দ্য রামেন গার্ল

The-Ramen-Girl2মুভিটি জাপানি এবং আমেরিকান একটি সৃজনশীল ও আকর্ষনীয় ফিউশন এবং একটি অনুপ্রেরণীয় সিনেমা। জাপানিজ কালচার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যাবে মুভিটি দেখলে। জাপানিজ সামাজিকতা এবং আচার-ব্যবহার অনান্য দেশের মত না। কাজের প্রতি তাদের যে ভালবাসা এই মুভিটিতে দেখেছি, তা আমাকে সত্যি অবাক করেছে। আমার মনে হয়েছে জাপানিজরা খুব আবেগপ্রবন, আবার কখনো কখনো মনে হয়েছে খুব নিষ্ঠুর। একটি ছোট দোকানের মধ্যেই সিনেমাটির ৯৫ ভাগ দেখানো হয়ছে। রামেন নামের জাপানিজ খাবারটি এক প্রকার সুপ জাতীয় নুডোল্স। জাপানের লোকজন এটা না খেয়ে থাকতে পারে না। রামেন রান্না করার পদ্ধতি অনেক জটিল। জাপানিজদের ঈশ্বরের নাম খামিসামা। তারা বলে রামেন যারা রান্না করে তাদের হাত খামিসামা অনেক যত্ন করে বানিয়েছেন। রামেন খেতে হয় খাবারটিকে সম্মান করে। রামেন জাপানিজদের কালচারের বড় একটি অংশ। রামেন রান্নার শিখানোর জন্য আলাদা কলেজ এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ডিপার্টমেন্ট আছে। এই ঐতির্যবাহি খাবারটি সবাই রান্না করতে পারে না। সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো জাপানের মানুষ বিশ্বাস করে রামেন খেয়ে আপনার মনের অবস্থা কেমন হবে, তা সম্পূর্ন নির্ভর করে যে মানুষটি এটি তৈরি করছে তার উপর। মানে আপনি কোন কারনে দুঃখিত হলে অথবা আপনার মন খারাপ থাকলে রামেন সপে গেলে আপনার আর মন খারাপ লাগবে না। যে মানুষটি রামেন বানাবে সে আপনাকে দেখেই বুঝতে পারবে এখন আপনার কি ধরনের রামেন প্রয়োজন। তার হাতের জাদুতে সে সব ঠিক করে দিবে। এই কথাগুলো জাপানের  ৮০ ভাগ মানুষ মনে-প্রানে বিশ্বাস করে। আমেরিকান একজন মেয়ে আবেই, জাপানে এসে নিজেকে খুব একা এবং নিঃসঙ্গ ফিল করে। সে কারো কথা বুঝে না এবং অন্যরাও তার কথা বুঝে না। তার বাসার কাছেই ছোট একটি রামেন সপ আছে। এবং এই রামেন-সপটিই পাল্টে দেয় তার জীবন। আমেরিকা এবং জাপানের কালচার যে আকাশ-পাতাল তফাত তা খুব সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। চমৎকার একটি মুভি।

