দা পেইন্টেড ভেইল

The-Painted-Veilঅসাধারণ একটি ছবি। আমার দেখা রোমান্টিক ফিল্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। মুভিটি রোমান্টিক কিন্তু সম্পূর্ন ভিন্নধর্মী। আমার মনে হয় রোমান্টিক ধাতের ছবিতে দৃশ্যগুলোর বড় একটি ভূমিকা আছে। এই ছবির প্রতিটি দৃশ্য দর্শকদের মনকে আন্দোলিত করবে। সিনেমাটোগ্রাফিও কাজ এক কথায় অপূর্ব। লোকেশনের সাথে চরিত্রগুলোর সম্পর্ক এত নিবির ভাবে ফুটে উঠেছে, যা আমার কাছে অসম্ভব ভাল লেগেছে। কাহিনীটি পুরাপুরি প্রেমের। প্রেম-ভালবাসা কি সবসময় সরল রেখার মত হয়? না, তা হয় না। বেশিভাগ রোমান্টিক মুভিতে দেখা যায় খল চরিত্রের তৃতীয় একজনকে। কিন্তু এখানে দর্শকরা দেখবে অন্য জিনিস। নায়কই খল-নায়ক এবং নায়িকাই খল-নায়িকা। স্বার্থবিহীন ভালবাসা, আত্মত্যাগ, আত্মমর্যাদা ও বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে  তৈরি অদ্ভুদ সুন্দর একটি প্রেমের কাহিনী। আমার দেখা আর একটি আন্ডাররেটেড মুভি। ডঃ ফেইন এর সাথে নায়িকা কিটির বিয়েটা বলতে গেলে জোর করেই হয়। কিটির কিন্তু বিয়েতে মত ছিল না। রাগ করেই বিয়েতে রাজি হয় পরিবার থেকে দূরে চলে যাওয়ার জন্য। তার পছন্দ হলো পার্টি, ডান্সিং মানে শহুরে জীবন। সব ছেড়ে তাকে চলে যেতে হয় সাংহাইয়ের এক দুর্গম এলাকায়, ডঃ ফেইনের কর্মস্থানে। তারপরের কাহিনী আর বলা যাবে না। যারা মুভি দেখতে ভালবাসেন তাদেরকে অনুরোধ করবো দয়া করে মুভিটি দেখার জন্য।   

দ্য রামেন গার্ল

The-Ramen-Girl2মুভিটি জাপানি এবং আমেরিকান একটি সৃজনশীল ও আকর্ষনীয় ফিউশন এবং একটি অনুপ্রেরণীয় সিনেমা। জাপানিজ কালচার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যাবে মুভিটি দেখলে। জাপানিজ সামাজিকতা এবং আচার-ব্যবহার অনান্য দেশের মত না। কাজের প্রতি তাদের যে ভালবাসা এই মুভিটিতে দেখেছি, তা আমাকে সত্যি অবাক করেছে। আমার মনে হয়েছে জাপানিজরা খুব আবেগপ্রবন, আবার কখনো কখনো মনে হয়েছে খুব নিষ্ঠুর। একটি ছোট দোকানের মধ্যেই সিনেমাটির ৯৫ ভাগ দেখানো হয়ছে। রামেন নামের জাপানিজ খাবারটি এক প্রকার সুপ জাতীয় নুডোল্স। জাপানের লোকজন এটা না খেয়ে থাকতে পারে না। রামেন রান্না করার পদ্ধতি অনেক জটিল। জাপানিজদের ঈশ্বরের নাম খামিসামা। তারা বলে রামেন যারা রান্না করে তাদের হাত খামিসামা অনেক যত্ন করে বানিয়েছেন। রামেন খেতে হয় খাবারটিকে সম্মান করে। রামেন জাপানিজদের কালচারের বড় একটি অংশ। রামেন রান্নার শিখানোর জন্য আলাদা কলেজ এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ডিপার্টমেন্ট আছে। এই ঐতির্যবাহি খাবারটি সবাই রান্না করতে পারে না। সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো জাপানের মানুষ বিশ্বাস করে রামেন খেয়ে আপনার মনের অবস্থা কেমন হবে, তা সম্পূর্ন নির্ভর করে যে মানুষটি এটি তৈরি করছে তার উপর। মানে আপনি কোন কারনে দুঃখিত হলে অথবা আপনার মন খারাপ থাকলে রামেন সপে গেলে আপনার আর মন খারাপ লাগবে না। যে মানুষটি রামেন বানাবে সে আপনাকে দেখেই বুঝতে পারবে এখন আপনার কি ধরনের রামেন প্রয়োজন। তার হাতের জাদুতে সে সব ঠিক করে দিবে। এই কথাগুলো জাপানের  ৮০ ভাগ মানুষ মনে-প্রানে বিশ্বাস করে। আমেরিকান একজন মেয়ে আবেই, জাপানে এসে নিজেকে খুব একা এবং নিঃসঙ্গ ফিল করে। সে কারো কথা বুঝে না এবং অন্যরাও তার কথা বুঝে না। তার বাসার কাছেই ছোট একটি রামেন সপ আছে। এবং এই রামেন-সপটিই পাল্টে দেয় তার জীবন। আমেরিকা এবং জাপানের কালচার যে আকাশ-পাতাল তফাত তা খুব সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। চমৎকার একটি মুভি।

