অন্তর্যাত্রা

Ontorjatraঅন্তর্যাত্রা ছবিটি তারেক মাসুদের অসাধারণ একটি সৃষ্টি। তার এই ছবিটি জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শিখায়। বিদেশ ফেরত মা ছেলে কিভাবে দেশ ও চিরচেনা পরিবেশকে আবারো নতুন ভাবে আবিষ্কার করে।ছোটবেলা থেকেই লন্ডন শহরে বড় হয় ছবিটির মূল চরিত্র সোহেল। বাবার সাথে ছাড়া ছাড়ির পর সে ও তার মা শিরিন ওখানে চলে যায়। তারা সেখানকার নাগরিকত্বও লাভ করে। একদিন সোহেলের বাবার মৃত্যুুুু খবর পায় তারা । পিতার মৃত্যুতে দেশে ফিরে আসতে হয় তাদের। জ্ঞান হবার পর প্রথম বারের মত নিজের দেশ বাংলাদেশে ফিরে আসে সোহল। দেশে এসে সে পরিচিত হয় বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা এবং তাদের মেয়ে রিনির সাথে। দুই ভাই-বোন সহজে মিশে যায়। মাকে নিয়ে সিলেটে বাবার কুলখানিতে হাজির হয়। সেখানে সোহেল পরিচিত হয় দাদা , ফুপু , ফুপা আর মৃত বাবার সাথে। জীবনে প্রথমবারের মত সে সেদিন তার বাবাকে অনুভব করে। যদিও কিনা তার বাবা মৃত। সে বুঝতে পারে কেবল দূরে থাকার কারণে সে কখনোই চিনলো না জানলোনা তার নিজের পিতাকে। সে তার মায়ের চোখেও একই অনুতপ্ততা বোধ দেখতে পায়। মাতৃভুমি তার জন্য সম্পূর্ণ অপরিচিত হলেও সে এই দেশ ও তার পরিবারের সাথে নারির টান অনুভব করে। বুঝতে পারে যে তাকে বারবার ফিরে আসতেই হবে তার জন্মভূমির কাছে। অপর দিকে পনের বছর পর দেশে ফিরে আসা শিরিিড়নেড় কাছে সব কিছুই ভীষণ নূতন মনে হয়। সবকিছুই তার কাছে অপরিচিত লাগে। তারেক মাসুদের অসাধারণ নির্মাণ শৈলী ছবিটিকে আরো রাঙিয়ে তুলেছে। সিনেমাটোগ্রাফির কারণে ছবিটিতে বাংলাদেশের অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কিছুটা ছোঁয়া পাওয়া যায় ।  । উন্নত মানের ক্যামেরার ব্যবহার দেখা গেছে ছবিটিতে। অসাধারণ এই ছবিটি না দেখে থাকলে জেনে নিন নিজ দেশের অসাধারন একটি ছবি মিস করেছেন আপনি।

পেপার মুন

Paper Moonচার্লি চ্যাপলিনের দ্যা কিড ছবিটির মতো আনন্দ আমাকে আর কোন মুভি দিতে পারেনি এখন পর্যন্ত, এই কথা বলছিলাম আমার কলিগ বন্ধুদের সাথে। তখন এক কলিগ আমাকে বললো পেপার মুন ছবিটি যদি দেখে-না হয়ে থাকে তাহলে দেখতে পার। তারপর কাজের চাপে ভুলে গেলাম মুভিটির কথা।  এক বন্ধের দিন বসলাম মুভিটি দেখার জন্য। অনেক দিন পর এত চমৎকার একটি মুভি দেখলাম। মন ভালো করা, মজার কোনো মুভি দেখতে চাইলে পেপার মুন মিস করা ঠিক হবে না। কাহিনীটি তৈরি হয়েছে জো ডেভিড ব্রাউনের এডি প্রে উপন্যাসটি থেকে। মা-বাবা হারা ছোট্ট মেয়ে এডিকে নিয়েই মুভিটির মূল কাহিনী। বাস্তবে পিতা ও কন্যা  রায়ান ও’নিল এবং ট্যাটুম ও’নিলের অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করেছে। ১০ বছরের ছোট্ট ট্যাটুম ও’নিল তার সহজাত অভিনয় প্রতিভা দিয়ে জয় করে নেয় সবচেয়ে কম বয়সে অস্কার জয় করার খ্যাতাব। মুভিটিতে দেখা যায় মোসেস নামের একটি লোক সদ্য মা-হারা এডির দায়িত্ব নেয়। মোসেস হলো একজন ঠকবাজ তার প্রধান কাজ হলো লোক ঠকানো। সে যেভাবে মানুষ ঠকায় তা এক কথায় অসাধারন। সে যেখানেই যায় সেখানেই লোক ঠকায়। তবে কারই বড় ধরনের কোন ক্ষতিও সে করেন। এবার ঠকবাজ মোসেসর সাথে যুক্ত হলো ছোট্ট এডি। মাঝে মাঝে এডি এমন সব বুদ্ধি বের করে যা কোন বড় মানুয়ের মাথায়ও কখনো আসবে কিনা সন্দেহ। আবার সেই এমন কাজ করে যে দেখলে মনে হয় তার বুদ্ধি তার সমবয়সী কোন বাচ্চার চেয়েও কম। আমার মনে হয় পরিচালক পিটার বগ্দান্ভিচ তার জীবনের সেরা কাজটি করেছেন এই মুভিটিতে। সাদা-কালো আর পুরানো বলে মুভিটি মিস করবেন না। 

