন কাহিনী না। একজন মেয়ের কাহানী। লেখক শুধু গল্পটি মেয়েটির মুখ থেকে শুনছেন। আসাধারন, বইটি একেবারেই অন্যরকম। জীবিকার প্রোয়োজনে একসময় লেখককে আমেরিকার প্রভিডেন্সে থাকতে হয়েছিল। সেই সময় ইভা নামের একটি মেয়ে লেখককে শোনায় এই অদ্ভুদ প্রেম কাহিনীটি। লেখক শুধু শুনে গেছেন, পরে তিনি ইভার বলা কথাগুলো পাঠকদের জন্য বই আকারে প্রকাশ করেছেন। গল্পটি আনিসুল হক শেষ করেননি। পাঠকদের জন্য রেখে দিয়েছেন। বইটি শেষ করার পর পাঠকদের প্রথম যে প্রশ্নটি মাথায় আসবে তা হলো শুভর সাথে ইভার আবার কি আগের মত সম্পর্ক হবে ?

চাসিং টুমোরো

Chasing Tomorrowসিডনি শেলডনের চাসিং টুমোরো  বইটি পড়ে আমি নতুন করে আবার প্রেমে পরেছিলাম, গল্পটির চিরত্রগুলোর। বেশ কিছু বছর ধরে  ট্রেসী হুইটনি এবং জেফ স্টিভেনস ধরা ছোয়া যায় না এমন একটি দল চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। একসাথে তারা দুজনে ধনী , লোভী ও দূর্নীতিবান লোকেদের বিরুদ্ধে ভয়ংকর ভয়ংকর চ্যালেন্জ মোকাবেলা করে। এক সময় নিজেদের জীবন যাপনের জন্য যথেষ্ঠ টাকা রোজগর করে ফেলে তারা। একদিন তারা তাদের এই অতি উ্তেজনামূলক জীবন ধারা বদলে ফেলে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিয়ের পরের সময়টি ছিল অসম্ভব সুন্দর। তাদের জীবন দারুন থেকে দারুনতর হয়ে যাচ্ছিল। ব্রিটিশ মিউজজিয়ামে জেফ একটি কাজ পায়। কাজটি জেফের মনের মতো ছিল। কেননা সে সব সময়ই পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক জিনিস পত্র পছন্দ করত। এই সময়টাতে ট্রেসী  মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জেফ মন দেয় ক্যারিয়ারের দিকে। কিন্তু গর্ভধারণকালে ট্রসির কছু সমস্যা দেখা দেয় । সেে সন্তান  জন্ম দিতে ব্যর্থ হয়। এভাবেই এক সময় তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। দশ বছর পর দেখা যায় তারা আলাদা  আলাদা ভাবে বাস করছে। জেফ আবারো ফিরে যায় আগের পেশায় আর ট্রেসী কোলারডোতে নতুন ভাবে শুরু করে নিজের জীবন। অনেক দিন পরে ট্রেসী ফ্রেন্চ ইন্টারপোল অফিসারের কাছ থেকে একটি ফোন পায়। তাকে কিছু দূর্ধর্ষ খুনের ঘটনার কথা বলা হয়। কেন ইন্তটারপোল অফিসার ফোন দেয় তাকে ? তবে কি  ট্রেসীকে ফিরে যেতে হবে আবার আগের পেশায় ? আবারো কি জেফের মুখোমুখি হবে সে ? জানতে হলে পড়তে হবে সিডনি শেলডনের চ্যাসিং টুমোরো !!!! চমৎকার একটি উপন্যাস।

