কত্থক নৃত্য

kathak

কত্থক (হিন্দিकथकউর্দুکتھکভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের আট ধরনের মধ্যে একটি। এই নৃত্যের ফর্ম প্রাচীন উত্তর ভারতের যাযাবর সম্প্রদায় থেকে উদ্ভুত। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রধান চারটি ধারার বাকি তিনটি হচ্ছে ভরতনট্যমকথাকলিমণিপুরী। কত্থক শাস্ত্রীয় নৃত্যের একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধারা। সব রকমের শাস্ত্রীয় নৃত্যের মধ্যে কত্থক সবচাইতে জনপ্রিয়। প্রাচীনকালে বিভিন্ন দেবদেবীর মহাত্ন বর্ণনায় কয়েকটি সম্প্রদায় ছিলো যারা নৃত্য ও গীত দিয়ে দেবদেবীর মহাত্নাবলী পরিবেশন করতেন। এসব সম্প্রদায়গুলো কথক, গ্রন্থিক, পাঠক ইত্যাদি ইত্যাদি। সবকটির মধ্যে কথক একটি বিশেষ স্থান আজও অধিকার করে রয়েছে। কথক নৃত্যে প্রধানত রাধা কৃষ্ণের লীলা কাহিনীই রূপায়িত হত। দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় উৎসব ও মন্দির কেন্দ্রিক পরিবেশনা হওয়ায় কথক নৃত্যের কোনো সুসংহত রুপ গড়ে ওঠেনি।

মোঘল আমলে দরবারী সংগীত ও নৃত্যের যুগ সুচিত হলেই কথক নৃত্যের একটি সুসংহত রুপ গড়ে ওঠে। কথক নৃত্যের সবচাইতে বেশী বিকাশ ঘটে উনবিংশ শতাব্দীতে লোখনৌ এর আসাফুদ্দৌলা ও ওয়াজীদ আলী শাহ এর দরবারকে কেন্দ্র করে। কথকের দ্বিতীয় ধারার বিকাশ ঘটে জয়পুর রাজ দরবারে। পরবর্তীতে বারাণসীতেও কথক নৃত্যের বিস্তার ঘটে। নৃত্যই কথকের প্রাণ তবে সহযোগী সঙ্গীতও এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা পালন করে। কথক নৃত্যে মোট বারোটি পর্যায়। তবলা বা পাখোয়াজের লহরায় তাল নির্ভর নৃত্য পদ্ধতিটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বারোটি পর্যায়ে রয়েছে গনেশ বন্দনা, আমদ, থাট, নটবরী, পরমেলু, পরণ, ক্রমলয়, কবিতা, তোড়া ও টুকরা, সংগীত ও প্রাধান। প্রাম্ভিক প্রযায়ে থাকে গনেশ বন্দনা ও আমদ। নটবরী অংশে তাল সহযোগে নৃত্য পরিবেশিত হয়। পরমেলু অংশে বাদ্যধ্বনীর সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়।পরণ অংশে বাদক বোল উচ্চারণ করে ও নৃত্যশিলপী পায়ের তালে তার জবাব দেয়। এরপর তবলা বা পাখোয়াজের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়। ক্রমানবয়ে বিলম্বিত ও পরে দ্রুত তালের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়।করতালি দিয়ে তাল নির্দেশ করাকে বলে প্রাধান। কতক নৃত্যের প্রধান পোষাক লম্বা গোড়ালী পর্যন্ত পেশোয়াজ নামক এক ধরণের সিল্কের জামা ও চুড়িদার পাজামা। উজ্জল প্রসাধন ও অলংকার ব্যাবহৃত হয়।

For English Speaking people

Kathak Dance

The word Kathak has been derived from the word Katha which means a story. Kathakars or story-tellers, are people who narrate stories largely based on episodes from the epics, myths and legends. It probably started as an oral tradition. Mime and gestures were perhaps added later on to make the recitation more effective. Thus evolved a simple form of expressional dance, providing the origins of what later developed into Kathak as we see it today.

The Vaishnavite cult which swept North India in the 15th century. and the resultant bhakti movement contributed to a whole new range of lyrics and musical forms. The Radha-Krishna theme proved immensely popular alongwith the works of Mirabai, Surdas, Nandadas and Krishnadas.

The emergence of Raslila , mainly in the Braj region (Mathura in Western U.P.) was an important development. It combined in itself music, dance and the narrative. Dance in Raslila, however, was mainly an extension of the basic mime and gestures of the Kathakars or story-tellers which blended easily with the existing traditional dance.