দি ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ

A Clockwork Orangeস্ট্যনলী কুবরিকের দি ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ ছবিটি দেখলে বুঝা যায় যে সিনেমা হতে পারে বিনোদনের সবচেয়ে আলোকজ্জল মাধ্যম। স্ট্যনলী কুবরিকের প্রতিটি ছবিই মাস্টারপিস। তবে এই ছবিটি তার নিজস্ব  মাত্রাকেই ছাড়িয়ে গেছে। অ্যান্থনি বার্জেসের ১৯৬২ সালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় এই মুভিটি । কিছু ছবি  থাকে যার কোনো তুলনা হয় না। এটা সেরকমেরই একটা ছবি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছবিটি অসাধারণ। সহিংসতা আর সেক্সুয়াল হ্যারেজম্যান্ট নিয়ে অনেক ছবিই তৈরী হয়েছে। কিন্তু সে সব ছবি কতটা ভিতরে যেতে পেরেছে তা সবারই প্রশ্ন। স্ট্যনলী কুবরিকের এই সিনেমাটি একদম ভেতরকার কাহিনী তুলে এনেছে। ছবিটির মূল চরিত্র সতের বছর বয়সী অ্যালেক্স ডিলার্জ ইংল্যান্ড শহরের এক সুদর্শন তরুন। সুদর্শন এবং রুচিশিল। সে দুধ খেতে পছন্দ কর । আর ভালোবাসতো গান। তৎকালীন বিখ্যাত  ব্যান্ড ‘বিটোফেন’ এর দারুণ ভক্ত ছিল সে। চার সদস্য বিশিষ্ট এ গ্যাৎ এর দলনেতা ছিল অ্যালেক্স। স্কুল বিদ্বেশী এই চার তরুণ ছিল ভীষণ দূরন্ত আর নির্ভীক। চুরি, ডাকাতি, মারামারি, ধর্ষণ, বৃদ্ধ লোককে মারধর করা, এমনকি খুন তাদের কাছে কোন ব্যাপারই ছিল না। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম তো আর কেউ বদলাতে পারেনা। তাই তার কাজের ফল তাকে পেতেই হয়। এক সময় বন্ধুদর সাথে  অ্যালেক্সের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। অ্যালেক্সের একাধিপত্যই এর কারণ ছিল। বন্ধুরা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাকে ফেলে  চলে যায় এবং সে পুলিশের কাছে ধরা পরে। একজন মহিলাকে খুনের অপরাধে তাকে ১৪ বছরের সাজা পেতে হয়। কারাগারে তাকে লুডোভিকো চিকিৎসা দেয়া হয়। এই চিকিৎসায়  আসামীদেরকে লুডোভিকো কৌশলের মাধ্যমে খারাপ থেকে ভাল মানুষে পরিণত করা হয়। এই  চিকিৎসার মাধ্যমে অ্যালেক্স ভাল মানুষে পরিণত হয়। প্রকৃতঅর্থে অবশ্য ভাল নয়। এখনও তার খারাপ কাজগুলো করার ইচ্ছা থাকবে, কিন্তু সে চাইলেও সেগুলো করতে পারবে না   চিকিৎসার প্রভাবের কারণে। অ্যালেক্স জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর এভাবেই এগুতে থাকে ছবির কাহিনী। লুডোভিকো চিকিৎসার প্রভাব এবং সমাজে অগ্রণযোগ্যত এই দুইয়ের সংমিশ্রণে বিচিত্র রুপ ধারণ করে অ্যালেক্সের জীবন। এভাবে অপরাধ ও শাস্তির চিরন্তন দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলা হয় সিনেমাটিতে। অসাধারণ এই ছবিটি দর্শক একটানা দেেখে যেতে বাধ্য হবে। একই সাথে পর্দা কাঁপানো আর হৃদয় ছোঁয়া স্ট্যনলী কুবরিকের দি ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ ছবিটি। 

