দেশে বিদেশে

Deshe-bidesheদেশে বিদেশে বইটি আমার খুব প্রিয় একটি বই।বইটি মূলত ভ্রমন কাহিনী।সৈয়দ মুজতবা আলী একজন অসাধারণ প্রতিভাধর রম্য রচয়িতা।সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখার সাথে যাদের পরিচয় আছে তারা সবাই জানে রম্য রচনায়  তিনি কতটা পারদর্শি।পাঠকদের মনের ভিতরে তিনি সহজেই জায়গা করে নিতে পারেন,কারন ভাষাকে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সৈয়দ মুজতবা আলী খুব ভাল করে জানেন।সহজ কথায় তার বর্ননার প্যাটারণটি অসাধারন।অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়েছিল দেশে বিদেশে বইটি পড়ে।জায়গায় জায়গায় অনেক হেসেছি।বিভিন্ন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মধ্যে দিয়ে হাস্যরসের মাধ্যমে সাহিত্য-রসটা পাঠকদের মনের ভিতর ঠিকই গেঁথে দেন সৈয়দ মুজতবা আলী।দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলীর সর্বাধিক পরিচিত বই।অনেকগুলো চরিত্র নিয়ে লেখা হয়েছে বইটি।এক একটি চরিত্র এক একেক রকমের।নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র।তাদের মধ্যে উল্লেখ করার মত হলো সর্দারজী,দোস্ত মুহম্মদ,কাবুলের আবদুর রহমান।বইটি আমি যখন পড়ছি তখন সবগুলো চরিত্রকে একদম জীবন্ত মনে হয়েছে।আমার মনে হয় বাস্তব জীবনেও সৈয়দ মুজতবা আলী প্রচন্ড রশিক ছিলেন।এই বইয়ের একটি চরিত্রের কথা আমি কখনও ভুলতে পারবো না।সেটা হলো কাবুলের সহজ-সরল আবদুর রহমান নামের মানুষটি।তাকে আলাদা ভাবে মনে রাখতে বাধ্য করেছেন লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী।ভিনদেশি আবদুর রহমানের ভালবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে।আফগানরা এমনিতেই খুব আবেগপ্রবন হয় এবং যাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহন করে তার জন্য প্রান দিতেও প্রস্তুত থাকে।বইটিতে এমনই একজন আফগানকে পাওয়া যায়।লেখকের বিদায়-মুহূর্তে লেখক আর আবদুর রহমান-দু’জনের মনের অবস্থা কেমন ছিল?আমার নিজেরই খুব খারাপ লাগছিল।মনে হচ্ছিল প্রিয় একজন মানুষকে ছেড়ে আসছি।তাদের বিষণ্ণতায় আমারও চোখ টলটল করছিল।

দিবারাত্রির কাব্য

diba-ratrir-kabyaদিবারাত্রির কাব্য মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক আলোচিত একটি উপন্যাস।আলোচিত বলছি কারন উপন্যাসটি সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেছেন “এটি গল্পও নয় উপন্যাসও নয়,এটি রুপকের আরেক রুপ ।” উপন্যাসটি পড়ে আমার মনে হয়েছে বইটি একটি কাব্যধর্মী প্রেমের উপন্যাস।যার মূল বিষয় প্রেম।এ জীবনে প্রেমের উপন্যাস অনেক পড়েছি।কিন্তু দিবারাত্রির কাব্য এই বইটির মত প্রেমের উপন্যাস আর পড়িনি।মানে এটি কোন সাধারণ প্রেমের কাহিনী নয়।উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হেরম্ভ।হেরম্ভকে আমার স্বাভাবিক মানুষ বলে মনে হয়নি।সবার সাথে থেকেও সে বাস করে সম্পূর্ন আলাদ জগতে।হেরম্ভের জীবনের আসে তিনটি প্রেম উমা,সুপ্রিয়া এবং আনন্দ।সে ভালবাসে কিন্তু প্রমিকাকে চায় না।নিজের প্রেমিকা সুপ্রিয়াকে সে নিজে বিয়ে দেয় অন্য জনের সাথে।হেরম্ভের আত্ন বিশ্লেষন গুলো কেমন যেন মনকে দ্বিধায় ফেলে দেয়।হেরম্ভ আসলে কি চায় প্রশ্ন জাগে।মানুষের সম্পর্ককে সে কেবল বিশ্লেষন করে।তার জীবনের সবকিছু ভেঙ্গে-চুড়ে দেয় আনন্দ নামের একটি মেয়ে।সত্যিকারের প্রেম আসে হেরম্ভের জীবনে।অন্য ভুবনের মানুষ হেরম্ভ  আনন্দের প্রেমে ভেসে যায়।যে জীবনে প্রতিটি মুহর্তকে বিশ্লেষন করে চলতো,তার সব আত্যবিশ্লেষন সে ভুলে যেতে বাধ্য হয়।হেরম্ভ নেমে আসে বাস্তব দুনিয়ায়।

