ট্রেজার আইল্যান্ড

Treasure Islandগুপ্তধন নিয়ে সবার আগ্রহ আছে এবং এখনও পৃথিবীতে গুপ্তধন খোঁজা হয়। রবার্ট লুই স্টিভেন্সন ট্রেজার আইল্যান্ড উপন্যাসটি লিখেছেন জলদস্যূ গুপ্তধন নিয়ে । বইটি পৃথিবীর সেরা কিশোর উপন্যাসগুলোর একটি। বিভিন্ন ভাষায় উপন্যাসটি অনুবাদ হয়েছে। ট্রেজার আইল্যান্ড উপন্যাসটি জন্য রবার্ট লুই স্টিভেন্সন বিখ্যাত হয়ে যান। জিম হকিন্স গল্পের মূল চরিত্রগুলোর একটি। এক নাবিকে দিয়ে গল্পের শুরু। বিশাল এক সিন্দুক নিয়ে সে হাজির হয় হকিন্সদের সরাইখানায় এবং থাকতে শুরু করে। তার আচার আচরন ছিল খুবই রহস্যময়।যে নিজেকে ক্যাপ্টেন বলে পরিচয় দিত। লোকটি হঠাৎ মারা গেলে তার সিন্দুক থেকে হাতে আঁকা একটি মানচিত্র পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়েছে গুপ্তধনের কথা।

তারপর শুরু হয় মূল কাহিনী। রবার্ট লুই স্টিভেন্সন চমৎকার ভাবে বর্ননা দেন দুঃসাহসিক অভিযানের।জিম,ডাক্তার লিভজি,মিঃ ট্রলনি আর রেডরুথ এবং আরো কয়েক জন হিসপানিওলা নামক একটি জাহাজে করে সমুদ্রযাত্রা শুরু করে, গুপ্তধনের খোঁজে। তাদের সাথ বাবুর্চির কাজে যোগ দেয় এক পা নেই লং জন সিলভার। তার আসল পরিচয় তখনও কেউ জানে না। তার একটি পোষা টিয়ে পাখি ছিল। পাখিটিকে সে ক্যাপ্টেন ফ্লিন্ট বলে ডাকতো।ঘটনাচক্রে আপেলের পিপের ভেতর বসে জিম শুনে ফেলে জন সিলভারের চক্রান্তর কথা। জন সিলভার আসলে জলদস্যূ ক্যাপ্টেন ফ্লিন্টের সহযোগি ছিল। জিমে কাধে এসে পরে বিশাল এক দায়িত্ব।নিজে বাচঁতে হবে এবং বাচাঁতে হবে অনেককে। জিম কি পেরেছিল বাচাঁতে? গুপ্তধন পাওয়ার পর কি হয়েছিল? জানতে হলে পড়তে হবে ট্রেজার আইল্যান্ড উপন্যাসটি। রবার্ট লুই স্টিভেন্সনের আরো কিছু বিখ্যাত উপন্যাস আছে। এগুলোর মধ্যে কিডন্যাপড, দ্য স্ট্রেঞ্জ কেস অব ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড অন্যতম।

 

ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক

Man In The Iron Maskসতেরো শতকে ফ্রান্সের কাহিনী।ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক পড়ার আগে আলেকজান্ডার দ্যুমার থ্রি মাস্কেটিয়ার্স বইটি পড়া থাকলে ভাল হয়।পড়া থকলে ভাল,না থাকলেও সমস্যা নেই।ঐতিহাসিক এইসব কাহিনীগুলো পড়ে, আমি একটি কথা খুব ভাল ভাবে বুঝতে পেরেছি।তা হলো সেই সময়ের রাজ পরিবারের জীবন ছিল নিষ্ঠুরতা আর বিশ্বাসঘাতকার ছড়াছড়ি।ইতিহাস ঘাটলে এরকম হাজার হাজার উদাহরণ পাওয়া যাবে।যেমন এই উপন্যাসের ছোট্ট একটি উদাহরন দেই:ফ্রান্সের ত্রয়োদশ রাজা লুইকে রানী অ্যান অভ অস্ট্রিয়া একটি পুত্র সন্তান উপহার দেন। রাজা লুইসহ সারা দেশবাসি আনন্দে মেতে উঠে।তার কিছুক্ষন পর রানী আর একটি পু্ত্র সন্তানের জন্ম দেন।এবার রাজা লুই আর খুশি হতে পারে না।কারন সিংহাসনের উত্তরাধিকারি হতে পরবে একজন।তাই একজনকে নাম,পরিচয়বিহিন করে পাঠিে দেয়া হলো অন্যখানে।নিষ্ঠুরতার চরম নির্দশন।ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক একটি সত্য চরিত্র।কালো কাপড়ের মুখোশে ডাকা কয়েদির মুখ কেউ কখনো দেখেনি। ১৮৪০ সালে আলেকজান্ডার দ্যুমা দাবি করেন মুখোশের আড়ালে এ কারাবন্দি,ফ্রান্সের চতুর্দশ লুইয়ের যমজ ভাই।

