পিকে

PKদেখে ফেললাম ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বিতর্কিত ছবি পিকে। অবশ্যই হল প্রিন্ট। তবে বুঝার উপায় ছিল না এটা হল প্রিন্ট। শুরু থেকেই আমিরের এই ছবিটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছিল। ছবিটি দেখে আমার মনে হয়েছে আক্ষরিক ভাবে আমির খানের ক্যারিয়ার সেরা ফিল্ম এই পিকে। অন্য হিন্দি ফিল্মগুলোতে দেখা যায় ছবি রিলিজের আগে গান কিংবা নাচ অথবা ডায়ালগ হিট হয়। কিন্তু পিকেতে আমরা দেখেছি সেসব কিছুই না। পোষ্টারই হিট। এবং এ নিয়ে আদালত পর্যন্ত দৌড়া-দৌড়ি। আমির যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। এর মধ্যে সব রেকর্ড ভেঙ্গে ৩০০ কোটি রুপির ব্যবসা করে ফেলেছে। আমার দেখা এখন পর্যন্ত ইন্ডিয়ার বেষ্ট স্টোরি এটাই। নির্দোষ কমেডি সিনেমাটি শুধু আপনাকে হাসাবে না, ভাবাবে অনেক বেশি। এই ছবিতে রাজকুমার হিরানি এবং আমির খান তাদের সেরাটাই দিয়েছেন। এক কথায় পিকে একটি সামাজিক কমেডি সিনেমা। সবারই ভাল লাগার মত। ছবিটি যেই দেখবে তারই মন জয় করবে। তবে অনেক ধর্মান্ধ গোষ্ঠি খুব লাফা-লাফি করছে এই মুভিটি নিয়ে। অথছ এখানে কোন ধর্মকেই ছোট করা হয়নি। সব ধর্মেই বলা হয়েছে গডে বিশ্বাস করতে, গডকে ভালবাসতে। গড আমাদর সৃষ্টি করেছেন কিন্তু মানুষের সৃষ্টি কোন গডকে আমারা যেন বিশ্বাস না করি, সেটাই বলা হয়েছে। সেই সাথে বলা হয়ছে ধর্মের নামে যারা প্রতারনা করে অথবা ধর্মকে ব্যবসা হিসাবে নেয় তাদেরকে ত্যাগ করতে। ১০ বছরের বাচ্চা থেকে ৭০ বছরের বুড়োরাও সহজেই বুঝতে পারবে পিকে সিনেমাটির সহজ বার্তাগুলো। আমির,রাজু এবং অভিজিৎ জোসি যখন একই ছবিতে কাজ করে স্বভাবিক ভাবেই দর্শকদের প্রত্যসা হয় আকাশ সমান। আমার মনে হয়েছে দর্শকদের প্রত্যসা ১৬ আনাই পূরন করতে পেরেছে পিকে মুভিটি।

অন ইন্সপেক্টর কল্স

An Inspector Callsঅন ইন্সপেক্টর কল্স মুভিটি বেশ পুরানো সাদা-কালো ক্লাসিকাল একটি মুভি। মুভিটি প্রথম দেখেছিলাম যখন তখন আমার বয়স ছিল বড়জোড় ১৪-১৫। অসাধারন গল্পর জন্য সিনেমাটি মনে রেখেছি এখন পর্যন্ত। হঠাৎ করেই মুভিটির ডাউন-লোড লিন্ক পেয়ে গেলাম প্রায় ১৬ বছর পর। আবার দেখলাম মুভিটি। এবার আরো ভাল ভাবে বুঝতে পারলাম ডায়ালগগুলো। সেবা প্রকাশনীর এধরনের একটি বই আছে। নামটি মনে নেই। ইন্ডিয়ান বাংলা একটি মুভি বানানো হয়েছে এই সিনেমাটির কাহিনী নিয়ে। তেমন একটা ভাল লাগেনি। অন ইন্সপেক্টর কল্স মুভিটির শেষ ১০ মিনিট সবচেয়ে মজার মনে হয়েছে আমার। যদিও পুরো মুভিটাই রহস্য দিয়ে ঘেরা। অ্যালিস্টার সিম এর অভিনয় সিনেমাটিতে উজ্বল নক্ষত্রের মত মনে হয়েছে। যে একবার এই মুভিটি দেখবে, আমার মনে হয় না সে সহজে সিনেমাটি ভুলতে পারবে। একটি মেয়ের এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান দিয়ে ছবিটির শুরু। অনুষ্ঠানে এক পুলিশ অফিসার এসে জানায় ইভা নামের একজন মেয়ে সুইসাইড করেছে এবং সে এই আত্মহত্যার রহস্য তদন্তে নেমেছে। ইভার ডায়রিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকের নাম আছে। যারা অতীতে কোন না কোন ভাবে ইভার সাথে অন্যায় আচরন করেছিল। এক কথায় অপরাধ করেছিল। এবং এরা প্রত্তকেই কোন না কোনভাবে ইভার মৃত্যুর জন্য দায়ী। কিন্তু এদের মধ্যে একজন হলো প্রকৃত খুনি। কে সে ? ঘটনা ক্রমে জানা গেল পুলিশ নিজেও ভুয়া। রহস্যের শেষ জানতে দেখে ফেলুন অন ইন্সপেক্টর কল্স মুভিটি।         