বরফ গলা নদী

বরফ গলা নদীজহির রায়হানের বরফ গলা নদী একটিি সামাজিক উপন্যাস । শুরু থেকেই উপন্যাসটির গতিময়। মধ্যবিত্ত  জীবনের আর দশটা দিনের ঘটনা নিয়ে এগুতে থাকে উপন্যাস। বইটি পড়ার সময় জহির রায়হানের গল্প বলার ঢংয়েই আটকে ছিলাম। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কোনরকমে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার চরম বাস্তবতা আছে এতে। বাবার বেতনের টাকায় চলে না এতগুলো মানুষের খাওয়া , পড়াশোনা , বাড়ী ভাড়া। নড়বড়ে ঘর , মায়ের তালি দেয়া শতছিন্ন ছেড়া শাড়ী , ছোট ভাই-বোনের ছোটখাটো আবদার পুরণ করতে না পারা এক সংগ্রামী জীবন মাহমুদের । বি.এ.পাশ করে একটা পত্রিকায় সাব এডিটর এর চাকরি করে মাহমুদ ৫০ টাকা মাইনে পায় ,  নিজের খরচ রেখে বাকীটুকু পরিবারের জন্য খরচ  করে সে। অনেক আশা করে নেওয়া চাকরীটা মেটাতে পারেনা তার নিত্য দিনের চাহিদা । তার বোন মরিয়মও টিউশনি করে নিজের খরচ চালায়। সেই সুবাদেই  মনসুরের সাথে পরিচয় হয় তার । পারিবারিক ভাবে বিয়েও হয়  তাদের । যদিও এই বিয়েতে মরিয়মের বড় ভাই মাহমুদের মত ছিল না । মাহমুদ বড়লোকদের দুচোখে দেখতে পারে না । সে শুধু সমাজের দুটি সম্পর্ককে জানে , ধনী আর গরিব । তার কাছে নাকি বাবা মা ভাই বোন নিয়ে আলাদা কোন অনুভূতি কাজ করেনা সেটা সে বলে বেড়ায় কিন্তু পরিবারের মারাত্মক বিপর্যয়ে দেখা যায় সেই প্রথমে ভেঙ্গে পড়ে। এই গুলো ছিল তার রাগের কথা মনের কথা নয় । মরিয়মের বিয়ের প্রায় ৬ মাস পড়ে মনসুর  মরিয়মের অতীত সম্পর্কে জেনে যায় । এ এনিয়ে তাদের মাঝে বাগ বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। মরিয়ম চলে আসে তার বাবার বাসায়। কিন্তু স্বামীর সাথে মন মালিন্যের কথা চেপে যায় সে। সেই রাতেই এই মধ্যবিত্ত নিরীহ পরিবারটির উপর নেমে আসে এক ভয়াবহ বিপর্যয় । যা মরিয়মসহ সেই পরিবারের আরো অনেককে দাঁড় করিয়ে দেয় মৃত্যুর সামনে । এভাবেই নিরীহভাবে এগুতে থাকা গল্পটিতে ট্র্যাজিডি চলে আসে। ছোট্ট উপন্যাসটির সমাপ্তি ঘটে এক অকল্পনীয় পরিণতির মাধ্যমে। জীবনের নিত্য উত্থান পতনের ভিন্ন স্বাদের গল্পটির স্বাদ পেতে হলে পড়তে হবে জহির রায়হানের বরফ গলা নদী।

