দ্য এইট-ক্যাথারিন নেভিল

The-Eightমোঃ নাজিম উদ্দিন আমার প্রিয় লেখকদের একজন। মৌলিক এবং অনুবাদ দুটো জায়গাতেই সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত যতগুলো বই তিনি অনুবাদ করেছেন, মূল বইগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে সারা দুনিয়ায়। সেই বইগুলো অনুবাদ করে সেই পরিমান জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সত্যি কঠিন। এই কঠিন পরীক্ষায় নাজিম উদ্দিন খুব ভাল ভাবেই উৎরে গেছেন। ক্যাথারিন নেভিলের লেখা অত্যান্ত জনপ্রিয় উপন্যাস দ্য এইট। অনুবাদটি পড়ে আমার মনে হয়েছে নাজিম উদ্দিন আরেকবার নিজেকে পাঠকদের সামনে প্রমাণ করলেন। বইটিতে দুইটি সময়ের দুটি কাহিনী বলা হয়েছ। শেষের দিকে লেখক দুটিকেই একসাথে করেছেন। পৃথিবীর অনেক মহান ব্যাক্তিকে আমরা এই উপন্যাসে পাব রহস্য উন্মোচনের বিভিন্ন সময়। একটি দাবাবোর্ডের ক্ষমতা এত যা কিনা পাল্টে দিতে পারে দুনিয়ার প্রকৃতিক নিয়ম! দাবাবোর্ডটি গোপন রহস্য জানার জন্য হাজার হাজার মানুষ চেষ্টা করেছে ,শত শত বছর ধরে। তাদের মধ্যে আছে ভাল মানুষ এবং খারাপ মানুষের দল। কাদের জিত হবে এই খেলায়? সাদা নাকি কালো? ভাল নকি মন্দ? দ্য এইট ক্যাথারিন নেভিল অসাধারন একটি উপন্যাস। লেখক যেভাবে এক একটি রহস্যের সমাধান পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন তা এক কথায় অসাধারন।

তুন ডা. মাহাথির ও আধুনিক মালয়েশিয়া

Tun-Dr-Mahathirআমরা সবাই স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি। আবার কেউ কেউ আছেন যারা নিজে স্বপ্ন দেখেন , অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারে্ন এবং সেই স্বপ্ন পূরনে নিজেকে উজার করে দিতেও দিধা করেন না। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ (মাহাথির মোহাম্মদ) সে ধরনেই একজন মানুষ। তিনি এশিয়ায় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শৈশবে কলা বিক্রেতা মাহাথিরের চোখে ছিল দেশকে নিয়ে হাজারো স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরনের প্রথম ধাপ হিসাবে তিনি নিজেকে সেভাবে তৈরি করতে থাকেন। নিজের চেষ্টায় কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যে নিজেকে নিয়ে যান দেশের সর্বোচ্চ আসনটিতে। জনগনের কাছে তার জনপ্রিয়তার কারনে ২২ বছর কেউ তাকে সেই আসন থেকে নড়াতে পারেনি। একে একে মাহাথির বাস্তবায়ন করেন তার স্বপ্নগুলি। যে স্বপ্নগুলো তিনি দেখিয়ে ছিলেন মালয়েশিয়ার জনগনকে। দরিদ্র একটি দেশ মালয়েশিয়াকে তিনি রুপান্তরিত করেন উন্নত বিশ্বের একটি দেশে এবং মালয়েশিয়ার অর্থনীতি পরিনত হয় হিমালয়ের মত অটল। মাহাথিরের মত মানুষরা শত বছর অপেক্ষার পরে জন্ম নেয়। ডা.মাহাথির মালয়েশিয়ার জরাজীর্ণ শিক্ষা,অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে গুড়িয়ে দিয়ে ছিলেন এবং সেই ধ্বংশস্তুপের উপর নতুন করে আবার সব তৈরি করে ছিলেন। তা বিশ্ববাসির কাছে একটি দৃষ্টান্ত। তাঁর মত রাজনৈতিক জ্ঞানের অধিকারি ব্যাক্তি খুব বেশি জন্মেনি পৃথিবীতে। অসাধারন কূটনৈতিক বুদ্ধি তার। বইটির লেখক একে এম আতিকুর রহমান। লেখকের সৌভাগ্য হয়েছে কাছ থেকে মাহাথির মোহাম্মদকে দেখার। বইটি পড়লে আধুনিক মালয়েশিয়ার অনেক কিছু জানা যাবে।