ইনসেপশন

Inceptionপ্রখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান ইনসেপশন ছবিটি বানিয়েছেন স্বপ্ন নিয়ে। সব মানুষই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন হলো মানব চরিত্রের সবচেয়ে রহস্যজনক মানসিক অবস্থা। মানুষকে ঘুমের মাধ্যমে স্বপ্নের কাছে যেতে হয়।মানুষের অবচেতন মনের মধ্যে অনেক ধরনের আইডিয়া লুকানো থাকে। যেমন বিজনিস ম্যানদের অবচেতন মনে থাকে কি করে আরো বেশি টাকা আয় করা যায় তার নতুন নতুন পরিকল্পনা, বিজ্ঞানীরা অবচেতন মনে অনেক তথ্য মাথায় নিয়ে ঘুড়েন বেড়ান ইত্যাদি। এই ছবিতে দেখা যাবে দুই চোর সেধরনের তথ্য চুরি করছে। কিন্তু কিভাব? সে এক অদ্ভুত উপায়। স্বপ্নের ভেতরে স্বপ্নের মাধ্যমে ব্যাপারটি ঘটে। দুই চোরের ভুমিকায় দেখা যাবে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও (কব) এবং জোসেফ গর্ডন-লেভিট(আর্থার)কে। কাজটি আইন সম্মত না হওয়ায় কবের নাম অপরাধীর তালিকায় উঠে যায়। ফেরারি হয়ে যায় সে এবং এর প্রভাব পরে তার ব্যক্তিগত জীবনেও। এলোমেলো হয়ে যায় সব কিছু। শেষে দেখা যায় মরিয়া কব কারো মন থেকে কোনো তথ্য চায় না বরং একজনের মনে একটি তথ্য ডুকিয়ে দেওয়াই তার জীবনের শেষ উদ্দেশ্য। কি হবে শেষে? জানতে হলে দেখতে হবে ছবিটি।চোরে ভুমিকায় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অভিনয় আমার আসাধারন লেগেছে।

 

ডাই হার্ড

Die Hardএই সিরিজের প্রথম ছবি ডাই হার্ড। মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৮ সালে এবং তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল  ব্রুস উইলিস অভিনিত ছবিটি। ব্রুস উইলিসের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো সত্যি দর্শনীয়। আইএমডিবি-র টপ ২৫০ ছবির একটি, রেটিং ৮.২। যারা অ্যাকশন ছবি পছন্দ করে, তাদের জন্য এই ছবিটি সত্যি মনের মত হবে। ব্রুস উইলিস হলো নিউ ইয়র্ক সিটির একজন পুলিশ অফিসার। বড়দিন পালনের জন্য তার স্ত্রী ও বাচ্চারা লস এঞ্জেলেসে আসে। ব্রুস উইলিস তাদের সাথে দেখা করতে লস এঞ্জেলেসে যায়। ঘটনা-চক্রে সে এবং তার স্ত্রী আটকা পরে একটি বহুতল ভবনে। ভবনটি দখল করে একদল টেরোরিষ্ট। পুলিশ অফিসার ব্রুস উইলিস কর্তব্যের কারনে, নিজের এবং স্ত্রীর জানের মায়া ত্যাগ করে, টেরোরিষ্টদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায় বহুতল ভবনের অন্য ফ্লোরে। শুরু হয় ব্রুস উইলিসের অ্যাকশন। এক এক করে সে মারতে থাকে সন্ত্রাসিদের। আমার কাছে এই সিনেমাটি খুবই উত্তেজনাময় মনে হয়েছে। অসামান্য অভিনয় করেছেন ব্রুস উইলিস এবং অ্যালেন রিকম্যান। 

