এন্ড দেন দেয়ার ওয়ার নানঃ অগাথা ক্রিস্টি

and then there was none book ১০ জন মানুষ! যাদের প্রত্যেকেরই কোন না কোন রহস্য আছে লুকিয়ে রাখার মতো! এবং তারা সবাই সেই রহস্যের কারণে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে এক নিঃসঙ্গ ইন্ডিয়ান দ্বীপে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু যিনি আমন্ত্রণ জানান, তিনি নিজেই কখনো সামনে আসেন না। কিন্তু তাদের সবার জন্যই তিনি বার্তা পাঠিয়ে দেন, তারা কে কিভাবে খুন করেছে এবং পরবর্তীতে তাদের কি করা উচিৎ! কিন্তু রহস্যময় ব্যাপার হল, তার নির্দেশ অমান্য করার সাথে সাথে তাদের একেক জনের মৃত্যু হতে শুরু করে!  তাও আবার ছেলেবেলায় পড়া এক শিশুতোষ ছড়ার সাথে মিল রেখে!

রেড স্ট্রম রাইজিং

red-strom-risingরেড স্ট্রম রাইজিং মুলতঃ ন্যাটো আর সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বৈরথের গল্পও। সত্যিকারের যুদ্ধ কেমন হয় তার একটা ধারনা বইটিতে দেয়া হয়েছে। কোল্ড ওয়ারের পটভূমিতে লেখা বইটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতই একটি বই। ‘আল্লাহ’! এই স্লোগান দিতে দিতে তিনজন মুসলিম দুর্বৃত্ত তেলের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করার জন্য সোভিয়েত তেল কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য শুরু হয় অভিযান। কিন্তু তাদেরকে ধরা খুব একটা সহজ হয়না। কিন্তু জনগনকে বিভ্রান্ত করার জন্য কে জি বি এবং ন্যটো বাহিনী তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে তাদের উভয়েরই অপূরণীয় ক্ষতি হয়, সাথে সাথে তারা যে পরিকল্পনামাফিক এগিয়েছিল, সেটিও পুরোপুরি ভেস্তে যায়।

 

প্রেইঃ মিশেল ক্রিচটন

prei bookনেভাডা মরুভুমিতে এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলতে থাকে। কিন্ত হটাৎ করে এক বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যায় এই গবেষণায়। এই গবেষণার মূল উপজীব্য একটি ক্ষুদ্র রোবট হটাৎ করেই গবেষণাগার থেকে পালিয়ে যায়। এটি নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, বুদ্ধিমান এবং আশেপাশের অবস্থা থেকে ধারণা নিয়ে সহজেই কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু এটির বিশেষত্ব ছিল এটি তার সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা ও বিচার বিবেচনার মাধ্যমে অনেক সময় ভবিষ্যৎ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো। কিন্তু যতই সময় গড়াতে থাকে, এটি ততোই ভয়ানক হয়ে উঠতে থাকে আরও। কিন্তু অবশেষে দেখা যায় এর সবরকম ধ্বংসযজ্ঞই ব্যর্থ হয় একসময়।

দ্য কারডিনাল অব দ্য ক্রেমলিনঃটম ক্লেন্সি

the cardial of the book২জন ব্যক্তির কাছে রাশিয়ার স্টার ওয়ার প্রতিরোধক সিস্টেমের সমগ্র তথ্য উপাত্ত থাকে। এদের একজন হল কার্ডিনাল, যে কিনা আমেরিকার সর্বোচ্চ সংস্থা ক্রেমলিনের এজেন্ট থাকে। কিন্তু তাকে এই সংস্থা থেকে বের করে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়। কিন্তু সমগ্র দুনিয়ায় মাত্র একজন ব্যক্তিই তাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে! কিন্তু সে কে? এমনি এক শ্বাসরুদ্ধকর, লোমহর্ষক উত্তেজনা নিয়ে টম ক্লেন্সি রচনা করেছেন তার কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য কারডিনাল অব দ্য ক্রেমলিন’

আন্ডার দ্য ডোমঃ স্টিফেন কিং

Under The Dome bookএক সুন্দর শরতের সকালে একটি সুন্দর শহর হটাৎ করেই যেন বন্ধ ঘোষণা করে দেওয়া হয়। সমগ্র দুনিয়ার সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয় এই শহরটির। প্লেন ক্র্যাশ করে, সমস্ত শহর বিষাক্ত হয়ে হয়ে পড়ে। শহরবাসী ছুটোছুটি করতে থাকে নিজেদের এবং তাদের পরিবারকে বাঁচানোর জন্য। তারা কি পারবে এই ভয়ানক দুর্যোগ হতে রক্ষা পেতে?

