ফরেস্ট গাম্প

Forrest Gumpপ্রায় ১৫ বছর আগে যখন ছবিটি দেখেছিলাম তখন আমার মনে হয়েছিল বাজে একটি ছবি এবং প্রশংসা করার মত কোন কিছুই খুঁজে পাইনি। কিছু দিন আগে আবার দেখলাম। সত্যি বলতে কি আমি বিস্ময়ে বোবা হয়ে গেলাম। ছবিটির কাহিনীটিকে আমার মনে হয়েছে আশ্চর্যজনক একটি গল্প। এই ছবিটি দর্শকদের জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করবে এবং যারা এই ছবিটি দেখবে তারা বুঝতে পারবে জীবনের মানে কি। এত সুন্দর পৃথিবীতে কিভাবে আমরা আমাদের প্রতিটি সময়কে মূল্যবান করে তুলতে পারি। আমার মনে হয়েছে ছবিটির মূল ভাব হলো, মনোবল যদি দৃঢ় হয় তাহলে শারিরীক সমস্যাও বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনা কোন মানুষের জীবনে এবং সততা জিনিসটা যে শুধু বইয়ে নয় বাস্তব জীবনেও দরকার। একজন নির্দোষ মানুষ তার সহজ-সরলতা দিয়ে প্রভাবিত করতে পারে অন্য একজন মানুষকে। খুব সহজেই দর্শকরা তা বুঝতে পারবে। আমাদের কে আল্লাহ যে জীবন দান করেছেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত সবার। ফরেস্ট গাম্প মুভিটি আমার দেখা সেরা একটি মুভি। আমার বিশ্বাস ছবিটি সব শ্রেনীর দর্শকদের মুগ্ধ করবে। জীবন-দর্শন নিয়ে তৈরি হওয়া ছবিটি আইএমডিবি-র তালিকায় আছে ৮.৭ রেটিং নিয়ে।

দুঃস্বপ্নের যাত্রী

dushshopner-jatriএই উপন্যাসটি সত্য ঘটনা নিয়ে লিখেছেন আনিসুল হক। এমন কিছু সত্য আছে যা জানলে গা শিউরে উঠে, জবান বন্ধ হয়ে যায়।উপন্যাসটিতে এমন কিছু ঘটনার বর্ননা আছে। বইটি আমার মনে প্রচন্ড ভাবে দাগ কেটেছে। আমাদের দেশটি উন্নয়নশীল একটি দেশ।এখনও অনেক মানুষ বাস করে দারিদ্র সীমার নিচে। আছে শিক্ষার অভাব,কাজের অভাব। তাই বেকার মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন। এর বড় একটি অংশ হলো আমাদের যুব সমাজ। দেশ গড়ার কাজে অনান্য দেশ যেভাবে তাদের যুব সমাজকে কাজে লাগিয়েছে আমরা সেভাবে পারনি। সেটা আমাদের দূর্ভাগ্য।নিজের জীবনকে পরিবর্তন করতে এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থা বদলাতে এসব যুবকের অনেকে পাড়ি জমায় ভিনদেশের উদ্দেশ্যে। এদের মধ্যে কেউ কেউ বেছে নেয় অবৈধ ভাবে যাওয়ার রাস্তা। আর অবৈধ ভাবে যাওয়া জন্য প্রয়োজন হয় দালালদের। এই সব দালালরা ওত পেতে থাকে শিকার ধরার জন্য। দালালদের তেমনই শিকারের খপ্পরে পরে আঠারো জন তরতাজা যুবক। এদের কেউ টাকা দিয়েছে বাবার একমাত্র জমি বিক্রি করে, কেউ দিয়েছে বোনের জন্য রাখা বিয়ের টাকা, কেউ আবার দিয়েছে প্রিয়তমা স্ত্রীর গয়না বেচার টাকা। আর যারা মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছে তারাই সব থেকে হতভাগা। ২০০৫ সালের ঘটনা কয়েকজন আফ্রিকানের সাথে ১৮ জন বাংলাদেশি স্পেনে যাওয়ার জন্য দেশ ছাড়ে। তারা ভাবতেও পারেনি সামনে কি অপেক্ষা করছিল। টাকা লোভি দালালদের কারনে তাদের সবাই নরক যন্ত্রনা ভোগ করে। তাদেরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দুর্গম সাহারা মরুভূমি যেখানে মগজগলানো রৌদ্রতাপ আর রাতে শরীর জমানো শীত। সবচেয়ে দুর্বিষহ দিন কাটে ভূমধ্যসাগরে। শেষ পর্যন্ত মৃত সহযাত্রিদের মাংস খেয়ে তারা বেঁচে থাকে। উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের কাছ থেকে ঘটনাগুলো শুনে বাস্তব কাহিনী নির্ভর এই উপন্যাসটি লিখেছেন আনিসুল হক।