দা পেইন্টেড ভেইল

The-Painted-Veilঅসাধারণ একটি ছবি। আমার দেখা রোমান্টিক ফিল্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। মুভিটি রোমান্টিক কিন্তু সম্পূর্ন ভিন্নধর্মী। আমার মনে হয় রোমান্টিক ধাতের ছবিতে দৃশ্যগুলোর বড় একটি ভূমিকা আছে। এই ছবির প্রতিটি দৃশ্য দর্শকদের মনকে আন্দোলিত করবে। সিনেমাটোগ্রাফিও কাজ এক কথায় অপূর্ব। লোকেশনের সাথে চরিত্রগুলোর সম্পর্ক এত নিবির ভাবে ফুটে উঠেছে, যা আমার কাছে অসম্ভব ভাল লেগেছে। কাহিনীটি পুরাপুরি প্রেমের। প্রেম-ভালবাসা কি সবসময় সরল রেখার মত হয়? না, তা হয় না। বেশিভাগ রোমান্টিক মুভিতে দেখা যায় খল চরিত্রের তৃতীয় একজনকে। কিন্তু এখানে দর্শকরা দেখবে অন্য জিনিস। নায়কই খল-নায়ক এবং নায়িকাই খল-নায়িকা। স্বার্থবিহীন ভালবাসা, আত্মত্যাগ, আত্মমর্যাদা ও বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে  তৈরি অদ্ভুদ সুন্দর একটি প্রেমের কাহিনী। আমার দেখা আর একটি আন্ডাররেটেড মুভি। ডঃ ফেইন এর সাথে নায়িকা কিটির বিয়েটা বলতে গেলে জোর করেই হয়। কিটির কিন্তু বিয়েতে মত ছিল না। রাগ করেই বিয়েতে রাজি হয় পরিবার থেকে দূরে চলে যাওয়ার জন্য। তার পছন্দ হলো পার্টি, ডান্সিং মানে শহুরে জীবন। সব ছেড়ে তাকে চলে যেতে হয় সাংহাইয়ের এক দুর্গম এলাকায়, ডঃ ফেইনের কর্মস্থানে। তারপরের কাহিনী আর বলা যাবে না। যারা মুভি দেখতে ভালবাসেন তাদেরকে অনুরোধ করবো দয়া করে মুভিটি দেখার জন্য।   

