টেম্পল

Templeম্যাথিউ রীলির লেখা কোন বই আগে পড়িনি।  অষ্ট্রেলিয়ান এই লেখকের বইটি হাতে নিয়ে তাই একটু দন্দে ছিলাম। অনুবাদকের নামটির সাথেও আমার পরিচয় নেই। যাই হোক শেষ পর্যন্ত কিনেই ফেললাম। অনেক দিন বইটি না-পড়া অবস্থায় পরে ছিল বাসায়। কেন জানি বইটি পড়ার কোন আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। এক বন্ধের দিন কোন কাজ না থাকায় পড়তে শুরু করলাম বইটি। তারপর পাতার পর পাতা পড়ে গেলাম নিজের অজান্তে। বইটি শুধু  অ্যাকশন না, অ্যাকশনের বিরাট একটি প্যাকেট। ম্যাথিউ রীলির প্রথম বইটি পড়ে আমি তার ফ্যান হয়ে গেলাম। যে পাঠকগন অ্যাকশন টাইপ বই পছন্দ করে তাদেরকে আমি বইটি পড়ার জন্য বলবো। চমৎকার গতিময় একটি কাহিনী। দুটি সমান্তরাল কাহিনীর অপূর্ব বর্ননা দিয়েছেন লেখক। বইটিকে আমার মনে হয়েছে খুব সহজ ভাষায় লেখা অসাধারন একটি উপন্যাস। পেরু’র প্রাচীন ইনকাদের একটি পবিত্র ধর্মিয় মূর্তি ছিল। মূর্তিটিকে তারা আইডল নামে ডাকতো। ধারনা করা হয় এই মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীতে ছিটকে আসা কোন উল্কাপিন্ডের খন্ড থেকে। উল্কাপিন্ডটি ছিল আগা-গোড়া থাইরিয়াম নামক এক প্রকার দূর্লভ ধাতু দিয়ে তৈরি। যা কখনও পৃথিবীতে পাওয়া যায় না। আলবার্তো লুইস নামের এক ধর্মপ্রচারকের  লেখা ম্যানাস্ক্রিপ্ট থেকে জানা যায় আইডলটার কাহিনী এবং কোথায় সেটা লুকানো আছে। আইডলটার দখল নেওয়ার জন্য অনেকগুলো দল মাঠে নামে। জার্মান নাজীরাও আছে সেই দলে। শুরু হয় ভয়ন্কর এবং শ্বাসরুদ্ধ এক কাহিনী। হাসান খুরশীদ রুমীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ বইটি এত সুন্দর অনুবাদের জন্য।

আমার ছেলেবেলা

Amar Chelebelaহুমায়ূন আহমেদকে যারা পছন্দ করে এবং তার সম্পর্কে যে পাঠকরা জানতে আগ্রহি তাদের জন্য এই বইটি হতে পারে সবচেয়ে বেশি আকর্ষনীয়। এই বইটিতে লেখক তার ছোটবেলার অনেক কথা অকপটে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। সবারই ছোটবলা অনেক মধুর হয়, অনেক আনন্দের হয়। অনেক, অনেক মজার স্মৃতি থাকে। হুমায়ূন আহমেদও তার বেতিক্রম নন। সাধারন কিছু স্মৃতি-কথা তার লেখার কারন অসাধারন ভাবে পাঠকদের সামনে উঠে এসেছে।এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মত একটি লেখা। বইটি পড়ার সময় আমার মনে হয়েছে আমিই হুমায়ূন আহমেদ, ঘুড়ে বেড়াচ্ছি এখানে-সেখানে। একদিন রাতের বেল ঘুমানোর সময় মশারির মধ্যে জোছনার আলো দেখে ছোট হুমায়ূন কি পরিমান বিমোহিত হয়ে ছিলেন তার বর্ননা আছে বইটিতে। সে থেকে তার সাথে জোছনার সম্পর্ক এবং এই সম্পর্ক তার অনেক বইয়ে আমরা পেয়েছি। আছে তার বাবার কথা। অন্য কোন লেখক নিজের বাবাকে এত সুন্দর করে আর উপস্থাপন করেছে কিনা আমার জানা নেই। প্রতিটি গল্পই সত্যি আবেগময় এবং অসম্ভব সুন্দর। প্রাণোচ্ছল ভাষায় বর্ণনা করেছেন তাঁর শৈশবের কথা। ছোটবলায় তার বেশিভাগ সময় কেটেছে দুষ্টুমি আর চঞ্চলতায়, বন্ধু এবং সহপাঠিদের সাথে।