মৌষলকাল

Moushkaalসমরেশ মজুমদারের উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষ উপন্যাসগুলো পড়েনি এমন বই পড়ুয়া পাঠক পাওয়া যাবে কিনা আমার সন্ধেহ আছে। দুই বাংলাতেই তুমুল জনপ্রিয়তা পায় তার এই উপন্যাসগুলো। সেই উপন্যাসগুলোরই আর একটি পর্ব মৌষলকাল। প্রায় পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় পরে সমরেশ মজুমদার আবার অনিমেষ-মাধবীলতা-অর্ককে এনেছেন পাঠকদের সামনে। উপন্যাসটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অতি সম্প্রতি সময়ে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক অনেক বিষয় উঠে এসেছে। কেমন ছিল পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা, দুই মেয়াদের দুই সরকারের সময়। ২০০৮ থেকে এখন পর্যন্ত। সেই সময়ের রাজনীতির অনেক পালা বদলের ছবি এই মৌষলকাল। এই বইটি পড়ার জন্য আমাকে প্রায় ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমার মনে হয় এধরনের বইয়ের জন্য ১৩ বছর অপেক্ষা কিছু না। শত বছর অপেক্ষা করার মত কালজয়ী একটি উপন্যাস। সমরেশ মজুমদারের আর একটি অনবদ্য সৃষ্টি। কাহিনীর প্রয়োজনে আগের অনেক চরিত্রকে উপন্যাসটিতে এনেছেন লেখক। মাধবীলতা-অনিমেষের ছোট্ট অর্ক এখন মাঝবয়সি যুবক।  স্বভাবে, আবেগে, ভালবাসায় অর্ক যেন এক লৌহমানবের প্রতিমর্তি। যুবক অর্কের ব্যক্তিত্ব, তার স্বপ্ন, সমাজ পরিবর্তনের ইচ্ছা ইত্যাদি এসব চারিত্রিক দিকগুলো উপন্যাসটিকে আলোকিত করেছে। মানুষের কল্যানের জন্যই সে জড়িয়ে যায় রাজনীতির বেড়াজালে। কিন্তু নীতিহীন রাজনীতি তাকে গ্রাস করতে পারে না। জীবনের অনেক কঠিনতম সময় সে পাশে পায় দুজন সাহসী মানুষকে। তাকে সাহায্য করতে আরও একবার এগিয়ে আসে অনিমেষ-মাধবীলতা।

ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ দ্য উইন্টার সোলজার

captain-america-the-winter-soldierস্টিভ রজার যখন suspended animation থেকে কয়েক দশক পর জেগে উঠলেন তখন পৃথিবী অনেকটাই বদলে গেছে! এই old school idealist কোন ভাবেই আজকের পপ কালচার বা নীতি-নৈতিকতার নতুন ধ্যান-ধারণাগুলোর সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। এদিকে রহস্যজনক খুনি উইন্টার সোলজারের হাতে খুন হওয়ার আগে ডিরেক্টর নিক রজারকে Shield এর অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা শত্রুপক্ষ সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। রজার তাই কাউকেই বিশ্বাস না করার সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনের সদস্যরা তাই তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিযোগ করে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকাকে এই রহস্য ভেদ করতে নামতে হয়। সাথে সঙ্গি হিসেবে থাকে Black Widow আর The Falcon। মোটের উপর এই হোল কাহিনী।

খুবই সাদামাটা কাহিনী মনে হচ্ছে? তাই ভাবলে ভুল হবে! প্রথম ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা ছবিটি তেমন ভালো লাগে নি। তাই এই ছবিটি নিয়েও তেমন একটা বেশি কিছু আশা ছিল না। কিন্তু দেখার পর মনে হয়েছে Marvel Cinematic Universe এর তৈরি অন্যতম সেরা ছবি “দ্য উইন্টার সোলজার”। প্রথমতঃ একশন দৃশ্যগুলো ছিল আসাধারন। পুরো ছবি জুড়েই অসংখ্য একশন দৃশ্য আপনাকে মোহিত করে রাখবে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই টান টান উত্তেজনাকর দৃশ্যগুলোর সাথে কমিক রিলিফ হিসেবে রয়েছে বেশ কিছু হাসির ঘটনা যা ছবিটির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। প্রতিটি চরিত্রেরই নিজস্বতা রয়েছে আর অভিনয়ও ভালোই লেগেছে। “দ্য উইন্টার সোলজার” এ ব্ল্যাক উইডোর বেশ জোরালো উপস্থিতি আছে। অন্যদিকে ফ্যালকন চরিত্রে স্যাম উইলসন ছিলেন দুর্দান্ত। বিশেষ করে একশন দৃশ্যগুলোতে তার অভিনয় ছিল অসাধারণ। আর প্রতিটি খল অভিনেতাও ভালো করেছেন।

