আদিবাসী মিথ ও অন্যান্য-সালেক খোকন

Adibashi-Mithআদিবাসি মানুষদের সম্পর্কে প্রচন্ড আগ্রহ থাকার কারনে বইটি পড়া। স্কুল এবং কলেজ জীবনে আমার অনেক বন্ধু ছিল আদিবাসি। তখন থেকেই আমি জানতে চাইতাম আদিবাসীদের জীবন চিত্র মানে তাদের আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস, ভাষা, ধ্যান-ধারণা ইত্যাদি সম্পর্কে। আদিবাসিদের সম্পর্কে অনেক ভুল ধারনা ছিল আমার। আমি ভাবতাম তারা ধর্ম-কর্ম তেমন ভাবে পালন করেনা এবং তাদের দেশপ্রেম খুব একটা নেই।কিন্তু আমার ধারনা সম্পর্ন ভুল ছিল। বইটি পড়ে জানতে পারলাম তাদের মধ্যেও মুক্তিযোদ্ধা ছিল এবং দেশের প্রতিটি গনতান্ত্রিক আন্দলোনে তাদের অংশগ্রহন আছে সেই ব্রিটিশ বিরোধি আন্দলোন থেকে। আদিবাসীদের ভাষায় কোন বর্ণ নেই। চাকমা-সাঁওতাল-মারমা-গারো ইত্যাদি বিভিন্ন ভাষার বিভিন্ন ব্যবহার তুলে ধওেছেন তিনি ‘বর্ণহীন ভাষার আদিবাসীরা’ লেখায়। আদিবাসীরা আর আগের মত শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না।শান্ত নিরিহ এই সব আদিবাসি গোষ্ঠি বাস করে পাহাড়ের উপর অথবা পাহাড় ঘেসে।সেই জমিগুলো জোর করে দখল করে নিচ্ছে আধুনিক ভূমি-দস্যূরা। তাই হুমকির মুখে পড়েছে আচার-অনুষ্ঠান,সংস্কৃতি এবং ভাষা। এখনও কোনোমতে টিকে আছেন তারা। তবে ধীরে ধীরে অনেক আদিবাসি জাতি বিলুপ্ত হতে চলেছে। আদিবাসী মিথ এবং অন্যান্য বইটি লেখক সাতাশটি ভাগে ভাগ করে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে লিখেছেন। অনেকগুলো সম্প্রদায়ের অজানা ইতিহাস পাঠকদের সামনে খুলে দিবে এই বইটি।

দ্য এইট-ক্যাথারিন নেভিল

The-Eightমোঃ নাজিম উদ্দিন আমার প্রিয় লেখকদের একজন। মৌলিক এবং অনুবাদ দুটো জায়গাতেই সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত যতগুলো বই তিনি অনুবাদ করেছেন, মূল বইগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে সারা দুনিয়ায়। সেই বইগুলো অনুবাদ করে সেই পরিমান জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সত্যি কঠিন। এই কঠিন পরীক্ষায় নাজিম উদ্দিন খুব ভাল ভাবেই উৎরে গেছেন। ক্যাথারিন নেভিলের লেখা অত্যান্ত জনপ্রিয় উপন্যাস দ্য এইট। অনুবাদটি পড়ে আমার মনে হয়েছে নাজিম উদ্দিন আরেকবার নিজেকে পাঠকদের সামনে প্রমাণ করলেন। বইটিতে দুইটি সময়ের দুটি কাহিনী বলা হয়েছ। শেষের দিকে লেখক দুটিকেই একসাথে করেছেন। পৃথিবীর অনেক মহান ব্যাক্তিকে আমরা এই উপন্যাসে পাব রহস্য উন্মোচনের বিভিন্ন সময়। একটি দাবাবোর্ডের ক্ষমতা এত যা কিনা পাল্টে দিতে পারে দুনিয়ার প্রকৃতিক নিয়ম! দাবাবোর্ডটি গোপন রহস্য জানার জন্য হাজার হাজার মানুষ চেষ্টা করেছে ,শত শত বছর ধরে। তাদের মধ্যে আছে ভাল মানুষ এবং খারাপ মানুষের দল। কাদের জিত হবে এই খেলায়? সাদা নাকি কালো? ভাল নকি মন্দ? দ্য এইট ক্যাথারিন নেভিল অসাধারন একটি উপন্যাস। লেখক যেভাবে এক একটি রহস্যের সমাধান পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন তা এক কথায় অসাধারন।