ভার্টিকাল রান

Vertical Runজোসেফ আর গারবারের ভার্টিকাল রান  বইটি পড়ে শেষ করলাম মাত্র। বইটি যে কিভাবে শেষ হলো বলতে পারছি না। টান টান উত্তেজনায় পাতার পর পাতা পড়ে গেছি শুধু। কাহিনীটাকে কি বলা যায়, এ্যাকশন? থ্রিলার? নাকি ক্রাইম? সবকিছু আছে উপন্যাসটিতে। একবার ভাবুনতো হঠাৎ যদি পরিচিত পৃথিবীটা পাল্টে যায় আপনার, খুব কাছের মানুষগুলো যদি খুন করতে চায় আপনাকে, কেমন লাগবে আপনার? এমনই ঘটেছে বইটির কাহিনীতে। প্রায় দের মাস কোন বই পড়িনি কাজের চাপের কারনে। দের মাস পর হাতে নেওয়া বইটি এতটা দুর্দান্ত, এতটা রহস্যময় হবে ভাবতেও পারিনি। শুরু থেকে কাহিনীটিকে আমার অসম্ভব গতিময় মনে হয়েছে। এধরনের বই অনেক দিন পর পড়লাম। এক কথায় উপন্যাসটি এ্যাকশনের একটি মজার কেন্ডি। যে কেন্ডি খেলে পাঠকরা অসাধারন মজা পাবে, কোন ভুল নেই। মাত্র একটি দিনের কাহিনী নিয়ে এমন উপন্যাস আর আছে কিনা মনে করতে পারছি না। অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ডেভ এলিয়ট এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পজিশনে কাজ করে একটি মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিতে। সকাল হওয়ার সাথে সাথে নিঃতেজ নিউইয়র্ক সিটি জেগে উঠছে ধীরে ধীরে। প্রতিদিনের মত আজও ডেভ এলিয়ট সকাল সকাল তার অফিসে পৌছে গেলো। পঞ্চাশ তলা অফিসের ৪৫ তলায় সে বসে। অফিস টাইম এখনো শুরু হয়নি, ঘড়িতে বাজে মাত্র সকাল ৭:২০। ডেভ এলিয়ট কল্পনাও করতে পারবে না আজ তার কেমন দিন! কি নেমে আসছে তার উপর আগামী কয়েক ঘন্টায়। কম্পানির প্রেসিডেন্টকে দিয়ে শুরু হয় বহুতল ভবনের ভেতরে ইঁদুর বেড়াল অসামঞ্জস্য লড়াইয়ের শুরু। কেন তাকে মেরে ফেলার জন্য এমন পাগল হয়ে উঠছে সবাই বুঝতেই পারছে না ডেভ। কি তার অপরাধ? এটা না-জেনেই কি তাকে এই পৃথিবী ছাড়তে হবে? প্রিয়তমাস্ত্রীকে আর কখনও বলা হবে না ভালবাসি কথাটি, নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয় সন্তানকে আর বুঝি বুকে জড়িয়ে ধরা হবে না। কারন তারাও যে খুন করতে চায় ডেভকে। বাসা থেকে অফিসে আসার সময় পৃথিবীটা ছিল ভালবাসায় পরিপূর্ন মাত্র কয়েক ঘন্টায় পাল্টে গেল সব কিছু। কেন সবাই এমন আচরন করছে ডেভের সাথে? জানতে হলে পড়ে ফেলুন ভার্টিকাল রান বইটি।

পেপার মুন

Paper Moonচার্লি চ্যাপলিনের দ্যা কিড ছবিটির মতো আনন্দ আমাকে আর কোন মুভি দিতে পারেনি এখন পর্যন্ত, এই কথা বলছিলাম আমার কলিগ বন্ধুদের সাথে। তখন এক কলিগ আমাকে বললো পেপার মুন ছবিটি যদি দেখে-না হয়ে থাকে তাহলে দেখতে পার। তারপর কাজের চাপে ভুলে গেলাম মুভিটির কথা।  এক বন্ধের দিন বসলাম মুভিটি দেখার জন্য। অনেক দিন পর এত চমৎকার একটি মুভি দেখলাম। মন ভালো করা, মজার কোনো মুভি দেখতে চাইলে পেপার মুন মিস করা ঠিক হবে না। কাহিনীটি তৈরি হয়েছে জো ডেভিড ব্রাউনের এডি প্রে উপন্যাসটি থেকে। মা-বাবা হারা ছোট্ট মেয়ে এডিকে নিয়েই মুভিটির মূল কাহিনী। বাস্তবে পিতা ও কন্যা  রায়ান ও’নিল এবং ট্যাটুম ও’নিলের অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করেছে। ১০ বছরের ছোট্ট ট্যাটুম ও’নিল তার সহজাত অভিনয় প্রতিভা দিয়ে জয় করে নেয় সবচেয়ে কম বয়সে অস্কার জয় করার খ্যাতাব। মুভিটিতে দেখা যায় মোসেস নামের একটি লোক সদ্য মা-হারা এডির দায়িত্ব নেয়। মোসেস হলো একজন ঠকবাজ তার প্রধান কাজ হলো লোক ঠকানো। সে যেভাবে মানুষ ঠকায় তা এক কথায় অসাধারন। সে যেখানেই যায় সেখানেই লোক ঠকায়। তবে কারই বড় ধরনের কোন ক্ষতিও সে করেন। এবার ঠকবাজ মোসেসর সাথে যুক্ত হলো ছোট্ট এডি। মাঝে মাঝে এডি এমন সব বুদ্ধি বের করে যা কোন বড় মানুয়ের মাথায়ও কখনো আসবে কিনা সন্দেহ। আবার সেই এমন কাজ করে যে দেখলে মনে হয় তার বুদ্ধি তার সমবয়সী কোন বাচ্চার চেয়েও কম। আমার মনে হয় পরিচালক পিটার বগ্দান্ভিচ তার জীবনের সেরা কাজটি করেছেন এই মুভিটিতে। সাদা-কালো আর পুরানো বলে মুভিটি মিস করবেন না। 