দেয়াল-হুমায়ূন আহমেদ

Deyalহুমায়ূন আহমেদকে আমার অসম্ভব ভাগ্যবান একজন লেখক বলে মনে হয়।তার লেখা প্রথম উপন্যাস থেকে শেষ উপন্যাস পর্যন্ত সবগুলো বই পাঠক গ্রহন করেছে অত্যান্ত আনন্দের সাথে।প্রতিটি উপন্যাসই কম-বেশি পাঠক জনকপ্রিয়তা পেয়েছে।যে কয়টি প্রেমের উপন্যাস আমি পড়েছি সবগুলোই ভাল লেগেছে।ভালবাসার প্রকাশ যে কত ধরনের হতে পারে তা শুধু হুমায়ূন আহমেদ পড়লেই জানা যায়।বাংলা সাহিত্যে অসাধারন কিছু চরিত্র তিনি সৃষ্ঠি করে গেছেন।ব্যতিক্রমধর্মি লেখার জন্য তিনি অন্য সবার চেয়ে আলাদা।দেয়াল বইটি পড়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছিল আদালতের হস্তক্ষেপের জন্য।মানে বইটিতে কি এমন আছে যাতে আদালত পর্যন্ত যেতে হলো এটাই আগ্রহের কারন।বইটি পড়ে আমি স্তম্ভিত,আমি বাকরুদ্ধ।এ কোন হুমায়ূন ?বইটি সত্যি তার লেখা তো?জীবনের শেষ বেলায় এসে কিভাবে এত চমৎকার একিট রাজনৈতিক উপন্যাস লিখলেন তিনি!দেয়াল বইটি শুধু মাত্র একটি উপন্যাসই নয়,বইটি বাংলাদেশের ইতিহাসও বলা যায়।উপন্যাসের পটভূমি ১৯৭৫ সালে ঘটে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য রাজনৈতিক ঘটনা।মানে স্বধীনতার পরের কয়েকটি বছরের কথা।আমি বইটির মুল বিষয় নিয়ে কিছু লিখবো না।কারন বইটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।বইটি নিয়ে অনেকের অনেক রকম মত থাকবে।শুধু বলবো বইটি পড়ে দেখতে।অন্য এক হুমায়ূন আহমেদকে আবিষ্কার করার জন্য।