লং ওয়াক টু ফ্রিডম-নেলসন ম্যান্ডেলা

Long-Walk-To-Freedomলং ওয়াক টু ফ্রিডম বইটি দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্ণবাদ আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার আন্দলোন সংগ্রামের জীবন কাহিনী। বইটি লিখার পেছনে একটি ইতিহাস আছে। ম্যান্ডেলা বহুবার বলেছেন তার একার পক্ষে কখনও সম্ভব হতো না বইটি লিখা। সহযোদ্ধা ম্যাক মহারাজ, ওয়াল্টার সিসুলু ও আহমেদ কাদারদা প্রানের মায়া ত্যাগ করে ম্যান্ডেলাকে সাহায্য করেছেন। বইটিতে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ন কথা আছে যা ম্যান্ডেলার মনে ছিল না। কিন্তু সহযোদ্ধা ম্যাক মহারাজ, সিসুলু ও আহমেদের কারনে বইটিতে এসেছে। কথাগুলো না এলে বইটি অসম্পূর্ন থেকে যেত। মূল পান্ডুলিপিটা লিখা হয় রবেন আইল্যান্ডের কারাগারের ভিতর। ম্যান্ডেলাসহ তিন জনেরই সাজা হয়েছে অনেক বছরের। এখানেই তিনি লিখা শুরু করেন লং ওয়াক টু ফ্রিডম বইটি। যে পাঠকরা এই বইটি পড়েছেন তারা জানেন বইটি কেমন। কিন্তু যারা বইটি এখনও পড়েনি তাদের কাছে পৃথিবীর ইতিহাসের একটি বিশেষ অংশই হয়তো অজানা রয়ে গেছে। হয়তো অনেকেরই জানা আছে আফ্রিকার বর্ণবাদের কথা। কিন্তু তা কতটা ভয়ঙ্কর এবং অমানবিক ছিল সেটা উপলব্ধি করা যায় না। যখন পাঠক এই বইটি পড়বে তখন বুঝতে পারবে এবং উপলব্ধি করতে পারবে সঠিক ভাবে। আফ্রিকায় সাদা মানুষদের বর্বরতার আর কালো মানুষদের শোষিত হওয়ার ইতিহাস এই বইটি। লং ওয়াক টু ফ্রিডম বইটির কাহিনী নিয়ে সিনেমাও বানানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, রাষ্ট্র প্রধান, এবং বিশ্বের নেতা, নেলসন ম্যান্ডেলার শৈশবের অনেক কথা আছে বইটিতে। জীবনের বেশিভাগ সময় কারাগারে কাটানো এই মানুষটি কখনও তার আদর্শ থেকে এক চুলও পিছু হটেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার সমস্ত মানুষ তাকে বাবা বলে ডাকে। সাধারনত দেখা যায় রাষ্ট্রপ্রধান হলে অনেক নেতার জনপ্রিয়তা কমে যায়। নেলসন ম্যান্ডেলার ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। তার কারন জনগনের মতামতকে শ্রদ্ধা করা এবং মূল্যয়ন করা। বিশাল একটি জাতিকে তিনি এনে দিয়েছেন স্বাধিনতা। এই স্বাধিনতা জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের যে ত্যাগ তার অনেক কথা আছে বইটিতে।

