শী অ্যান্ড অ্যালান

She and Allanঅ্যালান কোয়াটারমেইনের সাথে যাদের পরিচয় নেই তাদের জন্য এই বর্ননা।অ্যালান কোয়াটারমেইন এক অদ্ভুত চরিত্র, আফ্রিকার অন্যতম বিখ্যাত শিকারি, কিন্তু শিকারের চেয়ে অন্য অ্যাডভেঞ্চার বিশেষ করে অভিযান তাকে টানে পুরোমাত্রায়। জুলুরা তাকে শ্রদ্ধা ভরে ডাকে মাকুমাজন বলে, যার অর্থ যে ঘুমায় না, সদা জাগ্রত।হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের বই যারা পড়েছেন,একটি নামের সাথে তাদের খুব ভাল করে পরিচয় আছে।আয়শা,সে,হেসা কত নামই তার আছে।নাম যাই হোক হাজার হাজার বছর সে বেঁচে আছে পৃথিবীতে।যতদিন বেচে থাকবে, অপূর্ব সুন্দরী হয়েই বেচে থাকতে হবে তাকে।তার সৌন্দর্যের তুলনা হয় না। হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড তার অমর সৃষ্টি দুটি চরিত্রকে শী অ্যান্ড অ্যালান উপন্যাসে একসাথে করেছেন।আয়শা যাকে আহবান করে তাকে আসতেই হয় তার কাছে।এবার আয়শা ডেকেছে অ্যালান কোয়াটারমেইনকে।বইটি অনুবাদ করেছন সেবা প্রকাশনী থেকে কাজী মায়মুর হোসেন।সেবা প্রকাশনীর বইয়ের মাধ্যমেই কোয়াটারমেইন সাবের সাথে প্রথম পরিচয়।

কিছুদিন ধরে মৃত্যু নিয়ে ভাবছেন অ্যালান কোয়াটারমেইন।এই ভাবনাই তাকে একদিন নিয়ে গেল যিকালির আস্তানায় জুলুল্যান্ডে।জাদুকর যিকালি জুলুল্যান্ডে পথ উন্মুক্তকারি নামেও পিরচিত।কোয়াটারমেইন  যিকালির কাছে জানতে চান কি আছে মৃত্যর পর?জাদুকর এর উত্তর দিতে পারেনা তবে যে পারবে সেখানে যাওয়ার একটি নকশা একে দেখায় কোয়াটারমেইনকে।গাজাখোরি এসব গল্প বিশ্বাস না করলেও প্রচিন নগরি আবিষ্কারে আগ্রহি হয়ে উঠে কোয়াটারমেইন।ঠিক করন অভিযানে যাবেন।জাদুকর যিকালি নানা ভাবে কোয়াটারমেইনকে অভিযানে যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করতে থাকে।কারন তারও স্বার্থ জরিত আছে তাই।কোয়াটারমেইন অভিযানে গেলে কারা তার সঙ্গি হবে সেটাও বলে দেয় জাদুকর এবং সাবধান করে দেয় ভুলেও যেন সাদা রানির প্রেমে না-পরে।শুরু হল অভিযান।কোয়াটারমেইনর সঙ্গি হল কুঠার রাজ্যর রাজা আমস্লোপোগাস,হ্যান্স যে কিনা একজন বিচক্ষন এবং দায়িত্বশীল ভৃত্য,রবার্ট এবং কয়েক জন জুলু যোদ্ধা।অনেক কষ্ট সয্য করে অবশেষে তারা পৌছাল রহস্যময় কোর নগরির দারপ্রান্তে।দেখা হল বৃদ্ধ বিলালির সাথে,যে অপেক্ষা করে আছে কোয়াটারমেইনের দলের জন্য রানীর নির্দেশে।বৃদ্ধ বিলালি তাদের নিয়ে চললো কোর নগরিতে।এবং দেখা হল সেই রহস্যময় নারীর সাথে।হজার হাজার বছর ধরে পুরুষরা পুড়ছে তার রুপের আগুনে।হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের আর একটি অবিশ্বাস্য কাহিনী।অ্যালান কোয়াটারমেইন কি জানতে পেরেছিল মৃত্যুর পর কি আছে?পড়ে ফেলুন জানতে হলে।

