ইনসেপশন

Inceptionপ্রখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান ইনসেপশন ছবিটি বানিয়েছেন স্বপ্ন নিয়ে। সব মানুষই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন হলো মানব চরিত্রের সবচেয়ে রহস্যজনক মানসিক অবস্থা। মানুষকে ঘুমের মাধ্যমে স্বপ্নের কাছে যেতে হয়।মানুষের অবচেতন মনের মধ্যে অনেক ধরনের আইডিয়া লুকানো থাকে। যেমন বিজনিস ম্যানদের অবচেতন মনে থাকে কি করে আরো বেশি টাকা আয় করা যায় তার নতুন নতুন পরিকল্পনা, বিজ্ঞানীরা অবচেতন মনে অনেক তথ্য মাথায় নিয়ে ঘুড়েন বেড়ান ইত্যাদি। এই ছবিতে দেখা যাবে দুই চোর সেধরনের তথ্য চুরি করছে। কিন্তু কিভাব? সে এক অদ্ভুত উপায়। স্বপ্নের ভেতরে স্বপ্নের মাধ্যমে ব্যাপারটি ঘটে। দুই চোরের ভুমিকায় দেখা যাবে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও (কব) এবং জোসেফ গর্ডন-লেভিট(আর্থার)কে। কাজটি আইন সম্মত না হওয়ায় কবের নাম অপরাধীর তালিকায় উঠে যায়। ফেরারি হয়ে যায় সে এবং এর প্রভাব পরে তার ব্যক্তিগত জীবনেও। এলোমেলো হয়ে যায় সব কিছু। শেষে দেখা যায় মরিয়া কব কারো মন থেকে কোনো তথ্য চায় না বরং একজনের মনে একটি তথ্য ডুকিয়ে দেওয়াই তার জীবনের শেষ উদ্দেশ্য। কি হবে শেষে? জানতে হলে দেখতে হবে ছবিটি।চোরে ভুমিকায় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অভিনয় আমার আসাধারন লেগেছে।

 

দ্যা কিড

The Kidদ্যা কিড ছবিটির মত আনন্দদায়ক এবং মজার সিনেমা খুজে পাওয়া সত্যি কঠিন। সিনেমাটির প্রশংসা কিভাবে করলে সঠিক হবে বুঝতে পারছি না। শুধু বলবো এধরনের ছবিগুলো মানুষ শুধু দেখেই না, সারা জীবন মনে রাখে এবং শ্রদ্ধা করে। ছবিটিতে কোন ডায়ালগ নেই, ডায়ালগ ছাড়াই ছবিটি পরিপূর্ন । এককথায় অসাধারন। চ্যাপলীন এবং ছয় বছর বয়সী কুগান সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে আকর্ষনীয় জুটি। মজা এবং আনন্দে ভরা এই সিনেমাটির  সিংহভাগ জুরে ছিল দুঃখ ও ভাবপ্রবণতা । এই ছবিটি যতবারই দেখি প্রতিবারই আমার চোখ দুটো একই সাথে দুঃখ এবং আনন্দ অশ্রুতে ভরে ওঠে । কিন্তু আমি মোটেও সিনেমা দেখে কাঁদার মত মানুষ নই । আর এই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ?? তা অবশ্যই অস্কার পাওয়ার যোগ্য । আমার মনে হয় যারাই এই সিনেমাটি দেখবে প্রায় সবারই আমার মত একই রকম অনুভূতি হবে । আশির চেয়েও বেশী বয়সের একটি চরিত্রকে চার্লি চ্যাপলীন তার মেধা ও প্রতিভা দ্বারা দারুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।  আর এটাই এই ছবির মূল আকর্ষন । সুতরাং কারোই এই মুভিটি দেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। দ্যা কিড বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত শব্দহীন সিনেমাগুলোর একটি। চার্লি চ্যাপলীন তার সময়ে সম্ভবত সবচেয়ে অভিনব লেখক এবং অবশ্যই সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন। দ্যা কিড সিনেমাটির চিত্রনাট্য এবং নির্দেশনা চ্যাপলীন নিজেই দিয়েছেন।

