ড্রাকুলা

Draculaযদি একটি জরিপ করা যেতো তাহলে আমার মনে হয় ৭০% পাঠক বলতো ব্রাম স্টোকার ড্রাকুলা পড়ে আমি ভয় পেয়েছি। পৃথিবীতে হরর কাহিনী অনেক লেখা হয়েছে এবং হবে। কিন্তু ব্রাম স্টোকার ড্রাকুলারের মত হরর কাহিনী পাঠকরা আর পাবেনা। পৃথিবীর হরর কাহিনীর ইতিহাসে ড্রাকুলার অবস্থান সবার উপরে। ড্রাকুলা লিখে বিখ্যাত হয়ে যান আইরিশ লেখক ব্রাম স্টোকার। ভ্যাম্পায়ার কাহিনীর জনপ্রিয়তার পিছনে এই উপন্যাসটির অবদানই সবচেয়ে বেশি। হরর কাহিনী পড়ে পাঠক যদি ভয় নাপায় তাহলে বুঝতে হবে গল্পটিতে প্রাণ নেই। ড্রাকুলা পড়ে ভয় পায়নি এরকম মানুষ হাতে গোনা এক দুই জন হবে। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভ্যাম্পায়ার কাউন্ট ড্রাকুলা। বইটি আমি স্কুলে থাকতে পড়েছিলাম এবং অসাধারন লেগেছিল। বইটি বাংলা অনুবাদ করেছিল সেবা প্রকাশনী, অনুবাদক ছিলেন রকিব হাসান। সেবার অনুবাদগুলো পড়লে মূল বই পড়ার প্রয়োজন হয় না। কারন অনুবাদের ভাষা এক কথায় অপূর্ব।

উপন্যাসের কাহিনী শুরু হয়েছে এক ইংরেজ আইনজীবীকে দিয়ে। জোনাথন হার্কার মাত্র পড়ালেখা শেষ করে চাকরিতে যোগ দিয়েছে। কোম্পানির একটি কাজে তাকে যেতে হয়েছিলো ড্রাকুলার দুর্গে। আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য কাউন্ট ড্রাকুলাকে। কাউন্ট কিছু সম্পত্তি কিনবে ইংল্যান্ডে তাই তার এখানে আসা। অনেকেই তাকে ড্রাকুলার দুর্গে যেতে নিষেধ করে। হার্কারের জানা ছিল না ড্রাকুলা ছিলো অস্ট্রিয়ার ট্রানসালভানিয়ার এক রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার। দিনের বেলা মানুষের মতোই থাকতো, লোকজনের সাথে ভদ্র ব্যবহার করতো। আর রাত হলেই অস্থির হয়ে যেতো রক্তের নেশায়।ড্রাকুলার দুর্গে আসার পর থেকে জোনাথনের কাছে সবকিছু কেমন রহস্যময় মনে হয়।বিশেষ করে কাউন্টের আচরন। ইংল্যন্ড ও লন্ডন সম্পর্কে ড্রাকুলার কোন জ্ঞান ছিলো না। এ বিষয়ে সে হার্কারের কাছ থেকে শিক্ষা নিত।একসময় বুঝতে পারে সে অসলে বন্দি। অনেক কষ্টে জোনাথন পালাতে পারে কাউন্ট ড্রাকুলার দুর্গে থেকে। এর কিছুদিন পরই একটি রাশিয়ান জাহাজে ঘটে রহস্যময় ঘটনা। জাহাজটি ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলো। অজ্ঞাত কারণে এর সব নাবিক নিখোঁজ হয়ে যায়। শুধুমাত্র ক্যাপ্টেনের লাশ পাওয়া যায় হালের সাথে বাঁধা অবস্থায়। ক্যাপ্টেনের ডাইরি পড়ে জানা যায়, এখানে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। তারপর থেকেই জাহাজের মাঝিমাল্লারা একে একে নিখোঁজ হতে থাকে। জাহাজ থেকে কুকুরের মতো একটি জানোয়ারকে লাফিয়ে সাগরতীরে নেমে যেতেও দেখেছিল ক্যাপ্টেন। আর জাহাজের মালের তালিকায় ছিল ট্রানসিলভানিয়া থেকে আসা রুপালি বালি ও গুঁড়ো মাটি।এরপর শুরু হয় কাহিনীর মূল পর্ব।গল্পর শেষ জানতে হলে এখনি পড়ে ফেলুন বইটি। ভয় আপনি পাবেনই।