সলোমনের গুপ্তধন

Solomons Treasureহেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে কিং সলোমন্‌স মাইনস্‌ অন্যতম।তার সেরা কীর্তিগুলোর একটি।সাহিত্য জগতে এটি ক্লাসিক হিসেবে সমাদৃত হয়।রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ট্রেজার আইল্যান্ড পড়ে এবং এর জনপ্রিয়তা দেখে ভাইয়ের সঙ্গে বাজি ধরেছিলেন হ্যাগার্ড।ট্রেজার আইল্যান্ড এর চেয়ে রোমাঞ্চকর কাহিনী তিনি লিখবেন।কিং সলোমন্‌স মাইনস্‌ লিখে সত্যিই প্রমাণ করে দিয়েছিলেন সেটা।তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা রকিব হাসান বইটি বাংলা অনুবাদ করেছেন।এক কথায় অসাধারন।

এই বইটিতেই অ্যালান কোয়টারমেইনের সাথ প্রথম পরিচয় হয় স্যার হেনরি কার্টিস এবং ক্যাপ্টেন জন গুডের।ছোট ভাই জর্জকে খুজতে এসেছেন কার্টিস সাথে ক্যাপ্টেন গুড।সম্পত্তি নিয়ে বড় ভাইয়ের সাথে রাগারাগি করে বাড়ি ছাড়ে জর্জ।শেষ খবর অনুযায়ি জর্জ গেছে সলোমনের গুপ্তধনের খোজে।ভাইকে উদ্ধারের ব্যাপারে কার্টিস কোয়টারমেইনের সাহায্য চান।কিছু শর্তের বিনিময়ে রাজি হয়ে যান কোয়টারমেইন।অভিযান শুরুর দু-এক দিন আগে হাজির হয় আমবোপো নামের বলিষ্ঠ এক জুলু যুবক।হেনরি কার্টিসর চাকর হিসাবে নিয়োগ পায় আমবোপো।শুরু হয় হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের বিশ্ব বিখ্যাত কিং সলোমন্‌স মাইনসে্র মূল কাহিনী।হাতি শিকার করতে করতে সুলিমান বার্গের দিকে এগিয়ে চললো অভিযাত্রিরা।পথনির্দেশ বলতে কিছুই নেই শুধু তিনশো বছর আগে রক্তে লেখা হোসে ডা সিলভেস্ত্রার ম্যাপটা ছাড়া।পানির অভাবে যখন সবার মরে যাওয়ার অবস্থা তখনই হোসে ডা সিলভেস্ত্রার কথা সত্য প্রমানিত করে পাওয়া গেল পানি।এবং অনেক কষ্ট সয্য করে অবশেষে পৌছালেন কুকুয়ানা রাজ্যে।পরিচয় হল নিষ্ঠুর দানব রাজা টুয়ালার এবং মানুষরুপি শয়তান গান্ডলের সাথে।কুকুয়ানা রাজ্য রাজাসহ সবাই বিশ্বাস করলো অভিযাত্রিরা সবাই তারার দেশের মানুষ।কুকুয়ানা রাজ্যে পৌছানোর পরই আমবোপো জানালো সেই এই রাজ্যের বৈধ রাজা।অনেক বছর আগে তাকে এবং তার মাকে বিতারিত করা হয়েছিল কুকুয়ানা রাজ্য থেকে।কোয়টারমেইনসহ সবার কাছে সাহায্য চায় সে।স্যার হেনরি কার্টিস এবং ক্যাপ্টেন জন গুডের সাথে আলোচনা করে কোয়টারমেইন সাহায্য করতে রাজি হয়।তারপরের কাহিনী জানতে পড়তে হবে বইটি।অসাধারন একটি উপন্যাস।

