পেপার মুন

Paper Moonচার্লি চ্যাপলিনের দ্যা কিড ছবিটির মতো আনন্দ আমাকে আর কোন মুভি দিতে পারেনি এখন পর্যন্ত, এই কথা বলছিলাম আমার কলিগ বন্ধুদের সাথে। তখন এক কলিগ আমাকে বললো পেপার মুন ছবিটি যদি দেখে-না হয়ে থাকে তাহলে দেখতে পার। তারপর কাজের চাপে ভুলে গেলাম মুভিটির কথা।  এক বন্ধের দিন বসলাম মুভিটি দেখার জন্য। অনেক দিন পর এত চমৎকার একটি মুভি দেখলাম। মন ভালো করা, মজার কোনো মুভি দেখতে চাইলে পেপার মুন মিস করা ঠিক হবে না। কাহিনীটি তৈরি হয়েছে জো ডেভিড ব্রাউনের এডি প্রে উপন্যাসটি থেকে। মা-বাবা হারা ছোট্ট মেয়ে এডিকে নিয়েই মুভিটির মূল কাহিনী। বাস্তবে পিতা ও কন্যা  রায়ান ও’নিল এবং ট্যাটুম ও’নিলের অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করেছে। ১০ বছরের ছোট্ট ট্যাটুম ও’নিল তার সহজাত অভিনয় প্রতিভা দিয়ে জয় করে নেয় সবচেয়ে কম বয়সে অস্কার জয় করার খ্যাতাব। মুভিটিতে দেখা যায় মোসেস নামের একটি লোক সদ্য মা-হারা এডির দায়িত্ব নেয়। মোসেস হলো একজন ঠকবাজ তার প্রধান কাজ হলো লোক ঠকানো। সে যেভাবে মানুষ ঠকায় তা এক কথায় অসাধারন। সে যেখানেই যায় সেখানেই লোক ঠকায়। তবে কারই বড় ধরনের কোন ক্ষতিও সে করেন। এবার ঠকবাজ মোসেসর সাথে যুক্ত হলো ছোট্ট এডি। মাঝে মাঝে এডি এমন সব বুদ্ধি বের করে যা কোন বড় মানুয়ের মাথায়ও কখনো আসবে কিনা সন্দেহ। আবার সেই এমন কাজ করে যে দেখলে মনে হয় তার বুদ্ধি তার সমবয়সী কোন বাচ্চার চেয়েও কম। আমার মনে হয় পরিচালক পিটার বগ্দান্ভিচ তার জীবনের সেরা কাজটি করেছেন এই মুভিটিতে। সাদা-কালো আর পুরানো বলে মুভিটি মিস করবেন না। 