ফাউন্ডেশন-আইজাক আসিমভ

Foundationআইজাক আসিমভের ফাউন্ডেশন বইটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনী বিশ্বসাহিত্যে। অসাধারন তার কল্পনা করার শক্তি। আজ থেকে হাজার বছর পরে কি হবে মানবসভ্যতার অথবা কতটা উন্নতি হবে মানবসভ্যতার তার একটি কল্পনার চিত্র হলো এই বইটি। কল্পনা শক্তির কতটা জোর থাকলে মানুষ ভবিষ্যৎতের এত সুন্দর ছবি দেখতে পারে! বইটি পড়ে সত্যি আমি অবাক হয়েছি। বিশ্বসাহিত্যে আইজাক আসিমভের নামটি স্বর্নাক্ষরে লিখা থাকবে তার ফাউন্ডেশন বইটির জন্য। আইজাক আসিমভে তিনটি বই নিয়ে লিখেছেন ফাউন্ডেশন সিরিজ । এই সিরিজের অন্য একটি নাম আছে। বই তিনটিকে একসাথে বলা হয় অলটাইম বেস্ট সায়েন্স ফিকশন সিরিজ। তিনটি বইয়ের প্রথমটি হল ফাউন্ডেশন। যারা বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনী পড়তে পছন্দ করে, তাদের জন্য এই সিরিজ হতে পারে স্বর্গীয় বস্তু। সভ্যতার প্রায় শেষ সীমায় মানবসভ্যতা। বিজ্ঞানী হ্যারি সেলডন তার আবিষ্কার করা সাইকোহিস্ট্রি’র সাহায্যে ভবিষ্যৎবানী করেন আর পাঁচশ বছরের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যাবে এম্পায়ার । সব গ্রহ এম্পায়ারের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। এই বিদ্রোহ আর যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাবে মানবসভ্যতা। মানুষ আবার ফিরে যাবে বিজ্ঞানহীন বর্বর যুগে, যা দির্ঘ হবে ত্রিশ হাজার বছর। তার পরের কাহিনী আরো সুন্দর এবং তা জানতে হলে পড়তে হবে আইজাক আসিমভের ফাউন্ডেশন বইটি। অনুবাদকের ভাষা আমার খুব ভাল লেগেছে। 

মানুষের মত মানুষ-বরিস পলেভয়

Manusher-Moto-Manushপ্রবল ইচ্ছাশক্তি মানুষকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে তার চমৎকার উদাহরন এই বইটি। একজন রুশ যুদ্ধ-বিমান চালকের জীবনের ঘটে যাওয়া সত্য কিছু কাহিনী নিয়ে বইটি লিখেছেন বরিস পলেভয়। মূল বইটির নাম আ রিয়েল ম্যান পাঠকদের হৃদয়ের খুব গভীর দাগ কাটার মত একটি বই। বইটি পড়ে আমি বুঝেছি মানবতার মানে কি, সত্যিকারের দেশপ্রেম কেমন হয় এবং দৃঢ় সংকল্প ও আশা মানুষকে বাচঁতে কিভাবে সাহায্য করে। বইটির কাহিনী আমাকে প্রবল ভাবে নাড়া দিয়েছে। আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছে মানুষের জীবনের মানে কি? মানুষ নামের স্বার্থকতা কোথায়? সারা জীবন মনে রাখার মত একটি বই। মানুষ চাইলেই সবকিছু করতে পারে, শুধু ইচ্ছা শক্তিকে সঠিক ভাবে প্রয়োগ করতে হবে। মানুষ যদি সত্যি চায় সে তার নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করেবে তবে কেউ তাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। এটা আমি বিশ্বাস করি। সবকিছু হারিয়েও শূণ্য থেকে শুরু করে আবার ঘুরে দাড়ানোর উদাহরন পৃথিবীতে অনেক আছে। লেখক বরিস পলেভয়ের এই বইটিও সেরকম একটি কাহিনী। জীবনের কাছে পরাজিত না হওয়া রুশ বিমান বাহিনীর দুরন্ত এক অফিসারের কথা, যুদ্ধ যার দুটি পা-ই কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নিতে পারেনি তার লড়াই করার ইচ্ছা এবং প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস। বইটা রুশদের অসাধারন মানসিক দৃঢতার সাথে পরিচয় করে দিবে পাঠকদের।