অ্যালান কোয়াটারমেইন

Allan Quatermainস্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড বিশ্বসাহিত্যের সেরা একজন  অ্যাডভেঞ্চার লেখক।তার লেখার সাথে যাদের পরিচয় আছে, তারা ভালো করেই তা জানেন।জীবনের অনেকটা সময় আফ্রিকায় কাটিয়েছেন বলেই তার বেশিরভাগ লেখাগুলো আফ্রিকাকে নিয়ে।হ্যাগার্ড এর প্রায় সব অনুবাদ সেবা প্রকাশনীর জন্য পড়তে পড়েছি।আমি সেবা প্রকাশণীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।সেবার জন্যই চিনেছি অ্যালানকে,হ্যাগার্ডকেও।দুর্ভাগ্য আমাদের দুর্ভাগ্য বাংলা সাহিত্যের,তার মত একজন আ্যাডভেন্চার রাইটারও বাংলা সাহিত্যে নেই।

পৃথাবীতে সবচেয়ে ভারি জিনিস হল বাবার কাধে ছেলে-মেয়ের লাশ।একমাত্র ছেলেকে হাড়িয়ে শোকে কাতর কোয়াটারমেইন ফিরে যেতে চান প্রকৃতির কাছে।স্যার হেনরি কার্টিস এবং ক্যাপ্টেন জন গুডও আর বসে থাকতে রাজি না।শেষ অভিযান থেকে ফিরার পর ইতিমধ্যে তিন বছর পেরিয়ে গেছে।তাদের তিন জনের সাথে যোগ দিল আমস্লোপোগাস নামের একজন জুলু সর্দার।যাকে সবাই কাঠঠোকরা নামে চিনে।অ্যালান কোয়াটারমেইনকে দেখে সাথে সাথে সেও রাজি অজানা দেশে যাওয়ার জন্য।জুলুদের কাছে অ্যালান জীবন্ত কিংবদন্তির মত।মাসাইদের আক্রমন প্রতিহত করে ক্যানূ দিয়ে তাঁরা একটি পাতাল নদী অতিক্রম করেন এবং একসময় পর্বতশ্রেণীর অন্য পাশে অবস্থিত যু-ভেন্ডিস রাজ্যে প্রবেশ করে। যু-ভেন্ডিসরা যুদ্ধংদেহী শ্বেতকায় জাতি যারা অন্য আফ্রিকান জাতিদের থেকে বিচ্ছিন্ন।যু-ভেন্ডিস রাজ্য শাসন করে নাইলেপথা এবং সোরাইস নামের দুবোন।যু-ভেন্ডিসবাসিরা সূর্যের পূজারী।পুরোহিতরা সেদেশে অত্যন্ত প্রভাবশালী।সম্মানের সাথে অ্যালান কোয়াটারমেইনের দলকে নিয়ে যাওয়া হলো রানীদ্বয়ের সামনে।ভাষা না-জানার কারনে কি হচ্ছে বা কি বলছে কিছুই বুঝতে পারলেন না তারা।তবে প্রথম দিনই প্রধান পুরোহিত অ্যাগনের রোষানলে পরে গেলেন।একসময় বুঝা গেল দুই বোনই একসাথে স্যার হেনরি কার্টিস প্রেমে পরেছে।শুরু হয় প্রেম-ভালবাসা,হিংসা-ষড়যন্ত্র আর যুদ্ধ।এ যুদ্ধে সোরাইস এবং নাস্টার সৈন্যরা নাইলেপথা, কার্টিস এবং কোয়াটামেইনের বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে।যুদ্ধে পরাজিত এবং ঈর্ষান্বিত সোরাইস আত্মহত্যা করে।কার্টিস এবং নাইলেপথা এরপর রাজা-রানীর পদ গ্রহন করে।যুদ্ধের মারাক্তক আঘাত পান কোয়াটারমেইন।উপন্যাসের একদম শেষ দিকে কোয়াটারমেইনের মৃত্যু হয়।উপন্যাসের শেষ কয়েকটি পাতা যেই পড়বে তার মন খারাপ হবেই।আমারও প্রচন্ড খারাপ লেগেছিল।ভাবতেই পারছিলাম না অ্যালান কোয়াটারমেইনকে আর কোন কাহিনীতে খুঁজে পাব না।স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের সৃষ্টি করা চরিত্রগুলোর মধ্যে অ্যালান কোয়াটারমেইন অন্যতম।