দ্য গড অব স্মল থিংস

The God of Small Thingsত্রিশ পেরোনোর আগেই অরুন্ধতী রায় সম্ভবত ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত লেখক হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন এই বইটির জন্য। এই একটি উপন্যাসই বিশ্ববাসিকে অরুন্ধতী রায়ের লেখনির ক্ষমতা সম্পর্কে জানান দিয়েছে। লেখা-লেখির তেমন কোন চর্চা ছিল না স্থাপত্যবিদ্যার ছাত্রী অরুন্ধতী রায়ের। শুধু কল্পনার উপর ভর করে এই উপন্যাসটি লিখেননি অরুন্ধতী রায়। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বইটি লিখেছেন লেখিকা। আমার কাছে মনে হয়েছে, যে সময়টাকে অরুন্ধতী রায় দেখাতে চেয়েছেন পাঠকদের সেটা খুব সহজ এবং চমৎকার করে দেখাতে পেরেছেন। প্রতিটি বিষয় তিনি খুব সাবলিল ভাষায় পাঠকদের জন্য বর্ননা করেছেন। আমার মনে হয় পাঠকরা সে কারনেই বইটি এতটা পছন্দ করেছে। নামের সাথে পুরোপুরি মিলে উপন্যাসটির বিষয়-বস্তু। এই উপন্যাসের মূল বিষয় হলো জাতপাত, শ্রেণী ও ধর্মের গণ্ডি ছাড়ানো সম্পর্ক নিয়ে। উপন্যাসটি নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার তালিকায় স্থান পেয়েছেবুকার প্রাইজও জয় করেছে। প্রথম দিকে কাহিনীটি পাঠকদের কাছে একটু কঠিন মনে হতে পারে। তবে ধীরে ধীরে কাহিনীটি পাঠকদের সামনে সহজ হতে থকবে লেখিকার সুন্দন বর্ননার কারনে। অনুবাদক আবীর হাসানে প্রসংশা করতেই হয় কারন এত বিখ্যাত একটি বই তিনি পাঠকদের বাংলায় অনুবাদ করে দিয়েছেন তাই। ভাষাও ব্যবহার করেছেন যেখানে যেটা দরকার সে রকম করে। 

 

গল্পসংগ্রহ

Golpo Sangraha১৮৩টি চমৎকার গল্প নিয়ে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পসংগ্রহ বইটি পাঠকদের সামনে এনেছে আনন্দ পাবলিশার্স। প্রতিটি গল্পই পাঠকদের ভাল লাগবে। কারন গল্পগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের। প্রতিটি গল্পরই আলাদা বৈশিষ্ঠ এবং আলাদা ভাব আছে। সে কারনে পাঠকদের এক ঘেয়েমি আসবে না পড়ার সময়। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন বলা হয় শক্তিমান লেখক, এই বইটি পড়লে বুঝা যাবে। অসাধারন তার ভাষার কারাগরি। কল্পনার ডানা সবারই আছে। শরদিন্দু পাঠকদের দেখিয়েছেন সেই ডানা কত দূর যেতে পারে। কল্পনা দিয়েই তো লেখক তার গল্প লিখে, সেটাই স্বভাবিক। কিন্তু কল্পনাও যে এত দুর্দান্ত হতে পারে সেটা এই বইটি না পড়লে বুঝতে পারতাম না। গল্পগুলো সম্পর্কে আমি কোন কথা বলবো না। যারা পড়েছেন তারা জানেন, আর যারা এখনও পড়েননি তাদের কে বলবো অসাধারন কিছু গল্প আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। যে পাঠকদের সাথে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার সাথে পরিচয় নেই, তারা এই বইটি দিয়ে পরিচয়-পর্বিট সেরে নিতে পারেন। বাজি ধরে বলতে পারি অনেকেই শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার ভক্ত হয়ে যাবেন। একটি বইয়ে একসাথে এতগুলো মজাদার গল্প খুব একটা পাওয়া যায় না।  অসাধারণ মজাদার এবং সাসপেন্স ভরা গল্পের ভান্ডার বইটি।   