দি ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ

A Clockwork Orangeস্ট্যনলী কুবরিকের দি ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ ছবিটি দেখলে বুঝা যায় যে সিনেমা হতে পারে বিনোদনের সবচেয়ে আলোকজ্জল মাধ্যম। স্ট্যনলী কুবরিকের প্রতিটি ছবিই মাস্টারপিস। তবে এই ছবিটি তার নিজস্ব  মাত্রাকেই ছাড়িয়ে গেছে। অ্যান্থনি বার্জেসের ১৯৬২ সালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় এই মুভিটি । কিছু ছবি  থাকে যার কোনো তুলনা হয় না। এটা সেরকমেরই একটা ছবি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছবিটি অসাধারণ। সহিংসতা আর সেক্সুয়াল হ্যারেজম্যান্ট নিয়ে অনেক ছবিই তৈরী হয়েছে। কিন্তু সে সব ছবি কতটা ভিতরে যেতে পেরেছে তা সবারই প্রশ্ন। স্ট্যনলী কুবরিকের এই সিনেমাটি একদম ভেতরকার কাহিনী তুলে এনেছে। ছবিটির মূল চরিত্র সতের বছর বয়সী অ্যালেক্স ডিলার্জ ইংল্যান্ড শহরের এক সুদর্শন তরুন। সুদর্শন এবং রুচিশিল। সে দুধ খেতে পছন্দ কর । আর ভালোবাসতো গান। তৎকালীন বিখ্যাত  ব্যান্ড ‘বিটোফেন’ এর দারুণ ভক্ত ছিল সে। চার সদস্য বিশিষ্ট এ গ্যাৎ এর দলনেতা ছিল অ্যালেক্স। স্কুল বিদ্বেশী এই চার তরুণ ছিল ভীষণ দূরন্ত আর নির্ভীক। চুরি, ডাকাতি, মারামারি, ধর্ষণ, বৃদ্ধ লোককে মারধর করা, এমনকি খুন তাদের কাছে কোন ব্যাপারই ছিল না। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম তো আর কেউ বদলাতে পারেনা। তাই তার কাজের ফল তাকে পেতেই হয়। এক সময় বন্ধুদর সাথে  অ্যালেক্সের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। অ্যালেক্সের একাধিপত্যই এর কারণ ছিল। বন্ধুরা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাকে ফেলে  চলে যায় এবং সে পুলিশের কাছে ধরা পরে। একজন মহিলাকে খুনের অপরাধে তাকে ১৪ বছরের সাজা পেতে হয়। কারাগারে তাকে লুডোভিকো চিকিৎসা দেয়া হয়। এই চিকিৎসায়  আসামীদেরকে লুডোভিকো কৌশলের মাধ্যমে খারাপ থেকে ভাল মানুষে পরিণত করা হয়। এই  চিকিৎসার মাধ্যমে অ্যালেক্স ভাল মানুষে পরিণত হয়। প্রকৃতঅর্থে অবশ্য ভাল নয়। এখনও তার খারাপ কাজগুলো করার ইচ্ছা থাকবে, কিন্তু সে চাইলেও সেগুলো করতে পারবে না   চিকিৎসার প্রভাবের কারণে। অ্যালেক্স জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর এভাবেই এগুতে থাকে ছবির কাহিনী। লুডোভিকো চিকিৎসার প্রভাব এবং সমাজে অগ্রণযোগ্যত এই দুইয়ের সংমিশ্রণে বিচিত্র রুপ ধারণ করে অ্যালেক্সের জীবন। এভাবে অপরাধ ও শাস্তির চিরন্তন দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলা হয় সিনেমাটিতে। অসাধারণ এই ছবিটি দর্শক একটানা দেেখে যেতে বাধ্য হবে। একই সাথে পর্দা কাঁপানো আর হৃদয় ছোঁয়া স্ট্যনলী কুবরিকের দি ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ ছবিটি। 

দ্যা কিড

The Kidদ্যা কিড ছবিটির মত আনন্দদায়ক এবং মজার সিনেমা খুজে পাওয়া সত্যি কঠিন। সিনেমাটির প্রশংসা কিভাবে করলে সঠিক হবে বুঝতে পারছি না। শুধু বলবো এধরনের ছবিগুলো মানুষ শুধু দেখেই না, সারা জীবন মনে রাখে এবং শ্রদ্ধা করে। ছবিটিতে কোন ডায়ালগ নেই, ডায়ালগ ছাড়াই ছবিটি পরিপূর্ন । এককথায় অসাধারন। চ্যাপলীন এবং ছয় বছর বয়সী কুগান সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে আকর্ষনীয় জুটি। মজা এবং আনন্দে ভরা এই সিনেমাটির  সিংহভাগ জুরে ছিল দুঃখ ও ভাবপ্রবণতা । এই ছবিটি যতবারই দেখি প্রতিবারই আমার চোখ দুটো একই সাথে দুঃখ এবং আনন্দ অশ্রুতে ভরে ওঠে । কিন্তু আমি মোটেও সিনেমা দেখে কাঁদার মত মানুষ নই । আর এই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ?? তা অবশ্যই অস্কার পাওয়ার যোগ্য । আমার মনে হয় যারাই এই সিনেমাটি দেখবে প্রায় সবারই আমার মত একই রকম অনুভূতি হবে । আশির চেয়েও বেশী বয়সের একটি চরিত্রকে চার্লি চ্যাপলীন তার মেধা ও প্রতিভা দ্বারা দারুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।  আর এটাই এই ছবির মূল আকর্ষন । সুতরাং কারোই এই মুভিটি দেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। দ্যা কিড বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত শব্দহীন সিনেমাগুলোর একটি। চার্লি চ্যাপলীন তার সময়ে সম্ভবত সবচেয়ে অভিনব লেখক এবং অবশ্যই সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন। দ্যা কিড সিনেমাটির চিত্রনাট্য এবং নির্দেশনা চ্যাপলীন নিজেই দিয়েছেন।