ডাই হার্ড

Die Hardএই সিরিজের প্রথম ছবি ডাই হার্ড। মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৮ সালে এবং তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল  ব্রুস উইলিস অভিনিত ছবিটি। ব্রুস উইলিসের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো সত্যি দর্শনীয়। আইএমডিবি-র টপ ২৫০ ছবির একটি, রেটিং ৮.২। যারা অ্যাকশন ছবি পছন্দ করে, তাদের জন্য এই ছবিটি সত্যি মনের মত হবে। ব্রুস উইলিস হলো নিউ ইয়র্ক সিটির একজন পুলিশ অফিসার। বড়দিন পালনের জন্য তার স্ত্রী ও বাচ্চারা লস এঞ্জেলেসে আসে। ব্রুস উইলিস তাদের সাথে দেখা করতে লস এঞ্জেলেসে যায়। ঘটনা-চক্রে সে এবং তার স্ত্রী আটকা পরে একটি বহুতল ভবনে। ভবনটি দখল করে একদল টেরোরিষ্ট। পুলিশ অফিসার ব্রুস উইলিস কর্তব্যের কারনে, নিজের এবং স্ত্রীর জানের মায়া ত্যাগ করে, টেরোরিষ্টদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায় বহুতল ভবনের অন্য ফ্লোরে। শুরু হয় ব্রুস উইলিসের অ্যাকশন। এক এক করে সে মারতে থাকে সন্ত্রাসিদের। আমার কাছে এই সিনেমাটি খুবই উত্তেজনাময় মনে হয়েছে। অসামান্য অভিনয় করেছেন ব্রুস উইলিস এবং অ্যালেন রিকম্যান। 

ফাইট ক্লাব

Fight Clubদেখার আগে আমি ভাবিনি ছবিটি এতটা উত্তেজনাকর এবং রহস্যময় হবে। ছবিটি শেষ হওয়ার পর অনেক্ষন চুপ করে বসে ছিলাম। অনেক দিন পর এরকম অসাধারন হৃদয়স্পর্শী একটি ছবি দেখলাম। ছবিটি যে এতটা ভাল হবে আমি তা চিন্তাই করিনি। সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে দেখা এটা আমার প্রথম ছবি। আমার কাছে মনে হয়েছ এটা একটি অবিশ্বাস্য শিল্পকর্ম। মনে হয় না অন্য কোন অভিনেতা  এডওয়ার্ড নর্টন এবং ব্র্যাড পিটের মত এত ভাল কাজ করতে পারতো। জীবনকে বদলে দিতে পারে একটি ভাল ছবি। ছবিটি দেখার পরে অনেক দর্শকেরই চিন্তা-চেতনা, মনোজগৎ পাল্টে যেতে পারে।  জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সহজ হয়ে যাবে। ছবিটির নাম দেখে আমি ভেবে ছিলাম এটি একটি মারমার-কাটকাট ছবি এবং মারামারিই হবে ছবির মূল বিষয়। কিন্তু ছবিটি দেখে আমি বিস্মিত। যতবার দেখি ততবারই আমি মুগ্ধ হই। শুরুর দিকে অনেকের কাছে ছবিটির গল্প জটিল মনে হলেও হতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলে বুঝতে কষ্ট হবে না।কোনরকমের উচ্চতর প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই ছবিটি বানানো হয়েছে। আইএমডিবির সেরা মুভির রেটিং এ ৮.৯ রেটিং নিয়ে ১০ তম অবস্থানে আছে। চমৎকার এই ছবিটির শেষের দিকে দর্শকেদের জন্য রয়েছে হতবাক হওয়ার মত কিছু দৃশ্য।