আমি তপু-মুহম্মদ জাফর ইকবাল

আমি তপু-মুহম্মদ জাফর ইকবালএকটি হৃদয় স্পর্শী কাহিনী। ছোট-বড় সবারই হৃিদয় ছুঁয়ে যাবে বইটি। জাফর ইকবালের লিখা বেশির ভাগ বই ছোটদের নিয়ে লিখা। আমি তপু বইটিও ছোটদের জন্য। তপু নামের ছোট একটি ছেলের কাহিনী। বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে পারিবারিক যে কোন নেতি বাচক বিষয় ছোটদের মনে গভির প্রভাব ফেলে। এই বিষয়টি লেখক বুঝাতে চেয়েছেন আমি তপু বইটিতে। পরিবারের অবহেলা অথবা কোন একটি বিষয়ে যদি ছোটদের দায়ি করে এবং বিষয়টি বার বার তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তপুর মতই মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে। তার মধ্যে তৈরি হবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবনতা এবং নিজের অজান্তেই সে নিজেকে অপরিধী ভাবতে শুরু করবে। অন্যদের থেকে সে নিজেকে আলাদা ভাবতে শুরু করবে। এই কারনগুলোর জন্যই পাল্টে যায় তপুর জীবন। এক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারায় তপু । স্বামীর মৃত্যুতে ছেলেটার মা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্বামীর মৃত্যুর জন্য তপুকেই দোষারোপ করতে থাকে। বইটি পড়ে তপুর জন্য প্রচন্ড কষ্ট লেগেছে। কিছু কিছু জায়গায় চোখের পানি ধরে রাখা আসলেই কঠিন ছিল আমার জন্য। এ রকম হৃদয় স্পর্শী কাহিনী ছোটদের জন্য আর কোন  লেখক লিখেছেন কিনা আমার জান নেই। মুহম্মদ জাফর ইকবালের লিখা বইগুলোর মধ্যে আমি তপু বইটিকে আমি সবগুলো বইয়ের উপরে রাখবো।

 

লং ওয়াক টু ফ্রিডম-নেলসন ম্যান্ডেলা

Long-Walk-To-Freedomলং ওয়াক টু ফ্রিডম বইটি দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্ণবাদ আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার আন্দলোন সংগ্রামের জীবন কাহিনী। বইটি লিখার পেছনে একটি ইতিহাস আছে। ম্যান্ডেলা বহুবার বলেছেন তার একার পক্ষে কখনও সম্ভব হতো না বইটি লিখা। সহযোদ্ধা ম্যাক মহারাজ, ওয়াল্টার সিসুলু ও আহমেদ কাদারদা প্রানের মায়া ত্যাগ করে ম্যান্ডেলাকে সাহায্য করেছেন। বইটিতে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ন কথা আছে যা ম্যান্ডেলার মনে ছিল না। কিন্তু সহযোদ্ধা ম্যাক মহারাজ, সিসুলু ও আহমেদের কারনে বইটিতে এসেছে। কথাগুলো না এলে বইটি অসম্পূর্ন থেকে যেত। মূল পান্ডুলিপিটা লিখা হয় রবেন আইল্যান্ডের কারাগারের ভিতর। ম্যান্ডেলাসহ তিন জনেরই সাজা হয়েছে অনেক বছরের। এখানেই তিনি লিখা শুরু করেন লং ওয়াক টু ফ্রিডম বইটি। যে পাঠকরা এই বইটি পড়েছেন তারা জানেন বইটি কেমন। কিন্তু যারা বইটি এখনও পড়েনি তাদের কাছে পৃথিবীর ইতিহাসের একটি বিশেষ অংশই হয়তো অজানা রয়ে গেছে। হয়তো অনেকেরই জানা আছে আফ্রিকার বর্ণবাদের কথা। কিন্তু তা কতটা ভয়ঙ্কর এবং অমানবিক ছিল সেটা উপলব্ধি করা যায় না। যখন পাঠক এই বইটি পড়বে তখন বুঝতে পারবে এবং উপলব্ধি করতে পারবে সঠিক ভাবে। আফ্রিকায় সাদা মানুষদের বর্বরতার আর কালো মানুষদের শোষিত হওয়ার ইতিহাস এই বইটি। লং ওয়াক টু ফ্রিডম বইটির কাহিনী নিয়ে সিনেমাও বানানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, রাষ্ট্র প্রধান, এবং বিশ্বের নেতা, নেলসন ম্যান্ডেলার শৈশবের অনেক কথা আছে বইটিতে। জীবনের বেশিভাগ সময় কারাগারে কাটানো এই মানুষটি কখনও তার আদর্শ থেকে এক চুলও পিছু হটেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার সমস্ত মানুষ তাকে বাবা বলে ডাকে। সাধারনত দেখা যায় রাষ্ট্রপ্রধান হলে অনেক নেতার জনপ্রিয়তা কমে যায়। নেলসন ম্যান্ডেলার ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। তার কারন জনগনের মতামতকে শ্রদ্ধা করা এবং মূল্যয়ন করা। বিশাল একটি জাতিকে তিনি এনে দিয়েছেন স্বাধিনতা। এই স্বাধিনতা জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের যে ত্যাগ তার অনেক কথা আছে বইটিতে।