থ্রি মাস্কেটিয়ার্স অ্যাথোস,পর্থোস,আরামিস ছিল ফ্রান্সের ত্রয়োদশ রাজা লুইয়র সময়ে বিশ্বস্ত এবং সেরা সৈনিক।ষোল বছর আগের কথা তাদের সাথে যোগ দিয়েছিল  আর একজন মাস্কেটিয়ার্স নাম দারতানিয়া।সবারই বয়স বেড়েছে বাহিনী থেকে অবসর নিয়েছে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স।যে যার মত গুছিয়ে নিয়ে জীবন শুরু করেছে।দারতানিয়া মাস্কেটিয়ার্স বাহিনীর ক্যাপটেন এখন।কারো সাথে কারো তেমন একটা যোগাযোগ নেই।কয়েকটি ঘটনায় তাদের তিন জন আবার এক সাথে হয়।রাতের অন্ধকারে রাজা লুইকে সড়িয়ে ফ্রান্সের ভয়ন্কর কারাগার বিস্তিল থেকে রাজপুত্র ফিলিপকে উঠিয়ে এনে বসান সিংহাসনে।কিন্তুু শেষ রক্ষা হয় না।পালিয়ে যেতে হয় তাদের।আর রাজপুত্র ফিলিপের নির্বাসন হয় সেইন্ট মার্গারিটা দ্বীপে।বাকী জীবন তাকে কাটাতে হবে লোহার মুখোশ পরে।খুললেই মৃত্যুদন্ড।কাহিনীর শেষের দিকে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স অ্যাথোস,পর্থোস,আরামিসর মৃত্যু হয় এবং মৃত্যু হয় মাস্কেটিয়ার্স বাহিনীর মার্শাল অভ ফ্রান্স দারতানিয়ার।ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক নিয়াজ মোরশেদর অনুবাদ করা আর একটি জাদু।অনুবাদের ভাষার কারনেই এত ভাল লেগেছে।

সি উলফ

Sea Wolfজ্যাক লন্ডন সি উলফের মত কোন উপন্যাস লিখতে পারে আমার কল্পনায়ও ছিল না।লন্ডন সাথে আমার পরিচয় পশুপাখি মাধ্যে।তাই সি উলফ বইটি পড়ে খুবই অবাক হয়েছিলাম।বইটি থেকে মনোবিজ্ঞানীদের অনেক কিছু শিখার আছে।হিউম্যান সাইকোলজির অসাধারন কিছু দিক জ্যাক লন্ডন তার  সি উলফ উপন্যাসর মাধ্যমে পাঠকদের কাছ তুলে ধরেছেন।পুরো কাহিনীটি  হামফ্রে ভ্যান উইডেন নামক একজন লেখক-সমালোচক যুবককে নিয়ে।বাড়ি ফিরছিল সে মার্টিনেজ নামের একটি ফেরি স্টিমারে করে।কুয়াশার কারনে ফেরিটি দুর্ঘটনায় পরে এবং ডুবে যায়।সীলমাছ শিকারী স্কুনার গোস্টের নাবিকরা হামফ্রেকে উদ্ধার করে।এবং শুরু হয় তার নতুন জীবন।পরিচয় হয়  কুখ্যাত “দা গোস্ট” নামক সীলশিকারী জাহাজের ক্যাপ্টেনের সাথে।তাকে বাধ্য করা হয় কেবিন-বয়ের চকরি নিতে।