ভী ফর ভেন্ডেটা

V for Vendettaভী ফর ভেন্ডেটা  ছবিটি দেখার পর আমি একেবারেই নির্বাক হয়ে গিয়ে ছিলাম । তিনটি বিষয় সিনেমাটিকে আকর্ষনীয় করে তুলেছে । আর এই তিনটি বিষয়ই সিনেমাাটির সফলতার প্রধান কারণ । প্রথমেই রয়েছে এর মনকাড়া ডায়ালগ ও অসাধারণ স্ক্রি্প্ট । ছবিটি দেখার সময় আমার মনে হয়েেছে এই ছবির স্ক্রি্প্টটি যেন একদম মন থেকে লিখা হয়েছে  আর ডায়ালোগ গুলো ছিল বেশ সহজ সরল তবে মোটেও সস্তা নয় । ছবিিট দেখার পর প্রথম চমক ছিল এগুলোই । একটি এ্যাকশান ধর্মী ছবিতে এমন  স্ক্রি্প্ট আশাই করা যায়না । কিন্তু ধীরে ধীরে ছবিটি দেখতে দেখতে দর্শক বুঝতে পারবে যে ভী ফর ভেন্ডেটা  শুধু মাত্র একটি এ্যাকশান টাইপ ছবি না । সমসাময়িক কিছু ঘটনার বহিঃপ্রকাশ এটি । এছাড়াও ছবিটিতে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারনা। দ্বিতীয়তে রয়েছে  হুগো ওয়েভিং এর অতুলনীয় অভিনয় দক্ষতা । শুুরু থেকেই তার অভিনয় দর্শকের মন কেড়ে নিবে । তিনি অত্যন্ত সহজভাবে কঠিন কিছু কথা বলে গেছেন এই ছবিতে । তার অভিনয়ের অসাধারণ দ্বিপ্তী ছড়িয়ে ছিল পুরো সিনেমাটাতে । যা কিনাা অন্য কোন অভিনেতার মাঝে খুব কমই দেখা যায়। আমার মতে এই ছবির জন্য তাকে অবশ্যই এ্যাকাডেমিক এ্যাওয়ার্ড প্রদন করা উচিৎ । সব শেেষে বলব সিনেমাটি তে দেখানো দৃশ্য গুলোর কথা । কোন রকম ম্যাট্রিক্স এফেক্ট ব্যবহার ছাড়াই চমংকার ভাবে ফুটিয় তোলা হয়ছে  দৃশ্য গুলোকে । অন্ধকারের মাঝে দারুন ভাবে সৌন্দর্য কে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমাটিতে । হৃদয় স্পর্শ করা একটি চলচ্চিত্র। ছবিটিতে চিঠির যে অংশটি রয়েছে তা দেখে আমি চোখের জল আটকে রাখতে পারিনি। একদম শেষের দিকে লক্ষ মানুষ যখন ভি-র মুখোশ পরে চলে আসে, সেখানে নিজে মিশে যাবার তীব্র ইচ্ছে হয়েছে।। আর কোনও সিনেমা বোধহয় আমাকে এতোটা আবেগতাড়িত করতে পারে নি। অতএব দেখতে ভুলবেন না ভী ফর ভেন্ডেটা । এটি সর্বকালে্র শ্রে্ষ্ঠ সিনেমা গুলোর একটি । 

রেভুলেশন ২০২০

রেভুলেশন ২০২০২০১১ সালে চেতন ভগতের ভিন্নধর্মী উপন্যাস রেভুলেশন ২০২০ প্রকাশিত হয় । তুমুল সাড়া জাগানো এই উপন্যাসে দেখানো হয় ভারতের বারানাসি শহরে বসবাসরত তিনজন ছেলে মেয়ের একসাথে বেড়ে ওঠা , তাদের শিক্ষা , ভালোবাসা এবং শেষ পরিণতি । গোপাল এবং রাঘব একই বিদ্যালয়ে পড়া দুই বন্ধু যাদের বন্ধুত্বের গভীরতা সমান কিন্তু অর্থনৈতিক দিক দিয়ে রাঘব যেখানে আকাশ গোপাল সেখানে মটিও নয় বরং তারও নিচের ভূখন্ড । সময়ের সাথে সাথে বয়স বেড়ে টগবগে তরুণে পরিণত হওয়া দুজনই ইন্জীনিয়ারিং কলেজে ভর্তির জন্যে উঠে পড়ে লাগে ।  রাঘব টিকে যায় প্রথমবারেই আর গোপাল দুই দুইবার চেষ্টার পরেও পারে না । জীবনের চরম বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে গোপাল সিদ্ধান্ত নেয় সে তার সকল মেধা এবং শ্রম দিয়ে টাকা উপার্জন করবে । তা সে যেভাবেই হোকনা কেন ! অপরদিকে রাঘব চায় সমাজকে পরিবর্তন করতে । সে চায় এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে যেখানে থাকবেনা দূর্নীতি বা অনৈতিক কোনকিছু । এই গল্পের সবচেয়ে চান্চল্যকর ব্যাপার হল এই যে তারা দুজন ই ভালোবাসে আর্তীকে যে কিনা তাদরই এক সময়কার সহপাঠী ও বনধু । পুরো গল্পের নায়ক গোপাল হলও শেষ পর্যন্ত সব দিক থেকে জয় রাঘবেরই হয় । সে বিপ্লব ঘটানোর মধ্যমে সমাজ পরিবর্তন করে নিজের স্বপ্ন পুরণে সক্ষম হয়  এবং আর্তীর ভালোবাসাও সে অধিকার করে নেয় । এভাবেই পৃথিবীর চিরাচরিত নিয়মে সত্য আর নিষ্ঠার জয় হয় । এই গল্পে  চেতন ভগত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রাত্যহিক কিছু ঘটনা বা ব্যাপারকে অত্যন্ত বাস্তবতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন যার কারণেে এই বইটি দখল করে নিয়েছে সকল বই পড়ুয়ার বুক শেলফ ।

