দ্য গডস দেমসেলভস

The Gods Themselvesআইজাক আসিমভ আমার অসম্ভব প্রিয় একজন লেখক। কারন হলো তার লেখার বিষয়-বস্তুগুলো সম্পূর্ন অন্য রকম। আসিমভ যে বিষয়গুলো নিয়ে লিখেন তা অন্য কোন লেখক ভাবতেও পারে না। ভবিষ্যাৎতে আমাদের এই পৃথিবীটা কেমন হবে, তারই একটি কল্প-কাহিনী এই উপন্যাসটি। আইজাক আসিমভকে কেন অসাধারন প্রতিভার একজন বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনী লেখক বলা হয়, তা পাঠকরা সহজেই বুঝতে পারবে এই বইটি পড়লে। দ্য গডস দেমসেলভস উপন্যাসটি তিনটি  ভাগে ভাগ করেছেন লেখক। প্রথম পর্বটি খুবই ইন্টারেষ্টিং। রহস্য এবং দ্বন্দ্বে ভরা সবগুলো চরিত্র, যা পাঠকদের অবশ্যই আকর্ষীত করবে। কল্পবিজ্ঞান উপন্যাসের সব ধরনের উপকরন আছে বইটিতে। আসিমভকে এজন্যই এত ভাল লাগে আমার। আগামী ১০০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর মানুষ যে সংকটটিতে সবচেয়ে বেশি ভুগবে তা হল এনা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জি মানে তেল, গ্যাস ইত্যাদি এ জাতিয় জিনিসের। ঘটনাক্রমে মানুষ প্রচুর এনা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জি উৎপন্ন করে এমন একটি উপাদান পায় এলিয়ানদের সাথে কিছু ধাতুর বিনিময়ের মাধ্যমে। তরতর করে উন্নতি করতে থাকে পৃথিবীর মানুষ। কিন্তু এর যে একটি খারাপ দিকও আছে সেটা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাতে রাজি না। প্রচুর এনা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জি উৎপাদনে সক্ষম    রেডিওএকটিভ পদা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্থটি মুহুর্তে পৃথিবীকে পরিনত করতে পারে আগুনের পিন্ডতে।যুগ যুগ ধরে পৃথিবীকে এমন বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে কিছু ভাল মানুষ। আর এই সব মানুষরা সব সময় পৃথিবীর মঙ্গল চায়। শুরু হয় পৃথিবীকে বাচানোর আর একটি আশ্চর্য ও উত্তজনাপূর্ন কাহিনী। অপুর অনুবাদ নিয়ে বিতর্ক হওয়ার কোন কারনই নেই।

রুশ গল্প সংকলন

Russ Golpo Shonkolonরুশ সাহিত্য যারা পড়তে পছন্দ করে তাদের জন্য এই বইটি ব্যক্তিগত কালেকশনে রাখার মত একিট বই। একসাথে এতগুলো ভাল গল্প একসাথে সহজে পাওয়া যায় না। গল্পগুলোর অনুবাদও খুব ভাল হয়েছে। যে সাতটি গল্প এই বইটিতে আছে সবগুলোই অসাধারন। কারন রুশ সাহিত্যের সবগুলো গল্প থেকে বাছাই করে এই সংকলনটি প্রকাশ করা হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো বইটির আকার আর একটু বাড়িয়ে আরো কিছু গল্প এড করা গেলে আরো ভাল হতো। অন্তত ১০ টি করা যেতো। আলেকজান্দার পুশকিন, নিকোলাই গোগল, ইভান তুরগেনেভ, লেভ তলস্তয়, মিখাইল সালতি কভশ্চেদ্রিন , আন্তন চেখভ, ভ্লাদিমির ক্রলেঙ্কো মত পৃথিবী বিখ্যাত রুশ লেখকদের লেখা একসাথে পড়ার মজাই আলাদা। গল্পগুলোর লেখক ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারনে বইটি পড়ার সময় পাঠক গল্পগুলো আলাদা আলাদা সাধ সহজেই ধরতে পারবে। যেমন নিকোলাই গোগলের লেখাটি পড়ে পাঠক সাধ পাবে হাস্যরসের, আর লেভ তলস্তয় সব সময় যেমন লিখেন মানে সাধারন মানুষের ছোট ছোট সুখ দুঃখের সুন্দর কাহিনী। মিখাইল সালতির দুই হুজুর ও চাষার কাহিনী গল্পটি কম বেশি সব পাঠকেরই জানা। এই গল্পটিই আমার সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে। শওকত হোসেনকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয় এমন একটি সংকলনের জন্য।