তুন ডা. মাহাথির ও আধুনিক মালয়েশিয়া

Tun-Dr-Mahathirআমরা সবাই স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি। আবার কেউ কেউ আছেন যারা নিজে স্বপ্ন দেখেন , অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারে্ন এবং সেই স্বপ্ন পূরনে নিজেকে উজার করে দিতেও দিধা করেন না। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ (মাহাথির মোহাম্মদ) সে ধরনেই একজন মানুষ। তিনি এশিয়ায় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শৈশবে কলা বিক্রেতা মাহাথিরের চোখে ছিল দেশকে নিয়ে হাজারো স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরনের প্রথম ধাপ হিসাবে তিনি নিজেকে সেভাবে তৈরি করতে থাকেন। নিজের চেষ্টায় কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যে নিজেকে নিয়ে যান দেশের সর্বোচ্চ আসনটিতে। জনগনের কাছে তার জনপ্রিয়তার কারনে ২২ বছর কেউ তাকে সেই আসন থেকে নড়াতে পারেনি। একে একে মাহাথির বাস্তবায়ন করেন তার স্বপ্নগুলি। যে স্বপ্নগুলো তিনি দেখিয়ে ছিলেন মালয়েশিয়ার জনগনকে। দরিদ্র একটি দেশ মালয়েশিয়াকে তিনি রুপান্তরিত করেন উন্নত বিশ্বের একটি দেশে এবং মালয়েশিয়ার অর্থনীতি পরিনত হয় হিমালয়ের মত অটল। মাহাথিরের মত মানুষরা শত বছর অপেক্ষার পরে জন্ম নেয়। ডা.মাহাথির মালয়েশিয়ার জরাজীর্ণ শিক্ষা,অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে গুড়িয়ে দিয়ে ছিলেন এবং সেই ধ্বংশস্তুপের উপর নতুন করে আবার সব তৈরি করে ছিলেন। তা বিশ্ববাসির কাছে একটি দৃষ্টান্ত। তাঁর মত রাজনৈতিক জ্ঞানের অধিকারি ব্যাক্তি খুব বেশি জন্মেনি পৃথিবীতে। অসাধারন কূটনৈতিক বুদ্ধি তার। বইটির লেখক একে এম আতিকুর রহমান। লেখকের সৌভাগ্য হয়েছে কাছ থেকে মাহাথির মোহাম্মদকে দেখার। বইটি পড়লে আধুনিক মালয়েশিয়ার অনেক কিছু জানা যাবে।

সেকেন্ড ফাউন্ডেশন

Second-Foundationআইজাক আসিমভের প্রায় সবগুলো লেখাই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নিয়ে। তাকে বলা হয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার জাদুকর। অসাধারন সব লেখা দিয়ে বিশ্বসাহিত্যকে করেছেন সমৃদ্ধ। তার লেখা বইগুলোর জনপ্রিয়তা অবিশ্বাস্য। সেকেণ্ড ফাউণ্ডেশন বইটি ফাউণ্ডেশন ত্রয়ীর তৃতীয় এবং শেষ বই। প্রথম দুটি বই আমার অসম্ভব ভাল লেগেছিল। আসিমভের কোন তুলনা হয় না। বুঝতে পারলাম কেন তাকে গ্রন্ড-মাস্টার বলা হয়। সিরিজের প্রথম দুটি বই নিয়ে আমি কিছু বলে সময় নষ্ট করবোনা। শুধু বলবো বইগুলো পড়েন। সায়েন্স ফিকশনের সংজ্ঞাই পাল্টে দিবে আইজাক আসিমভ। তিনটি বইয়ের মধ্যে শেষের বইটি আমার বেশি ভাল লেগেছে। কারন বইয়ের সমাপ্তিটি অসাধারনের চেয়েও বেশি। মানব সভ্যতাকে বাঁচাতে বিজ্ঞানী হ্যারি সেলডন গ্যালাক্সির দু’প্রান্তে দুটি ফাউন্ডেশন তৈরি করেন। টার্মিনাস গ্রহে তৈরি হয় প্রথমটি। দ্বিতীয়টি কোথায় কেউ জানে না। এক হাজার বছর পরে দুটি ফাউন্ডেশন মিলিত হয়ে তৈরি করবে নতুন মানব সাম্রাজ্য। এটাই চেয়েছিলেন বিজ্ঞানী হ্যারি কিন্তু তা এত সহজে হওয়ার নয়। অতিমানবিক ক্ষমতার অধিকারী একজন অস্বাভাবিক মিউলের আগমন ঘটে, যে দখল করে নিতে চায় সবকিছু।  ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় সেলডন প্ল্যান । মানব সভ্যতা কি ধ্বংস হয়ে যাবে? নাকি প্রথম ফাউন্ডেশন খুজে পাবে দ্বিতীয় ফাউন্ডেশনকে? সেকেন্ড ফাউন্ডেশন এর কাহিনীর এখান থেকে শুরু। 