ফাইট ক্লাব

Fight Clubদেখার আগে আমি ভাবিনি ছবিটি এতটা উত্তেজনাকর এবং রহস্যময় হবে। ছবিটি শেষ হওয়ার পর অনেক্ষন চুপ করে বসে ছিলাম। অনেক দিন পর এরকম অসাধারন হৃদয়স্পর্শী একটি ছবি দেখলাম। ছবিটি যে এতটা ভাল হবে আমি তা চিন্তাই করিনি। সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে দেখা এটা আমার প্রথম ছবি। আমার কাছে মনে হয়েছ এটা একটি অবিশ্বাস্য শিল্পকর্ম। মনে হয় না অন্য কোন অভিনেতা  এডওয়ার্ড নর্টন এবং ব্র্যাড পিটের মত এত ভাল কাজ করতে পারতো। জীবনকে বদলে দিতে পারে একটি ভাল ছবি। ছবিটি দেখার পরে অনেক দর্শকেরই চিন্তা-চেতনা, মনোজগৎ পাল্টে যেতে পারে।  জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সহজ হয়ে যাবে। ছবিটির নাম দেখে আমি ভেবে ছিলাম এটি একটি মারমার-কাটকাট ছবি এবং মারামারিই হবে ছবির মূল বিষয়। কিন্তু ছবিটি দেখে আমি বিস্মিত। যতবার দেখি ততবারই আমি মুগ্ধ হই। শুরুর দিকে অনেকের কাছে ছবিটির গল্প জটিল মনে হলেও হতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলে বুঝতে কষ্ট হবে না।কোনরকমের উচ্চতর প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই ছবিটি বানানো হয়েছে। আইএমডিবির সেরা মুভির রেটিং এ ৮.৯ রেটিং নিয়ে ১০ তম অবস্থানে আছে। চমৎকার এই ছবিটির শেষের দিকে দর্শকেদের জন্য রয়েছে হতবাক হওয়ার মত কিছু দৃশ্য।

ভী ফর ভেন্ডেটা

V for Vendettaভী ফর ভেন্ডেটা  ছবিটি দেখার পর আমি একেবারেই নির্বাক হয়ে গিয়ে ছিলাম । তিনটি বিষয় সিনেমাটিকে আকর্ষনীয় করে তুলেছে । আর এই তিনটি বিষয়ই সিনেমাাটির সফলতার প্রধান কারণ । প্রথমেই রয়েছে এর মনকাড়া ডায়ালগ ও অসাধারণ স্ক্রি্প্ট । ছবিটি দেখার সময় আমার মনে হয়েেছে এই ছবির স্ক্রি্প্টটি যেন একদম মন থেকে লিখা হয়েছে  আর ডায়ালোগ গুলো ছিল বেশ সহজ সরল তবে মোটেও সস্তা নয় । ছবিিট দেখার পর প্রথম চমক ছিল এগুলোই । একটি এ্যাকশান ধর্মী ছবিতে এমন  স্ক্রি্প্ট আশাই করা যায়না । কিন্তু ধীরে ধীরে ছবিটি দেখতে দেখতে দর্শক বুঝতে পারবে যে ভী ফর ভেন্ডেটা  শুধু মাত্র একটি এ্যাকশান টাইপ ছবি না । সমসাময়িক কিছু ঘটনার বহিঃপ্রকাশ এটি । এছাড়াও ছবিটিতে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারনা। দ্বিতীয়তে রয়েছে  হুগো ওয়েভিং এর অতুলনীয় অভিনয় দক্ষতা । শুুরু থেকেই তার অভিনয় দর্শকের মন কেড়ে নিবে । তিনি অত্যন্ত সহজভাবে কঠিন কিছু কথা বলে গেছেন এই ছবিতে । তার অভিনয়ের অসাধারণ দ্বিপ্তী ছড়িয়ে ছিল পুরো সিনেমাটাতে । যা কিনাা অন্য কোন অভিনেতার মাঝে খুব কমই দেখা যায়। আমার মতে এই ছবির জন্য তাকে অবশ্যই এ্যাকাডেমিক এ্যাওয়ার্ড প্রদন করা উচিৎ । সব শেেষে বলব সিনেমাটি তে দেখানো দৃশ্য গুলোর কথা । কোন রকম ম্যাট্রিক্স এফেক্ট ব্যবহার ছাড়াই চমংকার ভাবে ফুটিয় তোলা হয়ছে  দৃশ্য গুলোকে । অন্ধকারের মাঝে দারুন ভাবে সৌন্দর্য কে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমাটিতে । হৃদয় স্পর্শ করা একটি চলচ্চিত্র। ছবিটিতে চিঠির যে অংশটি রয়েছে তা দেখে আমি চোখের জল আটকে রাখতে পারিনি। একদম শেষের দিকে লক্ষ মানুষ যখন ভি-র মুখোশ পরে চলে আসে, সেখানে নিজে মিশে যাবার তীব্র ইচ্ছে হয়েছে।। আর কোনও সিনেমা বোধহয় আমাকে এতোটা আবেগতাড়িত করতে পারে নি। অতএব দেখতে ভুলবেন না ভী ফর ভেন্ডেটা । এটি সর্বকালে্র শ্রে্ষ্ঠ সিনেমা গুলোর একটি । 

