নাইন কুইন্স

Nine-Queens2৯টা স্ট্যাম্প নিয়েই এই মুভিটির মূল কাহিনী। ছবিটির চিত্রনাট্য এবং ডিরেকশন দুটোই করেছেন ফাবিয়ান বিলিনষ্কুখি নামের একজন আর্জেন্টাইন। ভদ্রলোক প্রমান করেছেন আর্জেন্টিনার মানুষ শুধু ফুটবল দিয়ে গোটা বিশ্বকে কাঁপান না। ভাল মুভি দিয়েও আর্জেন্টিনা পৃথিবীকে কাঁপাতে পারে। নাইন কুইন্স ছবিটি সেধরনের একটি মুভি। আমি ভদ্রলোকে মুগ্ধ। আর্জেন্টিনাকে চিনলাম নতুন করে। মুভিটিতে আসাধারন একটি গান আছে। মুভিটি দেখে আমার মনে হয়েছে মুভিটির প্রতি সুবিচার করা হয়নি। সত্যি কথা হলো এটা আন্ডার রেটেড মুভি। এত অসাধারন একটি মুভি কেন এত আন্ডার রেটেড বুঝতে পারছি না। হুয়ান নামের এক ছেলেকে দিয়ে শুরু এই সিনেমাটির। জুয়ার দেনায় আটকা পরা বাবাকে উদ্ধার করতে হুয়ান বেছে নেয় লোক ঠকানোর কাজ। মানুষের সাথে বিভিন্ন ধোকাবাজি ব্যবহার করে সে এবং তাদের টাকা মেরে দেয়। এটাই হয়ে উঠে তার একমাত্র কাজ। এই দুই নাম্বারি কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় আরেক ঠকবাজের সাথে। যার নাম মারকুজ। হুয়ান এবং মারকুজ বিভিন্ন ট্রিকস ব্যবহার করে মানুষের টাকা মেরে দিতে থাকে। মারকুজের অসুস্থ এক পুরানো পার্টনারকে দেখতে যায় তারা। যার আঁকার হাত ঈশ্বর প্রদত্ত। হুয়ান এবং মারকুজকে সে ৯টি স্ট্যাম্প দেয় বিক্রি করার জন্য যার মুল্য কত হবে তাঁর কোন ধারনা নেই নিজেরও। এই স্ট্যাম্প নিয়েই শুরু হয় চোরের উপর বাটপারির পুরানো খেলা। আগে থেকে প্রেডিকশন করাটা খুব কঠিন, কি হবে শেষ পর্যন্ত মুভিটিতে।

চৌরঙ্গী

Chowrangeeপ্রায় তিরিশ বছর আগের চৌরঙ্গী উপন্যাসটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকরের সম্পুর্ণ ভিন্ন আঙ্গীকের একটি সৃষ্টি। বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে শংকর অসম্ভব সহজাত মেধাবী একজন লেখক।  উপন্যাসটিতে লেখক তার কলকাতা ভ্রমণ এবং সেখানকার সেরা হোটেল শাহজাহান এ থাকাকালীন সময়ের দুঃসাহসিক ঘটনা গুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। এতে হোটেলে আসা অতিথি ও হোটেল কর্মচারীদের মাঝে ঘটে যাওয়া চমৎকার কিছু গল্প আছে। আগা গোড়াই রঙ্গীন এই বইটি। লেখক শংকরের দৃষ্টিতে পাঠক দেখবে ভালোবাসা,আবেগ,ক্ষতি,রোমাঞ্চ। মোটকথা জীবনের প্রতিটি মোড়ই রয়েছেে উপন্যাসটিতে। কখনো কখনো আলোকজ্জল হোটেলের ভেতরের দিকে যে প্রচন্ড অন্ধকার থাকতে পারে তা এই উপন্যাসটি পড়লেই বুঝা যায়।  কোলকাতায় যাদের বাস তারাও হয়তো এই শহরটির এতগুলো লুকায়িত ব্যাপারের কথা জানে না।

বইটি পড়ে তারা নতুন করে ভালোবাসতে শুরু করবে তাদের চিরচেনা শহরটিকে। একদিক থেকে দেখতে এটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকরের জীবনীর মত কিছুটা। জীবনের এক পর্যায়ে লেখক বেকার হয়ে পড়েন। সেই হতাশার সময়টিতে কোলকাতা শহর তাকে যেন আপন মায়ের মত আগলে রেখেছিল। সেই মায়ার পরশেই লেখকের বেকারত্ত ঘুচে যায় । লেখকের চাকরী হয় শহরটির সেরা হোটেল হোটেল শাাাহজাহনে। প্রতিদিন হোটেলে যে কত ধরনের লোকজন আসে এবং তাদেরকে সন্তষ্ট করার জন্য হোটেলে যারা কাজ করে তাদেরকে যে কত কিছু করতে হয় তার বর্ননা সত্যি আমাকে অবাক করছে। মোটের উপর এটি একটি ভালো বই।