কাহিনীটাও ভালোই লেগেছে। বেশ কিছু টুইস্ট আছে; কিছু প্রত্যাশিত, আর কিছু অপ্রত্যাশিত! শেষদিকে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত টুইস্ট যখন প্রকাশিত হয় তখন এপিক মনে হয়েছে। এটা শুধু ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা বা দ্য উইন্টার সোলজারের কাহিনী না, সাথে আছে অদৃশ্য শক্তির খেলা। এক কথায় বলতে হলে বলব ছবিটি দুর্দান্ত না হলেও দেখে বেশ ভালোই আনন্দ পাওয়া যাবে।

থ্রী কমরেডস-এরিক মারিয়া রেমার্ক

থ্রী কমরেডস-এরিক মারিয়া রেমার্কএরিক মারিয়া রেমার্ক পাঠকদের অনেকগুলো ভাল বই উপহার দিয়েছেন। তারমধ্যে থ্রী কমরেডস বইটি এরিক মারিয়ার শ্রেষ্ঠ কাজ বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। হৃদয় স্পর্শ করার মত ভালবাসা আর বন্ধুত্বের গল্প। প্রায় আট দশক আগে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। যখন আমি প্রথম এই বইটির কথা শুনি, মনে হয় তখন আমি ইন্টার পড়ি। শুনেই আমার এতটা ভাল লেগেছিল যে, ধার করে এনে পড়া শুরু করেছিলাম। শেষ না করে আর থামতে পারিনি। কিছু দিন আগে মাসুদ মাহমুদের অনুবাদ করা বাংলা বইটি আবার পড়লাম। চমৎকার অনুবাদ। বিচ্ছেদের অনেক প্রেমের গল্প পড়েছি কিন্ত এত মর্মস্পর্শি প্রেমের গল্প আর পড়িনি। হৃদয় নাড়া দেয়ার মত একটি মর্মস্পর্শি গল্প। কাহিনীর যত ভিতরে ডুকেছি, তত বেশি আমি  আকৃষ্ট হয়েছি নিজের অজান্তে। উপন্যাসটি সত্যি পাঠকদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারার মত একটি বই। এখন পর্যন্ত আমার পড়া ভাল বইগুলোর মধ্যে একটি থ্রী কমরেডস। যারাই এই বইটি পড়েছে, সবাই একই কথা বলেছে। অসাধারন একটি আত্মত্যাগের  উপন্যাস। সম্পূর্ন ভিন্ন স্বাদের প্রমের গল্প। উপন্যাসটি পড়ার সময় যে কারোর চোখে পানি আসতেই পারে। বন্ধুত্ব কেমন হয়? ভালবাসার জন্য কতটুকু ত্যাগ করা যায়? বইটি পড়লেই বুঝা যায়। 

 

স্টার ওয়ার্স:এপিসোড ৫. দ্য এম্পায়ার স্ট্রাইক্স ব্যাক

Star Wars-Episode 5 - The Empire Strikes Backস্টার ওয়ার্স ছবিগুলোর মধ্যে এপিসোড ৫ মানে দ্য এম্পায়ার স্ট্রাইক্স ব্যাক পর্বটি এক কথায় অপূর্ব। অন্য পর্বগুলোর চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষনীয়। আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, অনেক দর্শক আছে যারা এই ছবিটি পছন্দ করেনি। এখন পর্যন্ত মানব ইতিহাসে যতগুলো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নিয়ে ছবি বানানো হয়েছে তারমধ্যে দ্য এম্পায়ার স্ট্রাইক্স ব্যাক ছবিটি সবচেয়ে সেরা। যারা অভিনয় করেছে ছবিটিতে সবার অভিনয় চমত্কার লেগেছে আমার কাছে। বিশেষ করে মার্ক হ্যামিল, হ্যারিসন ফরড, ক্যারি ফিশারের অভিনয় তাক লাগিয়ে দিবে দর্শকদের। তাদের অভিনয় ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছে ছবিটিতে। আমার মনে হয়, যারা এই ছবিটি পছন্দ করেনি তাদের সমালোচনা শুনে কারোই উচিত হবে না ছবিটি দেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা। এই ছবিটি আমার বহুবার দেখা হয়ে গেছে। বারবার দেখার পরেও এখনও নতুন মনে হয়। ১৯৮০ সালে বানানো মানে তিন দশক আগের এই ছবিটি আইএমডিবি (ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেইস) এর ১২ নাম্বারে আছে ৮.৮ রেটিং নিয়ে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইভ্রিন কেশ্নার।