দ্যা কিড

The Kidদ্যা কিড ছবিটির মত আনন্দদায়ক এবং মজার সিনেমা খুজে পাওয়া সত্যি কঠিন। সিনেমাটির প্রশংসা কিভাবে করলে সঠিক হবে বুঝতে পারছি না। শুধু বলবো এধরনের ছবিগুলো মানুষ শুধু দেখেই না, সারা জীবন মনে রাখে এবং শ্রদ্ধা করে। ছবিটিতে কোন ডায়ালগ নেই, ডায়ালগ ছাড়াই ছবিটি পরিপূর্ন । এককথায় অসাধারন। চ্যাপলীন এবং ছয় বছর বয়সী কুগান সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে আকর্ষনীয় জুটি। মজা এবং আনন্দে ভরা এই সিনেমাটির  সিংহভাগ জুরে ছিল দুঃখ ও ভাবপ্রবণতা । এই ছবিটি যতবারই দেখি প্রতিবারই আমার চোখ দুটো একই সাথে দুঃখ এবং আনন্দ অশ্রুতে ভরে ওঠে । কিন্তু আমি মোটেও সিনেমা দেখে কাঁদার মত মানুষ নই । আর এই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ?? তা অবশ্যই অস্কার পাওয়ার যোগ্য । আমার মনে হয় যারাই এই সিনেমাটি দেখবে প্রায় সবারই আমার মত একই রকম অনুভূতি হবে । আশির চেয়েও বেশী বয়সের একটি চরিত্রকে চার্লি চ্যাপলীন তার মেধা ও প্রতিভা দ্বারা দারুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।  আর এটাই এই ছবির মূল আকর্ষন । সুতরাং কারোই এই মুভিটি দেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। দ্যা কিড বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত শব্দহীন সিনেমাগুলোর একটি। চার্লি চ্যাপলীন তার সময়ে সম্ভবত সবচেয়ে অভিনব লেখক এবং অবশ্যই সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন। দ্যা কিড সিনেমাটির চিত্রনাট্য এবং নির্দেশনা চ্যাপলীন নিজেই দিয়েছেন।

ফাইট ক্লাব

Fight Clubদেখার আগে আমি ভাবিনি ছবিটি এতটা উত্তেজনাকর এবং রহস্যময় হবে। ছবিটি শেষ হওয়ার পর অনেক্ষন চুপ করে বসে ছিলাম। অনেক দিন পর এরকম অসাধারন হৃদয়স্পর্শী একটি ছবি দেখলাম। ছবিটি যে এতটা ভাল হবে আমি তা চিন্তাই করিনি। সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে দেখা এটা আমার প্রথম ছবি। আমার কাছে মনে হয়েছ এটা একটি অবিশ্বাস্য শিল্পকর্ম। মনে হয় না অন্য কোন অভিনেতা  এডওয়ার্ড নর্টন এবং ব্র্যাড পিটের মত এত ভাল কাজ করতে পারতো। জীবনকে বদলে দিতে পারে একটি ভাল ছবি। ছবিটি দেখার পরে অনেক দর্শকেরই চিন্তা-চেতনা, মনোজগৎ পাল্টে যেতে পারে।  জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সহজ হয়ে যাবে। ছবিটির নাম দেখে আমি ভেবে ছিলাম এটি একটি মারমার-কাটকাট ছবি এবং মারামারিই হবে ছবির মূল বিষয়। কিন্তু ছবিটি দেখে আমি বিস্মিত। যতবার দেখি ততবারই আমি মুগ্ধ হই। শুরুর দিকে অনেকের কাছে ছবিটির গল্প জটিল মনে হলেও হতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলে বুঝতে কষ্ট হবে না।কোনরকমের উচ্চতর প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই ছবিটি বানানো হয়েছে। আইএমডিবির সেরা মুভির রেটিং এ ৮.৯ রেটিং নিয়ে ১০ তম অবস্থানে আছে। চমৎকার এই ছবিটির শেষের দিকে দর্শকেদের জন্য রয়েছে হতবাক হওয়ার মত কিছু দৃশ্য।