জহির রায়হানঃ সময়ের প্রয়োজনে

সময়ের প্রয়োজনে জহির রায়হান কিছুদিন আগে সংবাদ সংগ্রহের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের একটা অগ্রবর্তী ঘাঁটিতে গিয়েছিলাম। ক্যাম্প-কমান্ডার ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন। সেই ব্যস্ততার মুহূর্তে আমার দিকে একটা খাতা এগিয়ে দিয়ে বললেন, আপনি বসুন। এই খাতাটা পড়ুন বসে বসে। আমি কয়েকটা কাজ সেরে নিই। এরপর আপনার সঙ্গে আলাপ করব। খাতাটা হাত বাড়িয়ে নিলাম। লাল মলাটে বাঁধানো একটা খাতা

 

হুমায়ুন আহমেদঃ বাদশাহ নামদার

বাদশাহ নামদারহুমায়ূন আহমেদ কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর ঐতিহাসিক উপন্যাস বাদশাহ নামদার। মোগল সাম্রাজ্যের রংদার চরিত্র সম্রাট হুমায়ুনকে নিয়ে লিখেছেন লেখক হুমায়ূন। একেবারে ভিন্ন ধরনের এই বই নিয়ে লেখকের কৌতূহলোদ্দীপক সাক্ষাৎ কার নিয়েছেন আলীম আজিজ ও তৈমুর রেজা।

 

হুমায়ুন আহমেদঃ দেবী

দেবীদুপুর-রাতে আনিসের ঘুম ভেঙে গেল। হাত বাড়াল অভ্যেসমতো। পাশে কেউ নেই। আনিস ডাকল, ‘রানু, রানু।’ কোনো সাড়া নেই। বাথরুম থেকে একটানা পানি পড়ার শব্দ হচ্ছে। বাথরুমে নাকি? আনিস উঁকি দিল বাথরুমে-কেউ নেই। কোথায় গেল! আনিস গলা উঁচিয়ে ডাকল, ‘রানু। বসার ঘর থেকে ক্ষীণ হাসির শব্দ এল। বসার ঘর অন্ধকার। রানু কি সেখানে একা-একা বসে আছে নাকি?

 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসঃ খোয়াবনামা

খোয়াবনামাদিনের বেলা হলে ভালো করে দেখা যায়,—বিলের পশ্চিমে বিলের তীর থেকে এদিকে খালপাড় পর্যন্ত জায়গাটা এখন পর্যন্ত খালিই পড়ে রয়েছে। তারপরই মাঝিপাড়া। মাঝিপাড়ার মানুষ অবশ্য নিজেদের গ্রামকে ওভাবে ডাকে না, গোটা গ্রাম জুড়ে তো আগে তাদেরই বসবাস ছিলো। এখন পাঁচ আনা ছয় আনা বাসিন্দাই চাষা। আগে কয়েক ঘর কলু ছিলো, আট মাইল পশ্চিমে টাউনে তবিবর মুক্তারের ‘রহমান অয়েল মিল’ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে কলুদের অর্ধেকের বেশি চলে গেলো পুবে যমুনার ধারে। যে কয় ঘর আছে তাদের কারো কারো ঝোঁক জমিতে আবাদ করার দিকেই বেশি।