সাতকাহন

Saatkahonউপন্যাসটি মূলত নারী কেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।সমাজের অনেক নিচু স্থান থেকে একা একজন মেয়ের উপরে উঠে আসার গল্প।পৃথিবীতে কেউ কাউকে ঠেকাতে পারেনা।যদি তার লক্ষ্য ঠিক থাকে,যদি সে কঠোর পরিশ্রমি হয়।আমাদের সমাজে একটি মেয়ের অবস্থান কোথায় তারই কিছু বাস্তব চিত্র এই উপন্যাস দেখিয়েছেন সমরেশ মজুমদার।মূল চরিত্রে দেখানো হয়েছ দীপাবলী নামের একটি সাহসী মেয়েকে।কিন্তু দীপাবলী ছাড়াও আরো অনেকগুলো নারী চরিত্র এসেছে উপন্যাসটিতে।আমার মনে হয়েছে দীপাবলীর দাদি মনোরমা সেকালে মানুষ হয়েও অনেকের চেয়ে আধুনিক।চা-বাগানকে ঘিড়ে যাদের জীবিকা,তাদের জীবন কেমন হয় তার চমৎকার বর্ননা পাওয়া যায় বইটিতে।বর্ননাগুলো এতই নিখুদ ছিল যে,পড়ার সময় আমি চা-বাগানে ঝিরঝর করে বৃষ্টি পরার ছবি দেখতে পেয়েছি।পঞ্চাশের দশকে ভারতে এমন আনেক জায়গা ছিল যেখানে তখনও কারেন্ট পৌছায়নি।এই উপন্যাসের চা-বাগানটিও সেধরনের একটি জায়গা।দীপাবলীর উপরে উঠার প্রথম ধাপটি শুরু হয় এই চা-বাগান থেকেই।সাহস আর একাগ্রতার জোরেই অতীততে সবকিছু ভুলে শুরু করতে পেরেছিল নতুন জীবন।নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করেছিল পড়াশুনার মাধ্যমে।কাছের মানুষরা লোভে ভয়ন্কর দানব হয়ে উঠেও দীপাকে থামাতে পারেনি।তখন দীপা বুঝতে পারে সে আসলে অনেকের মাঝে থেকেও ভীষন একা।দীপাবলীকে আমার মনে হয়েছে ইস্পাতের তৈরি কারন তার ছোট জীবনে এতকিছু ঘটার পরেও সে ভেঙ্গে পড়েনি।কাছের মানুষ বলতে কেউই ছিলোনা দীপার,তার চোখের জল মুছে দেওয়ার মত অথবা সান্তনা দেওয়ার কেউ ছিল না।কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়নি দীপার দিকে।সুযোগ ছিলো অনেক,চাইলেই তা হাত বাড়িয়ে নিতে পারতো দীপা।কিন্তু তা সে করেনি।সাধারনের মাঝেই দীপা অসাধারন।যার জীবনে এসে মিশেছে নানা নাটকীয়তা,আর এসব নাটকীয়তাকে ছাপিয়েই যার জীবন এগিয়ে গেছে। চরিত্রটি নিজ স্বকীয়তায় পরিপুর্ন।লোভ, ঘৃনা,প্রেম, রিপুর তাড়না,বাচার ইচ্ছে,উচ্চাকাংক্ষা সব মিলিয়ে সমরেশ মজুমদারের সাতকাহনের দীপাবলী।দুই খন্ডের বিশিল উপন্যাসটি পড়তে পাঠকদের কখনওই একঘেয়েমি লাগবেনা।