কিন্তু নগরের মূল ফটক আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকজন নাগরিক আটকা পড়ে এই নিষিদ্ধ শহরের ভিতর। এর মধ্যে  রয়েছে ডেল বারবেরা- একজন বাবুর্চি,  এক পত্রিকার মালিক জুলিয়া স্যামুয়ে, একজন চিকিৎসাবিদ এবং ৩ জন সাহসী শিশু। তারা কি পারবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের তথা সমগ্র শহরকে এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে?

ডার্কলি ড্রিমিং ডেক্সটারঃজেফ লিন্ডসে

darkly-dreamingডেক্সটার মরগ্যান। দুর্বল মেষশাবকের ছদ্মবেশে যেন এক ধূর্ত নেকড়ে সে! দেখতে অত্যন্ত সুদর্শন এবং বুদ্ধিমান সে। কিন্তু তার অতীতই তাকে অন্যসব থেকে আলাদা করে রেখেছে। সে আদতে একজন সিরিয়াল কিলার। কিন্তু সে তার নিজের খেয়াল খুশিমত চলে। তবে সে শুধু খারাপ লোকদেরই খুন করে, যা তার নিজস্ব নিয়মের মধ্যে পরে। একসময় সে মিয়ামি পুলিশ বিভাগে চাকরি পায়। এতে তার সুবিধাই হয় কারণ সে তার শিকারদের সহজেই খুঁজে পায়।  কিন্তু যখন একইরকম  খুন করার পদ্ধতি দেখে সবাই বুঝতে পারে যে খুনি আসলে কে, তখন দোটানায় পড়ে যায় যে তার এখন কি করা উচিৎ?

ক্যারিঃ স্টিফেন কিং

carry book by stefen king‘ক্যারি’! এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে ছোট্ট মেয়ে ক্যারি হোয়াইট এর কাহিনীকে কেন্দ্র করে। হাইস্কুলে পরা আশ্চর্যজনক ক্ষমতাসম্পন্ন এক বিস্ময় বালিকা হল এই ক্যারি। তার থাকে সুপার টেলিপ্যাথিক ক্ষমতা। এই ক্ষমতা সে পায় তার অতি ধার্মিক মায়ের কাছ থেকে। সে চেষ্টা করে তার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু অনেক সময়ই সে পারে না। এভাবেই ঘটতে থাকে নানান ঘটনা। তবে তাদের স্কুলের এক অনুষ্ঠানে  ঘটে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ক্যারি কি পারবে তার ক্ষমতাকে মানিয়ে নিয়ে অন্য ১০টি সাধারণ মানুষের মতো সবার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে?

ট্রিপওয়্যারঃ লি চাইল্ড

trip war book by leeপ্রাক্তন এক সেনা কর্মকর্তা জ্যাক রিচার অবসর গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিকভাবে খুন হন। এরপর নিউইয়র্কে বসবাসরত তার কন্যা খুনের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য জেনারেল গারবার একজন সাবেক কমান্ডিং অফিসারকে ভাড়া করেন। এই রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে গারবার ভিয়েতনামে গিয়ে খোঁজ পান এক হাত হারানো হোবির দেখা, যার সাথে জ্যাক রিচারের অনেক দিন থেকেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরপর বেরিয়ে আসে আরও নানান ঘটনা। এভাবেই এগিয়ে যায় এই উপন্যাসের কাহিনী।

ক্যাসিনো রয়্যালঃ ল্যান ফ্লেমিং

casino royal bookল্যান ফ্লেমিং এর উপন্যাসগুলো সবসময় অনেক উত্তেজনাকর লোমহর্ষক হয়ে থাকে। তার উপন্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পরিচিত হল ‘ জেমস বন্ড’ সিরিজের থ্রিলার বইগুলো। ‘ক্যাসিনো রয়্যাল’ এই জেমস বন্ড সিরিজেরই একটি বই। এখানে যেমন রয়েছে অ্যাকশন,থ্রিলার, রহস্যে আভাস, তেমনিভাবে অন্যদিকে আছে এক প্রেম-ভালবাসার গল্পও। মোট কথা শ্বাসরুদ্ধকর রহস্য, অচিন্তনীয় উত্তেজনা, বিপদসঙ্কুলতা এই ‘ক্যাসিনো রয়্যাল’ কে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা।