বাংলাদেশ জেনোসাইড এ্যান্ড ওয়ার্ল্ড প্রেস

Bangladesh-Genocide-And-Worফজলুল কাদের কাদেরীর এই বইটিকে শুধু একটি বই হিসাবে দেখলে ভুল হবে। এটি বাংলাদেশ নামের দেশটির জন্ম নেওয়ার ইতিহাস। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের গবেষনাধর্মী একটি দলিল। এই বইয়ের একটি পৃষ্ঠাকেও অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১ বছরের মাথায় এই বইটি প্রকাশ করে ফজলুল কাদের কাদেরী অসাধ্য সাধন করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা এটিই সম্ভবত প্রথম বই। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হওয়া বইটি এখনও খুবই জনপ্রিয়। সঠিক ভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশ জেনোসাইড এ্যান্ড ওয়ার্ল্ড প্রেস বইটি পড়া উচিত সকলের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বইটি পড়ে এতটাই আবেগ আপ্লুত হয়েছিলেন যে, ফজলুল কাদেরকে সামনে ডেকে বলেছিলেন বইটি আরো বেশি সংখ্যা প্রকাশ করার জন্য। বাংলাদেশের সব মানুষ যাতে বইটি পড়তে পারে। ১৯৭১ সালে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসররা যে গনহত্যা চালিয়েছিল সে খবর বাইরের পৃথিবীর মানুষ জানতে পেরেছিল পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে। অনেক দেশের সাংবাদিক তখন কাজ করছিল বাংলাদেশে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, ছবি তুলেছেন। বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি পাঠিয়েছেন তাদের পত্রিকায়। বিশ্ববাসি একারনেই এত দ্রুত জানতে পারে বাংলাদেশের উপর পাক বাহিনীর নির্মমতার কথা। ৯ মাসের যুদ্ধে গঢ়ে প্রতিদিন পাক বাহিনী ১১১১ জনকে হত্যা করে। যে সংবাদগুলো বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল এবং পাশাপাশি যে ছবিগুলো বাইরের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে ছিল সেগুলো সব সংগ্রহ করে লেখক তার এই বইটিতে দিয়েছেন পাঠকদের জানার জন্য। ১৯৭২ সালে এখনকার মত তথ্য আদান-প্রদান করা এত সহজ ছিল না। লেখককে অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে পেপার কাটিং ও অন্য প্রমানাদি যোগার করতে। বইটির জন্য লেখককে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়। বাংলাদেশ জেনোসাইড এ্যান্ড ওয়ার্ল্ড প্রেস বইটি আমাদের সবার পড়া দরকার।

