ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক

Man In The Iron Maskসতেরো শতকে ফ্রান্সের কাহিনী।ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক পড়ার আগে আলেকজান্ডার দ্যুমার থ্রি মাস্কেটিয়ার্স বইটি পড়া থাকলে ভাল হয়।পড়া থকলে ভাল,না থাকলেও সমস্যা নেই।ঐতিহাসিক এইসব কাহিনীগুলো পড়ে, আমি একটি কথা খুব ভাল ভাবে বুঝতে পেরেছি।তা হলো সেই সময়ের রাজ পরিবারের জীবন ছিল নিষ্ঠুরতা আর বিশ্বাসঘাতকার ছড়াছড়ি।ইতিহাস ঘাটলে এরকম হাজার হাজার উদাহরণ পাওয়া যাবে।যেমন এই উপন্যাসের ছোট্ট একটি উদাহরন দেই:ফ্রান্সের ত্রয়োদশ রাজা লুইকে রানী অ্যান অভ অস্ট্রিয়া একটি পুত্র সন্তান উপহার দেন। রাজা লুইসহ সারা দেশবাসি আনন্দে মেতে উঠে।তার কিছুক্ষন পর রানী আর একটি পু্ত্র সন্তানের জন্ম দেন।এবার রাজা লুই আর খুশি হতে পারে না।কারন সিংহাসনের উত্তরাধিকারি হতে পরবে একজন।তাই একজনকে নাম,পরিচয়বিহিন করে পাঠিে দেয়া হলো অন্যখানে।নিষ্ঠুরতার চরম নির্দশন।ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক একটি সত্য চরিত্র।কালো কাপড়ের মুখোশে ডাকা কয়েদির মুখ কেউ কখনো দেখেনি। ১৮৪০ সালে আলেকজান্ডার দ্যুমা দাবি করেন মুখোশের আড়ালে এ কারাবন্দি,ফ্রান্সের চতুর্দশ লুইয়ের যমজ ভাই।

থ্রি মাস্কেটিয়ার্স অ্যাথোস,পর্থোস,আরামিস ছিল ফ্রান্সের ত্রয়োদশ রাজা লুইয়র সময়ে বিশ্বস্ত এবং সেরা সৈনিক।ষোল বছর আগের কথা তাদের সাথে যোগ দিয়েছিল  আর একজন মাস্কেটিয়ার্স নাম দারতানিয়া।সবারই বয়স বেড়েছে বাহিনী থেকে অবসর নিয়েছে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স।যে যার মত গুছিয়ে নিয়ে জীবন শুরু করেছে।দারতানিয়া মাস্কেটিয়ার্স বাহিনীর ক্যাপটেন এখন।কারো সাথে কারো তেমন একটা যোগাযোগ নেই।কয়েকটি ঘটনায় তাদের তিন জন আবার এক সাথে হয়।রাতের অন্ধকারে রাজা লুইকে সড়িয়ে ফ্রান্সের ভয়ন্কর কারাগার বিস্তিল থেকে রাজপুত্র ফিলিপকে উঠিয়ে এনে বসান সিংহাসনে।কিন্তুু শেষ রক্ষা হয় না।পালিয়ে যেতে হয় তাদের।আর রাজপুত্র ফিলিপের নির্বাসন হয় সেইন্ট মার্গারিটা দ্বীপে।বাকী জীবন তাকে কাটাতে হবে লোহার মুখোশ পরে।খুললেই মৃত্যুদন্ড।কাহিনীর শেষের দিকে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স অ্যাথোস,পর্থোস,আরামিসর মৃত্যু হয় এবং মৃত্যু হয় মাস্কেটিয়ার্স বাহিনীর মার্শাল অভ ফ্রান্স দারতানিয়ার।ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক নিয়াজ মোরশেদর অনুবাদ করা আর একটি জাদু।অনুবাদের ভাষার কারনেই এত ভাল লেগেছে।

কাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টো

Count of Mantikristoকাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টোতে আলেকজান্ডার ডুমা একটি জিনিস খুব ভালভাবে বুঝিেয়ছেন তা হল মিথ্যার উপর দাড়ানো যেকোন জিনিস একদিন না একদিন ধ্বংশ হয়ে যায়।কাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টো আলেকজান্ডার ডুমার বিশ্ববিখ্যাত রোমাঞ্চোপন্যাস।থ্রী ম্যাস্কেটিয়ার্স এবং কাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টো লেখার পর আলেকজান্ডার ডুমার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠে যায়। বলতে গেলে ফ্রান্সের সাহিত্য ক্ষেত্রে তিনি মুকুটবিহীন সম্রাট হয়ে উঠেন।‘দ্যা কাউন্ট অফ মন্টে ক্রিস্টো’কে বলা হয় তার অন্যতম সেরা একটি গল্প। এটা তিনি লেখেন ১৮৪৪ সালে। কিন্তু দেড়’শ বছরের বেশী কেটে গেলেও এই গল্পটি পড়ার চাহিদা মোটেও কমেনি পাঠকদের কাছে।

এডমন্ড দান্টেস্‌ আর ফারনার্ড মন্ডেগো দুই নাবিক ছিল ঘনিষ্ট বন্ধু। কিন্তু এডমন্ডের প্রেমিকাকে না পাওয়ার ব্যর্থতা আর তার জাহাজের ক্যাপ্টেন হয়ে যাওয়ার সাফল্যে ফারনার্ডের ঈর্ষান্বিত হওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় এই উপন্যাসের।এডমন্ড দান্টেস্‌কে মিথ্যে একটি চিঠি দিয়ে ফাসিয়ে দেয়া হয়।রাষ্ট্রদোহী বলে বিয়ের আসর থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ন্করতম কারাগারে।যে কারাগার থেকে কেউ জীবিত ফেরে না।এরপর লেখক এডমন্ডের কারাগারের কষ্টের জীবন বর্ননা করেেছন। Read more