দ্য টারমিনাল

The Terminalআমার দেখা অসম্ভব সুন্দর মুভিগুলোর একটি হলো দ্য টারমিনাল। স্টিভেন অ্যালান স্পিলবার্গের পক্ষেই সম্ভব এরকম একটি মুভি বানানো। হলিউডে ডিরেক্টর স্পিলবার্গকে তুলনা করা হয় হিমালয়ের সাথে। যে কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী স্পিলবার্গের সাথে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকে। আর এই মুভির মূল চরিত্রে অভিনয় করা টম হান্ককে নিশ্চয় নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না। তার ঝুড়িতে আছে বিশ্ব কাপানো অনেক বিখ্যাত ছবি। স্পিলবার্গ এবং টম হান্ক হলো দুই জগৎতের দুই উজ্জল নক্ষত্র। এই দুই কিংবদন্তি মিলে তৈরি করেছেন দ্য টারমিনাল মুভিটি। একজন কাজ করেছেন কেমেরার পিছনে আর একজন কাজ করেছেন সামনে। অসাধারনের উপরে যদি কিছু থেকে থাকে, তা হয়েছে দ্য টারমিনাল মুভিটি। অপেক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার সুন্দর একটি চিত্র এই ছবিটি। মুভিটি একটি সত্য গল্পের নাট্যরুপ। ক্রাক্রোজিয়ান নাগরিক ভিক্টর নভোরস্কি আমেরিকান বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জে আটকা পরে। কারন হলো ভিক্টর নভোরস্কির দেশের মধ্যে একটি অভ্যুত্থান হয়ে গেছে, বিপ্লবী বাহিনী অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। এসব ঘটনা যখন ঘটছে ভিক্টর তখন বিমানে। আমেরিকান সরকার অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলকে স্বিকৃতি দেয় না বিধায় ভিক্টর নভোরস্কির পাসপোর্টটি আমেরিকার বিমানবন্দরের অযগ্য বিবেচিত হয়। তাকে ফেরতও পাঠাতে পারে না কারন  ক্রাক্রোজিয়ান অবৈধ সরকার কোন বিমানকে সে দেশে নামতে দিচ্ছে না। তখন ভিক্টর নভোরস্কিকে বলা হলো বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জের বাইরে সে যেতে পারবে না এবং তাকে এখানেই থাকতে হবে যতদিন পর্যন্ত সে দেশে ফিড়তে না পারে ততদিন। ভিক্টর আমেরিকায় আসার কারন হলো তার বাবার একটি স্বপ্ন পূরন করার জন্য। আর সে স্বপ্ন পূরনের জন্য অবশ্যই তাকে নিউইয়রক যেতে হবেই। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তিপক্ষ কিছুতেই তাকে টার্মিনালের বাইরে যেতে দিবে না। শুরু হয় ভিক্টর নভোরস্কির অপেক্ষার পালা। ইংরেজি ভাষা না জানা ভিক্টর নয় মাস অপেক্ষা করে কাটায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জে। এই নয় মাসে অনেকের সাথে তার পরিচয় হয়। অনেকের জীবন সে পাল্টে দেয়। এই ছবির শেষ ৫ মিনিটের দৃস্য অসম্ভব সুন্দর। কি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত ভিক্টর নভোরস্কির ভাগ্যে সেটা জানতে দেখতে হবে মুভিটি। ২০০৪ সালে নির্মিত ছবিটির আই এম ডি বি রেটিং হলো ৭.৩।