তবে হ্যাঁ কিছু কিছু সময়ে এটি বেশ বোরিং। বেশ দীর্ঘ  একটি বই এটি। হোটল আর হোটেল কর্মচারীদের বর্ণনাগুলো বেশ একঘেয়েমী। তবে এসব কিছুর উপরে হল এর শিক্ষনীয় ব্যাপারগুলো। বই পড়তে যারা ভালবাসে সেই সব পাঠকদেরকে বলবো ভুলেও যেন বইটি পড়া মিস না করে তারা। জনপ্রিয় সাহিত্যিক শংকরের এই উপন্যসটি নিয়ে তৈরী হয়েছিল একটি চলচ্চিত্র। উপন্যাসের নামেই নামকরণ করা হয়েছিল ছবিটির। যাতে অভিনয় করেছিল উত্তম কুমারের মত পর্দা কাঁপাানো নায়ক। 

রেভুলেশন ২০২০

রেভুলেশন ২০২০২০১১ সালে চেতন ভগতের ভিন্নধর্মী উপন্যাস রেভুলেশন ২০২০ প্রকাশিত হয় । তুমুল সাড়া জাগানো এই উপন্যাসে দেখানো হয় ভারতের বারানাসি শহরে বসবাসরত তিনজন ছেলে মেয়ের একসাথে বেড়ে ওঠা , তাদের শিক্ষা , ভালোবাসা এবং শেষ পরিণতি । গোপাল এবং রাঘব একই বিদ্যালয়ে পড়া দুই বন্ধু যাদের বন্ধুত্বের গভীরতা সমান কিন্তু অর্থনৈতিক দিক দিয়ে রাঘব যেখানে আকাশ গোপাল সেখানে মটিও নয় বরং তারও নিচের ভূখন্ড । সময়ের সাথে সাথে বয়স বেড়ে টগবগে তরুণে পরিণত হওয়া দুজনই ইন্জীনিয়ারিং কলেজে ভর্তির জন্যে উঠে পড়ে লাগে ।  রাঘব টিকে যায় প্রথমবারেই আর গোপাল দুই দুইবার চেষ্টার পরেও পারে না । জীবনের চরম বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে গোপাল সিদ্ধান্ত নেয় সে তার সকল মেধা এবং শ্রম দিয়ে টাকা উপার্জন করবে । তা সে যেভাবেই হোকনা কেন ! অপরদিকে রাঘব চায় সমাজকে পরিবর্তন করতে । সে চায় এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে যেখানে থাকবেনা দূর্নীতি বা অনৈতিক কোনকিছু । এই গল্পের সবচেয়ে চান্চল্যকর ব্যাপার হল এই যে তারা দুজন ই ভালোবাসে আর্তীকে যে কিনা তাদরই এক সময়কার সহপাঠী ও বনধু । পুরো গল্পের নায়ক গোপাল হলও শেষ পর্যন্ত সব দিক থেকে জয় রাঘবেরই হয় । সে বিপ্লব ঘটানোর মধ্যমে সমাজ পরিবর্তন করে নিজের স্বপ্ন পুরণে সক্ষম হয়  এবং আর্তীর ভালোবাসাও সে অধিকার করে নেয় । এভাবেই পৃথিবীর চিরাচরিত নিয়মে সত্য আর নিষ্ঠার জয় হয় । এই গল্পে  চেতন ভগত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রাত্যহিক কিছু ঘটনা বা ব্যাপারকে অত্যন্ত বাস্তবতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন যার কারণেে এই বইটি দখল করে নিয়েছে সকল বই পড়ুয়ার বুক শেলফ ।

২স্টেটস

2 STATESচেতন ভগতের দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস বইটির কাহিনী নিয়ে নির্মান করা হয় ২স্টেটস সিনেমাটি। হিন্দি মুভি আমি খুব একটা দেখি না। বেছে বেছে ভাল ছবিগুলো দেখি। চেতন ভগতের লেখা ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান বইটি থেকে তৈরীকৃত থ্রি-ইডিয়েটস ছবিটি সত্যি খুব ভাল লেগেছিল। তাই ২স্টেটস মুভিটি আগ্রহ নিয়ে দেখতে বসা। দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস  উপন্যাসটি চেতন ভগত ২০০৯ সালে লিখেছেন,  এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে পরিচালক অভিষেক ভারমান তৈরি করেন রোমান্টিক কমেডি ধাচের এই চলচ্চিত্রটি। ছবিটি মুক্তির আগেই বেপক সাড়া জাগিয়ে ছিল ইন্ডিয়াতে। চেতন ভগত সব সময় আলাদা কিছু বলার চেষ্টা করেন। এই মুভিটিতে পরিচালক অভিষেক ভারমান সেই কাজটি করেছেন খুব নিষ্ঠার সাথে। ইন্দিয়া বিশাল একটি দেশ । বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে সে দেশে। তাদের আচার-ব্যহার, ভাষা, ধর্ম কোনটির সাথে কোনটি মিলে না। তারই একটি চিত্র এই সিনেমাটি। একজন পাঞ্জাবী ছেলে কৃশ, যে একজন তামিলিয়ান ব্রাহ্মণ মেয়ে অনন্যার প্রেমে পরে। কৃশ এবং অনন্যা দুজনই কলেজে পরিচিত হয় এবং প্রেমে পরে। তারপর তারা সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার এবং তাদের বাবা মায়ের মধ্যকার উত্তর-দক্ষিণের একটা সেতুবন্ধন তৈরি করার কাজে নামার। ছবিটি মুক্তির পর তুমুল জনপ্রিতা পায়। আই এম ডি বির রেটিংও বেশ ভাল । দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস বইটিি  আসলে লেখকেরর নিজের প্রেম এবং বিয়ের সত্য কাহিনী।