কনভারসেশনস উইথ মাইসেল্‌ফ

Conversations With Myselfনেলসন ম্যান্ডেলা নামের মানুষটির প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ থাকার কারনে বইটি পড়ি। নেলসন ম্যান্ডেলার জীবন সম্পর্কে না জেনে বইটি পড়লে একটু কঠিন মনে হবে। বইটিতে অনেকগুলো অসাধারণ চিঠি আছে ম্যান্ডেলার লিখা। যা মানুষকে সাহস যোগাবে এবং অনুপ্রানিত করবে। বইটি লিখার পদ্ধতি আমাকে  বিস্মিত করেছে। কনভারসেশনস উইথ মাই সেল্‌ফ বইটিতে ম্যান্ডেলার জীবনে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার কথা পাঠকরা জানতে পারবে। ম্যান্ডেলা বইটিতে নিজের হাতে লিখা ডাইরীরপাতা, চিঠি এমন অনেক কিছু দিয়েছেন পাঠকদের জানার জন্য। অনেক ধরনের বিষয় এসেছে বইটিতে, লেখকের অসাধারন বুদ্ধিদীপ্ত লেখনির কারনে পাঠকদের কখনও মনে হবে না বইটি অগোছানো। আমার মনে হয় বইটি আসলে পৃথিবীর ইতিহাস। আমরা যেমন পৃথিবীর ইতিহাস পড়েছি ঠিক তেমনি আমাদের নতুন প্রজন্ম পড়বে ম্যান্ডেলার এই বইটি। আফ্রিকার ইতিহাস জানার জন্য। একটি মানুষ কি পরিমান ধর্য্য এবং সাহসের সাথে গোটা একটি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তার ইতিহাস এই বইটি। দক্ষিন আফ্রিকার একটি বিশাল দেশ। বিভিন্ন ধরনের জাতি নিয়ে দক্ষিন আফ্রিকার দেশটি। একটি জাতির সাথে আর একটি জাতির অনেক পার্থক্য আছে ধর্ম-কর্মে, আচার-অনুষ্ঠানে। নেলসন ম্যান্ডেলা সবগুলো জাতিকে এক ছাতার নিচে আনতে পেরেছিলেন তার অসাধারন নেতৃত্বের গুনের কারনে। সব সময় তার মাথায় ছিল আফ্রিকার মানুষর কথা। নিজের ক্ষমতা, বিত্ত ও মর্যাদা বৃদ্ধির প্রলোভন থেকে মুক্ত ছিলেন তিনি।

দ্য ইনভিজিবল ম্যান

The Invisible Manবৈজ্ঞানীক কল্প-কাহিনীর কথা বললেই যে নামগুলো সবার আগে আসে এইচ. জি. ওয়েলস তাদের মধ্যে একজন। বিশ্বসাহিত্যে জুল ভার্নের সাথে সাথে তার নামটিও সমান ভাবে উচ্চারিত হয়। ওয়েলস এর লেখা অসামান্য সায়েন্স ফিকশন ইনভিসিবল ম্যান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৯৭ সালে এবং বইটি সাড়া ফেলে দেয় গোটা বিশ্বের পাঠকদের মাঝে। ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় বইটি। বইটির জনপ্রিয়তার কারনে তাকে পাঠকরা  ফাদার অব সায়েন্স ফিকশন ডাকতে শুরু করে। লেখক বইটি এত চমৎকার করে লিখেছেন যে পড়ার পর থেকেই ইনভিজিবল হওয়ার ইচ্ছা মাথায় আসত। কারন এইচ. জি. ওয়েলস অদৃশ্য হওয়ার জন্য বইটিতে অনেক বৈজ্ঞানীক যুক্তি ও তত্ত দাড় করিয়েছেন। যদিও জানি এটি একটি কল্প-বিজ্ঞান। গ্রিফিন একজন বিজ্ঞানী, দীর্ঘ দিন কাজ করছে মানুষের শরীর কিভাবে অদৃশ্য করা যায় সে বিষয়ে মানে অপটিক্স নিয়ে গবেষণা করছে। হঠাৎ একদিন সে আবিষ্কার করে ফেলে অদৃশ্য হওয়ার রহস্য। অদৃশ্য হওয়ার প্রথম পরিক্ষাটি সে করে নিজের উপর। সত্যি সত্যি অদৃশ্য হয়ে যায় সে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তাঁর পক্ষে এরপর আর স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না। তারপর শুরু হয় নানা রকমের ঘটনা। অনুবাদক অনীশ দাশ অপু সত্যি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