নাইন কুইন্স

Nine-Queens2৯টা স্ট্যাম্প নিয়েই এই মুভিটির মূল কাহিনী। ছবিটির চিত্রনাট্য এবং ডিরেকশন দুটোই করেছেন ফাবিয়ান বিলিনষ্কুখি নামের একজন আর্জেন্টাইন। ভদ্রলোক প্রমান করেছেন আর্জেন্টিনার মানুষ শুধু ফুটবল দিয়ে গোটা বিশ্বকে কাঁপান না। ভাল মুভি দিয়েও আর্জেন্টিনা পৃথিবীকে কাঁপাতে পারে। নাইন কুইন্স ছবিটি সেধরনের একটি মুভি। আমি ভদ্রলোকে মুগ্ধ। আর্জেন্টিনাকে চিনলাম নতুন করে। মুভিটিতে আসাধারন একটি গান আছে। মুভিটি দেখে আমার মনে হয়েছে মুভিটির প্রতি সুবিচার করা হয়নি। সত্যি কথা হলো এটা আন্ডার রেটেড মুভি। এত অসাধারন একটি মুভি কেন এত আন্ডার রেটেড বুঝতে পারছি না। হুয়ান নামের এক ছেলেকে দিয়ে শুরু এই সিনেমাটির। জুয়ার দেনায় আটকা পরা বাবাকে উদ্ধার করতে হুয়ান বেছে নেয় লোক ঠকানোর কাজ। মানুষের সাথে বিভিন্ন ধোকাবাজি ব্যবহার করে সে এবং তাদের টাকা মেরে দেয়। এটাই হয়ে উঠে তার একমাত্র কাজ। এই দুই নাম্বারি কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় আরেক ঠকবাজের সাথে। যার নাম মারকুজ। হুয়ান এবং মারকুজ বিভিন্ন ট্রিকস ব্যবহার করে মানুষের টাকা মেরে দিতে থাকে। মারকুজের অসুস্থ এক পুরানো পার্টনারকে দেখতে যায় তারা। যার আঁকার হাত ঈশ্বর প্রদত্ত। হুয়ান এবং মারকুজকে সে ৯টি স্ট্যাম্প দেয় বিক্রি করার জন্য যার মুল্য কত হবে তাঁর কোন ধারনা নেই নিজেরও। এই স্ট্যাম্প নিয়েই শুরু হয় চোরের উপর বাটপারির পুরানো খেলা। আগে থেকে প্রেডিকশন করাটা খুব কঠিন, কি হবে শেষ পর্যন্ত মুভিটিতে।

দ্য রামেন গার্ল

The-Ramen-Girl2মুভিটি জাপানি এবং আমেরিকান একটি সৃজনশীল ও আকর্ষনীয় ফিউশন এবং একটি অনুপ্রেরণীয় সিনেমা। জাপানিজ কালচার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যাবে মুভিটি দেখলে। জাপানিজ সামাজিকতা এবং আচার-ব্যবহার অনান্য দেশের মত না। কাজের প্রতি তাদের যে ভালবাসা এই মুভিটিতে দেখেছি, তা আমাকে সত্যি অবাক করেছে। আমার মনে হয়েছে জাপানিজরা খুব আবেগপ্রবন, আবার কখনো কখনো মনে হয়েছে খুব নিষ্ঠুর। একটি ছোট দোকানের মধ্যেই সিনেমাটির ৯৫ ভাগ দেখানো হয়ছে। রামেন নামের জাপানিজ খাবারটি এক প্রকার সুপ জাতীয় নুডোল্স। জাপানের লোকজন এটা না খেয়ে থাকতে পারে না। রামেন রান্না করার পদ্ধতি অনেক জটিল। জাপানিজদের ঈশ্বরের নাম খামিসামা। তারা বলে রামেন যারা রান্না করে তাদের হাত খামিসামা অনেক যত্ন করে বানিয়েছেন। রামেন খেতে হয় খাবারটিকে সম্মান করে। রামেন জাপানিজদের কালচারের বড় একটি অংশ। রামেন রান্নার শিখানোর জন্য আলাদা কলেজ এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ডিপার্টমেন্ট আছে। এই ঐতির্যবাহি খাবারটি সবাই রান্না করতে পারে না। সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো জাপানের মানুষ বিশ্বাস করে রামেন খেয়ে আপনার মনের অবস্থা কেমন হবে, তা সম্পূর্ন নির্ভর করে যে মানুষটি এটি তৈরি করছে তার উপর। মানে আপনি কোন কারনে দুঃখিত হলে অথবা আপনার মন খারাপ থাকলে রামেন সপে গেলে আপনার আর মন খারাপ লাগবে না। যে মানুষটি রামেন বানাবে সে আপনাকে দেখেই বুঝতে পারবে এখন আপনার কি ধরনের রামেন প্রয়োজন। তার হাতের জাদুতে সে সব ঠিক করে দিবে। এই কথাগুলো জাপানের  ৮০ ভাগ মানুষ মনে-প্রানে বিশ্বাস করে। আমেরিকান একজন মেয়ে আবেই, জাপানে এসে নিজেকে খুব একা এবং নিঃসঙ্গ ফিল করে। সে কারো কথা বুঝে না এবং অন্যরাও তার কথা বুঝে না। তার বাসার কাছেই ছোট একটি রামেন সপ আছে। এবং এই রামেন-সপটিই পাল্টে দেয় তার জীবন। আমেরিকা এবং জাপানের কালচার যে আকাশ-পাতাল তফাত তা খুব সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। চমৎকার একটি মুভি।