২স্টেটস

2 STATESচেতন ভগতের দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস বইটির কাহিনী নিয়ে নির্মান করা হয় ২স্টেটস সিনেমাটি। হিন্দি মুভি আমি খুব একটা দেখি না। বেছে বেছে ভাল ছবিগুলো দেখি। চেতন ভগতের লেখা ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান বইটি থেকে তৈরীকৃত থ্রি-ইডিয়েটস ছবিটি সত্যি খুব ভাল লেগেছিল। তাই ২স্টেটস মুভিটি আগ্রহ নিয়ে দেখতে বসা। দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস  উপন্যাসটি চেতন ভগত ২০০৯ সালে লিখেছেন,  এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে পরিচালক অভিষেক ভারমান তৈরি করেন রোমান্টিক কমেডি ধাচের এই চলচ্চিত্রটি। ছবিটি মুক্তির আগেই বেপক সাড়া জাগিয়ে ছিল ইন্ডিয়াতে। চেতন ভগত সব সময় আলাদা কিছু বলার চেষ্টা করেন। এই মুভিটিতে পরিচালক অভিষেক ভারমান সেই কাজটি করেছেন খুব নিষ্ঠার সাথে। ইন্দিয়া বিশাল একটি দেশ । বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে সে দেশে। তাদের আচার-ব্যহার, ভাষা, ধর্ম কোনটির সাথে কোনটি মিলে না। তারই একটি চিত্র এই সিনেমাটি। একজন পাঞ্জাবী ছেলে কৃশ, যে একজন তামিলিয়ান ব্রাহ্মণ মেয়ে অনন্যার প্রেমে পরে। কৃশ এবং অনন্যা দুজনই কলেজে পরিচিত হয় এবং প্রেমে পরে। তারপর তারা সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার এবং তাদের বাবা মায়ের মধ্যকার উত্তর-দক্ষিণের একটা সেতুবন্ধন তৈরি করার কাজে নামার। ছবিটি মুক্তির পর তুমুল জনপ্রিতা পায়। আই এম ডি বির রেটিংও বেশ ভাল । দ্য স্টোরী অফ মাই মেরেজ: ২স্টেটস বইটিি  আসলে লেখকেরর নিজের প্রেম এবং বিয়ের সত্য কাহিনী। 

 

 