ফাউন্ডেশন-আইজাক আসিমভ

Foundationআইজাক আসিমভের ফাউন্ডেশন বইটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনী বিশ্বসাহিত্যে। অসাধারন তার কল্পনা করার শক্তি। আজ থেকে হাজার বছর পরে কি হবে মানবসভ্যতার অথবা কতটা উন্নতি হবে মানবসভ্যতার তার একটি কল্পনার চিত্র হলো এই বইটি। কল্পনা শক্তির কতটা জোর থাকলে মানুষ ভবিষ্যৎতের এত সুন্দর ছবি দেখতে পারে! বইটি পড়ে সত্যি আমি অবাক হয়েছি। বিশ্বসাহিত্যে আইজাক আসিমভের নামটি স্বর্নাক্ষরে লিখা থাকবে তার ফাউন্ডেশন বইটির জন্য। আইজাক আসিমভে তিনটি বই নিয়ে লিখেছেন ফাউন্ডেশন সিরিজ । এই সিরিজের অন্য একটি নাম আছে। বই তিনটিকে একসাথে বলা হয় অলটাইম বেস্ট সায়েন্স ফিকশন সিরিজ। তিনটি বইয়ের প্রথমটি হল ফাউন্ডেশন। যারা বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনী পড়তে পছন্দ করে, তাদের জন্য এই সিরিজ হতে পারে স্বর্গীয় বস্তু। সভ্যতার প্রায় শেষ সীমায় মানবসভ্যতা। বিজ্ঞানী হ্যারি সেলডন তার আবিষ্কার করা সাইকোহিস্ট্রি’র সাহায্যে ভবিষ্যৎবানী করেন আর পাঁচশ বছরের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যাবে এম্পায়ার । সব গ্রহ এম্পায়ারের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। এই বিদ্রোহ আর যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাবে মানবসভ্যতা। মানুষ আবার ফিরে যাবে বিজ্ঞানহীন বর্বর যুগে, যা দির্ঘ হবে ত্রিশ হাজার বছর। তার পরের কাহিনী আরো সুন্দর এবং তা জানতে হলে পড়তে হবে আইজাক আসিমভের ফাউন্ডেশন বইটি। অনুবাদকের ভাষা আমার খুব ভাল লেগেছে। 

দ্য মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ড

The-Mysterious-Islandজুল ভার্নের যতগুলো বই আমি পড়েছি তারমধ্যে দ্য মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ড বইটি আমার সব চাইতে প্রিয়। বইটি নিয়ে ছোটবেলার অনেক মজার স্মৃতি আছে আমার। আমার মনে হয় জুল ভার্ন তার পাঠকদের চমকে দিতে পছন্দ করতেন। পাতায় পাতায় চমক আছে বইটিতে। বই পড়তে যারা পছন্দ করেনা, তারা এই বইটি দিয়ে শুরু করতে পারেন। আমার বিশ্বাস অনেকের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস নিয়ে আসতে সাহায্য করবে বইটি। জুল ভার্নের এই বইটি পড়তে পেরে নিজেকে আমার ভাগ্যবান মনে হয়। একদল মানুষ বেলুন দুর্ঘটনায় নাম নাজানা একটি দ্বীপে এসে আশ্রয় নেয়। দ্বীপ থেকে কোন ভাবে উদ্ধার পাওয়ার উপায় তারা বের করতে পারে না। কোন এক অদৃশ্য শক্তি যেন তাদের আটকে রাখতে চায় দ্বীপটিতে। তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।। এরপর দ্বীপেই বসবাস করতে বাধ্য হয় তারা । কিন্তু  এক সময় তারা বুঝতে পারে দ্বীপে মানুষ বলতে শুধু তারাই না, আরও কেউ আছে, যে গোপনে তাদের উপর নজর রাখছে। এইভাবেই এগিয়ে যায় কাহিনী। কখনও বন্যপ্রাণীর আক্রমণ, কখনও বা পাশের দ্বীপের আদিবাসীদের – সবকিছুর মোকাবিলা করতে থাকে এই শহুরে মানুষের দলটি। । বেঁচে থাকার জন্য তাদের লড়াই করার লোমহর্ষক কাহিনী এই দ্য মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ড।