দেবী

Debiহুমায়ূন আহমেদের এই বইটি পড়েছিলাম রাতের বেলা।সত্যি বলতেকি তখন মাত্র কলেজ জীবন শুরু করেছি।নিজেকে অনেক বড় ভাবতে এবং কোন কিছু পরোয়া করিনা এমন একটি ভাব।বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে দেবী বইটি রাতের বেলা পড়া শুরু করেছিলাম।পরের লজ্জার কথা গোপনই থাক।বইটি আবার পড়ি প্রায় বার-তের বছর পর।হুমায়ূন আহমেদ ভৌতিক যে কোন বিষয় এবং রহস্য দারুন পছন্দ করতেন।নূহাশ-পল্লীতে মাঝে মাঝেই ভৌতিক আবহ সৃষ্টি করে মানুষ জনকে চমকে দিতেন তিনি।তার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ভৌতিক ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি তার কিছু লেখার মাধ্যমে।আসলে বলতে গেলে হুমায়ূন আহমেদ নিজেই রহস্যময় চরিত্র।তার অনেক বইয়ের শেষ হয়েছে রহস্য নাভেঙ্গে।পাঠকদের দিয়েছেন সেই রহস্য ভাঙ্গার দায়িত্ব।দেবী বইটিও শেষ পৃষ্ঠাতেও রহস্য রেখেই শেষ করেছেন।হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ঠ চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম চরিত্র মিসির আলীর সাথে এই বইয়ের মাধ্যমে পাঠকদের পরিচয়।দেবী আলী সিরিজের প্রথম বই।মিসির আলী চরিত্রটি আসাধারন।হিউম্যান সাইকোলোজি উপর তার বিস্তর পড়া-লেখা আছে।লজিকের বাইড়ে একচুলও বিশ্বাস করেন না। অতিপ্রাকৃতিক বিষয়ের প্রতি আছে তার প্রচন্ড আগ্রহ।কাহিনীটি ষোল-সতের বছরর নতুন বিয়ে হওয়া রানু নামের একটি কিশোরী মেয়েকে ঘিড়ে।রানু কিছু কিছু ঘটনা আগেই জানতে পারে,মানে ভবিষ্যাৎ দেখতে পায়।রানুর সমস্যাটি সমাধানের জন্যই মিসির আলীর সাহায্য চায় রানুর স্বামী আনিস।

লা মিজারেবল

Les-Misérablesভিক্টর হুগো লা মিজারেবল বইটির অনুবাদ পড়েছি।অনুবাদক সেবা প্রকাশনীর ইফতেখার আমিন।ভিক্টর হুগোর মত উপন্যাসিকের বই অনুবাদ করতে যে প্রতিভা এবং দক্ষতা প্রয়োজন তার সবটুকু ইফতেখার আমিনের আছে।বইটির অনুবাদ পড়লে তা বুঝা যায়।অত্যান্ত সতর্কতার সাথে অনুবাদের কাজটি করেছেন ইফতেখার।বিশ্ব সাহিত্যে হুগোকে বলা হয় প্রতিভাদের প্রতিভা।বিশ্বসাহিত্যের পাঠকদের কাছে তার লেখা অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।লা মিজারেবল তার লেখাগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং ঐতিহাসিক সৃষ্টি।আমার পড়া হুগোর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস লা মিজারেবল।ফরাসি বিপ্লব সম্পর্কে অল্প পরিসরে জানা ছিল অনান্য লেখকদের লেখা পড়ার কারনে।লা মিজারেবল বইটিও লেখা হয়েছে ফরাসী বিপ্লবের পটভূমিকায়।তাই আরো বেশি ভাল লেগেছে।হুগো বইটিতে লিখেছেন  তখনের ফ্রান্সের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি এবং ফরাসী সমাজের ভালো-মন্দ,দর্শণ,ধর্ম সহ বিভিন্ন বিষয়।জাঁ ভালজাঁ এই উপন্যাসর মূল চরিত্র।সামান্য চুরির কারনে  ১৯ বছর কারাদন্ড হয় তার।জেল থেকে ভালজাঁ বের হয় সমাজের প্রতি প্রচন্ড ঘৃনা নিয়ে।সে আবার চুরি করে এবং ধরা পরে কিন্তু এবারের চুরি তাকে পাল্টে দেয়।একজন পাদ্রীর মহানুভবতায় সে সম্পূর্ন বদলে যায়।তার নতুন নাম হয় ম্যাদেলীন।জাঁ ভালজাঁ  সাথে ম্যাদেলীন অনেক পার্থক্য।ম্যাদেলীন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করে।ব্যবসায় সাফল্যের পাশাপাশি সে শহরের মেয়র হয়।কিন্তু উপন্যাসটির নাম যে লা মিজারেবল,এই ফরাসি শব্দটির মানে হল মন্দ ভাগ্য।বেশি দিন ভাল থাকতে পারেনা ভালজাঁ।শুরু হয় উপন্যাসের মূল পর্ব।প্রকাশের পরই এটি প্রচন্ড সাড়া ফেলে ফরাসী সাহিত্যে।