ক্যাপ্টেন উল্ফ লারসেন অদ্ভুত একটি চরিত্র।তার বুদ্ধিমত্তা যেমন,তেমনি ভয়ংকর তাঁর নৃশংসতা এবং অত্যাচার।আবার তার কেবিনে পাওয়া যায় শেক্সপিয়ার,টেনিসনের মত বিখ্যাত লেখকদের বই।একটির সাথে আর একটি মিলে না।কেবিন-বয়ের কাজ করতে গিয়ে তৈরি হয় তার শত্রুতা বার্বুচির সাথে।জাহাজে ভাল কিছু বন্ধুও পায় হামফ্রে।হামফ্রে রুপান্তরিত হয় সম্পূর্ন অন্য মানুষে।পদন্নতি হয় তার জাহাজর মেট হিসাবে।সে বুঝতে পারে গোস্ট শুধু সীল শিকার করে না চোরাচালানিও করে।ঝড়ের কবলে পরা,গোস্টের সীল শিকারের নৌকা খুঁজতে গিয়ে পাঁচ জনের একটি দলকে উদ্ধার করে উল্ফ লারসেন।তাদের মধ্যে একজন অপরুপ সুন্দরী নারী।এবং হামফ্রে ভ্যান উইডেনর জীবনে আসে প্রেম।কিভাবে হামফ্রে মুক্তি পেয়েছিল লারসেনের হাত থেকে তা জানতে পড়তে হবে জ্যাক লন্ডনর সি উলফ গল্পটি।নিয়াজ মোরশেদর অনুবাদের কারনে বইটি আরো আর্কষনিয় হয়েছে।ধন্যবাদ সেবা প্রকাশনীকে।

শী

Sheহেনরি রাইডার হ্যাগার্ড বিশ্ব সাহিত্যের উজ্বল একটি নক্ষত্র।লেখক তার কল্পনার জাদু দিয়ে যে উপন্যাসগুলো লিখেছেন,তারমধ্যে সি অন্যতম।হ্যাগার্ডকে আমার মনে হয়েছে এডভেঞ্চার প্রিয় একজন লেখক।তার প্রায় সব লেখাতেই আজানাকে জানার প্রচন্ড আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।এবং পাঠকদেরকে হ্যাগার্ড নিয়ে গেছেন আজানা আচেনা অনেক দেশে।শী বইটি দিয়ে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড সাথে পরিচয়।তখন থেকে হ্যাগার্ড আমার প্রিয় লেখকদের একজন।বইটি অনুবাদ করেছেন সেবা প্রকাশনী,নিয়াজ মোরশেদের মাধ্যমে।অপূর্ব তার অনুবাদ ক্ষমতা।বইটির শুরু হয়েছে সরল একটি  স্বিকারক্তি দিয়ে।লেখক বলছেন গল্পটি নিজের লেখা নয়।আর একজনের লেখা সত্য কাহিনী লেখক সম্পাদনা করেছেন।কাহিনীটি সত্য নাকি মিথ্যা,পাঠকদেরই ঠিক করতে হবে।হঠাৎ করে একটি পান্ডুলিপি হাতে আসে লেখকের কাছে,এল হোরেস হলি নামক এক ব্যাক্তির কাছ থেকে।যার সাথে মাত্র কয়েক মিনিটের পরিচয়।

হোরেস হলিকে বন্ধু ভেনসির একমাত্র সন্তান লিওর দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে এই গল্পের শুরু।ভেনসির তাকে কিছু রহস্যময় কথা বলে এবং অনুরোধ করে তার ছেলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। হলি কথা দেয় তার অবর্তমানে লিওর অভিভাক হবে সে।ভেনসি কিছু শর্ত দেয় তাকে এবং অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করতে বলে।চাবিসহ লোহার একটি সিন্দুকও দেয় যা শুধু লিওর পচিশ বছর পূর্ন করলে খুলতে পারবে।সিন্দুকর ভিতরে রাখা কাগজগুলো পড়ে লিও যা ইচ্ছে হয় করতে পারবে।লিওকে বাবার আদরে বড় করতে লাগলো হলি।শুধু পড়া-লেখায় নয়,সবকিছুতে পারদর্শি করে মানুষ করতে লগলো।লিওকে দেখে সবাই গ্রিক দেবতা ভাবতো।অবশেষে লিও পূর্ন করলো তার পচিশ বছর।খোলা হল সেই রহস্যময় সিন্দুক।জানা হলো অজানা এক রহস্য।এবং লিওর নেত্রিত্বে শুরু হল তাদের অভিযান।অনেক কষ্ট সয্য করে পৌছাল সেই অজানা দেশে।এবং বন্দি হল ভয়ন্কর  আমাহ্যাগার আদিবাসির হাতে।তারা নিয়ে চললো অজানা এক দেশে।যে দেশ শাষন করে আয়শা নামর এক রহস্যময় নারী।দুহাজর বছর অপেক্ষা করে আছে সে তার প্রমিকার জন্য।অসুস্থ লিওকে দেখা মাত্র আয়শা চিৎকার করে উঠল “ক্যালিত্রুেটিস,ও আমার ক্যালিত্রুেটিস”।     তারপরের কাহিনী জানতে হলে পড়তে হবে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড বিশ্ব বিখ্যাত এই বইটি।

দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য পপার

The Prince and the Popperদ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য পপার দুই মেরুর দুজন কিশোরের কাহিনী।একজন টম ক্যানটি।অন্যজনর এডওয়ার্ড টুডর।একই রকম চেহারা নিয়ে একই সময়ে তারা পৃথিবীতে আসে।টম ক্যানটি জন্ম নেয় বস্তির একিট পরিবারে।তার বাবা একজন ভিখিরি এবং চোর।টম ক্যানটি প্রতিদিনের সঙ্গি হচ্ছে  অভাব-অনটন ঝগড়া,আর উপরি পাওনা ছিল বাবার পিটুনি।মা এবং বোনদেরও তার মত,বাবা ও দাদির হীনদৃষ্টির শিকার হত।টমকে জোড় করে পাঠানো হত ভিক্ষে করতে।এডওয়ার্ড টুডর জন্ম নেয় ব্রিটিশ রাজপরিবারে,রাজা অষ্টম হেনরির ঘরে।রাজপরিবারের সদস্যদের থাকতে হত কঠিন নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে।নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নেই।দুটি কিশোরের না পাওয়ার কষ্ট এবং তাদের স্বপ্নগুলো মার্ক টোয়েন তার চিরাচরিত লেখনির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।মানষের কিছু সৎ গুনাবলি যেমন সততা,চেষ্ট,একে অপরর প্রতি দায়বদ্ধতা খুব সুন্দর ভাবে ব্যবহার করেছেন।দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য পপার বইটি পড়লে ষোড়শ শতাব্দীর মানে তখনকার সময় ব্রিটেনে দরিদ্র মানুষের জীবনমান কেমন ছিল,তখনকার সময় রাজপরিবারের জীবন চক্র ও প্রজাদের সাথে তাদের আচরন কেমন ছিল সহজেই বুঝা যায়।মার্ক টোয়েন তার লেখার মাধ্যমে তা সহজ করে দিয়েছেন।

টমের স্বপ্ন,সে রাজপ্রাসাদের রাজাদের মত করে থাকবে।রাজা যেভাবে রাজ্য শাষন করে সেও করবে।টেমস নদীর পারে সে তাই করে কল্পনায়।আর এডওয়ার্ডের জীবন কঠিন শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ। তার ইচ্ছা-স্বাধীন মত চলাফেরা করার উপায় ছিল না। শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ এই রাজকুমার সবসময় স্বপ্ন দেখত স্বাভাবিক জীবনের।ঘটনাক্রমে তাদের দেখা হয়ে যায়।কেউই তাদের বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট নয় তাই তারা তদের পোষাক পিরবর্তন করে টম হয়ে যায় এডওয়ার্ড আর এডওয়ার্ড হয়ে যায় টম।তারপর শুরু হয় তাদের বিপরীতধর্মী জীবন।একসময় ইংলেন্ড শাষন করার ভার টমের উপর আসে।দরিদ্র প্রজাদের সমস্যাগুলো ভালভাবে জানা থাকায় সে রাজ্য শাষন করতে শুরু করল মহানুভবতার সাথে।আর এডওয়ার্ড পরিচিত হতে লাগলো মানব চরিত্রের অনেক অচেনা আচরনের সাথে।অনেক খারাপ মানুষর মাঝে সে খুঁজে পেল সত্যিকারের কিছু মহৎ মানুষ।প্রতিদিন তার অভিজ্ঞার ভান্ডারে নতুন নতুন জিনিস যোগ হতে থাকে।গল্পের একটি জায়গায় গিয়ে আবার তাদের দেখা হয় এবং তারা আবার আগের জীবনে ফিড়ে যেতে চায়।এডওয়ার্ডকে সবাই প্রতারক ভাবে, কিন্তু টম তখন ডওয়ার্ডই সত্যিকারের রাজা বলে তার আগের জীবনে ফিরে যায়।বইটি বাংলা অনুবাদ  নিয়াজ মোরশেদ করেছেন।এত সহজ ভাষায় অনুবাদ করার জন্যই বইটি এত ভাল লেগেছে।