রিটার্ন অভ শী

Return Of Sheমিঃ হোরেস হলির ইচ্ছে অনুযায়ি শী-এর কাহিনী হুবহু বই আকারে প্রকাশ করেছিলেন লেখক।তারপর অনেক বছর কেটে গেছে।মিঃ হলি কিংবা তার পালক পুত্র লিও ভিনসির আর কোন খোঁজ পাননি লেখক।জেনে ছিলেন তারা আবার অভিযানে বের হয়েছেন।এবারের গন্তব্য তিব্বত।ব্যাস এটুকুই।লেখক যখন প্রায় ভুলতে বসেছেন তাদের কথা ঠিক তখনই তাকে স্তম্ভিত করে এলো মিঃ হলির দ্বিতিয় চিঠি।সাথে কিছু নকশা এবং একটি যন্ত্র।হলি দাবি করছেন যন্ত্রটি ব্যবহার হতো মিশরীয় দেবতা আইসিসের পূজার সময়।হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের আর একটি অবিশ্বাস্য কাহিনী।নিয়াজ মোরশেদ এত সুন্দর ভাবে অনুবাদ করেছেন যে,শী বইটি পড়া না থাকলেও রিটার্ন অভ শী বুঝতে কোন অসুবিধা হবে না।

প্রথম চিঠিটার সাথে আর একটি চিঠি ছিল।একজন ডাক্তারের,মৃত্যুর শেষ সময় পর্যন্ত তিনি হলির সাথে ছিলেন।ডাক্তার মিঃ হলির মৃত্যুর যে বর্ননা দিয়েছেন তা খুবই রহস্যময়।মিঃ হলির মৃত্যুর পর সবকিছু এই ডাক্তারই লেখকের কাছে পাঠিয়েছেন।রিটার্ন অভ শী গল্পের শুরু মিঃ হলি আর তার পালক পুত্র লিও ভিনসিকে দিয়ে।শী উপন্যাস আয়শার মৃত্যু হয় এবং বহু কষ্ট তারা দুজন ফিরে আসে সভ্য জগৎতে।কিন্তু দুজনের কেউই ভুলতে পারে না আয়শাকে।আয়শার মত সুন্দরি নারীকে ভুলা কারো পক্ষেই সহজ না।এই অসয্য নরক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য লিও আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।কিন্তু সেরাতেই আয়শা আবার দেখা দেয় স্বপ্নের মাধ্যমে।আয়শাকে আবার দেখার জন্য শুরু হয় তাদের অভিযান।এবার এশিয়ার তিব্বতে।ষোল বছর তারা আয়শাকে খুজেঁছে তিব্বতের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত।হাজার হাজার মাইল পারি দিয়ে অবশেষে তারা পৌছাল এমন একটি মঠে যেখানে কোন সভ্য মানুষের পা পরেনি।মঠের প্রধান পুরুষ শোনায় আশ্চর্য এক কাহিনী।প্রায় দুবছর মঠে থাকার পর আবার তারা বের হলো আয়শার খোঁজে।অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে তারা পৌছাল একটি দেশে।পরিচয় হয় সেদেশের রানী অ্যাতেনের সাথে।যে লিওকে দেখা মাত্র তার প্রেমে উম্মাদ হয়ে গেছে।পালালো হলি এবং লিও অ্যাতেনের দেশ থেকে।এবং পালিয়ে চলে এল রহস্যময় এক নারীর দেশে।সারাক্ষন মুখ ডেকে রাখা এই নারীর নাম হেসা।কে এই হেসা?আয়শা?নাকি অন্য কোন নারী?লিও আর হলি কি দেখা পেয়েছিল আয়শার?