মানুষের মত মানুষ-বরিস পলেভয়

Manusher-Moto-Manushপ্রবল ইচ্ছাশক্তি মানুষকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে তার চমৎকার উদাহরন এই বইটি। একজন রুশ যুদ্ধ-বিমান চালকের জীবনের ঘটে যাওয়া সত্য কিছু কাহিনী নিয়ে বইটি লিখেছেন বরিস পলেভয়। মূল বইটির নাম আ রিয়েল ম্যান পাঠকদের হৃদয়ের খুব গভীর দাগ কাটার মত একটি বই। বইটি পড়ে আমি বুঝেছি মানবতার মানে কি, সত্যিকারের দেশপ্রেম কেমন হয় এবং দৃঢ় সংকল্প ও আশা মানুষকে বাচঁতে কিভাবে সাহায্য করে। বইটির কাহিনী আমাকে প্রবল ভাবে নাড়া দিয়েছে। আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছে মানুষের জীবনের মানে কি? মানুষ নামের স্বার্থকতা কোথায়? সারা জীবন মনে রাখার মত একটি বই। মানুষ চাইলেই সবকিছু করতে পারে, শুধু ইচ্ছা শক্তিকে সঠিক ভাবে প্রয়োগ করতে হবে। মানুষ যদি সত্যি চায় সে তার নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করেবে তবে কেউ তাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। এটা আমি বিশ্বাস করি। সবকিছু হারিয়েও শূণ্য থেকে শুরু করে আবার ঘুরে দাড়ানোর উদাহরন পৃথিবীতে অনেক আছে। লেখক বরিস পলেভয়ের এই বইটিও সেরকম একটি কাহিনী। জীবনের কাছে পরাজিত না হওয়া রুশ বিমান বাহিনীর দুরন্ত এক অফিসারের কথা, যুদ্ধ যার দুটি পা-ই কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নিতে পারেনি তার লড়াই করার ইচ্ছা এবং প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস। বইটা রুশদের অসাধারন মানসিক দৃঢতার সাথে পরিচয় করে দিবে পাঠকদের।

কড়ি দিয়ে কিনলাম

Kodi-Diye-Kinlamবিমল মিত্রের কড়ি দিয়ে কিনলাম বইটি নিয়ে কোন কিছু বলার যোগ্যতা আমার নেই। বইটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় আমি যাব না। শুধু বলবো অসাধারণ একটি বই। প্রাক স্বাধীন ভারতের প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসের কাহিনী। দুই খন্ডের বিশাল উপন্যাসটি দেখে আমার মত অনেকেই ভয় পেতে পারে। তবে এই বইটি না পড়লে আমার বই পড়া জীবনটি অসম্পূর্ন থেকে যেত। কিছু বই আছে যা পড়লে কখনও ভুলা যায় না। কড়ি দিয়ে কিনলাম বইটি সে ধরনের একটি বই। এত বড় উপন্যাসটি পড়ার সময় একবারও আমার মনোযোগ ছুটে যায়নি। বিমল মিত্রের অসাধারন লেখনি পাঠকদের নিয়ে যাবে কাহিনীর গভীর থেকে গভীরে। যে সময়কে ঘিড়ে এই উপন্যাস লিখা হয়েছে, পাঠক সে সময় কে অনুভব করবে। সত্যি সারাজীবন মনে রাখার মত একটি বই। উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র দীপঙ্কর সেন। দীপঙ্করের মাধ্যমেই লেখক তার এই উপন্যাসের বিভিন্ন দিক দেখিয়েছেন পাঠকদের। কাহিনীর কারনেই অনেকগুলো চরিত্র এসেছে এবং সবগুলো চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ। কাহিনীটি মূলত দীপঙ্করের ছোটবলা থেকে মধ্যযৌবন পর্যন্ত যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তার বর্ননা। বিমল মিত্র উপন্যাসটি যেমন অসাধারণ ভাবে শুরু করেছেন, ঠিক তেমনি অসাধারণ ভাবে শেষও করছেন।