With the coming of the Mughals, this dance form received a new impetus. A transition from the temple courtyard to the palace durbar took place which necessitated changes in presentation. In both Hindu and Muslim courts, Kathak became highly stylised and came to be regarded as a sophisticated form of entertainment. Under the Muslims there was a greater stress on nritya and bhavagiving the dance graceful, expressive and sensuous dimensions.

The nineteenth century saw the golden age of Kathak under the patronage of Wajid Ali Shah, the last Nawab of Oudh. He established the Lucknow gharana with its strong accent on bhava, the expression of moods and emotions. The Jaipur gharana known for its layakari or rhythmic virtuosity and the Benaras gharana are other prominent schools of Kathak dance. The technique of movement in Kathak is unique to it.

The weight of the body is equally distributed along the horizontal and vertical axis. The full foot contact is of prime importance where only the toe or the ball of the foot are used, their function is limited. There are no deflections and no use of sharp bends or curves of the upper or lower part of the body. Torso movements emerge from the change of the shoulder line rather than through the manipulations of the backbone or upper chest and lower waist muscles. In the basic stance, the dancer stands straight, holds one hand at a level higher than the head and the other is extended out on the level of the shoulder.

The technique is built by the use of an intricate system of foot-work. Pure dance (nritta) is all important where complex rhythmic patterns are created through the use of the flat feet and the control of sound of the ankle bells worn by the dancer. As in Bharatnatyam, Odissi and Manipuri, Kathak also builds its pure dance sequences by combining units of movement. The cadences are called differently by the names tukratora, and parana, all indicative of the nature of rhythmic patterns used and the percussion instrument accompanying the dance. The dancer commences with a sequence called That where soft gliding movements of the neck, eyebrows and the wrists, are introduced. This is followed by a conventional formal entry known as the Amad (entry) and theSalami (salutation).

Then follow the various combinations of rhythmic passages all punctuated with and culminating in a number of pirouettes. The pirouettes are the most characteristic feature of the dance style in nritta portions. Recitation of the rhythmic syllables is common; the dancer often pauses to recite these to a specified metrical cycle followed by execution through movement. The nritta portion of Kathak is performed to the nagma. Both the drummer (here the drum is either a pakhawaj, a type of mridangam, or a pair of tabla) and the dancer weave endless combinations on a repetitive melodic line. The metrical cycle (tala) of 16, 10, 14 beats provides the foundation on which the whole edifice of dance is built.

In the mime portions (nritya or abhinaya), words are not used in simple numbers called the gata, which is performed in a lyrical manner to gentle rhythm. These are short narrative pieces which portray a brief episode from Krishna’s life. A poetic line set to music is interpreted with gestures in other numbers, such as the tumri, bhajan, dadra – all lyrical musical compositions.

In these sections, there is a word to word or line to line synchronisation in the same fashion as in Bharatnatyam or Odissi. Both in nritta (pure dance) and the abhinaya (mime) there is immense scope for improvisation of presenting variations on a theme. The interpretative and the abstract dance techniques are interwoven into each other, and the dancer’s greatness lies in his capacity for improvisation on the melodic and metric line on the one hand and the poetic line on the other.

Today, Kathak has emerged as a distinct dance form. Being the only classical dance of India having links with Muslim culture, it represents a unique synthesis of Hindu and Muslim genius in art. Further, Kathak is the only form of classical dance wedded to Hindustani or the North Indian music. Both of them have had a parallel growth, each feeding and sustaining the other.

গুরু কারাইকুদি মানি

guru-mani

পৌরাণিক কাহিনীতে মৃদঙ্গের আবিষ্কর্তা হিসেবে ঋষি স্বাতির নাম পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, এক বৃষ্টির দিনে সরোবর থেকে জল আনার সময় সরোবরের জলে ছড়িয়ে থাকা পদ্মপাতায় বৃষ্টির ফোঁটার আওয়াজে মুগ্ধ হয়ে সেই শব্দকে বাদ্যে ধরে রাখার চেষ্টায় স্বাতি মৃদঙ্গের উদ্ভব করেন।

মৃদঙ্গ শিল্পী গুরু কারাইকুদি মানি-কে ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান দূত বিবেচনা করা হয়।  শ্রী রামনাথ আইয়ার ও শ্রীমতী মাত্তাম্মালের সন্তান মানী ১৯৪৫ সালে কারাইকুদিতে জন্ম গ্রহণ করেন। মৃদঙ্গে গুরু মানীর প্রাথমিক  হাতেখড়ি হয় কারাইকুদি শ্রী  রাঙ্গু আইয়েনগারের হাতে। পরবর্তীতে তিনি শ্রী হরিহর শর্মা ও শ্রী বিদ্যানাথানের কাছে তালিম নেন।