 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসঃ চিলেকোঠার সেপাই

চিলেকোঠার সেপাইছেলেটির পেছন পেছন কয়েকটা ধাপ নেমে ওসমান হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লো। ঘরের জানলা-দিয়ে-আসা আলো এখন ছেলেটির এলোমেলো চুলে বিলি কেটে গড়িয়ে পড়েছে তার ঘাড় পর্যন্ত। ওসমানের পায়ের আওয়াজ থেমে যাওয়ায় ছেলেটি দাঁড়িয়ে পেছনের দিকে তাকালো। এখন তার চিবুক পর্যন্ত আলো। তার চোখের লাল চিকন রেখাগুলো ছটফট করছে। প্রায় ৭/৮ ধাপ ওপর থেকে ওসমানের দিকে তাকালে আলো-পড়া লাল চোখ জোড়া অনেক বড়ো মনে হয়

আনন্দ বাগচীঃ এই জন্ম অন্য জীবন

এই জন্ম অন্য জীবনজীবন বোধহয় এরকমই। কোথাও গরিয়া, আর কোথাও টালা পেরিয়ে সিঁথি। অফিসের কাজে গড়িয়ায় গিয়ে আটকে পরেছিল শেখর। ফেরার গাড়ি নেই। হটাৎ বনধ। বাড়িতে স্ত্রী অরুন্ধতী তিন-তিনবার স্টোভে জল চাপিয়েছে, স্টোভেই শুকিয়েছে জল। শেখর ফিরছে না।

 

অঞ্জনা দাশঃ স্বর্ণমৃগ

স্বর্ণমৃগটালিগঞ্জের ম্যাটিনি আইডল আলোককুমার/বিশাল খ্যাতি, বিপুল জনপ্রিয়তা, বিস্ময়কর সাফল্য। তবে জোয়ারের জল যেমন কিছু কিছু অবাঞ্ছিত জিনিস ভাসিয়ে নিয়া আসে ঘাটের কাছে, সাফল্যও তেমনই এই অভিনেতার জীবনে এনে দিয়েছিল অনেক নারী, অনেক ভুল, ছদ্মবেশী প্রতারক। একটা সময় এল যখন চারপাশে দেদার লোক, অথচ অলোককুমার একা, নির্বান্ধব। বাড়ি ছেড়ে তিনি আস্রয় নিলেন অভিনেত্রী সুনেত্রার ফ্ল্যাটে।

 

অদ্রীশ বর্ধন: আমার মা সব জানে

আমার মা সব জানেএই বই মায়েদের জন্য। ছেলে –মেয়েদের জন্য, যাদের ধারনা তাদের মা সব জানে। আমার মা সব জানে- ছোটদের এই বিশ্বাসকে ভেঙ্গে দিতে কোন মায়েরই মন চায়না। কেননা একটা বয়স পর্যন্ত যত আবদার, যত জিজ্ঞাসা সব মায়ের কাছেই চলে। অথচ সংসারের হাজার রকমারির মধ্যে মায়ের পক্ষে সজিব, সর্বস্ব, বিশ্বকোষ হয়ে উঠা সম্ভবপর নয়। মাঝে মাঝে তাই চটজলদি বানিয়ে বানিয়েও দিতে হয় জবাব। তার মধ্যে অনেক ভুল ও থেকে যায়। থেকে যাওয়াটা আশ্চর্য কিছু নয়। ছোটরা কিন্তু সেই জবাবই বেদবাক্য হিসেবে রেখে দেয়। কেননা, তাদের অটল বিশ্বাস- আমার মা সব জানে। এইভাবেই অজান্তে, কখন বা অসতর্কতায় ছোটদের মনের গভীরে চারিয়ে যায় কিছু ভুল, কিছু কুসংস্কার।