লাইক ফাদার, লাইক সন

Like Father, Like Sonস্বনামধন্য জাপানী পরিচালক হিরোকাজু কোরিয়াদার আরেকটি চমত্কার আবেগপ্রবণ মুভি লাইক ফাদার, লাইক সন। আরকটি বলছি কারন নোবডি ন্যোস, স্টিল ওয়াকিং সহ বিভিন্ন সুখ্যাতি পাওয়া সিনেমার পরিচালক তিনি। বিষয়-বস্তুর অভিনবত্বর জন্য সব ধরনের দর্শক মুভিগুলো পছন্দ করেছেন। তার পরিচালিত সিনেমাগুলোতে তিনি কিছু মেসেজ দেন দর্শকদেরকে। পিতা-পুত্রের সম্পর্ক কেমন হয় আমরা সবাই জানি এবং প্রতিনিয়ত দেখছি আশেপাশে। কিন্তু এই সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে পিতা-পুত্রের সম্পর্কের এক অন্য মাত্রা এবং পিতা-পুত্রের সম্পর্কের এমন এক স্তর ফুটে উঠেছে, যা দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তুলবে। পারিবারিক সিনেমার একটি মাস্টারপিস বলা যায় লাইক ফাদার, লাইক সন ছবিটিকে। জন্মের সময় হাসপাতাল কর্তিপক্ষের ভুলের কারণে একটি পরিবারের বাচ্চা আরেক পরিবারের কাছে চলে যায়। মানে চেন্জ হয়ে যায়। অনেক বছর পরে সত্য কথাটি জানতে পারে একজন বাবা। ছবিটির তখনের দৃশ্যটি আমি কখনো ভুলতে পারবো না। একদিকে রক্তের টান আর অন্যদিকে নিজ হাতে গড়ে তোলা স্বপ্ন  আর আদর্শ। দুটি পরিবারকেই কঠিন এই সিদ্ধান্তের মধ্যে পরতে হয়। পরিবার দুটির স্বভাবিক জীবনে ঘটে ছন্দ পতন। এই অতি দোটানার মধ্য দিয়েই এগুতে থাকে গল্প। চরিত্রগুলো দারুণ ভাবে উপস্থাপন করেছেন পরিচালক। সত্যিই অসাধারণ এক ছবি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মত একটি ছবি। বাবাকে নিয়ে এরকম ভিন্নধর্মি ছবি আমি আর দেখিনি। আমাকে মুভিটি আবেগে কাঁদিয়েছে বারবার। সন্তানের প্রতি বাবার বাধ ভাঙ্গা ভালবাসা দেখে যে কারো চোখের কোনায় পানি আসতে বাধ্য হবে।     

তিতাস একটি নদীর নাম

Titash Ekti Nadir Naamতিতাস একটি নদীর নাম সিনেমাটির কথা বেশ মনে আছে। দেখেছিলাম অনেকদিন আগে। মনে মনে ইচ্ছা ছিল একটি রিভিউ লেখার। তবে আমি ঠিক গুছিয়ে লিখতে পারিনা, তবুও লিখতে চেষ্টা করছি। তিতাস একটি নদীর নাম সিনেমাটির কথা উঠলেই প্রথমে যে নামটি উচ্চারিত হয় তিনি হলেন বাংলার কিংবদন্তি পুরুষ ঋত্বিক কুমার ঘটক। তিতাস একটি নদীর নাম সিনেমাটি বানানোর কোন ইচ্ছা কিন্তু ঋত্বিক ঘটকের ছিল না। কারন তিনি এই লেখাটির সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। আমাদের মধ্যে অনেকেই জানি না গল্পটির রচয়িতা কে? অদ্বৈত মল্লবর্মণ নামের একজন সাংবাদিকের হাত দিয়ে এসেছে এই অসাধারন সিনেমাটির কাহিনী। তার মৃত্যুর কয়েক বছর পরে এই উপন্যাসটি বই আকারে বের হয়।একটিমাত্র উপন্যাস লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যে চির অমর হয়ে আছেন। ঋত্বিক ঘটক  দৈবক্রমে উপন্যাসটি হাতে পান এবং বইটি পড়ে বসা অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেন চিত্রনাট্য লেখার। কথিত আছে তিনি তার বোনের বাসায় সাদা কাগজ না পেয়ে বোনের সাদা শাড়িতে এই উপন্যাসের চিত্রনাট্য লিখতে বসে যান। ২০০৭ সালে ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের জরিপে দর্শোক, চলচ্চিত্র সমালোচকদের ভোটে “তিতাস একটি নদীর নাম” সবার সেরা দশ বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে সেরা স্থান অধিকার করে। সিনেমাটিতে ঋত্বিক ঘটক নিজেও অভিনয় করেছেন ছোট একটি চরিত্রে। পরিচালক ঋত্বিক ঘটক প্রথিভা চিনতে ভুল করেননি। রোজী সামাদ বাসন্তী চরিত্রে এতটাই বাস্তবসম্মত কাজ করেছেন যে দর্শোকদের মনেই হবে না তিনি অভিনয় করছেন। ওশন জামিলের অভিনয় ছিল অনবদ্য। ঋত্বিক ঘটক গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে সেরাটা আদায় করতে পেরেছিলেন। প্রতিভা কি তা বুঝিয়েছেন গোলাম মোস্তফা তার শক্তিশালি অভিনয় ক্ষমতা দিয়ে। এই ছবির সবচেয়ে মজার বিষয় হলো টাইটেল মিউজিক। ঋত্বিক ঘটক ছবিটিতে টাইটেল মিউজিক ব্যবহার করেন আরিচা ঘাটের এক বৃদ্ধ ফকিরের গাওয়া গান। বাংলাদেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয়ের সাবলিলতা, দক্ষতা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা ঋত্বিক ঘটকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি জোর গলায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের শিল্পী ও কলাকুশলীদের দ্বরা যেকোন ভালো ছবি তৈরি সম্ভব”। তিতাস পারের কথা যাদের জানা নেই তারা দেখতে পারেন ছবিটি।