১৯৬৩ সালে গুরু মানী মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. রাধাকৃষ্ণানের কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও অতুলনীয় প্রতিভায় মৃদঙ্গ বাজনায় একটা নতুন মাত্রা যোগ হয় যা পরবর্তীতে কারাইকুদি আর মানী ধারা নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ধারাটি অন্যান্য ঘরানার শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে গুরু মানীর নিজের শিস্যের সংখ্যা ১২০০ বেশি।

গুরু মানী শ্রুতিলয় নামে একটি পারকাশন ভিত্তিক সঙ্গীত দল প্রতিষ্ঠা করেন যা পৃথিবীজুড়ে মানুষকে সঙ্গীতে মুগ্ধ করে রেখেছে। তাঁর এই দলে দেশ বিদেশের অনেক গুণী শিল্পী রয়েছেন যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিখ্যাত।  শ্রুতি লয়া সেবা ট্রাস্ট ও শ্রুতি লয়া কেন্দ্র কোন পারকাশনিস্টের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রথম সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই  প্রতিষ্ঠানের শাখা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, জার্মানিসহ পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে রয়েছে।

বিদুষী গিরিজা দেবী

girija-devi

গিরিজা দেবী বানারাসি ঘরানার অন্যতম প্রধান উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী। তিনি সাধারণত উচ্চাঙ্গ ও লঘু-উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া ঠুমরীর প্রচার ও প্রসারেও তাঁর ভুমিকা অনস্বীকার্য। ১৯২৯ সালের ৮ মে তিনি বারানাসিতে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রামদেও রাই ছিলেন  ব্রাহ্মণ  জমিদার।  দেবীর পিতা হারমোনিয়াম বাজাতেন। তিনি মেয়েকে খেয়াল ও টপ্পা  শেখার জন্য কণ্ঠশিল্পী ও সারেঙ্গী বাদক সারজু প্রসাদ মিশ্রর কাছে পাঠান। তখন দেবীর বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর। মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করেন এবং শ্রী চাঁদ মিশ্রের কাছে তালিম অব্যাহত রাখেন।

১৯৪৯ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিও, এলাহবাদ-এ সাধারণের জন্য প্রথম অনুষ্ঠান করেন। কিন্তু বিবাহের পর তাঁর মাতা ও মাতামহ চান নি তিনি আর অনুষ্ঠান করুন। কারণ তাঁদের প্রথাগত ধারণা ছিল উঁচু ঘরের মেয়েদের জনসম্মুখে অনুষ্ঠান করা ঠিক না। দেবী তাই কার ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে অনুষ্ঠান করা বন্ধ করে দেন। ১৯৫১ সালে বিহারে তিনি প্রথম উন্মুক্ত  কনসার্টে অংশ নেন।

১৯৬০ সালে শ্রী চাঁদ মিশ্রের পরলোকগমনের আগ পর্যন্ত দেবী তাঁর কাছে তালিম নেন। আশির দশকে তিনি ITC Sangeet Research Academy কলকাতায় শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি Banaras Hindu University-তেও শিক্ষকতা করেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর সঙ্গীত ঐতিহ্যের ধারা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেন।

গিরিজা দেবী মুলতঃ বানারাস ঘরানার শিল্পী। পুরবী আঙ্গিক ঠুমরীকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি কাজরী, চৈতি, হোলি, খেয়াল ও টপ্পায়ও সমান পারদর্শী। তিনি ভারতীয় লোকগীতিও অসাধারণ গাইতে পারেন। তিনি পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। গিরিজা দেবীকে বলা হয় “Queen Of Thumri” বা “ঠুমরীর রানী”।

মালাভিকা সারুকাই

malavika-ad

 

সমসাময়িক ভারতীয় উচ্চাঙ্গ নৃত্য শিল্পিদের মধ্যে মালাভিকা সারুকাই অন্যতম। তিনি বিশ্বাস করেন নাচকে শুধুমাত্র একটি শিল্প মাধ্যম হিসেবে দেখেন না, তাঁর কাছে নাচ ঈশ্বরের সাথে যুক্ত হওয়ার একটি পথ। এই ধারণাটি তাঁর নৃত্য চর্চার মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করে যা ২০১২ সালে লিঙ্কন সেন্টারে অনুষ্ঠিত White Lights Festival-এ তাঁর পরিবেশনায় মূর্ত হয়ে ওঠে।