শী

Sheহেনরি রাইডার হ্যাগার্ড বিশ্ব সাহিত্যের উজ্বল একটি নক্ষত্র।লেখক তার কল্পনার জাদু দিয়ে যে উপন্যাসগুলো লিখেছেন,তারমধ্যে সি অন্যতম।হ্যাগার্ডকে আমার মনে হয়েছে এডভেঞ্চার প্রিয় একজন লেখক।তার প্রায় সব লেখাতেই আজানাকে জানার প্রচন্ড আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।এবং পাঠকদেরকে হ্যাগার্ড নিয়ে গেছেন আজানা আচেনা অনেক দেশে।শী বইটি দিয়ে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড সাথে পরিচয়।তখন থেকে হ্যাগার্ড আমার প্রিয় লেখকদের একজন।বইটি অনুবাদ করেছেন সেবা প্রকাশনী,নিয়াজ মোরশেদের মাধ্যমে।অপূর্ব তার অনুবাদ ক্ষমতা।বইটির শুরু হয়েছে সরল একটি  স্বিকারক্তি দিয়ে।লেখক বলছেন গল্পটি নিজের লেখা নয়।আর একজনের লেখা সত্য কাহিনী লেখক সম্পাদনা করেছেন।কাহিনীটি সত্য নাকি মিথ্যা,পাঠকদেরই ঠিক করতে হবে।হঠাৎ করে একটি পান্ডুলিপি হাতে আসে লেখকের কাছে,এল হোরেস হলি নামক এক ব্যাক্তির কাছ থেকে।যার সাথে মাত্র কয়েক মিনিটের পরিচয়।

হোরেস হলিকে বন্ধু ভেনসির একমাত্র সন্তান লিওর দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে এই গল্পের শুরু।ভেনসির তাকে কিছু রহস্যময় কথা বলে এবং অনুরোধ করে তার ছেলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। হলি কথা দেয় তার অবর্তমানে লিওর অভিভাক হবে সে।ভেনসি কিছু শর্ত দেয় তাকে এবং অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করতে বলে।চাবিসহ লোহার একটি সিন্দুকও দেয় যা শুধু লিওর পচিশ বছর পূর্ন করলে খুলতে পারবে।সিন্দুকর ভিতরে রাখা কাগজগুলো পড়ে লিও যা ইচ্ছে হয় করতে পারবে।লিওকে বাবার আদরে বড় করতে লাগলো হলি।শুধু পড়া-লেখায় নয়,সবকিছুতে পারদর্শি করে মানুষ করতে লগলো।লিওকে দেখে সবাই গ্রিক দেবতা ভাবতো।অবশেষে লিও পূর্ন করলো তার পচিশ বছর।খোলা হল সেই রহস্যময় সিন্দুক।জানা হলো অজানা এক রহস্য।এবং লিওর নেত্রিত্বে শুরু হল তাদের অভিযান।অনেক কষ্ট সয্য করে পৌছাল সেই অজানা দেশে।এবং বন্দি হল ভয়ন্কর  আমাহ্যাগার আদিবাসির হাতে।তারা নিয়ে চললো অজানা এক দেশে।যে দেশ শাষন করে আয়শা নামর এক রহস্যময় নারী।দুহাজর বছর অপেক্ষা করে আছে সে তার প্রমিকার জন্য।অসুস্থ লিওকে দেখা মাত্র আয়শা চিৎকার করে উঠল “ক্যালিত্রুেটিস,ও আমার ক্যালিত্রুেটিস”।     তারপরের কাহিনী জানতে হলে পড়তে হবে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড বিশ্ব বিখ্যাত এই বইটি।