 

 

বয়হুড

Boyhoodবয়হুড সিনেমাটি আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে এক টানে দেখে গিয়েছি। কেন সিনেমাটি আমাকে এতটা মুগ্ধ করেছে তা আসলে এভাবে লিখে বোঝানো বেশ কঠিন। গভীর মানবিকতা বোধই হয়ত এর অনন্য হয়ে ওঠার কারণ। প্রতিটি দৃশ্য বাস্তবের মত মনে হয়েছে। মূল চরিত্র গুলোর সাথে সাথে প্বার্শ চরিত্র গুলোর অভিনয় দক্ষতাও ছিল দেখার মত। মনে হয়েছে প্রতিটি  ডায়ালগ তারা  মন থেকে বলছিল। সিনেমাটি দেখার পর আমেরিকানদের প্রতি একটা আলাদা ভালোলাগা তৈরী হয়েছে। হ্যাঁ আমরা জাতিগত ভাবে এক একজন একএক রকম । কিন্তু আমাদের ছোটবেলা, আমাাদের বেেড়ে ওঠা সবই প্রায় একই রকম। কৈশোরে আমরা সবাই যেন ভীষণ দিশাহীন হয়ে পরি। একাকিত্ব,অবহেলিত মনে হয় নিজেকে এই সময়টায়। ঠিক এই ব্যাপারগুলোই চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে  বয়হুড সিনেমাটিতে। ছবটির নামের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে এর বিষয়বস্তু। বয়হুড হলো এমন একটি সময়, না-শৈশব না তারুণ্য। ঠিক যেন এ দুটোর মাঝাামাঝি সসময়টা। যা কিনা বর্ণনাতীত। ছবিটি দেখার সময় দর্শক ফিরে পাবে তাদের ফেলে আসা কৈশোর। বয়হুড সিনেমাটির শেষ দৃশ্যটি ছিল আমার দেখা অন্যতম শেষ দৃশ্য গুলোর একটি । আমার মনে হয়না কখনো এই ছবিটি এডিটিং এর প্রয়োজন হবে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য এই ছবিটি। সিনেমা প্রেমিকরা তো বটেই আমি বলব সবারই এই সিনেমাটি অবশ্যই দেখা উচিৎ। এবছরের মাঝামাঝি সময়ে সিনেমাটি মুক্তি পায়। রিচার্ড লিংকলেটার পরিচালক এবং চিত্রনাট্য দুটিতেই কিস্তিমাত করেছেন।

