নাথিং লাস্টস ফরেভার

Nothing Lasts Foreverনাথিং লাস্টস ফরেভার বইটিি সিডনী শেলডনের আর একটি অনবদ্য সৃষ্টি। ভালোবাসা,আবেগ,ঘৃণা,সমাজ,খুুন,পেশা,এ্যাম্বিশন সব কিছুর এক দারুণ সংমিশ্রণ এই বইটি। আমার মতে নাথিং লাসটস ফরেভার একটি অতি চমৎকার বই। তিন  জন নারী ডাক্তারের প্রতিদিনের জীবন, তাদের অতীত, তাদের বর্তমানই এই গল্পের মূল প্লট। তিন জন নারী ডাক্তার যাদের ব্যাকগ্রউন্ড ভিন্ন, যাদের চিন্তা ধারায় হাজার মাইল তফাৎ …কিন্তু জীবনের কোন একটি জায়গায় তারা তিনজনই অভিন্ন। এটিই এই গল্পের থিম। তাদের জীবন সম্পুর্ণ বদলেে যায় যখন তারা সান ফ্রান্সিসকৈো শহরের একটি খ্যাতনামা হাসপাতালে ইণ্টর্ণশীপ পরবর্তী ট্রেনিং এ যোগ দেয়। এখানে এসেই তাদের জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তাদের একজনের কারণে যখন পুরো হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাাওয়ার উপক্রম হয় তখন  আরেকজন খুন করে বসে এক রোগীকে। অপরদিকে আর একজন নিজেই খুন হয়ে যায় । এসবের মাঝেই লেখক গভীর ভাবে তুলে ধরেছেন কিভাবে নারী ডাক্তাররা অবহেলিত হয়। নারীরা এখনো কিভাবে কেবল শয্যা সঙ্গী হিসেবেই বিবেচিত হয়। আমার কাছে বইটিকে সিডনী শেলডনের লিখা এ যাবৎ কালের সেরা বই মনে হয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টায় আমি পুরো গল্পটি শেষ করেছি । আসলে ছেড়ে উঠবার মত বই এটি নয়। আমার দৃড় বিশ্বাস এই বইটি পড়ার পরে অবশ্যই সিডনী শেলডন আপনার প্রিয় লেখকদের তালিকায় উপরের দিকেে স্থানন করে নিবেন। ঠিক যেমনটি হয়েছে আমার ক্ষেত্রে।

দ্য টারমিনাল

The Terminalআমার দেখা অসম্ভব সুন্দর মুভিগুলোর একটি হলো দ্য টারমিনাল। স্টিভেন অ্যালান স্পিলবার্গের পক্ষেই সম্ভব এরকম একটি মুভি বানানো। হলিউডে ডিরেক্টর স্পিলবার্গকে তুলনা করা হয় হিমালয়ের সাথে। যে কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী স্পিলবার্গের সাথে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকে। আর এই মুভির মূল চরিত্রে অভিনয় করা টম হান্ককে নিশ্চয় নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না। তার ঝুড়িতে আছে বিশ্ব কাপানো অনেক বিখ্যাত ছবি। স্পিলবার্গ এবং টম হান্ক হলো দুই জগৎতের দুই উজ্জল নক্ষত্র। এই দুই কিংবদন্তি মিলে তৈরি করেছেন দ্য টারমিনাল মুভিটি। একজন কাজ করেছেন কেমেরার পিছনে আর একজন কাজ করেছেন সামনে। অসাধারনের উপরে যদি কিছু থেকে থাকে, তা হয়েছে দ্য টারমিনাল মুভিটি। অপেক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার সুন্দর একটি চিত্র এই ছবিটি। মুভিটি একটি সত্য গল্পের নাট্যরুপ। ক্রাক্রোজিয়ান নাগরিক ভিক্টর নভোরস্কি আমেরিকান বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জে আটকা পরে। কারন হলো ভিক্টর নভোরস্কির দেশের মধ্যে একটি অভ্যুত্থান হয়ে গেছে, বিপ্লবী বাহিনী অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। এসব ঘটনা যখন ঘটছে ভিক্টর তখন বিমানে। আমেরিকান সরকার অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলকে স্বিকৃতি দেয় না বিধায় ভিক্টর নভোরস্কির পাসপোর্টটি আমেরিকার বিমানবন্দরের অযগ্য বিবেচিত হয়। তাকে ফেরতও পাঠাতে পারে না কারন  ক্রাক্রোজিয়ান অবৈধ সরকার কোন বিমানকে সে দেশে নামতে দিচ্ছে না। তখন ভিক্টর নভোরস্কিকে বলা হলো বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জের বাইরে সে যেতে পারবে না এবং তাকে এখানেই থাকতে হবে যতদিন পর্যন্ত সে দেশে ফিড়তে না পারে ততদিন। ভিক্টর আমেরিকায় আসার কারন হলো তার বাবার একটি স্বপ্ন পূরন করার জন্য। আর সে স্বপ্ন পূরনের জন্য অবশ্যই তাকে নিউইয়রক যেতে হবেই। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তিপক্ষ কিছুতেই তাকে টার্মিনালের বাইরে যেতে দিবে না। শুরু হয় ভিক্টর নভোরস্কির অপেক্ষার পালা। ইংরেজি ভাষা না জানা ভিক্টর নয় মাস অপেক্ষা করে কাটায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জে। এই নয় মাসে অনেকের সাথে তার পরিচয় হয়। অনেকের জীবন সে পাল্টে দেয়। এই ছবির শেষ ৫ মিনিটের দৃস্য অসম্ভব সুন্দর। কি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত ভিক্টর নভোরস্কির ভাগ্যে সেটা জানতে দেখতে হবে মুভিটি। ২০০৪ সালে নির্মিত ছবিটির আই এম ডি বি রেটিং হলো ৭.৩।