দ্য টারমিনাল

The Terminalআমার দেখা অসম্ভব সুন্দর মুভিগুলোর একটি হলো দ্য টারমিনাল। স্টিভেন অ্যালান স্পিলবার্গের পক্ষেই সম্ভব এরকম একটি মুভি বানানো। হলিউডে ডিরেক্টর স্পিলবার্গকে তুলনা করা হয় হিমালয়ের সাথে। যে কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী স্পিলবার্গের সাথে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকে। আর এই মুভির মূল চরিত্রে অভিনয় করা টম হান্ককে নিশ্চয় নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না। তার ঝুড়িতে আছে বিশ্ব কাপানো অনেক বিখ্যাত ছবি। স্পিলবার্গ এবং টম হান্ক হলো দুই জগৎতের দুই উজ্জল নক্ষত্র। এই দুই কিংবদন্তি মিলে তৈরি করেছেন দ্য টারমিনাল মুভিটি। একজন কাজ করেছেন কেমেরার পিছনে আর একজন কাজ করেছেন সামনে। অসাধারনের উপরে যদি কিছু থেকে থাকে, তা হয়েছে দ্য টারমিনাল মুভিটি। অপেক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার সুন্দর একটি চিত্র এই ছবিটি। মুভিটি একটি সত্য গল্পের নাট্যরুপ। ক্রাক্রোজিয়ান নাগরিক ভিক্টর নভোরস্কি আমেরিকান বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জে আটকা পরে। কারন হলো ভিক্টর নভোরস্কির দেশের মধ্যে একটি অভ্যুত্থান হয়ে গেছে, বিপ্লবী বাহিনী অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। এসব ঘটনা যখন ঘটছে ভিক্টর তখন বিমানে। আমেরিকান সরকার অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলকে স্বিকৃতি দেয় না বিধায় ভিক্টর নভোরস্কির পাসপোর্টটি আমেরিকার বিমানবন্দরের অযগ্য বিবেচিত হয়। তাকে ফেরতও পাঠাতে পারে না কারন  ক্রাক্রোজিয়ান অবৈধ সরকার কোন বিমানকে সে দেশে নামতে দিচ্ছে না। তখন ভিক্টর নভোরস্কিকে বলা হলো বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জের বাইরে সে যেতে পারবে না এবং তাকে এখানেই থাকতে হবে যতদিন পর্যন্ত সে দেশে ফিড়তে না পারে ততদিন। ভিক্টর আমেরিকায় আসার কারন হলো তার বাবার একটি স্বপ্ন পূরন করার জন্য। আর সে স্বপ্ন পূরনের জন্য অবশ্যই তাকে নিউইয়রক যেতে হবেই। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তিপক্ষ কিছুতেই তাকে টার্মিনালের বাইরে যেতে দিবে না। শুরু হয় ভিক্টর নভোরস্কির অপেক্ষার পালা। ইংরেজি ভাষা না জানা ভিক্টর নয় মাস অপেক্ষা করে কাটায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল লাউঞ্জে। এই নয় মাসে অনেকের সাথে তার পরিচয় হয়। অনেকের জীবন সে পাল্টে দেয়। এই ছবির শেষ ৫ মিনিটের দৃস্য অসম্ভব সুন্দর। কি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত ভিক্টর নভোরস্কির ভাগ্যে সেটা জানতে দেখতে হবে মুভিটি। ২০০৪ সালে নির্মিত ছবিটির আই এম ডি বি রেটিং হলো ৭.৩।

দ্য আয়রন হীল

The Iron Heelজ্যাক লন্ডন ছিলেন বিংশ শতাব্দীতে আমেরিকাতে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রথিভাবান লেখক-সাহিত্যিকদের একজন। তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশ ছোয়া। তার লেখা এই উপন্যাসটি পড়ে অনুপ্রানিত হয়েছে বিশ্বের অনেক বিখ্যাত ব্যাক্তি। রাশিয়ান বিপ্লবী লিও ট্রটস্কিএবং নোবেল পাওয়া ফরাসী ঔপন্যাসিক আনাতোলে ফ্রাসের মত ব্যাক্তিগন দ্য আয়রন হীল উপন্যাসটি পড়ে রায় দিয়েছেন এই বইটি একটি শিল্পকর্ম। যা যুগ যুগ ধরে গন মানুষের পক্ষে কথা বলবে। শত বছর আগে বইটি প্রকাশ হওয়ার আগে লন্ডন বইটি নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন “এটা আমার জন্য কোন বন্ধু নিয়ে আসবে না”। সত্যি তাই হয়েছিল। তখনকার আমেরিকান সরকার বইটিকে বাজেয়াপ্ত করেনি কিন্তু এমন ব্যবস্থা করেছিল যাতে বইটি বেশি জনপ্রিয়তা না পায়। তাই হয়তো তার এই বইটি দ্য কল অফ দ্য ওয়াল্ড এবং হোয়াইট ফ্যাং– এর মত জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। দ্য আয়রন হীল জনপ্রিয়তা পায় তার মৃত্যুর পরে। লন্ডন দ্য আয়রন হীল উপন্যাসে বর্ননা দিয়েছে কিভাবে শাসকগোষ্ঠী জনগনকে শোসিত করে এবং ঠকায়। প্রথমেই তারা বাক স্বাধীনতা এবং সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতাকে অবৈধ করে দেয়, সংবাদ এবং তথ্যের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। সমাজতন্ত্রের আদর্শে দীক্ষিত বিপ্লবী আর্নেস্ট এভারহার্ড এর সংগ্রামী জীবনের অনেক কথা আছে বইটিতে। সবসময় শ্রমিকরা বঞ্চিত হয় তাদের নেয্য অধিকার থেকে। নেয্য অধিকারের জন‍্য নিম্নশ্রেণীর মানুষকে যে কতটা মূল‍্য দিতে করতে হয় তা এই বই না পড়লে সাধারন মানুষ বুঝতে পারবে না কখনো।

