বরফ গলা নদী

বরফ গলা নদীজহির রায়হানের বরফ গলা নদী একটিি সামাজিক উপন্যাস । শুরু থেকেই উপন্যাসটির গতিময়। মধ্যবিত্ত  জীবনের আর দশটা দিনের ঘটনা নিয়ে এগুতে থাকে উপন্যাস। বইটি পড়ার সময় জহির রায়হানের গল্প বলার ঢংয়েই আটকে ছিলাম। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কোনরকমে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার চরম বাস্তবতা আছে এতে। বাবার বেতনের টাকায় চলে না এতগুলো মানুষের খাওয়া , পড়াশোনা , বাড়ী ভাড়া। নড়বড়ে ঘর , মায়ের তালি দেয়া শতছিন্ন ছেড়া শাড়ী , ছোট ভাই-বোনের ছোটখাটো আবদার পুরণ করতে না পারা এক সংগ্রামী জীবন মাহমুদের । বি.এ.পাশ করে একটা পত্রিকায় সাব এডিটর এর চাকরি করে মাহমুদ ৫০ টাকা মাইনে পায় ,  নিজের খরচ রেখে বাকীটুকু পরিবারের জন্য খরচ  করে সে। অনেক আশা করে নেওয়া চাকরীটা মেটাতে পারেনা তার নিত্য দিনের চাহিদা । তার বোন মরিয়মও টিউশনি করে নিজের খরচ চালায়। সেই সুবাদেই  মনসুরের সাথে পরিচয় হয় তার । পারিবারিক ভাবে বিয়েও হয়  তাদের । যদিও এই বিয়েতে মরিয়মের বড় ভাই মাহমুদের মত ছিল না । মাহমুদ বড়লোকদের দুচোখে দেখতে পারে না । সে শুধু সমাজের দুটি সম্পর্ককে জানে , ধনী আর গরিব । তার কাছে নাকি বাবা মা ভাই বোন নিয়ে আলাদা কোন অনুভূতি কাজ করেনা সেটা সে বলে বেড়ায় কিন্তু পরিবারের মারাত্মক বিপর্যয়ে দেখা যায় সেই প্রথমে ভেঙ্গে পড়ে। এই গুলো ছিল তার রাগের কথা মনের কথা নয় । মরিয়মের বিয়ের প্রায় ৬ মাস পড়ে মনসুর  মরিয়মের অতীত সম্পর্কে জেনে যায় । এ এনিয়ে তাদের মাঝে বাগ বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। মরিয়ম চলে আসে তার বাবার বাসায়। কিন্তু স্বামীর সাথে মন মালিন্যের কথা চেপে যায় সে। সেই রাতেই এই মধ্যবিত্ত নিরীহ পরিবারটির উপর নেমে আসে এক ভয়াবহ বিপর্যয় । যা মরিয়মসহ সেই পরিবারের আরো অনেককে দাঁড় করিয়ে দেয় মৃত্যুর সামনে । এভাবেই নিরীহভাবে এগুতে থাকা গল্পটিতে ট্র্যাজিডি চলে আসে। ছোট্ট উপন্যাসটির সমাপ্তি ঘটে এক অকল্পনীয় পরিণতির মাধ্যমে। জীবনের নিত্য উত্থান পতনের ভিন্ন স্বাদের গল্পটির স্বাদ পেতে হলে পড়তে হবে জহির রায়হানের বরফ গলা নদী।

অন্তর্যাত্রা

Ontorjatraঅন্তর্যাত্রা ছবিটি তারেক মাসুদের অসাধারণ একটি সৃষ্টি। তার এই ছবিটি জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শিখায়। বিদেশ ফেরত মা ছেলে কিভাবে দেশ ও চিরচেনা পরিবেশকে আবারো নতুন ভাবে আবিষ্কার করে।ছোটবেলা থেকেই লন্ডন শহরে বড় হয় ছবিটির মূল চরিত্র সোহেল। বাবার সাথে ছাড়া ছাড়ির পর সে ও তার মা শিরিন ওখানে চলে যায়। তারা সেখানকার নাগরিকত্বও লাভ করে। একদিন সোহেলের বাবার মৃত্যুুুু খবর পায় তারা । পিতার মৃত্যুতে দেশে ফিরে আসতে হয় তাদের। জ্ঞান হবার পর প্রথম বারের মত নিজের দেশ বাংলাদেশে ফিরে আসে সোহল। দেশে এসে সে পরিচিত হয় বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা এবং তাদের মেয়ে রিনির সাথে। দুই ভাই-বোন সহজে মিশে যায়। মাকে নিয়ে সিলেটে বাবার কুলখানিতে হাজির হয়। সেখানে সোহেল পরিচিত হয় দাদা , ফুপু , ফুপা আর মৃত বাবার সাথে। জীবনে প্রথমবারের মত সে সেদিন তার বাবাকে অনুভব করে। যদিও কিনা তার বাবা মৃত। সে বুঝতে পারে কেবল দূরে থাকার কারণে সে কখনোই চিনলো না জানলোনা তার নিজের পিতাকে। সে তার মায়ের চোখেও একই অনুতপ্ততা বোধ দেখতে পায়। মাতৃভুমি তার জন্য সম্পূর্ণ অপরিচিত হলেও সে এই দেশ ও তার পরিবারের সাথে নারির টান অনুভব করে। বুঝতে পারে যে তাকে বারবার ফিরে আসতেই হবে তার জন্মভূমির কাছে। অপর দিকে পনের বছর পর দেশে ফিরে আসা শিরিিড়নেড় কাছে সব কিছুই ভীষণ নূতন মনে হয়। সবকিছুই তার কাছে অপরিচিত লাগে। তারেক মাসুদের অসাধারণ নির্মাণ শৈলী ছবিটিকে আরো রাঙিয়ে তুলেছে। সিনেমাটোগ্রাফির কারণে ছবিটিতে বাংলাদেশের অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কিছুটা ছোঁয়া পাওয়া যায় ।  । উন্নত মানের ক্যামেরার ব্যবহার দেখা গেছে ছবিটিতে। অসাধারণ এই ছবিটি না দেখে থাকলে জেনে নিন নিজ দেশের অসাধারন একটি ছবি মিস করেছেন আপনি।