ভী ফর ভেন্ডেটা

V for Vendettaভী ফর ভেন্ডেটা  ছবিটি দেখার পর আমি একেবারেই নির্বাক হয়ে গিয়ে ছিলাম । তিনটি বিষয় সিনেমাটিকে আকর্ষনীয় করে তুলেছে । আর এই তিনটি বিষয়ই সিনেমাাটির সফলতার প্রধান কারণ । প্রথমেই রয়েছে এর মনকাড়া ডায়ালগ ও অসাধারণ স্ক্রি্প্ট । ছবিটি দেখার সময় আমার মনে হয়েেছে এই ছবির স্ক্রি্প্টটি যেন একদম মন থেকে লিখা হয়েছে  আর ডায়ালোগ গুলো ছিল বেশ সহজ সরল তবে মোটেও সস্তা নয় । ছবিিট দেখার পর প্রথম চমক ছিল এগুলোই । একটি এ্যাকশান ধর্মী ছবিতে এমন  স্ক্রি্প্ট আশাই করা যায়না । কিন্তু ধীরে ধীরে ছবিটি দেখতে দেখতে দর্শক বুঝতে পারবে যে ভী ফর ভেন্ডেটা  শুধু মাত্র একটি এ্যাকশান টাইপ ছবি না । সমসাময়িক কিছু ঘটনার বহিঃপ্রকাশ এটি । এছাড়াও ছবিটিতে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারনা। দ্বিতীয়তে রয়েছে  হুগো ওয়েভিং এর অতুলনীয় অভিনয় দক্ষতা । শুুরু থেকেই তার অভিনয় দর্শকের মন কেড়ে নিবে । তিনি অত্যন্ত সহজভাবে কঠিন কিছু কথা বলে গেছেন এই ছবিতে । তার অভিনয়ের অসাধারণ দ্বিপ্তী ছড়িয়ে ছিল পুরো সিনেমাটাতে । যা কিনাা অন্য কোন অভিনেতার মাঝে খুব কমই দেখা যায়। আমার মতে এই ছবির জন্য তাকে অবশ্যই এ্যাকাডেমিক এ্যাওয়ার্ড প্রদন করা উচিৎ । সব শেেষে বলব সিনেমাটি তে দেখানো দৃশ্য গুলোর কথা । কোন রকম ম্যাট্রিক্স এফেক্ট ব্যবহার ছাড়াই চমংকার ভাবে ফুটিয় তোলা হয়ছে  দৃশ্য গুলোকে । অন্ধকারের মাঝে দারুন ভাবে সৌন্দর্য কে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমাটিতে । হৃদয় স্পর্শ করা একটি চলচ্চিত্র। ছবিটিতে চিঠির যে অংশটি রয়েছে তা দেখে আমি চোখের জল আটকে রাখতে পারিনি। একদম শেষের দিকে লক্ষ মানুষ যখন ভি-র মুখোশ পরে চলে আসে, সেখানে নিজে মিশে যাবার তীব্র ইচ্ছে হয়েছে।। আর কোনও সিনেমা বোধহয় আমাকে এতোটা আবেগতাড়িত করতে পারে নি। অতএব দেখতে ভুলবেন না ভী ফর ভেন্ডেটা । এটি সর্বকালে্র শ্রে্ষ্ঠ সিনেমা গুলোর একটি । 

২স্টেটস

2 STATESচেতন ভগতের দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস বইটির কাহিনী নিয়ে নির্মান করা হয় ২স্টেটস সিনেমাটি। হিন্দি মুভি আমি খুব একটা দেখি না। বেছে বেছে ভাল ছবিগুলো দেখি। চেতন ভগতের লেখা ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান বইটি থেকে তৈরীকৃত থ্রি-ইডিয়েটস ছবিটি সত্যি খুব ভাল লেগেছিল। তাই ২স্টেটস মুভিটি আগ্রহ নিয়ে দেখতে বসা। দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস  উপন্যাসটি চেতন ভগত ২০০৯ সালে লিখেছেন,  এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে পরিচালক অভিষেক ভারমান তৈরি করেন রোমান্টিক কমেডি ধাচের এই চলচ্চিত্রটি। ছবিটি মুক্তির আগেই বেপক সাড়া জাগিয়ে ছিল ইন্ডিয়াতে। চেতন ভগত সব সময় আলাদা কিছু বলার চেষ্টা করেন। এই মুভিটিতে পরিচালক অভিষেক ভারমান সেই কাজটি করেছেন খুব নিষ্ঠার সাথে। ইন্দিয়া বিশাল একটি দেশ । বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে সে দেশে। তাদের আচার-ব্যহার, ভাষা, ধর্ম কোনটির সাথে কোনটি মিলে না। তারই একটি চিত্র এই সিনেমাটি। একজন পাঞ্জাবী ছেলে কৃশ, যে একজন তামিলিয়ান ব্রাহ্মণ মেয়ে অনন্যার প্রেমে পরে। কৃশ এবং অনন্যা দুজনই কলেজে পরিচিত হয় এবং প্রেমে পরে। তারপর তারা সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার এবং তাদের বাবা মায়ের মধ্যকার উত্তর-দক্ষিণের একটা সেতুবন্ধন তৈরি করার কাজে নামার। ছবিটি মুক্তির পর তুমুল জনপ্রিতা পায়। আই এম ডি বির রেটিংও বেশ ভাল । দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস বইটিি  আসলে লেখকেরর নিজের প্রেম এবং বিয়ের সত্য কাহিনী। 