দি রিটার্ন অফ দি কিং

The Lord of the Rings-The Return of the Kingসত্যি এটা একটি সেরা কাজ।যাকে বলা হয় মাষ্টারপিস। দি রিটার্ন অফ দি কিং অবশ্যই সেধরনের একটি ছবি। যোগ্য ছবি হিসাবে ১১টি  বিভাগে অস্কার জিতে নেয় দি রিটার্ন অফ দি কিং। দি ফেলোশিপ অফ দি রিং ছবিটি সত্যি অসাধারন একটি ছবি কিন্তু দি রিটার্ন অফ দি কিং হলো এখন পর্যন্ত আমার দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ ফিল্ম। এই ছবির প্রত্যেকটি বিষয় খুবই সুন্দর। বিশেষ করে ভৌতিক দৃশ্যগুলি।ক্যামেরার কাজ অসাধারন। যারা অধিক ভীতু তাদের সতর্ক হয়ে ছবিটি দেখ উচিত হবে। কারন দৃশ্যগুলি এতটা বাস্তব যে হার্টের সমস্যা হতে পারে। দি রিটার্ন অফ দি কিং তিনটি অবিশ্বাস্য এবং চমৎকার ছবির শেষ ভাগ। কাহিনীটি শুরু থেকেই দর্শকদের তীব্র আকর্ষন করবে এবং শেষ দৃশ্য পর্যন্ত আটকে রাখবে। ছবিটির ইফেক্টগুলো এক কথায় অনবদ্য। চরিত্রগুলো একটি চেয়ে অন্যটি অসম্ভব সুন্দর। দি রিটার্ন অফ দি কিং ছবিটি আমকে দারুন ভাবে স্থম্ভিত করেছিল। যার ছবিটি দেখেনি তাদের অবশ্যই দেখা উচিত। আইএমডিবির (ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেইস) ২৫০ মুভির তালিকায় আছে দি রিটার্ন অফ দি কিং।

দ্য গুড, দ্য ব্যাড, এন্ড দ্য আগলি

good-bad-uglyব্লন্ডি (দ্য গুড) একজন দক্ষ বন্দুকবাজ।বাড়ি ছেড়েছে বাড়তি কিছু ডলার ইনকামের জন্য।এঞ্জেল আই (দ্য ব্যাড) যাকে টাকা দিয়ে সব কাজ করানো যায় এমনকি খুনও।টাকার বিনিময়ে খুন করাটা তার পেশা।টাকো (দ্য আগলি) একজন দাগী আসামী যে নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।টাকো আর ব্লন্ডির মধ্যে পরিচয় হয় এবং তারা দুজন একসঙ্গে ডলার কামানোর উপায় খুঁজতে থাকে।তারা দুজন একসঙ্গে কাজ করলেও টাকো প্রথম থেকেই ব্লন্ডির ক্ষতির কথা ভাবতে থাকে।একদিন মরুভূমিতে তারা দুজন একটা ঘোড়ার গাড়ির মুখোমুখি হয় যেখানে অনেকগুলো মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা।একটি মাত্র লোক পায় তারা দুজন যে তখন পর্যন্ত বেচে ছিল। তার নাম বিল কার্সন।বিল কার্সন তাদেরকে বলে তারা একটি কবরখানায় নির্দিষ্ট কবরের নীচে অনেক সোনা লুকিয়ে রেখেছে।কিন্তু সে কথা শেষ করার আগেই তার মৃত্যু হয়।টাকো জানতে পারে কবরখানাটির নাম অন্যদিকে ব্লন্ডি জানতে পারে নির্দিষ্ট কবরটির নাম।এখন এই সোনা খুঁজে বের করতে হলে তাদের দুজনকেই বেঁচে থাকতে হবে এবং পরস্পরকে সাহায্য করতে হবে।এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এঞ্জেল আই বিল কার্সনকেই খুঁজছিলো।সে এক সময় খুঁজতে খুঁজতে টাকো ও ব্লন্ডিকে পেয়ে যায় এবং জানতে পারে ওদের কাছেই সোনার ঠিকানা আছে।মুভিটি পরিচালনা করেছেন সের্গিও লিয়ন।