 

 

 

ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট

Crime and Punishmentফিওদোর দস্তয়েভ্স্কির বই যখনিই পড়েছি তখন আমি নিজেই অনুভব করেছি আমার চিন্তা ভাবনাগুলো আর আগের মত থাকছে না। যে কোন বিষয় আমাকে আরো গভির ভাবে ভাবাতে সাহায্য করছে ফিওদোর দস্তয়েভ্স্কির লেখাগুলো। তার লেখা বই বেশি পড়ার সুযোগ নেই। তারপরও যে দুই-চারটি পড়েছি সেগুলো মানুষের জীবন দর্শনকে নতুন করে উপলব্ধি করাতে তারিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যুবক বয়সে রাশিয়ার নিম্নবিত্ত ও গরিবদের দুরবস্থা দেখে ফিওডর গভীর বেদনা অনুভব করতেন। সোশালিস্ট আন্দোলনে জড়িয়ে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পরে তাকে সাইবেরিয়াতে নির্বাস জীবন কাটাতে হয়। বয়স কম বলে  অসাধারণ এই লেখক-ঔপন্যাসিক মৃত্যুদন্ডের হাত থেকে বেচে যান। ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট বইটিকে বিশ্বের সেরা ১০টি বইয়ের একটি বলা হয়। কি আছে বইটিতে ? বইটি আসলে মানুষের আত্মশুদ্ধির বড় একটি উদাহরন। উপন‍্যাসের মূল চরিত্রে আছে রাসকলনিকভ নামের একজন যুবক এবং একজন  পতিতা নারী, যার নাম সোনিয়া। মানুষের আত্মাকে শুদ্ধ বা পরিষ্কার করার জন্য প্রেম-ভালবাসার উপরে আর কিছু নেই। স্বর্গিয় এই মানব গুন দিয়ে চাইলেই পৃথিবীতে অনেকভাল ভাল কাজ করা যায়। তার প্রমান পৃথিবীতে ভুরি ভুরি আছে।সমাজ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছিল, গরিবরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাল ভাবে বেচে থাকার জন্য রাসকলনিকভ অনেক চেষ্টা করে কিন্তু তা সম্ভব হয় না। তাই সে এক পয়সাওয়ালা বৃদ্ধাকে খুন করে তার সবকাছু নিয়ে আত্মগোপন করে। আত্মগোপন থাকার সময় রাসকলনিকভকের পরিচয় হয় সোনিয়া নামের একজন পতিতার সাথে। একসময় দেখা যায় দুজন দুজনকে ভালবেসে ফেলে। সোনিয়ার প্রেম রাসকলনিকভকের মধ্যে থেকে ভাল মানুষটিকে বের করে আনে। সে আত্মসমর্পণ করে এবং বিচারে নির্বাসিত হয় সাইবেরিয়ায়। শুরু হয় দুজন মানুষের অপেক্ষার পালা। নির্বাসিত জীবন শেষে মুক্ত রাসকলনিকভ বেরিয়ে আসবে শুদ্ধ মানুষ হয়ে। তারই অপেক্ষায় থাকে সোনিয়া।