গুডফেলাস

Goodfellasছবিটির কথা কিভাবে প্রকাশ করলে সঠিক হবে বুঝতে পারছিনা। একটি মাত্র শব্দ এই মুহুর্তে আমার মাথায় আসছে বিস্ময়কর। সত্যি ঘটনা নিয়ে তৈরী এই ছবিটি অসম্ভব ভাল লেগেছে আমার। ছবির দুনিয়ায় এখন পর্যন্ত যতগুলো শ্রেষ্ট্র কাজ হয়েছে তারমধ্যে গুডফেলাস,অন্যতম মনে হয়েছে আমার কাছে। অবশ্যই এটি একটি অমূল্য সম্পদ ছবির দুনিয়ার জন্য। সিনেমা ইতিহাসে একটি ল্যান্ডমার্ক। ছবিটি দেখার সময় দর্শকরা চোখের পাতা ফেলতে ভুলে যাবে। সত্যি আমি এক মুহুর্তের জন্যও চোখ ফেরাতে পারিনি। আইএমডিবির প্রথম সারির এই ছবিটির রেটিং ৮.৭। ২০ বছর আগের এই ছবিটি এখনও একটি আইকন। আমার মনে হয় ১০০ বছর পরেও ছবিটির জনপ্রিয়তা কমবে না। অসামান্য অভিনয় করেছেন রবার্ট ডি নিরো, জো এবং রে। মার্টিন স্করসিসে মাফিয়া পরিবার নিয়ে অসাধারন এই ছবিটি তৈরি করেছেন। এখন পর্যন্ত যতগুলো ক্রাইম ড্রামা তৈরি হয়েছে তারমধ্যে এই ছবিটির অবস্থান শীর্ষে। চরিত্রগুলোর কথা দর্শকরা ভুলতে পারবে না। ছবিটি আমাকে ব্যপক আনন্দ দিয়েছে। ক্রাইম ড্রামার ইতিহাসে গুডফেলাস ছবিটি একটি মাস্টারপিস। বিনোদনের জন্য এই ছবিটি অসাধারন।

ওয়ান ফ্লু ওভার দ্য কাকুস নেস্ট

One Flew Over the Cuckoos Nestএই ছবিটি নিয়ে কিছু লিখা সত্যি একটি কঠিন কাজ। ছবিটি প্রধান পাঁচটি ক্ষেত্রেই (ছবি, পরিচালক, অভিনেতা, অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্য) অস্কার পেয়েছিল। আমার মনে হয় এই ছবিটিই পরিচালক মিলস ফরমানের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচালনা।সংলাপগুলো অসাধারন লিখেছেন দুজন লেখকই। সমালোচকরা হাজার বার চেষ্টা করেও কোন খুদ বা ভুল বের করতে পারবেনা ছবিটির। এই কৃতিত্ব অবশ্যই পরিচালক মিলস ফরমানের প্রপ্প্য। দর্শকদের জন্য শিক্ষনিয় অনেক বিষয় আছে ছবিটিতে। কাহিনীর গভিরতা দর্শকদের চোখকে শুধু আটকাবে না, মনকেও বেধে ফেলবে। গল্পটি অসাধারন এবং অবিশ্বাস্য। আমি মনে করি যারা এই ছবিটি দেখেনি তারা জীবনের বিরাট একটা অভিজ্ঞতা হতে বঞ্চিত করছে নিজেদের। মহান একটি শিক্ষা থেকেও দূরে থাকছেন। একটি মানসিক পূনরবাসন কেন্দ্রের একজন রোগিকে আনা হয়। রোগিটি ছিল সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী।কিন্তু সত্য হল ম্যাক মারফি নামের রোগিটি মানসিকভাবে অসুস্থ্ না, সে সম্পূর্ন সুস্থ।শাস্তি ফাঁকি দেয়ার জন্যই সে মানসিক রোগির ভং ধেরেছিল। সাইকোলজিস্ট বিশ্বকে কাপিয়ে দিয়েছিল ওয়ান ফ্লু ওভার দ্য কাকুস নেস্ট ছবিটি।