ডেটলাইন বাংলাদেশ : নাইন্টিন সেভেন্টিওয়ান

Dateline-Bangladesh-1971বইটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি দলিল। আমি মনে করি ১৯৭১ সালের পরের প্রজন্মের এই ধরনের বইগুলো বেশি বেশি করে পড়া দরকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক ভিনদেশিকে আমরা বন্ধু হিসাবে কাছে পেয়েছিলাম। তাদের মধ্যে কেউ সাহায্য করেছিল প্রত্যক্ষ ভাবে কেউ পরোক্ষ ভাবে। তাদেরই একজন হলেন সিডনি শ্যানবার্গ। দি নিউইয়র্ক টাইমস এর এই সাংবাদিকের কাছে বাংলাদেশের মানুষের অনেক ঋন আছে। আমরা অবশ্যই তার প্রতি কৃতজ্ঞ। ২৫শে মার্চের পাকিস্থানিদের চালানো গণহত্যার একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী সিডনি শ্যানবার্গ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বিদেশিদের অনেকগুলো বই আছে। সবগুলো পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তবে যেকটি পড়েছি তারমধ্যে ডেটলাইন বাংলাদেশ : নাইন্টিন সেভেন্টিওয়ান বইটিকে বেষ্ট মনে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় শ্যানবার্গ বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন তার পেশাগত দায়িত্বের কারনে। সেই সময় করা তার রিপোর্টগুলো নিয়েই করা হয়েছে এই বইটি। সিডনি শ্যানবার্গসহ কিছর সাহসী সাংবাদিকদের কারনে বাইরের দুনিয়া জানতে পারে নিষ্ঠুর সেই গণহত্যার কথা। নিজের চোখে দেখা নানা ঘটনা প্রতিবেদন হিসেবে পাঠিয়েছেন নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়। তার রিপোর্টগুলোর জন্যই বিশ্ববাসি  জানতে পারে পাক বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের কথা। লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়ে ছিল ভারতে, তাদের কথা। সিডনি তার রিপোর্টগুলো মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে ছিলেন বিশ্ববাসীর সামনে। ডেটলাইন বাংলাদেশ : নাইন্টিন সেভেন্টিওয়ান বইটি অনুবাদের জন্যে অনুবাদক মফিদুল হককে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিদেশিদের লেখা বইগুলো অবশ্যই বাংলায় অনুবাদ হওয়া জরুরী। কারন তাহলেই আমরা বুঝতে পারবো বিদেশিরা কি ভেবে ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে।

বেসিক আলী

besik-aliদৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর বেসিক আলীকে হঠাৎ করে বই আকারে পেয়ে আমি প্রচন্ড খুশি হয়েছিলাম। কারন এভাবে কখনও বেসিক আলীকে পড়া হয়নি তাই। সবগুলো একসাথে এভাবে পাব ভাবতেই পারিনি। বাইরের দেশগুলোতে কমিকস খুব জনপ্রিয়। তারা বাসে,ট্রেনে হর-হামেসা কমিকস পড়ে।আমাদের দেশে কমিকসকে এখনও মনে করা হয় বাচ্চাদের আইটেম। কারন কমিকসকে আমরা সেভাবে জনপ্রিয় করতে পারিনি। ছোটবেলা যে কমিকসগুলো পড়তাম তার প্রায় সবগুলোই ছিল বাইরের দেশ থেকে আমদানী করা। বিল্লু, পিঙ্কি, চাচা চৌধুরী, নন্টে-ফন্টের কমিকসগুলো। প্রাণের চরিত্রগুলো নিয়ে ঘুমাতাম আর স্বপ্ন দেখতাম। সারাক্ষনই মাথায় ঘুরত কমিকসের কেরেক্টারগুলো। ছোটবেলায় কমিকসের পোকা ছিলাম। আমরা পড়তাম আমদানী করা জিনিস। এ প্রজন্মের বাচ্চাদের সেই কষট সয্য করা লাগবে না। আমাদের দেশে এখন অনেক নতুন নতুন লেখক তৈরি হচ্ছে যারা এই বিভাগটি নিয়ে কাজ করছে। প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে বইটি পড়া শুরু করে ছিলাম। ফলাফল হলো শেষ না করে আর উঠতে পারিনি। বেসিক আলী চরিত্রটি সৃষ্ট্রি করছেন কার্টুনিস্ট শাহরিয়ার খান। চরিত্রগুলোর কথা এবং ছবি সবই শাহরিয়ার নিজে লিখেছেন। আমাদের জীবনের প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ছোটখাট ঘটনাগুলো খুব সুন্দর করে, কৌতুকময় করে তুলে ধরেছেন তিনি। বইটির মূল বিষয় হচ্ছে পরিবার, বন্ধুত্ব এবং অফিস নিয়ে মজার মজার সব ঘটনা। বইটি শাহরিয়ার লিখেছেন বেসিক আলীর পরিবারকে নিয়ে। চমৎকার একটা বই। লেখক অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।