দ্য আয়রন হীল

The Iron Heelজ্যাক লন্ডন ছিলেন বিংশ শতাব্দীতে আমেরিকাতে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রথিভাবান লেখক-সাহিত্যিকদের একজন। তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশ ছোয়া। তার লেখা এই উপন্যাসটি পড়ে অনুপ্রানিত হয়েছে বিশ্বের অনেক বিখ্যাত ব্যাক্তি। রাশিয়ান বিপ্লবী লিও ট্রটস্কিএবং নোবেল পাওয়া ফরাসী ঔপন্যাসিক আনাতোলে ফ্রাসের মত ব্যাক্তিগন দ্য আয়রন হীল উপন্যাসটি পড়ে রায় দিয়েছেন এই বইটি একটি শিল্পকর্ম। যা যুগ যুগ ধরে গন মানুষের পক্ষে কথা বলবে। শত বছর আগে বইটি প্রকাশ হওয়ার আগে লন্ডন বইটি নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন “এটা আমার জন্য কোন বন্ধু নিয়ে আসবে না”। সত্যি তাই হয়েছিল। তখনকার আমেরিকান সরকার বইটিকে বাজেয়াপ্ত করেনি কিন্তু এমন ব্যবস্থা করেছিল যাতে বইটি বেশি জনপ্রিয়তা না পায়। তাই হয়তো তার এই বইটি দ্য কল অফ দ্য ওয়াল্ড এবং হোয়াইট ফ্যাং– এর মত জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। দ্য আয়রন হীল জনপ্রিয়তা পায় তার মৃত্যুর পরে। লন্ডন দ্য আয়রন হীল উপন্যাসে বর্ননা দিয়েছে কিভাবে শাসকগোষ্ঠী জনগনকে শোসিত করে এবং ঠকায়। প্রথমেই তারা বাক স্বাধীনতা এবং সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতাকে অবৈধ করে দেয়, সংবাদ এবং তথ্যের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। সমাজতন্ত্রের আদর্শে দীক্ষিত বিপ্লবী আর্নেস্ট এভারহার্ড এর সংগ্রামী জীবনের অনেক কথা আছে বইটিতে। সবসময় শ্রমিকরা বঞ্চিত হয় তাদের নেয্য অধিকার থেকে। নেয্য অধিকারের জন‍্য নিম্নশ্রেণীর মানুষকে যে কতটা মূল‍্য দিতে করতে হয় তা এই বই না পড়লে সাধারন মানুষ বুঝতে পারবে না কখনো।

 

 

 

সি উলফ

Sea Wolfজ্যাক লন্ডন সি উলফের মত কোন উপন্যাস লিখতে পারে আমার কল্পনায়ও ছিল না।লন্ডন সাথে আমার পরিচয় পশুপাখি মাধ্যে।তাই সি উলফ বইটি পড়ে খুবই অবাক হয়েছিলাম।বইটি থেকে মনোবিজ্ঞানীদের অনেক কিছু শিখার আছে।হিউম্যান সাইকোলজির অসাধারন কিছু দিক জ্যাক লন্ডন তার  সি উলফ উপন্যাসর মাধ্যমে পাঠকদের কাছ তুলে ধরেছেন।পুরো কাহিনীটি  হামফ্রে ভ্যান উইডেন নামক একজন লেখক-সমালোচক যুবককে নিয়ে।বাড়ি ফিরছিল সে মার্টিনেজ নামের একটি ফেরি স্টিমারে করে।কুয়াশার কারনে ফেরিটি দুর্ঘটনায় পরে এবং ডুবে যায়।সীলমাছ শিকারী স্কুনার গোস্টের নাবিকরা হামফ্রেকে উদ্ধার করে।এবং শুরু হয় তার নতুন জীবন।পরিচয় হয়  কুখ্যাত “দা গোস্ট” নামক সীলশিকারী জাহাজের ক্যাপ্টেনের সাথে।তাকে বাধ্য করা হয় কেবিন-বয়ের চকরি নিতে।

ক্যাপ্টেন উল্ফ লারসেন অদ্ভুত একটি চরিত্র।তার বুদ্ধিমত্তা যেমন,তেমনি ভয়ংকর তাঁর নৃশংসতা এবং অত্যাচার।আবার তার কেবিনে পাওয়া যায় শেক্সপিয়ার,টেনিসনের মত বিখ্যাত লেখকদের বই।একটির সাথে আর একটি মিলে না।কেবিন-বয়ের কাজ করতে গিয়ে তৈরি হয় তার শত্রুতা বার্বুচির সাথে।জাহাজে ভাল কিছু বন্ধুও পায় হামফ্রে।হামফ্রে রুপান্তরিত হয় সম্পূর্ন অন্য মানুষে।পদন্নতি হয় তার জাহাজর মেট হিসাবে।সে বুঝতে পারে গোস্ট শুধু সীল শিকার করে না চোরাচালানিও করে।ঝড়ের কবলে পরা,গোস্টের সীল শিকারের নৌকা খুঁজতে গিয়ে পাঁচ জনের একটি দলকে উদ্ধার করে উল্ফ লারসেন।তাদের মধ্যে একজন অপরুপ সুন্দরী নারী।এবং হামফ্রে ভ্যান উইডেনর জীবনে আসে প্রেম।কিভাবে হামফ্রে মুক্তি পেয়েছিল লারসেনের হাত থেকে তা জানতে পড়তে হবে জ্যাক লন্ডনর সি উলফ গল্পটি।নিয়াজ মোরশেদর অনুবাদের কারনে বইটি আরো আর্কষনিয় হয়েছে।ধন্যবাদ সেবা প্রকাশনীকে।