মাটির ময়না

Matir Moyna২০০২ সালের কান ফিল্ম ফেস্টিভালে মাটির ময়না ছবিটিকে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগের ওপেনিং চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। মাটির ময়না ছবিটির মাধ্যমেই কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশি সিনেমার প্রথম পা রাখা। তবে মজার ব্যাপার হলো বাইরের দেশে এত প্রশংসা পাওয়া ছবিটি কিন্তু নিজের দেশে মুক্তি দিতে পারেননি তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ। তখনকার চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের কয়েক জন অজ্ঞ এবং অতি চালাক লোক সিনেমাটি আটকে দেয়।  অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতার দোহাই দিয়ে প্রদর্শনের জন্য ছবিটি গ্রহনযোগ্য নয় বলে তখনকার অতি বিজ্ঞ সেন্সর বোর্ড। ছবিটি প্রদর্শনের জন্য তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদকে যেতে হয় আদালতে। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ২০০২ এর একদম শেষে ছবিটি বাংলাদেশের মানুষ দেখার সুযোগ পায়। ছবিটির সম্মাননা এবং পুরস্কারের তালিকা সত্যি ঈর্সা জাগানোর মতো। অসাধারন কাজ করেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রি সকলে। তারেক মাসুদ যে কি ধরনের প্রথিভা নিয়ে জন্মে ছিলেন তার কিছুটা নমুনা এই ছবিটিতে পাওয়া যাবে। কেমেরার কাজ এবং মেকিংটা অসামান্য লেগেছে। তারেক মাসুদকে হাড়িয়ে কী অমূল্য রত্ন এ দেশ হারিয়েছে তা মাটির ময়না নামক ছবিটি দেখলেই বুঝা যায়। আবারো কি এমন সিনেমা বংলাদেশ থেকে তৈরী হবে ?? আমি বলব এই ছবিটি ছোট বড় সকলেরই অবশ্যই দেখা উচাৎ। সংসয়,ভাব,ভলোবাসা আর আবেগের হৃদয় ছোঁয়া স্পর্শ রয়েছে এই ছবিতে। 

 

ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট

Crime and Punishmentফিওদোর দস্তয়েভ্স্কির বই যখনিই পড়েছি তখন আমি নিজেই অনুভব করেছি আমার চিন্তা ভাবনাগুলো আর আগের মত থাকছে না। যে কোন বিষয় আমাকে আরো গভির ভাবে ভাবাতে সাহায্য করছে ফিওদোর দস্তয়েভ্স্কির লেখাগুলো। তার লেখা বই বেশি পড়ার সুযোগ নেই। তারপরও যে দুই-চারটি পড়েছি সেগুলো মানুষের জীবন দর্শনকে নতুন করে উপলব্ধি করাতে তারিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যুবক বয়সে রাশিয়ার নিম্নবিত্ত ও গরিবদের দুরবস্থা দেখে ফিওডর গভীর বেদনা অনুভব করতেন। সোশালিস্ট আন্দোলনে জড়িয়ে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পরে তাকে সাইবেরিয়াতে নির্বাস জীবন কাটাতে হয়। বয়স কম বলে  অসাধারণ এই লেখক-ঔপন্যাসিক মৃত্যুদন্ডের হাত থেকে বেচে যান। ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট বইটিকে বিশ্বের সেরা ১০টি বইয়ের একটি বলা হয়। কি আছে বইটিতে ? বইটি আসলে মানুষের আত্মশুদ্ধির বড় একটি উদাহরন। উপন‍্যাসের মূল চরিত্রে আছে রাসকলনিকভ নামের একজন যুবক এবং একজন  পতিতা নারী, যার নাম সোনিয়া। মানুষের আত্মাকে শুদ্ধ বা পরিষ্কার করার জন্য প্রেম-ভালবাসার উপরে আর কিছু নেই। স্বর্গিয় এই মানব গুন দিয়ে চাইলেই পৃথিবীতে অনেকভাল ভাল কাজ করা যায়। তার প্রমান পৃথিবীতে ভুরি ভুরি আছে।সমাজ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছিল, গরিবরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাল ভাবে বেচে থাকার জন্য রাসকলনিকভ অনেক চেষ্টা করে কিন্তু তা সম্ভব হয় না। তাই সে এক পয়সাওয়ালা বৃদ্ধাকে খুন করে তার সবকাছু নিয়ে আত্মগোপন করে। আত্মগোপন থাকার সময় রাসকলনিকভকের পরিচয় হয় সোনিয়া নামের একজন পতিতার সাথে। একসময় দেখা যায় দুজন দুজনকে ভালবেসে ফেলে। সোনিয়ার প্রেম রাসকলনিকভকের মধ্যে থেকে ভাল মানুষটিকে বের করে আনে। সে আত্মসমর্পণ করে এবং বিচারে নির্বাসিত হয় সাইবেরিয়ায়। শুরু হয় দুজন মানুষের অপেক্ষার পালা। নির্বাসিত জীবন শেষে মুক্ত রাসকলনিকভ বেরিয়ে আসবে শুদ্ধ মানুষ হয়ে। তারই অপেক্ষায় থাকে সোনিয়া।