 

 

দ্য টারমিনাল

The Terminalআমার দেখা অসম্ভব সুন্দর মুভিগুলোর একটি হলো দ্য টারমিনাল। স্টিভেন অ্যালান স্পিলবার্গের পক্ষেই সম্ভব এরকম একটি মুভি বানানো। হলিউডে ডিরেক্টর স্পিলবার্গকে তুলনা করা হয় হিমালয়ের সাথে। যে কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী স্পিলবার্গের সাথে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকে। আর এই মুভির মূল চরিত্রে অভিনয় করা টম হান্ককে নিশ্চয় নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না। তার ঝুড়িতে আছে বিশ্ব কাপানো অনেক বিখ্যাত ছবি। স্পিলবার্গ এবং টম হান্ক হলো দুই জগৎতের দুই উজ্জল নক্ষত্র। এই দুই কিংবদন্তি মিলে তৈরি করেছেন দ্য টারমিনাল মুভিটি। একজন কাজ করেছেন কেমেরার পিছনে আর একজন কাজ করেছেন সামনে। অসাধারনের উপরে যদি কিছু থেকে থাকে, তা হয়েছে দ্য টারমিনাল মুভিটি। অপেক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার সুন্দর একটি চিত্র এই ছবিটি। মুভিটি একটি সত্য গল্পের নাট্যরুপ। ক্রাক্রোজিয়ান নাগরিক ভিক্টর নভোরস্কি আমেরিকান বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জে আটকা পরে। কারন হলো ভিক্টর নভোরস্কির দেশের মধ্যে একটি অভ্যুত্থান হয়ে গেছে, বিপ্লবী বাহিনী অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। এসব ঘটনা যখন ঘটছে ভিক্টর তখন বিমানে। আমেরিকান সরকার অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলকে স্বিকৃতি দেয় না বিধায় ভিক্টর নভোরস্কির পাসপোর্টটি আমেরিকার বিমানবন্দরের অযগ্য বিবেচিত হয়। তাকে ফেরতও পাঠাতে পারে না কারন  ক্রাক্রোজিয়ান অবৈধ সরকার কোন বিমানকে সে দেশে নামতে দিচ্ছে না। তখন ভিক্টর নভোরস্কিকে বলা হলো বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জের বাইরে সে যেতে পারবে না এবং তাকে এখানেই থাকতে হবে যতদিন পর্যন্ত সে দেশে ফিড়তে না পারে ততদিন। ভিক্টর আমেরিকায় আসার কারন হলো তার বাবার একটি স্বপ্ন পূরন করার জন্য। আর সে স্বপ্ন পূরনের জন্য অবশ্যই তাকে নিউইয়রক যেতে হবেই। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তিপক্ষ কিছুতেই তাকে টার্মিনালের বাইরে যেতে দিবে না। শুরু হয় ভিক্টর নভোরস্কির অপেক্ষার পালা। ইংরেজি ভাষা না জানা ভিক্টর নয় মাস অপেক্ষা করে কাটায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জে। এই নয় মাসে অনেকের সাথে তার পরিচয় হয়। অনেকের জীবন সে পাল্টে দেয়। এই ছবির শেষ ৫ মিনিটের দৃস্য অসম্ভব সুন্দর। কি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত ভিক্টর নভোরস্কির ভাগ্যে সেটা জানতে দেখতে হবে মুভিটি। ২০০৪ সালে নির্মিত ছবিটির আই এম ডি বি রেটিং হলো ৭.৩।