নাথিং লাস্টস ফরেভার

Nothing Lasts Foreverনাথিং লাস্টস ফরেভার বইটিি সিডনী শেলডনের আর একটি অনবদ্য সৃষ্টি। ভালোবাসা,আবেগ,ঘৃণা,সমাজ,খুুন,পেশা,এ্যাম্বিশন সব কিছুর এক দারুণ সংমিশ্রণ এই বইটি। আমার মতে নাথিং লাসটস ফরেভার একটি অতি চমৎকার বই। তিন  জন নারী ডাক্তারের প্রতিদিনের জীবন, তাদের অতীত, তাদের বর্তমানই এই গল্পের মূল প্লট। তিন জন নারী ডাক্তার যাদের ব্যাকগ্রউন্ড ভিন্ন, যাদের চিন্তা ধারায় হাজার মাইল তফাৎ …কিন্তু জীবনের কোন একটি জায়গায় তারা তিনজনই অভিন্ন। এটিই এই গল্পের থিম। তাদের জীবন সম্পুর্ণ বদলেে যায় যখন তারা সান ফ্রান্সিসকৈো শহরের একটি খ্যাতনামা হাসপাতালে ইণ্টর্ণশীপ পরবর্তী ট্রেনিং এ যোগ দেয়। এখানে এসেই তাদের জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তাদের একজনের কারণে যখন পুরো হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাাওয়ার উপক্রম হয় তখন  আরেকজন খুন করে বসে এক রোগীকে। অপরদিকে আর একজন নিজেই খুন হয়ে যায় । এসবের মাঝেই লেখক গভীর ভাবে তুলে ধরেছেন কিভাবে নারী ডাক্তাররা অবহেলিত হয়। নারীরা এখনো কিভাবে কেবল শয্যা সঙ্গী হিসেবেই বিবেচিত হয়। আমার কাছে বইটিকে সিডনী শেলডনের লিখা এ যাবৎ কালের সেরা বই মনে হয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টায় আমি পুরো গল্পটি শেষ করেছি । আসলে ছেড়ে উঠবার মত বই এটি নয়। আমার দৃড় বিশ্বাস এই বইটি পড়ার পরে অবশ্যই সিডনী শেলডন আপনার প্রিয় লেখকদের তালিকায় উপরের দিকেে স্থানন করে নিবেন। ঠিক যেমনটি হয়েছে আমার ক্ষেত্রে।

দ্য কাইট রানার

The Kite Runnerআফগান-মার্কিন লেখক খালেদ হোসেইনির দ্য কাইট রানার বইটি নিয়ে কিছু একটা লিখার জন্য হাত নিশপিশ করছিল বইটি পড়ার পর থেকে। লেখকের আর কোন বই পড়া হয়নি আমার। দ্য কাইট রানার পড়ে মনে হচ্ছে বাকীগুলোও পড়া দরকার। বইটি পড়া শেষ করেও এই কাহিনী থেকে নিজেকে বের করে আনতে পারছিলাম না। গল্পটি একদম মাথার ভেতর কংক্রিডের মত ডালাই হয়ে গেছে যেন। মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়ে গিয়েছি বইটি। মনে হচ্ছিল চরিত্রগুলো সব জীবন্ত। বইয়ের পৃষ্ঠাগুলোতে যা ঘটছে সব আমি দেখতে পারছি চোখের সামনে। আফঘানিস্তানকে ঘিড়েই মূল কাহিনী লিখেছেন খালেদ হোসেইনি। বইয়ে উঠে এসেছে আফগান সংস্কৃতি, আফগানদের চারিত্রিক ভাল দিক , মন্দ দিক আফগানদের ঐত্যির্য সবকিছু।উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রকেই আমার অসাধারন লেগেছে। বন্ধুত্ত, দেশের প্রতি প্রেম, বাবা ও ছেলের ভালবাসার এক অসাধারন ছবি পাঠকদের চোখের সামনে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন খালেদ হোসেইনি। দ্য কাইট রানার হোসেইনির প্রথম বই এবং ২০০৩ সালে  প্রকাশিত হয়েছিল। দুই বছর নিউ ইয়র্ক টাইমস এর সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইয়ের তালিকার প্রথম স্থান থেকে বইটিকে টলানো যায়নি। উপন্যাসটিতে উঠে এসেছে মানুষের সত্যিকারের মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধি। প্রতিটি পৃষ্ঠায় টানটান উত্তেজনার সঙ্গে আছে এমনসব ঘটনা যা পাঠকরা কল্পনাও করতে পারবেনা।। পাপ এবং অপরাধে ডুবন্ত মানুষের আত্মোপলব্ধির পাশাপাশি লেখন চমৎকারভাবে দেখিয়েছেন সম্পর্কের টানাপোড়ন এবং তার পিছুটান।