ট্রান্সফরমারসঃ এইজ অব এক্সটিঙ্কশান

transformers-age-of-extinctionঅটোবোট আর ডেসিপ্টিকনদের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হলে মানুষের মনে হল সব ধরণের এলিয়েন রোবটসই মানবজাতির জন্য বিপদজনক। আর তাই সিআইএ এজেন্ট হ্যারল্ড এমন একটি ইউনিট তৈরি করেন যার কাজই হল এলিয়েন রোবটসদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করা। কিন্তু কিছুদিন পরেই বোঝা গেল তারা অন্য আরেক এলিয়েন রোবটের সাহায্য পাচ্ছে যে অপটিমাস প্রাইমকে খুঁজছে। এদিকে রোবটিক্স এক্সপার্ট কেইড একটি পুরনো ট্রাক কেনেন। কিন্তু ভাল করে পর্যবেক্ষণ করে তিনি বুঝতে পারেন এটি একটি ট্রান্সফরমার! চালু করার পর বোঝা যায় এটিই অপটিমাস প্রাইম। কিছুদিন পরেই উইনিট থেকে অপটিমাস প্রাইমের খোঁজে এক লোক আসে। লোকটি কেইড ও তার মেয়েকে পালাতে সাহায্য করে। কিন্তু খুনি তাদের পিছু ছাড়ে না। কেইড জানতে পারেন সব কিছুর পেছনে জয়েস নামে এক টেকনো-ম্যাগনেটের হাত আছে। কেইড পুরো রহস্য ভেদ করতে নামেন।

আমি নিজেকে ট্রান্সফরমার ভক্ত বলেই দাবি করি। কিন্তু এই ছবিটা কোন ভাবেই হজম করতে পারছিলাম না। Michael Bay কিভাবে এই ছবি বানালেন! Transformers: Rise Of The Fallen ছিল এতদিন পর্যন্ত আমার দেখা Michael Bay এর সবচেয়ে বাজে ছবি। কিন্তু “ট্রান্সফরমারসঃ এইজ অব এক্সটিঙ্কশান” এ এসে তিনি “রাইজ অব দ্য ফলেন” কেও হার মানালেন। ছবিটি দেখতে গিয়ে বেশ কয়েকবার ভেবেছি উঠে যাই। Mark Wahlberg, Nicola Peltz বা Jack Reynor কারো অভিনয়ই ভাল লাগে নি। শুধু Kelsey Grammar ই যা একটু সাবলীল ছিলেন। Dinobots নিয়ে কিছুটা আগ্রহ ছিল। কিন্তু তারা তো শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড এক্সট্রা হিসেবেই থাকল।

চিত্রনাট্যটাও খুব একটা ভাল না। কাহিনীটা দুর্বল আর অগোছালো। সবকিছুই সেই একই ট্রান্সফরমার আইডিয়ার চর্বিত চর্বণ মনে হয়েছে। আর ট্রান্সফরমারদের চরিত্রে যারা কণ্ঠ দিয়েছেন তাদের খুবই আনাড়ি লেগেছে। অথবা তারা কাজটি গুরুত্ব দিয়ে করেন নি। প্রথম ১ ঘণ্টার পর দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম পুরোপুরি। তবুও আশা ছিল হয়তো শেষে ভাল কিছু আছে। কিন্তু হতাশ হতে হয়েছে!

গুডফেলাস

Goodfellasছবিটির কথা কিভাবে প্রকাশ করলে সঠিক হবে বুঝতে পারছিনা। একটি মাত্র শব্দ এই মুহুর্তে আমার মাথায় আসছে বিস্ময়কর। সত্যি ঘটনা নিয়ে তৈরী এই ছবিটি অসম্ভব ভাল লেগেছে আমার। ছবির দুনিয়ায় এখন পর্যন্ত যতগুলো শ্রেষ্ট্র কাজ হয়েছে তারমধ্যে গুডফেলাস,অন্যতম মনে হয়েছে আমার কাছে। অবশ্যই এটি একটি অমূল্য সম্পদ ছবির দুনিয়ার জন্য। সিনেমা ইতিহাসে একটি ল্যান্ডমার্ক। ছবিটি দেখার সময় দর্শকরা চোখের পাতা ফেলতে ভুলে যাবে। সত্যি আমি এক মুহুর্তের জন্যও চোখ ফেরাতে পারিনি। আইএমডিবির প্রথম সারির এই ছবিটির রেটিং ৮.৭। ২০ বছর আগের এই ছবিটি এখনও একটি আইকন। আমার মনে হয় ১০০ বছর পরেও ছবিটির জনপ্রিয়তা কমবে না। অসামান্য অভিনয় করেছেন রবার্ট ডি নিরো, জো এবং রে। মার্টিন স্করসিসে মাফিয়া পরিবার নিয়ে অসাধারন এই ছবিটি তৈরি করেছেন। এখন পর্যন্ত যতগুলো ক্রাইম ড্রামা তৈরি হয়েছে তারমধ্যে এই ছবিটির অবস্থান শীর্ষে। চরিত্রগুলোর কথা দর্শকরা ভুলতে পারবে না। ছবিটি আমাকে ব্যপক আনন্দ দিয়েছে। ক্রাইম ড্রামার ইতিহাসে গুডফেলাস ছবিটি একটি মাস্টারপিস। বিনোদনের জন্য এই ছবিটি অসাধারন।