অর্ধেক জীবন

অর্ধেক জীবনসুনীল গঙ্গোপাধ্যায় পাঠকদের জন্য অসাধারন সব বই লিখে গেছেন। অর্ধেক জীবন উপন্যাসটিও অসাধারন একটি কাহিনী। বইটিতে অনেক সত্য ঘটনা এবং লেখকের ছোট থেকে বেড়ে উঠার কথা আছে। আছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ভয়াবহতার কথা এবং ভারতবর্সকে কাটাকুটির ইতিহাস। বইটিকে আমার উপন্যাসের চেয়ে লেখকের স্মৃতি-কথা বলে বেশি মনে হয়েছে। আরো মনে হয়েছে অর্ধেক জীবন বইটিকে শুধু উপন্যাস হিসাবে দেখলে হবে না কারন বইটি একটি প্রজন্মের ইতিহাস বহন করছে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়র ছোটবেলা থেকে ষাটের দশকের সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা এবং তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে এই বইয়ে। সুনীল চমৎকার ভাবে গুছিয়ে বলেছেন তার শৈশব, কৈশোর এবং যুবক বয়সে নানা কথা। পাশপাশি এসেছে  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা, ৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশ বিভাগ, দেশবিভাগের পরের নানা সমস্যা। বর্ননা করেছেন তেতাল্লিশের দূর্ভীক্ষের অভিজ্ঞতা। দেখেছেন অনাহারে মৃত্যুর মিশিল। তার লেখা শব্দগুলোর শক্তি এত বেশি যে, ৪৬ সালের ভয়াবহ হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার নিশৃংসতা পাঠকদের সামনে বাস্তব চিত্রের মত দেখা দিবে। অতন্ত্য মর্মস্পর্শী বর্ণণা যা পাঠকদেরকে অবশ্যই ভাবাবে। দেশ ভাগের পরের কাহিনী পড়ে আমি অবক হয়েছি। ইংরেজদের একটি মাত্র কলমের খোছা কেমন করে বদলে দিয়েছে গোটা ভারতবর্সকে। যে দেশ আমার ছিল, যে মাটি আমার ছিল হঠাৎ করেই তা কেড়ে নেয়ার ইতিহাস এই বইটি। কিশোর বয়সে এঘটনাগুলো লেখকের মনে প্রচন্ড ভাবে দাগ কেটেছে। সে সময় গান্ধি, নেহেরু কিংবা জিন্নার চেয়ে অনেক বেশি জন সমর্থন নেতাজী সুভাষচন্দ্রে উপর ছিল তা আমি জেনেছি এই বইটি পড়ে। ইতিহাসের প্রতি যাদের আগ্রহ আছে তারা এই বইটি পড়ে দেখতে পারেন।