দ্য সাইলেন্স অব দি ল্যাম্বস্

THE-SILENCE-OF-THE-LYAMBASAথমাস হ্যারিসের রেড ড্রাগন বইটি পড়ে অপেক্ষায় ছিলাম কখন দ্য সাইলেন্স অব দি ল্যাম্বস্ বইটি পড়বো তার জন্য।সময় নিচ্ছিলাম কারন রেড ড্রাগন বইটির মজা যাতে নষ্ট নাহয়।আর একটি কারনও ছিল একসাথে টমাস হ্যারিসের দুটো বই আমার এই ভোতা মাথাটি নিতে পারবে কিনা?তা নিয়েও সন্ধেহ ছিল।বইটি পড়ে আবারও আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি থমাস হ্যারিসকে সাইকোলজিকাল থ্রিলারের রাজা বললে ভুল বলা হবে না।এই বইটিও মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন অনুবাদ করেছেন মূল বইটির ভাব নষ্ট না করে।এক কথায় অপূর্ব।রেড ড্রাগনের মত দ্য সাইলেন্স অব দি ল্যাম্বস্ও সিরিয়াল কিলারের কাহিনী।আমার মনে হয় এই বইটি আরো ভয়ন্কর।হঠাৎ করে আবার খুন হয়ে যাচ্ছে মানুষ।ছুড়ি দিয়ে যেন কাটা-কুটি খেলেছে শরীরগুলোর উপর।এগুলো কার কাজ?কিসের ইঙ্গিত?সিরিয়াল কিলারের?লাশগুলোর একটি জায়গা খুব মিল,সবগুলো লাশকেই এমন ভাবে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে যে আর চেনার উপায় নেই।খুনগুলো করা হয়েছে বীভৎস ভাবে।এফবিআই বুঝতে পারে আবার আবির্ভাব হয়েছে নতুন এক সিরিয়াল কিলারের।যার খুন করার একটি পেটান আছে।এই কিলারের নাম দেয়া হল বাফেলো বিল।এফবিআইয়ের তুখোর গোয়েন্দা উইল গ্রাহামের সময় কাটে মাতাল হয়ে।হাতের কাছে কাউকে না পেয়ে জ্যাক ক্রফর্ড কেইসটির দায়িত্ব দেয় শিক্ষানবিশ ক্লারিস স্টার্লিংকে।ক্লারিস এই সিরিয়াল কিলারকে ধরার জন্য সাহায্য চায় জেলখানায় সাজা ভোগকারি আরেক সিরিয়াল কিলার ডঃ হ্যানিবাল লেকটারের কাছে।যাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিরিয়াল কিলার।শিক্ষানবিশ ক্লারিস স্টার্লিং কি তার প্রথম মিশন শেষ করতে পেরেছিল?ডঃ হ্যানিবাল তাকে কতটুকু সাহায্য করেছিল?জানতে হলে বইটি পড়তে হবে।

 

পরিণীতা

Parinitaশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (সেপ্টেম্বর ১৫, ১৮৭৬-জানুয়ারি ১৬, ১৯৩৮) জনপ্রিয়তম বাঙালি কথাসাহিত্যিক। পরিণীতা মূলত একটি নিরন্তর প্রেম কাহিনী। এক ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ললিতা এবং ২৪ বছর বয়সী যুবক শেখর এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। শেখর ও ললিতা ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয় এবং একসময় তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। কিন্তু শেখর ছিল এক আত্মম্ভরি,অহংবাদী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাবার সন্তান। শেখরের বাবা এ সম্পর্ক গ্রহণ করেনা, অন্যদিকে গিরিনের আগমন ঘটে ললিতার জীবনে। শেখর আর ললিতার সম্পর্কের টানাপোড়ন শুরু হয়। ললিতা নিঃশর্তভাবে অপেক্ষা করে শেখরের কিন্তু শেখর তার পিতার মৃত্যুর পর ললিতা কে স্বীকার করতে পারে। মহান কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কলকাতার পটভূমিতে। উপন্যাসটির প্রতিটি চরিত্র, আবেগ খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে।