পাল্প ফিকশন

Pulp Fictionএককভাব নির্মিত অন্যতম সেরা ছবিগুলোর একটি হল পাল্প ফিকশন এবং ছবিটির পরিচালক কোয়েন্টিন টারান্টিনো হলেন অন্যতম ক্রিয়েটিভ পরিচালকদের একজন। শুরু থেকেই ছবিটি অত্যন্ত অসাধারন। ব্রুস উইলিয়াম, স্যামুয়েল এল জ্যাকসান, জন ট্রাভোল্ট, উমা থুরম্যান, হার্ভে কিতাল, টিম রথ এবং ক্রিস্টোপার ওয়াকেনের মত অভিনেতাদের সমন্বয় ছবিটিকে করে তুলেছে আরো উদ্দিপনাপূর্ন। আমার মতে এই ছবির ব্যাপক সাফল্যের পিছনে রয়েছে এর রহস্যজনক ডায়লগ। ছবিটি তার অসাধারন নির্মানশৈলীর জন্য অস্কার পুরষ্কারে মনোনীত হয়। ৯০ এর দশকে নির্মিত ছবিগুলোর মধ্যে পাল্প ফিকশন অন্যতম। খোদ তারানতিনোর বানানো কোন ছবি এখন পর্যন্ত পিছনে ফেলতে পারেনি পাল্প ফিকশনর গুনগত মান এবং যোগ্যতাকে।আমার মনে হয় এটি সর্বকালের সেরা ছবিগুলোর একটি। IMDB মুভির লিস্ট ছবিটি স্থান পেয়েছে উপরের দিকে।

গুড আর্থ

Good-Earthপার্ল এস. বাক গুড আর্থ বইটি লিখিছেন ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে চীনের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে। কেমন ছিল আজকের গনচীন? জমিদারি প্রথা, দাস প্রথা, মানুষে মানুষে বৈষম্য এগুলো ছিল তখনকার চীনের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার। তার উপর ছিল প্রকৃতিক দুর্যোগ। আমেরিকান লেখকা পার্ল এস. বাক এত চমৎকার করে সেসব কথা তার এই উপন্যাসে বলেছেন যে, আমার বিশ্বাস সব ধরনের পাঠক নির্মল আনন্দ পাবে বইটি পড়ে। অনুবাদক আবদুল হাফিজ বইটি অনুবাদ করেছেন তার প্রতিভার সবটুকু কাজে লাগিয়ে। আমার কাছে তার অনুবাদের ধাতটি খুব ভাল লেগেছে। ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে চীনদেশে নিম্ন শ্রেনীর মানুষদের জীবন-যাপন কতটা কষ্টের ছিল, কতটা লাঞ্চনার ছিল বইটি পড়লেই জানা যাবে। পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েদেরকেও কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। সেরকমই একটি চাষী পরিবারের কাহিনী দি গুড আর্থ। চাষী ওয়াঙ এবং তার স্ত্রীর কঠোর পরিশ্রম ওয়াঙ লাঙকে সাধারণ কৃষক থেকে বানিয়ে দেয়  জমিদার। স্ত্রীর সাহায্য ছাড়া যা কখনই সম্ভব ছিল না। চাষী ওয়াঙ এর স্ত্রীর চরিত্রটিকেই আমার মনে হয়েছে প্রধান চরিত্র। যে নারী স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সদা প্রস্তুত। প্রচন্ড পরিশ্রমী এবং তীক্ষ্ণ আত্মসম্মানবোধ সম্পন্না একজন মানুষ। ওয়াঙ এর ভাগ্য পরিবর্ত হলে সে ভুলে যায় তার স্ত্রীর কষ্টের কথা। স্ত্রীকে সে শুধু একজন দাস হিসাবেই ভাবতে চায়। বইটি সব ধরনের পাঠকদেরই ভাল লাগবে।