ইনসেপশন

Inceptionপ্রখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান ইনসেপশন ছবিটি বানিয়েছেন স্বপ্ন নিয়ে। সব মানুষই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন হলো মানব চরিত্রের সবচেয়ে রহস্যজনক মানসিক অবস্থা। মানুষকে ঘুমের মাধ্যমে স্বপ্নের কাছে যেতে হয়।মানুষের অবচেতন মনের মধ্যে অনেক ধরনের আইডিয়া লুকানো থাকে। যেমন বিজনিস ম্যানদের অবচেতন মনে থাকে কি করে আরো বেশি টাকা আয় করা যায় তার নতুন নতুন পরিকল্পনা, বিজ্ঞানীরা অবচেতন মনে অনেক তথ্য মাথায় নিয়ে ঘুড়েন বেড়ান ইত্যাদি। এই ছবিতে দেখা যাবে দুই চোর সেধরনের তথ্য চুরি করছে। কিন্তু কিভাব? সে এক অদ্ভুত উপায়। স্বপ্নের ভেতরে স্বপ্নের মাধ্যমে ব্যাপারটি ঘটে। দুই চোরের ভুমিকায় দেখা যাবে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও (কব) এবং জোসেফ গর্ডন-লেভিট(আর্থার)কে। কাজটি আইন সম্মত না হওয়ায় কবের নাম অপরাধীর তালিকায় উঠে যায়। ফেরারি হয়ে যায় সে এবং এর প্রভাব পরে তার ব্যক্তিগত জীবনেও। এলোমেলো হয়ে যায় সব কিছু। শেষে দেখা যায় মরিয়া কব কারো মন থেকে কোনো তথ্য চায় না বরং একজনের মনে একটি তথ্য ডুকিয়ে দেওয়াই তার জীবনের শেষ উদ্দেশ্য। কি হবে শেষে? জানতে হলে দেখতে হবে ছবিটি।চোরে ভুমিকায় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অভিনয় আমার আসাধারন লেগেছে।

 

ডাই হার্ড

Die Hardএই সিরিজের প্রথম ছবি ডাই হার্ড। মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৮ সালে এবং তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল  ব্রুস উইলিস অভিনিত ছবিটি। ব্রুস উইলিসের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো সত্যি দর্শনীয়। আইএমডিবি-র টপ ২৫০ ছবির একটি, রেটিং ৮.২। যারা অ্যাকশন ছবি পছন্দ করে, তাদের জন্য এই ছবিটি সত্যি মনের মত হবে। ব্রুস উইলিস হলো নিউ ইয়র্ক সিটির একজন পুলিশ অফিসার। বড়দিন পালনের জন্য তার স্ত্রী ও বাচ্চারা লস এঞ্জেলেসে আসে। ব্রুস উইলিস তাদের সাথে দেখা করতে লস এঞ্জেলেসে যায়। ঘটনা-চক্রে সে এবং তার স্ত্রী আটকা পরে একটি বহুতল ভবনে। ভবনটি দখল করে একদল টেরোরিষ্ট। পুলিশ অফিসার ব্রুস উইলিস কর্তব্যের কারনে, নিজের এবং স্ত্রীর জানের মায়া ত্যাগ করে, টেরোরিষ্টদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায় বহুতল ভবনের অন্য ফ্লোরে। শুরু হয় ব্রুস উইলিসের অ্যাকশন। এক এক করে সে মারতে থাকে সন্ত্রাসিদের। আমার কাছে এই সিনেমাটি খুবই উত্তেজনাময় মনে হয়েছে। অসামান্য অভিনয় করেছেন ব্রুস উইলিস এবং অ্যালেন রিকম্যান। 

ফাইট ক্লাব

Fight Clubদেখার আগে আমি ভাবিনি ছবিটি এতটা উত্তেজনাকর এবং রহস্যময় হবে। ছবিটি শেষ হওয়ার পর অনেক্ষন চুপ করে বসে ছিলাম। অনেক দিন পর এরকম অসাধারন হৃদয়স্পর্শী একটি ছবি দেখলাম। ছবিটি যে এতটা ভাল হবে আমি তা চিন্তাই করিনি। সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে দেখা এটা আমার প্রথম ছবি। আমার কাছে মনে হয়েছ এটা একটি অবিশ্বাস্য শিল্পকর্ম। মনে হয় না অন্য কোন অভিনেতা  এডওয়ার্ড নর্টন এবং ব্র্যাড পিটের মত এত ভাল কাজ করতে পারতো। জীবনকে বদলে দিতে পারে একটি ভাল ছবি। ছবিটি দেখার পরে অনেক দর্শকেরই চিন্তা-চেতনা, মনোজগৎ পাল্টে যেতে পারে।  জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সহজ হয়ে যাবে। ছবিটির নাম দেখে আমি ভেবে ছিলাম এটি একটি মারমার-কাটকাট ছবি এবং মারামারিই হবে ছবির মূল বিষয়। কিন্তু ছবিটি দেখে আমি বিস্মিত। যতবার দেখি ততবারই আমি মুগ্ধ হই। শুরুর দিকে অনেকের কাছে ছবিটির গল্প জটিল মনে হলেও হতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলে বুঝতে কষ্ট হবে না।কোনরকমের উচ্চতর প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই ছবিটি বানানো হয়েছে। আইএমডিবির সেরা মুভির রেটিং এ ৮.৯ রেটিং নিয়ে ১০ তম অবস্থানে আছে। চমৎকার এই ছবিটির শেষের দিকে দর্শকেদের জন্য রয়েছে হতবাক হওয়ার মত কিছু দৃশ্য।