ফরেস্ট গাম্প

Forrest Gumpপ্রায় ১৫ বছর আগে যখন ছবিটি দেখেছিলাম তখন আমার মনে হয়েছিল বাজে একটি ছবি এবং প্রশংসা করার মত কোন কিছুই খুঁজে পাইনি। কিছু দিন আগে আবার দেখলাম। সত্যি বলতে কি আমি বিস্ময়ে বোবা হয়ে গেলাম। ছবিটির কাহিনীটিকে আমার মনে হয়েছে আশ্চর্যজনক একটি গল্প। এই ছবিটি দর্শকদের জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করবে এবং যারা এই ছবিটি দেখবে তারা বুঝতে পারবে জীবনের মানে কি। এত সুন্দর পৃথিবীতে কিভাবে আমরা আমাদের প্রতিটি সময়কে মূল্যবান করে তুলতে পারি। আমার মনে হয়েছে ছবিটির মূল ভাব হলো, মনোবল যদি দৃঢ় হয় তাহলে শারিরীক সমস্যাও বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনা কোন মানুষের জীবনে এবং সততা জিনিসটা যে শুধু বইয়ে নয় বাস্তব জীবনেও দরকার। একজন নির্দোষ মানুষ তার সহজ-সরলতা দিয়ে প্রভাবিত করতে পারে অন্য একজন মানুষকে। খুব সহজেই দর্শকরা তা বুঝতে পারবে। আমাদের কে আল্লাহ যে জীবন দান করেছেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত সবার। ফরেস্ট গাম্প মুভিটি আমার দেখা সেরা একটি মুভি। আমার বিশ্বাস ছবিটি সব শ্রেনীর দর্শকদের মুগ্ধ করবে। জীবন-দর্শন নিয়ে তৈরি হওয়া ছবিটি আইএমডিবি-র তালিকায় আছে ৮.৭ রেটিং নিয়ে।

পাল্প ফিকশন

Pulp Fictionএককভাব নির্মিত অন্যতম সেরা ছবিগুলোর একটি হল পাল্প ফিকশন এবং ছবিটির পরিচালক কোয়েন্টিন টারান্টিনো হলেন অন্যতম ক্রিয়েটিভ পরিচালকদের একজন। শুরু থেকেই ছবিটি অত্যন্ত অসাধারন। ব্রুস উইলিয়াম, স্যামুয়েল এল জ্যাকসান, জন ট্রাভোল্ট, উমা থুরম্যান, হার্ভে কিতাল, টিম রথ এবং ক্রিস্টোপার ওয়াকেনের মত অভিনেতাদের সমন্বয় ছবিটিকে করে তুলেছে আরো উদ্দিপনাপূর্ন। আমার মতে এই ছবির ব্যাপক সাফল্যের পিছনে রয়েছে এর রহস্যজনক ডায়লগ। ছবিটি তার অসাধারন নির্মানশৈলীর জন্য অস্কার পুরষ্কারে মনোনীত হয়। ৯০ এর দশকে নির্মিত ছবিগুলোর মধ্যে পাল্প ফিকশন অন্যতম। খোদ তারানতিনোর বানানো কোন ছবি এখন পর্যন্ত পিছনে ফেলতে পারেনি পাল্প ফিকশনর গুনগত মান এবং যোগ্যতাকে।আমার মনে হয় এটি সর্বকালের সেরা ছবিগুলোর একটি। IMDB মুভির লিস্ট ছবিটি স্থান পেয়েছে উপরের দিকে।