মাটির ময়না

Matir Moyna২০০২ সালের কান ফিল্ম ফেস্টিভালে মাটির ময়না ছবিটিকে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগের ওপেনিং চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। মাটির ময়না ছবিটির মাধ্যমেই কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশি সিনেমার প্রথম পা রাখা। তবে মজার ব্যাপার হলো বাইরের দেশে এত প্রশংসা পাওয়া ছবিটি কিন্তু নিজের দেশে মুক্তি দিতে পারেননি তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ। তখনকার চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের কয়েক জন অজ্ঞ এবং অতি চালাক লোক সিনেমাটি আটকে দেয়।  অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতার দোহাই দিয়ে প্রদর্শনের জন্য ছবিটি গ্রহনযোগ্য নয় বলে তখনকার অতি বিজ্ঞ সেন্সর বোর্ড। ছবিটি প্রদর্শনের জন্য তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদকে যেতে হয় আদালতে। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ২০০২ এর একদম শেষে ছবিটি বাংলাদেশের মানুষ দেখার সুযোগ পায়। ছবিটির সম্মাননা এবং পুরস্কারের তালিকা সত্যি ঈর্সা জাগানোর মতো। অসাধারন কাজ করেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রি সকলে। তারেক মাসুদ যে কি ধরনের প্রথিভা নিয়ে জন্মে ছিলেন তার কিছুটা নমুনা এই ছবিটিতে পাওয়া যাবে। কেমেরার কাজ এবং মেকিংটা অসামান্য লেগেছে। তারেক মাসুদকে হাড়িয়ে কী অমূল্য রত্ন এ দেশ হারিয়েছে তা মাটির ময়না নামক ছবিটি দেখলেই বুঝা যায়। আবারো কি এমন সিনেমা বংলাদেশ থেকে তৈরী হবে ?? আমি বলব এই ছবিটি ছোট বড় সকলেরই অবশ্যই দেখা উচাৎ। সংসয়,ভাব,ভলোবাসা আর আবেগের হৃদয় ছোঁয়া স্পর্শ রয়েছে এই ছবিতে। 

 

অন্তর্যাত্রা

Ontorjatraঅন্তর্যাত্রা ছবিটি তারেক মাসুদের অসাধারণ একটি সৃষ্টি। তার এই ছবিটি জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শিখায়। বিদেশ ফেরত মা ছেলে কিভাবে দেশ ও চিরচেনা পরিবেশকে আবারো নতুন ভাবে আবিষ্কার করে।ছোটবেলা থেকেই লন্ডন শহরে বড় হয় ছবিটির মূল চরিত্র সোহেল। বাবার সাথে ছাড়া ছাড়ির পর সে ও তার মা শিরিন ওখানে চলে যায়। তারা সেখানকার নাগরিকত্বও লাভ করে। একদিন সোহেলের বাবার মৃত্যুুুু খবর পায় তারা । পিতার মৃত্যুতে দেশে ফিরে আসতে হয় তাদের। জ্ঞান হবার পর প্রথম বারের মত নিজের দেশ বাংলাদেশে ফিরে আসে সোহল। দেশে এসে সে পরিচিত হয় বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা এবং তাদের মেয়ে রিনির সাথে। দুই ভাই-বোন সহজে মিশে যায়। মাকে নিয়ে সিলেটে বাবার কুলখানিতে হাজির হয়। সেখানে সোহেল পরিচিত হয় দাদা , ফুপু , ফুপা আর মৃত বাবার সাথে। জীবনে প্রথমবারের মত সে সেদিন তার বাবাকে অনুভব করে। যদিও কিনা তার বাবা মৃত। সে বুঝতে পারে কেবল দূরে থাকার কারণে সে কখনোই চিনলো না জানলোনা তার নিজের পিতাকে। সে তার মায়ের চোখেও একই অনুতপ্ততা বোধ দেখতে পায়। মাতৃভুমি তার জন্য সম্পূর্ণ অপরিচিত হলেও সে এই দেশ ও তার পরিবারের সাথে নারির টান অনুভব করে। বুঝতে পারে যে তাকে বারবার ফিরে আসতেই হবে তার জন্মভূমির কাছে। অপর দিকে পনের বছর পর দেশে ফিরে আসা শিরিিড়নেড় কাছে সব কিছুই ভীষণ নূতন মনে হয়। সবকিছুই তার কাছে অপরিচিত লাগে। তারেক মাসুদের অসাধারণ নির্মাণ শৈলী ছবিটিকে আরো রাঙিয়ে তুলেছে। সিনেমাটোগ্রাফির কারণে ছবিটিতে বাংলাদেশের অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কিছুটা ছোঁয়া পাওয়া যায় ।  । উন্নত মানের ক্যামেরার ব্যবহার দেখা গেছে ছবিটিতে। অসাধারণ এই ছবিটি না দেখে থাকলে জেনে নিন নিজ দেশের অসাধারন একটি ছবি মিস করেছেন আপনি।