এক্স-ম্যানঃ ডেজ অব ফিউচার পাস্ট

X-Men-Days-of-Future-Pastঅনেক প্রতিশ্রুতি নিয়ে তারকাখচিত ছবি এক্স-ম্যানঃ ডেজ অব ফিউচার পাস্ট মুক্তি পায়। প্রত্যাশার পারদটা ছিল আকাশচুম্বী! এবং সত্যিই এই চলচ্চিত্রটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকার সব সম্ভাবনাই তৈরি করেছিল মুক্তি পাওয়ার আগেই।

১৯৭৩ সালে মিউট্যান্টদের খুঁজে বের করে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় সেন্টিনেলসদের। তারও ৫০ বছর পর সেন্টিনেলসরা যারা মিউট্যান্টদের সাহায্য করেছিল সেই মানুষদেরও হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। চার্লিস ও তার এক্স ম্যান সেন্টিনেলসদের সাথে সমঝোতার সর্বচ্চো চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। চার্লিস তাই অতীতে ফিরে গিয়ে সব ঠিক করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই সে কিটির সাহায্য চায়। কিটি মানুষকে, আরো স্পষ্ট করে বললে বলা যায় মানুষের চেতনাকে, অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সে শুধু কয়েক সপ্তাহ পেছনে নিতে পারে কারণ এর বেশি নিলে তাদের ক্ষতি হওয়ার আশংকা থেকে যায়। লোগান তাই নিজেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই চার্লিস তাকে বলে এই সবকিছুর জন্য মিস্টিকই দায়ি কারণ যখন সে সেন্টিনেলসদের সম্পর্কে জানতে পারে তখন সে বলিভার, যে সেন্টিনেলসদের সৃষ্টি করেছে, তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করে। সে হয়তো ধরা পরেছে এবং তাকে গবেষণা করে তার মধ্যেকার ক্ষমতাটা সেন্টিনেলসরা অর্জন করতে পেরেছে। লোগানকে তাই যে করেই হোক তরুণ চার্লিসকে খুঁজে বের করে তার সাহায্য নিতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো সে তখন হতাশায় নিমজ্জিত ছিল আর ড্রাগসের কারণে তার বিশেষ ক্ষমতাও হারিয়েছিল। তাই লোগানকে এখন ম্যাগনেটোকে খুঁজে বের করতেই হবে। এই তো মূল কাহিনী!

সব চাইতে উল্লেখযোগ্য যে দিকটি প্রথমেই নজরে আসে তা হল, একটি blockbuster franchise এর ৭ম চলচ্চিত্র হলেও নতুন অনেক কিছুই তুলে আনার সাহস দেখিয়েছেন পরিচালক ব্রায়ান। তাই ছবিটি একটি পরিচ্ছন্ন রুপ পেয়েছে। অন্য আর দশটা সিকুয়ালের মতো চর্বিত চর্বন না হয়ে অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ-এর নানা উপাদান মিশিয়ে নতুনত্বের স্বাদ দিয়েছেন তিনি।

Director: Bryan Singer
Writers: Simon Kinberg (screenplay), Jane Goldman (story)
Stars: Patrick Stewart, Ian McKellen, Hugh Jackman

দি ডার্ক নাইট

The-Dark-Knightডিস্ট্রিক এ্যার্টনি হার্ভি ডেন্টে এবং লেফটেনান্ট জেমস গর্ডনের সাহায্যে ব্যাটম্যান গোথাম নামের শহরটিতে অপরাধ বন্ধ করেছিল।কিন্তু কিছু দিন পরেই ব্যাটম্যান বুঝতে পারে অপরাধ আবার মাথাচারা দিয়ে উঠছে।আবিষ্কার করে এক সাইকো ক্রিমিনালকে।যার নাম জোকার।গোথাম সিটির অপরাধের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জোকারের লোকজন।আবার সে-ই তাদেরকে একে একে হত্যা করতে থাকে।জোকার চায় গোথাম সিটিকে নরক বানিয়ে ব্যাটম্যানকে তার কাছে এনে হত্যা করবে।দি ডার্ক নাইটের শুরুটা হয় একটা ব্যাংক ডাকাতি দিয়ে।জোকারই সেই ডাকাতির নায়ক।জোকারের প্ল্যান অনুসারে তার সহযোগীরা ডাকাতির সময় একে অন্যকে মেরে ফেলতে থাকে।শেষজনকে জোকার নিজেই হত্যা করে।ডার্ক নাইটে জোকারের আগমন এভাবেই। The Dark Knight মুভিটির পরিচালক  Christopher Nolan.