মেঘ বলেছে যাব যাব

megh-bolsa-jabo-jaboমেঘ বলেছে যাব যাব উপন্যাসটি মূলত মধ্যবিত্ত জীবনের উপর লেখা। এই জীবনঘনিষ্ঠ সামাজিক উপন্যাসটিতে লেখক তুলে ধরেছেন মধবিত্তের স্বপ্ন, চাওয়া-পাওয়া, ভালবাসা, ব্যর্থতা, সুখ দুখ কষ্ট। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হাসান এই বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র যার আশেপাশের চেনা মানুষদের জীবন কাহিনীই, আর প্রতিটি ঘটনায় হাসানের সম্পৃক্ততা চিত্রিত হয়েছে এই উপন্যাসটিতে। অন্যভাবে ভাবলে হাসানের কাহিনীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে একেকটা ঘটনা। অন্য এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তিতলির সাথে বেকার যুবক হাসানের ব্যর্থ প্রেমের গল্প, তিতলির সাথে তার মা সুরাইয়া ও বোন নাবিলার সম্পর্ক, তিতলির বাবার সাথে তার কন্যাদের সম্পর্ক, হাসানের সাথে তার ভাবি রিনার সম্পর্ক, হাসানের মার সাথে হাসানের বাবার সম্পর্ক, তারেকের সাথে তার স্ত্রী রিনার সম্পর্ক, তারেকের সাথে তার কলিগ লাবণীর অবৈধ সম্পর্ক, মূলত মধ্যবিত্তের জীবনে যতধরণের সম্পর্কের দেখা যায়, তার সবই উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। একসময় তিতলির বিয়ে হয় বিত্তশালী এক ছেলের সাথে, অন্যদিকে এক সাধারন মধ্যবিত্ত যুবকের মতো হাসান এর মৃত্যু হয়। হুমায়ূন আহমেদ খুব চমৎকার ভাবে মানুষের জীবন, মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক ও বাস্তবতাকে তুলে এনেছেন সহজভাবে, নাটকীয়তা ছাড়াই।

গল্পগুচ্ছ

Golpo-gucchoরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ই মে, ১৮৬১ – ৭ই আগস্ট, ১৯৪১) (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প”গল্পগুচ্ছ”  সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম যেমন বিশ্বসাহিত্যে উজ্জ্বল, তেমনই উজ্জ্বল তাঁর ছোটগল্পের সংকলন “গল্পগুচ্ছ” । বইটির প্রতিটি গল্প জীবনঘনিষ্ঠ, প্রতিটি চরিত্র যেন আমাদের চারপাশের চরিত্রগুলোর প্রতিচ্ছবি। ‘পরিণীতা’, ‘পোস্টমাস্টার’, ‘ছুটি’, ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘ইচ্ছাপূরণ’, ‘এক রাত্রি’ গল্পগুলো যতবার পরি ততবার আবেগাপ্লুত হই। প্রতিটি চরিত্র, আবেগ অনুভুতি হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বাংলা সাহিত্যের পাঠক রবীন্দ্রনাথের লেখার সাথে পরিচিত তবে অনেকেই আছেন যারা ছোট গল্পের প্রতি আকৃষ্ট নন। কিন্তু এ শ্রেণীর পাঠকরাও যদি রবীন্দ্রনাথের “গল্পগুচ্ছ” পড়েন, নিঃসন্দেহে আনন্দ পাবেন।