পিকে

PKদেখে ফেললাম ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বিতর্কিত ছবি পিকে। অবশ্যই হল প্রিন্ট। তবে বুঝার উপায় ছিল না এটা হল প্রিন্ট। শুরু থেকেই আমিরের এই ছবিটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছিল। ছবিটি দেখে আমার মনে হয়েছে আক্ষরিক ভাবে আমির খানের ক্যারিয়ার সেরা ফিল্ম এই পিকে। অন্য হিন্দি ফিল্মগুলোতে দেখা যায় ছবি রিলিজের আগে গান কিংবা নাচ অথবা ডায়ালগ হিট হয়। কিন্তু পিকেতে আমরা দেখেছি সেসব কিছুই না। পোষ্টারই হিট। এবং এ নিয়ে আদালত পর্যন্ত দৌড়া-দৌড়ি। আমির যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। এর মধ্যে সব রেকর্ড ভেঙ্গে ৩০০ কোটি রুপির ব্যবসা করে ফেলেছে। আমার দেখা এখন পর্যন্ত ইন্ডিয়ার বেষ্ট স্টোরি এটাই। নির্দোষ কমেডি সিনেমাটি শুধু আপনাকে হাসাবে না, ভাবাবে অনেক বেশি। এই ছবিতে রাজকুমার হিরানি এবং আমির খান তাদের সেরাটাই দিয়েছেন। এক কথায় পিকে একটি সামাজিক কমেডি সিনেমা। সবারই ভাল লাগার মত। ছবিটি যেই দেখবে তারই মন জয় করবে। তবে অনেক ধর্মান্ধ গোষ্ঠি খুব লাফা-লাফি করছে এই মুভিটি নিয়ে। অথছ এখানে কোন ধর্মকেই ছোট করা হয়নি। সব ধর্মেই বলা হয়েছে গডে বিশ্বাস করতে, গডকে ভালবাসতে। গড আমাদর সৃষ্টি করেছেন কিন্তু মানুষের সৃষ্টি কোন গডকে আমারা যেন বিশ্বাস না করি, সেটাই বলা হয়েছে। সেই সাথে বলা হয়ছে ধর্মের নামে যারা প্রতারনা করে অথবা ধর্মকে ব্যবসা হিসাবে নেয় তাদেরকে ত্যাগ করতে। ১০ বছরের বাচ্চা থেকে ৭০ বছরের বুড়োরাও সহজেই বুঝতে পারবে পিকে সিনেমাটির সহজ বার্তাগুলো। আমির,রাজু এবং অভিজিৎ জোসি যখন একই ছবিতে কাজ করে স্বভাবিক ভাবেই দর্শকদের প্রত্যসা হয় আকাশ সমান। আমার মনে হয়েছে দর্শকদের প্রত্যসা ১৬ আনাই পূরন করতে পেরেছে পিকে মুভিটি।

এলিট স্কোয়াড

Elite-Squad২০০৭ সালে রিলিজ হয় মুভিটি। মুভিটি দেখার সময় চোখের পলক এক মুহুর্তের জন্যও অন্য দিকে ফেড়াতে পারিনি।  ব্রাজিলিয়ান পরিচালক জোসে পাদিল্হা তার দ্বিতীয় ছবিতেই বাজিমাত করেছেন। দারুন ব্যবসা সফল ছবি হিসাবে নাম কুড়িয়ে নেয় মুভিটি। এলিট স্কোয়াডের তুমুল জনপ্রিয়তার কারনে ২০১০ সালে তৈরী করা হয় সিক্যুয়েল এলিট স্কোয়াড ২ : দ্য এনেমি উইথইং ছবিটি। ব্রাজিলিয়ানরা শুধু যে ফুটবলে পারদর্শি নয় এই ছবিটিই তার প্রমান। আমার দেখা এ্যাকশন মুভিগুলোর মধ্যে অন্যতম এলিট স্কোয়াড এই মুভিটি। আমার কাছে কেউ যদি জানতে চায় কোন কোন এ্যাকশন মুভিগুলো দেখবো, তাহলে আমি অবশ্যই এলিট স্কোয়াড মুভিটি দেখতে বলবো। এটি একটি রিয়েল লাইফ এ্যাকশন মুভি। মুভির কাহিনী শুরু হয় পোপকে দিয়ে। রিও তে আসবেন তিনি। কিন্তু তখন রিওর আসে-পাশের অবস্থা তেমন ভাল ছিল না। মানে পোপর জীবনের নিরাপর্তা নিয়ে ভাবার যথেষ্ট কারন ছিল। পুলিশ বাহিনী(BOPE) থেকে ক্যাপ্টন নাসিমেন্তোকে দায়িত্ব দেয়া হয় সবকিছু ঠিকঠাক রাখার জন্য। মূল এ্যাকশন দৃশ্য শুরু হয় এখান থেকে। রিও নামের জায়গাটি হলো ড্রাগ ডিলারদের নিরাপদ আড্ডার স্থান। ক্যাপ্টন নাসিমেন্তো শুরু করে তার কাজ। যারা এখনও দেখেন নি, দেরি না করে তাড়াতাড়ি দেখে নিন অসাধারণ মুভিটি। 