দীর্ঘ সাধনার পথবেয়ে নৃত্য সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি পরিস্ফুটিত হয় ‘Yatra: Achieving Transcendence in Dance,’ অনুষ্ঠানটিতে। তিনি বলেন “অনেক বছর আগে আধ্যাত্মবাদ সম্পর্কে যখন আমি প্রথম বুঝতে শিখি, উপলব্ধি করতে শিখি, আমি যেন কিছু সময়ের জন্য থমকে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমি বুঝতে পারি এ আমার জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাকে এই ঐশ্বরিক পথেই চলতে হবে। এটাই আমার পথ।”

মালাভিকা মুলতঃ ভরতনাট্যমের শিল্পি। ভরতনাট্যম ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যকলা বিশেষ। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে এ নৃত্যকলার উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রধান চারটি ধারার একটি। বাকি তিনটি হচ্ছে কত্থক, কথাকলি, মণিপুরী। ভরতমুনির লেখা নাট্য শাস্ত্র গ্রন্থে ভরতনাট্যম নাচের বর্ণনা রয়েছে।

তবে মালাভিকা মনে করেন তাঁর নাচ উপভোগ করার জন্য ভরতনাট্যম বুঝতেই হবে এমন নয়। বরং যেকোন মহৎ শিল্পের মতই এই নাচও মানুষের অন্তর্নিহিত উপলব্ধির জায়গাতে আপনাতেই পৌঁছে যায়!মালাভিকা বলেন “বোঝাটা জরুরি নয়। শিল্পি যদি দক্ষতার সাথে মুহুর্তগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে পারেন তবে তা দর্শকের অন্তর্নিহিত উপলব্ধির জায়গাকে স্পর্শ করবেই।”

বিদুষী কিশোরী আমানকর

২৭ নভেম্বর, ২০১৪ থেকে তৃতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনের ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ’। উচ্চাঙ্গসংগীতের কিংবদন্তি পদ্মবিভূষণ বিদুষী কিশোরী আমানকর এবারের উৎসবে যোগ দিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছেন। এই উৎসবে আরো যোগ দেবেন বিশ্বখ্যাত সরোদবাদক পদ্মবিভূষণ ওস্তাদ আমজাদ আলী খান। পরপর ৩ বছর এমন চমৎকার একটি আয়োজনের জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশান-কে bdreviews24.com এর পক্ষ থেকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই অসাধারণ উৎসবকে সামনে রেখে bdreviews24.com উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। আজ থাকছে বিদুষী কিশোরী আমানকর -এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। পর্যায়ক্রমে সকল শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

kishori-amonkarভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী কিশোরী আমানকর  মুলতঃ খেয়াল গাইবার জন্য বিখ্যাত। তবে খেয়াল ছাড়াও তিনি ঠুমরী ও ভজনের জন্যও সমানভাবে নন্দিত। জয়পুর ঘরানার বিখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী মগুবাই কুরদিকার-এর কন্যা আমানকর সঙ্গীতে প্রথম দীক্ষা লাভ করের মায়ের কাছেই। মায়ের ইচ্ছে ছিল মেয়ের জ্ঞান কেবল  জয়পুর ঘরানাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাই তিনি বেশ কয়েকটি ঘরানার তালিম নেন। কিশোরী আমানকরকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রতিনিধিত্বকারী বিবেচনা করা হয়।

গত শতাব্দীর ৪০ এর দশকের প্রথমদিকে আমানকর ভেন্দি বাজার ঘরনার বিখ্যাত শিল্পী অঞ্জনিবাই মালপেকার-এর কাছে তালিম শুরু করেন। ষাটের দশকে আমানকর চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন এটা তাঁর স্থান নয়। তাই তিনি আর চলচ্চিত্রে তেমন কাজ করেন নি। কোন এক অজ্ঞাত কারনে আমানকর ৫০ এর দশকে প্রায় টানা দুবছর গাইতে পারেন নি।

জয়পুর ঘরানার সাথে অন্যান্য ঘরানার সঙ্গীতের উপাদানগুলোর এক অপূর্ব সংমিশ্রণে আমানকর তাঁর নিজস্ব গায়কী তৈরি করেছেন যা শ্রোতাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোহাবিষ্ট করে রাখে। বিভিন্ন রাগের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা আমনকারের কম্পোজিশনগুলো শুনলে সুরের মোহময় জগতে হারিয়ে যেতে হয়। কিশোরী আমানকর পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণসহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