ক্লিওপেট্রা

Cleopatraমিশরবাসির কাছে ক্লিওপেট্রা ছিল সৌন্দর্যের রানী। ক্লিওপেট্রাকে শুধু মিশরের সুন্দরী না বলে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর নারী বলে মনে করা হত। বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড মিশরের প্রাচীন মিথের উপর নির্ভর করে ক্লিওপেট্রার কাহিনী লিখেছেন। ক্লিওপেট্রা নামে কোন এক শাসক নিশ্চয়ই ছিল। ইতিহাস ঘাটলে তা পাওয়া যায়। সেসময় ইতিহাসকে সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করার উপায় ছিল না তাই সেগুলো লোকমুখে ঘুরতে ঘুরতে মিথেই পরিনত হতো। প্রাচীন মিশরের মিথগুলোর সাথে কিছু বাস্তবতাও থাকত। ক্লিওপেট্রা নামের রহস্যময় চরিত্রটি নিয়ে প্রায় দুহাজার বছর ধরে আলোচনা হচ্ছে। হ্যাগার্ড তার উপন্যাস ক্লিওপেট্রাতে অসাধারণ ভাবে তুলে ধরেছেন ক্লিওপেট্রার রুপ, ব্যাক্তিত্ব এবং উচ্চাভিলাসি মনোভাব। পৃথিবীর রহস্যময় চরিত্রগুলোর একটি।তাই সেক্সপিয়ার, জর্জ বার্নড শ মত লেখকও লিখেছেন ক্লিওপেট্রা নিয়ে। মূল উপন্যাসটি পড়া হয়নি। সেবা প্রকাশনীর অনুবাদ পড়ে ছিলাম। বইটির অনুবাদক সায়েম সোলায়মান। খুব চমৎকার লেগেছে। মনেই হয়নি বইটি অন্য ভাষায় লেখা।

মিশরের প্রাচীন এক রাজবংশে জন্ম নিল একটি ছেলে সন্তান হারমাচিস। তার মা স্বপ্ন দেখলেন একদিন তার ছেলে মিশরের রাজা হবে,যেমন তার পূর্বপুরুষরা ছিল। যেদিন হারমাচিসের জন্ম হলো সেদিনই, রাজার ঘরে জন্ম নিলো এক শিশুকন্যা ক্লিওপেট্রা। ক্লিওপেট্রা পরে মিশরের রাণী হয়ে সিংহাসনে বসে। মিশরের বিভিন্ন পুরহিত ও প্রধান প্রধান ব্যক্তিবর্গ হারমাচিসকে মিশরের ফারাও বা রাজা হিসেবেও মননিত করে এবং ক্লিওপেট্রাকে হত্যা করার দায়িত্ব দেয়। যা ছিল পবিত্র একটি দায়িত্ব। মিশরবাসিকে মুক্ত করার। কিন্তু হারমাচিস ক্লিওপেট্রার রুপ দেখে তার প্রেমে প্রায় উম্মাদ হয়ে যায়। নিজের কর্তব্যের কথা ভুলে যায়। তারপরের কাহিনীতেআছে প্রেম, ভালবাসা, বিশ্বাস আবিশ্বাস আর বিশ্বাসঘাতকতার কথা। ক্লিওপেট্রা চরিত্রটির প্রতি শুধু ইতিহাসবিদ না সাধারন মানুষেরও প্রচন্ড আগ্রহ আছে। কেন আছে বইটি না পড়লে বুঝতে পারতাম না। ক্লিওপেট্রার মৃত্যু নিয়ে কিছু সন্দেহ আছে। হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড দেখিয়েছেন ক্লিওপেট্রার প্রেমে পাগল হারমেসিসই তাকে হত্যা করে।