বয়হুড

Boyhoodবয়হুড সিনেমাটি আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে এক টানে দেখে গিয়েছি। কেন সিনেমাটি আমাকে এতটা মুগ্ধ করেছে তা আসলে এভাবে লিখে বোঝানো বেশ কঠিন। গভীর মানবিকতা বোধই হয়ত এর অনন্য হয়ে ওঠার কারণ। প্রতিটি দৃশ্য বাস্তবের মত মনে হয়েছে। মূল চরিত্র গুলোর সাথে সাথে প্বার্শ চরিত্র গুলোর অভিনয় দক্ষতাও ছিল দেখার মত। মনে হয়েছে প্রতিটি  ডায়ালগ তারা  মন থেকে বলছিল। সিনেমাটি দেখার পর আমেরিকানদের প্রতি একটা আলাদা ভালোলাগা তৈরী হয়েছে। হ্যাঁ আমরা জাতিগত ভাবে এক একজন একএক রকম । কিন্তু আমাদের ছোটবেলা, আমাাদের বেেড়ে ওঠা সবই প্রায় একই রকম। কৈশোরে আমরা সবাই যেন ভীষণ দিশাহীন হয়ে পরি। একাকিত্ব,অবহেলিত মনে হয় নিজেকে এই সময়টায়। ঠিক এই ব্যাপারগুলোই চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে  বয়হুড সিনেমাটিতে। ছবটির নামের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে এর বিষয়বস্তু। বয়হুড হলো এমন একটি সময়, না-শৈশব না তারুণ্য। ঠিক যেন এ দুটোর মাঝাামাঝি সসময়টা। যা কিনা বর্ণনাতীত। ছবিটি দেখার সময় দর্শক ফিরে পাবে তাদের ফেলে আসা কৈশোর। বয়হুড সিনেমাটির শেষ দৃশ্যটি ছিল আমার দেখা অন্যতম শেষ দৃশ্য গুলোর একটি । আমার মনে হয়না কখনো এই ছবিটি এডিটিং এর প্রয়োজন হবে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য এই ছবিটি। সিনেমা প্রেমিকরা তো বটেই আমি বলব সবারই এই সিনেমাটি অবশ্যই দেখা উচিৎ। এবছরের মাঝামাঝি সময়ে সিনেমাটি মুক্তি পায়। রিচার্ড লিংকলেটার পরিচালক এবং চিত্রনাট্য দুটিতেই কিস্তিমাত করেছেন।

নিষিদ্ধ লোবান

Nishiddho Lobanসৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান‘ উপন্যাসটি নিয়ে রিভিউ লেখার ইচ্ছে অনেক দিনের। হঠাৎ করেই এই রিভিউ সাইটটি পেয়ে গেলাম। তাই সুযোগটা নষ্ট করলাম না। সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শক্তিমান একজন লেখক। বাংলা সাহিত্যে তার অবদান অনেক ব্যাপক। তার লেখা অসংখ্য বইয়ের মধ্যে নিষিদ্ধ লোবান বইটি অন্যতম। যারা তার এই বইটি পড়েছেন, প্রায় সবাই বলেছেন অসম্ভব ভাল একটি বই। বইটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বেশি ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তখন কোন জাত-পাত ছিল না, হিন্দু-মুসলমান ছিল না, সবাই সবাইকে সাহায্য করেছে প্রানের মায়া ত্যাগ করে। অনেক হিন্দু পরিবারকেও আশ্রয় দিয়ে ছিল কট্টর মুসলমান পরিবার। পাকিস্থানী হানাদাররা কতটা ভয়ন্কর ছিল এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষদের বিশেষ করে হিন্দুদের প্রতি তাদের মনোভাব কেমন ছিল তার পরিষ্কার বর্ননা আছে বইটিতে। মুসলমান নারীরা ছিল তাদের কাছে ভোগের বস্তু। পাকিস্থানী হানাদাররা বলতো তোমাদের রক্ত শুদ্ধ করে দিয়ে যাব, তোমাদের গর্ভে খাঁটি পাকিস্তানী রেখে যাব, ইসলামের নিশানা উড়িয়ে যাব। মূলত দুটি চরিত্র নিয়ে এই উপন্যাসটি নির্মিত। বিলকিস নামের একটি মেয়ে ঢাকা থেকে ট্রেনে গ্রামের বাড়ীতে  আসে । যুদ্ধের কারনে তাকে স্টেশন থেকে বেশ কিছু দূর আগে নেমে যেতে হয়।  সিরাজ নামের একটি ছেলে তাকে তাদের বাড়ীতে নিয়ে আসে । বাড়ি এসে বিলকিস জানতে পারে তার ভাইকে বিহারী আর পাকিস্তানীরা বাজারে গুলি করে মেরে ফেলে রেখেছে । ফতোয়া দেয়া হয়েছে কেউ তাদের কবর দিতে পারবে না। অসংখ্য লাশ পরে আছে দাফন ছাড়া। উপন্যাসের শেষ দিকে বিলকিস এবং সিরাজ ধরা পরে পাকিস্থানী মেজরের হাতে। তখন বুঝা যায় সিরাজ আসলে হিন্দু। তার প্রকৃত নাম প্রদীপ। এই উপন্যাসটি থেকেই নির্মিত হয়েছে গেরিলা সিনামাটির চিত্রনাট্য।