কথা তো অনেক হলো এবার সুরের ভুবনে হারিয়ে যাবার পালা! নিচের লিঙ্কটিতে ক্লিক করে শুনে নিন বিদুষী কিশোরী আমানকর ও পণ্ডিত  হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার অসাধারণ যুগলবন্দী! (রাগ ভূপালী-তারানা)

বাংলাদেশের প্রথম রিভিউ ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

বাংলাদেশের প্রথম রিভিউ ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম! পৃথিবীতে অনেক বিখ্যাত রিভিউ ওয়েবসাইট আছে। তবে তার প্রায় সব ক’টাই ইংরেজিতে। বইয়ের রিভিউর জন্য আছে গুডরিডস, হোটেল কিংবা রিসোর্টের রিভিউর জন্য আছে ট্রিপ এডভাইসার, আর ফিল্মস বা মুভিসের জন্য আছে আইএমডিবি। সব ক’টিই কিন্তু ইংরেজিতে! যদিও কোন কোন ওয়েবসাইটে চাইলে আপনি বাংলা লিখতে পারবেন। কিন্তু ওয়েবসাইটগুলো বিদেশীদের তৈরি মূলত ভিন্ন ভাষার ওয়েবসাইট।

আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলায় একটা রিভিউ ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা আমরা সবাই অনুভব করছিলাম বেশ ক’বছর ধরেই। আমাদের এই যে বিশাল সাহিত্য ভাণ্ডার তার জন্য একটা বাংলা রিভিউ ওয়েবসাইট থাকবে না? আমাদের গান, চিত্রকলা, নাটক, কিংবা চলচ্চিত্রের জন্য? তাই কি হয় নাকি? এই ওয়েবসাইটটি আমাদের সংগ্রামের হাতিয়ার।

বিডিরিভিউস-এর সাথেই থাকুন।

পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা

২৭ নভেম্বর, ২০১৪ থেকে তৃতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনের ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ’।  এই উৎসবে আরো যোগ দেবেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। পরপর ৩ বছর এমন চমৎকার একটি আয়োজনের জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশান-কে bdreviews24.com এর পক্ষ থেকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই অসাধারণ উৎসবকে সামনে রেখে bdreviews24.com উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। আজ থাকছে পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। পর্যায়ক্রমে সকল শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

পণ্ডিত শিবকুমার শর্মাকিছু কিছু মানুষ আছেন যারা বাস্তবতাকে আমূল পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন, যাদের দৃঢ়চেতা অধ্যবসায়ের কাছে নত হয়ে ভাগ্য নিজেকেই পুনর্লিখনে বাধ্য হয়, যাদের প্রতিভার সাক্ষর থেকে যায় পরবর্তী হাজার বছর।  পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা তেমনই একজন মানুষ! যদি বলি সঙ্গীত জগতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তবুও তাঁর অর্জনকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয় না।

ইতিহাসে কয়জন শিল্পিই বা একক প্রচেষ্টায় প্রায় অচেনা একটি বাদ্যযন্ত্রকে সাধারণের কেছে পরিচিত ও যেকোন অনুষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য করে তুলতে পেরেছেন? অনেক সময়ই শিল্পি ও তাঁর বাদ্যযন্ত্র সমার্থক হয়ে ওঠে। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই কোন একটি বাদ্যযন্ত্র তার শিল্পির পরিচয়ে পরিচিত হয়!

সন্তুর, যা এক সময় শুধুমাত্র কাশ্মীর অঞ্চলে সূফী শিল্পীগণ ব্যবহার করতেন, তা  পণ্ডিত  শিবকুমার শর্মার হাত ধরে  শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রের মর্যাদা লাভ করে। গত শতকের গোরার দিকে সন্তুর, পুরাণে যাকে শততন্ত্রী বীণা নামে অবিহিত করা হয়েছে, তা শুধুমাত্র সুফিয়ানা মওসিকি নামে এক বিশেষ ধরনের গায়কিতে ব্যবহৃত হতো।  জম্বুর বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী পণ্ডিত উমা দত্ত শর্মা যখন এ বাদ্যযন্ত্রটি প্রথম দেখতে পান তখনই তিনি এর সম্ভাবনা বুঝতে পারেন এবং সাধারণের কাছে একে পরিচিত করার একটি তাগিদ অনুভব করেন। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি নিজ পুত্র শিবকুমারের হাতে বাদ্যযন্ত্রটি তুলে দেন। এরপর বাকিটা তো ইতিহাস!