মজার ভূত

Mojar Vutহুমায়ূন আহমেদ যখন জীবিত ছিলেন তখন অনেক বার আফসোস করেছেন ছোটদের জন্য বেশি বই লেখেননি বলে। এই কাজটি তার কাছে কঠিন মনে হতো। অনেক বার লেখক অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি তার ছোট ভাই জাফর ইকবালকে ঈর্সা করেন শুধু এই একটি কারনে। কারন জাফর ইকবালের প্রায় সব লেখাই বাচ্চাদের নিয়ে। ছোট ভাইয়ের বই পড়ে হুমায়ূন আহমেদ নিজেও মুগ্ধ হতেন। তার ভাষায় ছোটদেরকে সন্তুষ্ট করা অসম্ভব একটি জটিল কাজ। তাই হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে পাঠকরা শিশু-সাহিত্য বেশি পায়নি। তবে হাতে গুনা যে কয়টি লিখেছেন তার তুলনা হয় না। তেমনই ছয়টি ছোট গল্প দিয়ে মজার ভূত এই বইটি। এই বইটি পড়ে বড়রাও অনেক মজা পাবে। ভুতের ভয় কম-বেশি সবারই আছে। হুমায়ূন আহমেদ নিজেও ছোটবেলায় ভুতের ভয়ে অতিষ্ট থাকতেন। তাই তিনি জানতেন ছোটদের জন্য ভুত একটি মহা সমস্যা। গল্পগুলোর মাধ্যমে ছোটদের ভুতের ভয় কাটানোর চেষ্টা করেছেন লেখক। প্রতিটি গল্পেই ভূতকে বা রহস্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন পড়ে মোটেও ভয় লাগবে না বরং মজা লাগবে। ছোটরাই সবচেয়ে বেশি মজা পাবে বইটি পড়ে। ভুতকে মনে হবে বন্ধুর চেয়েও কাছের। হুমায়ূন আহমেদ গল্পগুলো এমন চমৎকার চালাকি করে লিখেছে যে ছোটদের সহজেই ভুতের ভয় কেটে যাবে, বরং ভুতদের জন্য অনেকের মনে তৈরি হবে মায়া।