মিউটিনি অন দ্য বাউন্টি

Mutiny on the bounty১৭৮৭ সালে সত্য ঘটনা নিয়ে লিখা মিউটিনি অন দ্য বাউন্টি।বাউন্টি নামের একটি বৃটিশ নৌজাহাজের নাবিকেদর বিদ্রোহের ইতিহাস।একটু চিন্তা করে দেখি নাবিকদের জিবন কেমন ছিল সেসময়।আমার মনে হয় প্রচন্ড কষ্টের।কারন তখন ছিল না এখনকার মত অত্যধুনিক প্রযুক্তি।তাই সে সময়ের নাবিকদের সাগরে থাকতে হতো মাসের পর মাস,বছরের পর বছর।যা মানসিক ভাবেও অনেক যন্ত্রনাদায়ক।তাই নাবিকদের কারও কারও আচরনে কঠোরতা,রুক্ষতা এবং ঘৃনা অত্যান্ত প্রবল ভাবে ফুটে উঠত।এইসব চরিত্রের নাবকদের শৃঙ্কলার মধ্যে রাখার জন্য তখনকার দিনর ক্যাপ্টেনদেরও হতে হত ভয়ন্কর কঠোর।বাউন্টি জাহাজের মিঃ ব্লাইও সেরকম একজন ক্যাপ্টেন।এমনই কঠোর যে বাউন্টির সবচেয়ে বেয়ার নাবিকও তার চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস পেত না।ক্যাপ্টেন ব্লাই এর অত্যাধিক নিয়মানুবর্তীতা বদমেজাজী স্বভাব কিছু ভুল সিদ্ধান্ত আর ছোটখাট দুর্নীতী নাবিকদের মাঝে অসন্তোষের বীজ বুনে দেয়।এবং তা একদিন বিষ্ফরিত হয়।এই বইয়ের প্রধান চরিত্র রজার বিয়্যাম।জাহাজে মিডশীপম্যান কাম ভাষাবিদ।একিদন সাকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে জাহাজের লেফটেন্যান্টে, ক্রিশ্চিয়ানের নের্ত্বেতে একদল নাবিক বিদ্রোহ করেছে।ক্যাপ্টেন ব্লাইকে বেঁধে রাখা হয়েছে।বিদ্রোহিদের কেউ বলছে তাকে সাগরে ফেলে দিতে,কেউ বলছে গুলি করে মারতে।কিন্তু বিদ্রোহিদের নেতা লেফটেন্যান্টে ক্রিশ্চিয়ান তাতে রাজি হয় না। বাউন্টি জাহাজের কাজ ছিল দক্ষিন সাগরীয় দ্বীপ তাহিতির থেকে রুটিফলের চারা সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংরেজ কলোনীতে পৌছে দেওয়া।তাহিতিতে ভালভাবেই পৌছে ছিল বাউন্টি।তাহিতি থেকে ফিড়ে আসার সময় বিদ্রোহ হয় জাহাজটিতে।

ক্যাপ্টেন ব্লাইকে ও তার সাথে যারা যেতে চায় তাদের ছোট একটি লঞ্চে করে মাঝ সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয় বিদ্রোহীরা।লঞ্চটির অবস্থা খুবই করুন ছিল।ক্রিশ্চিয়ানের কারনে বিদ্রোহীরা তাদের কিছু খাদ্য এবং পানি দিয়ে ছিল।সবকিছু উঠানোর পর লঞ্চটিেতে আর একটি পিন দেয়ারও জায়গা ছিল না।ভাগ্যদোষে বিদ্রোহীদের সাথে জড়িত না থেকেও বিয়্যামকে থেকে যেতে হয় বিদ্রোহীদের সাথে জাহাজে।এখানেই গল্পের ট্রেজিডি শুরু।বিদ্রোহীদের সাথে তাকেও আবার ফিড়ে যেতে হয় তাহাতি।একসময় এখানেই সে খুঁজে পায় তার প্রথম প্রেম,প্রথম ভালবাসা।বিয়ে করে এক তাহিতিয়ান মেয়েকে।বেশ কিছুদিন পর বিদ্রোহের সংবাদ পেয়ে বিদ্রোহীদের ধরতে বৃটিশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় বিয়্যামসহ কয়েক নাবিককে।বিয়্যাম ভেবে ছিল যদি কোনদিন বৃটিশ নৌবাহিনী তাদেরকে ধরতে আসে,তাহলে সহজেই সে প্রমান করতে পারবে বিদ্রোহে সে জড়িত ছিল না।কিন্তু তার ধারনা ভুল ছিল।স্ত্রী ও মেয়েকে রেখে তকে চলে যেতে হয় সুদূর বৃট্রেনে।প্রায় ১৬ বছর পর নির্দোষ প্রমানিত হয়ে ফিড়ে আসে তাহিতিতে।এবং জানতে পারে তার ভালবাসার মানুষটিকে আর কখন দেখতে পাবে না।এক সময় যে জায়গায় তার বাড়ি ছিল,সেখানে দাড়িয়ে দেখেত পেল সোনালী চুলের নীল নয়ণা একটি মেয়ে বাচ্চা কোলে নিয়ে যাচ্ছে।কেউ বলে না দিলেও সে বুঝতে পারত এটাই তার মেয়ে।খুব কষ্ট লেগেছে শেষে লাইনটি।সেবা প্রকাশনী এবং নিয়াজ মোরশেদ এর কাছে কৃজ্তজ্ঞ বইটি বাংলা অনুবাদ করার জন্য।