২স্টেটস

2 STATESচেতন ভগতের দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস বইটির কাহিনী নিয়ে নির্মান করা হয় ২স্টেটস সিনেমাটি। হিন্দি মুভি আমি খুব একটা দেখি না। বেছে বেছে ভাল ছবিগুলো দেখি। চেতন ভগতের লেখা ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান বইটি থেকে তৈরীকৃত থ্রি-ইডিয়েটস ছবিটি সত্যি খুব ভাল লেগেছিল। তাই ২স্টেটস মুভিটি আগ্রহ নিয়ে দেখতে বসা। দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস  উপন্যাসটি চেতন ভগত ২০০৯ সালে লিখেছেন,  এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে পরিচালক অভিষেক ভারমান তৈরি করেন রোমান্টিক কমেডি ধাচের এই চলচ্চিত্রটি। ছবিটি মুক্তির আগেই বেপক সাড়া জাগিয়ে ছিল ইন্ডিয়াতে। চেতন ভগত সব সময় আলাদা কিছু বলার চেষ্টা করেন। এই মুভিটিতে পরিচালক অভিষেক ভারমান সেই কাজটি করেছেন খুব নিষ্ঠার সাথে। ইন্দিয়া বিশাল একটি দেশ । বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে সে দেশে। তাদের আচার-ব্যহার, ভাষা, ধর্ম কোনটির সাথে কোনটি মিলে না। তারই একটি চিত্র এই সিনেমাটি। একজন পাঞ্জাবী ছেলে কৃশ, যে একজন তামিলিয়ান ব্রাহ্মণ মেয়ে অনন্যার প্রেমে পরে। কৃশ এবং অনন্যা দুজনই কলেজে পরিচিত হয় এবং প্রেমে পরে। তারপর তারা সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার এবং তাদের বাবা মায়ের মধ্যকার উত্তর-দক্ষিণের একটা সেতুবন্ধন তৈরি করার কাজে নামার। ছবিটি মুক্তির পর তুমুল জনপ্রিতা পায়। আই এম ডি বির রেটিংও বেশ ভাল । দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস বইটিি  আসলে লেখকেরর নিজের প্রেম এবং বিয়ের সত্য কাহিনী। 

 

 

ফরেস্ট গাম্প

Forrest Gumpপ্রায় ১৫ বছর আগে যখন ছবিটি দেখেছিলাম তখন আমার মনে হয়েছিল বাজে একটি ছবি এবং প্রশংসা করার মত কোন কিছুই খুঁজে পাইনি। কিছু দিন আগে আবার দেখলাম। সত্যি বলতে কি আমি বিস্ময়ে বোবা হয়ে গেলাম। ছবিটির কাহিনীটিকে আমার মনে হয়েছে আশ্চর্যজনক একটি গল্প। এই ছবিটি দর্শকদের জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করবে এবং যারা এই ছবিটি দেখবে তারা বুঝতে পারবে জীবনের মানে কি। এত সুন্দর পৃথিবীতে কিভাবে আমরা আমাদের প্রতিটি সময়কে মূল্যবান করে তুলতে পারি। আমার মনে হয়েছে ছবিটির মূল ভাব হলো, মনোবল যদি দৃঢ় হয় তাহলে শারিরীক সমস্যাও বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনা কোন মানুষের জীবনে এবং সততা জিনিসটা যে শুধু বইয়ে নয় বাস্তব জীবনেও দরকার। একজন নির্দোষ মানুষ তার সহজ-সরলতা দিয়ে প্রভাবিত করতে পারে অন্য একজন মানুষকে। খুব সহজেই দর্শকরা তা বুঝতে পারবে। আমাদের কে আল্লাহ যে জীবন দান করেছেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত সবার। ফরেস্ট গাম্প মুভিটি আমার দেখা সেরা একটি মুভি। আমার বিশ্বাস ছবিটি সব শ্রেনীর দর্শকদের মুগ্ধ করবে। জীবন-দর্শন নিয়ে তৈরি হওয়া ছবিটি আইএমডিবি-র তালিকায় আছে ৮.৭ রেটিং নিয়ে।