বাংলাদেশের প্রথম রিভিউ ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

বাংলাদেশের প্রথম রিভিউ ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম! পৃথিবীতে অনেক বিখ্যাত রিভিউ ওয়েবসাইট আছে। তবে তার প্রায় সব ক’টাই ইংরেজিতে। বইয়ের রিভিউর জন্য আছে গুডরিডস, হোটেল কিংবা রিসোর্টের রিভিউর জন্য আছে ট্রিপ এডভাইসার, আর ফিল্মস বা মুভিসের জন্য আছে আইএমডিবি। সব ক’টিই কিন্তু ইংরেজিতে! যদিও কোন কোন ওয়েবসাইটে চাইলে আপনি বাংলা লিখতে পারবেন। কিন্তু ওয়েবসাইটগুলো বিদেশীদের তৈরি মূলত ভিন্ন ভাষার ওয়েবসাইট।

আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলায় একটা রিভিউ ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা আমরা সবাই অনুভব করছিলাম বেশ ক’বছর ধরেই। আমাদের এই যে বিশাল সাহিত্য ভাণ্ডার তার জন্য একটা বাংলা রিভিউ ওয়েবসাইট থাকবে না? আমাদের গান, চিত্রকলা, নাটক, কিংবা চলচ্চিত্রের জন্য? তাই কি হয় নাকি? এই ওয়েবসাইটটি আমাদের সংগ্রামের হাতিয়ার।

বিডিরিভিউস-এর সাথেই থাকুন।

পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা

২৭ নভেম্বর, ২০১৪ থেকে তৃতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনের ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ’।  এই উৎসবে আরো যোগ দেবেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। পরপর ৩ বছর এমন চমৎকার একটি আয়োজনের জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশান-কে bdreviews24.com এর পক্ষ থেকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই অসাধারণ উৎসবকে সামনে রেখে bdreviews24.com উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। আজ থাকছে পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। পর্যায়ক্রমে সকল শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

পণ্ডিত শিবকুমার শর্মাকিছু কিছু মানুষ আছেন যারা বাস্তবতাকে আমূল পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন, যাদের দৃঢ়চেতা অধ্যবসায়ের কাছে নত হয়ে ভাগ্য নিজেকেই পুনর্লিখনে বাধ্য হয়, যাদের প্রতিভার সাক্ষর থেকে যায় পরবর্তী হাজার বছর।  পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা তেমনই একজন মানুষ! যদি বলি সঙ্গীত জগতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তবুও তাঁর অর্জনকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয় না।

ইতিহাসে কয়জন শিল্পিই বা একক প্রচেষ্টায় প্রায় অচেনা একটি বাদ্যযন্ত্রকে সাধারণের কেছে পরিচিত ও যেকোন অনুষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য করে তুলতে পেরেছেন? অনেক সময়ই শিল্পি ও তাঁর বাদ্যযন্ত্র সমার্থক হয়ে ওঠে। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই কোন একটি বাদ্যযন্ত্র তার শিল্পির পরিচয়ে পরিচিত হয়!

সন্তুর, যা এক সময় শুধুমাত্র কাশ্মীর অঞ্চলে সূফী শিল্পীগণ ব্যবহার করতেন, তা  পণ্ডিত  শিবকুমার শর্মার হাত ধরে  শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রের মর্যাদা লাভ করে। গত শতকের গোরার দিকে সন্তুর, পুরাণে যাকে শততন্ত্রী বীণা নামে অবিহিত করা হয়েছে, তা শুধুমাত্র সুফিয়ানা মওসিকি নামে এক বিশেষ ধরনের গায়কিতে ব্যবহৃত হতো।  জম্বুর বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী পণ্ডিত উমা দত্ত শর্মা যখন এ বাদ্যযন্ত্রটি প্রথম দেখতে পান তখনই তিনি এর সম্ভাবনা বুঝতে পারেন এবং সাধারণের কাছে একে পরিচিত করার একটি তাগিদ অনুভব করেন। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি নিজ পুত্র শিবকুমারের হাতে বাদ্যযন্ত্রটি তুলে দেন। এরপর বাকিটা তো ইতিহাস!