তাস রহস্য

Tas Rahasyaইয়স্তেন গা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্ডার শুধু একজন লেখক নন, একজন দা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্শনিকও বটে। তাই তার লিখাগুলোতে একটি দা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্শনিক ভাবও পাওয়া যায়। তবে আমি তাকে শুধু একজন লেখক হিসেবেই দেখতে চাই। তার লিখা সোফির জগত বইটি অসম্ভব ভাল লেগেছিল। তাই তাস রহস্য বইটি পড়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। হাতে পেয়ে আর দেরি করিনি। ইয়স্তেন গা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্ডারের এই বইটিও পাঠকদের কিছু বিষয় নিয়ে ভাবার রসদ দিবে। লেখকের ভাবনাগুলো বেশির ভাগ পাঠককে নতুন করে ভাবার জন্য তাডিত করবে। দা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্শনিক বলেই হয়তো এধরনের বিষয়গুলো লেখকের মাথায় আসে। বইটি পড়ে নিজের অজান্তেই আমি অনেকগুলো কঠিন প্রশ্নের জালে আটকে গেছি। সোফির জগৎ বইটির মত এই উপন্যাসের মূল চরিত্র ১২ বছর বয়সের ছোট্ট ছেলে হ্যান্স টমাস। সোফির জগৎ বইটিতেও দেখেছি লেখক শিশুদের জানা আগ্রহকে প্রধান্য দিয়েছেন, এই উপন্যাসটিতেও তেমনি একটি চরিত্র ছোট্ট হ্যান্স টমাস। যে হারিয়ে যাওয়া মা কে খুজতে গ্রীসে যাচ্ছে বাবার সাথে। চলার পথে এক বামনের কাছ থেকে সে উপহার পায় একটি আতশ কাচ। এক রুটি বিক্রেতা তাকে দেয় একটা ছোট্ট বই, যেটা কিনা কেবলমাত্র সেই আতশকাচ দিয়েই পড়া যায়। ছোট্ট হ্যান্স আস্তে আস্তে বইটি পড়তে আরাম্ভ করে। তারপরের কাহিনীই হলো মূল উপন্যাস। সহজ ভাষায় করা অনুবাদটি ভাল হয়েছে। 

বলিভিয়ান ডায়েরী

The Bolivian Diaryআমার মনে হয় চে গুয়েভারা নামের লোকটি কোন একটি দেশের নাগরিক হতে পারে না। তিনি বিশ্ব নাগরিক। পৃথিবীর প্রতিটি বিপ্লবী,প্রতিটি শোসিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি তিনি। তিনিই দেখিয়েছেন কিভাবে বিপ্লব করতে হয় এবং একটি বিপ্লবকে কিভাবে সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে হয়। চে গুয়েভারার মত নেতারা হাজার বছরেও একজন জন্ম নেয় কিনা সন্দেহ আছে। চে মত নেতাদের জন্ম হয় পৃথিবী পরিবর্তনের জন্য।পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গেরিলা যোদ্ধাদের একজন চে। বলিভিয়ান ডায়েরী নামের বইটি মূলত চের সেই সময়ের প্রতিদিনের কাজ-কর্মের বিবরন। ১৯৫৬ সালে ফিদেল কাস্ত্রোকে নিয়ে কিউবান স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট জেন ফুলজেনসিও বাতিস্তার বিরুদ্ধে শুরু করেন পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ গেরিলা যুদ্ধ। সে যুদ্ধে চে গুয়েভারা এবং কাস্ত্রো মৃত্যুর মুখে দাড়িয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বিপ্লবীদের। অবশেষে বিজয় আসে ১৯৫৯ সালে। চে চাইলেই আরামের জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি ছিলেন জাত বিপ্লবী। তাই তিনি কিউবা থেকে চলে আসেন বলিভিয়া। আমেরিকার বিষ কাটা চে গুয়েভারাকে মেরে ফেলার জন্য পাগলা কুকুর হয়ে উঠে সি আই এ। আসলে কি ছিল তার এই ডায়েরীতে। কেন নষ্ট করে ফেলতে চেয়েছিল ডায়েরী গুলো? বলিভিয়ার বনে-জঙ্গলে বসে শ্বাস কষ্ট নিয়ে চে লিখে গেছেন তার ডায়েরী। মাঝে মাঝে লিখেছেন কবিতা। ডায়েরীটিতে রয়েছে একটি বিপ্লবের ইতিহাস। একটি ঘুনে খাওয়া সমাজকে কিভাবে পরিবর্তন করা যায় এবং কি করলে বিপ্লবীদের মনোবল বৃদ্ধি পায় তার বিবরন। ক্যাস্ট্রো একবার চে গুয়েভারা সম্পর্কে বলেছিলেন চে কে দেখা মাত্র মানুষ পছন্দ করবে। কারন তার সহজতা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, নিরপেক্ষতা, কমরেডসুলভ গুণাবলী এবং মৌলিকতার জন্য। চে গুয়েভারা ছিলেন বিপ্লবীদের কাছে দেবতার মত। আজও মানুষ তাকে ভালবাসে শ্রদ্ধা করে। বইটি অনুবাদ করেছেন দীপু মাহামুদ।