কাকাবাবু সমগ্র

Kakababu Samagraসুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সৃষ্টি কাকাবাবু। ওরফে রাজা রায়চৌধুরী।চরিত্রটির সাথে ছোট বড় প্রায় সবারই পরিচয় আছে।কাকাবাবু চরিত্রটি সৃষ্টি করে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।এবং বাংলা সাহিত্য পায় আর একটি অসাধারন চরিত্র।অন্য ডিটেকটিভ চরিত্রের সাথে কাকাবাবুর মিল নেই।কাকাবাবু চরিত্রটিকে আমার মনে হয়েছে অ্যাডভেঞ্চারার।তাকে প্রফেসনাল গোয়েন্দা বলা যাবে না।টাকার বিনিময়ে কিছু করেন না।অন্য ডিটেকটিভদের মত তিনি একাই একশ নন কারন তার একটি পায়ে সমস্যা আছে।তাকে ক্রাচে ব্যবহার করতে হয়।তাই বলে কাকাবাবুকে দূর্বল ভাবার কোন কারন নেই।দুহাতে তার প্রচন্ড শক্তি।আর সাহসের কোন তুলনা হয়না।

মিশর রহস্য কিংবা ককাবাবু ও জলদস্যু কাহিনীগুলো পড়লে বুঝা যায়।গল্পগুলো পড়েছি বলেই পৃথিবীর নানা প্রান্তর ঘুড়তে পেরেছি কাকাবাবুর সাথে।কখনও গিয়েছি হিমালয়ে,কখনও মিশরে, কিংবা আন্দামানের ঘন জঙ্গলে।বইগুলো পড়ার সময় আমার সত্যি মনে হত আমিও আছি কাকাবাবু সাথে।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখার ধরনই এমন।পাঠককে গল্পের সাথে এক করে দেন।কাকাবাবুর প্রথম অভিযান গল্পটি পড়লে বুঝা যাবে কি কারনে কাকাবাবু খোঁড়া হলেন।কাকাবাবুর খ্যাতির কথা দেশে এবং দেশের বাইরে সবার জানা।শত্রুরা তাকে ভয় পায়,তার আসাধারন বুদ্ধি এবং অন্তরে অসীম সাহসের জন্য।কাকাবাবু ব্যবহার কিন্তু অমায়িক এবং সবার কাছে সৎজন হিসাবেই পরিচিত।পায়ের অভাব পূরণ করেছে তার ভাইপো সন্তু।কাকাবাবুর সহকারি।অনেক অভিযানে সন্তু সাহায্য করেছে কাকাবাবুকে।অনেক রহস্য সন্তুর সক্রিয় অংশগ্রহন না হলে সমাধান হতো না।উপযুক্ত কেস পেলেই ছুটে যাচ্ছেন কাকাবাবু ও সন্তু।কাকাবাবুর বইগুলো নিয়ে অনেক পরে বের হয়েছে সমগ্র।বর্ণনা বেশি আছে এমন বইপড়তে আমার কখনই ভাল লাগে না।কিন্তু বর্ণনার জায়গায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বেতিক্রম।তার লেখার সবথেকে ভালো দিক হচ্ছে বর্ণনা।যেমন তিনি যখন কোন জায়গার বর্ণনা করেন, তখন পাঠকদের চোখের সামনে সে জায়গাটির ছবি ভেসে উঠবে।কাকাবাবু বনাম চোরাশিকারি গল্পে জঙ্গলের যে বর্ণনা সুনীল দিয়েছেন তার কোন তুলনা হয় না।কাকাবাবুকে নিয়ে নতুন করে আর কোন গল্প লিখা হবে না ভাবলেই খারাপ লাগে।যারা অ্যাডভেঞ্চার গল্প ভালোবাসেন তারা পড়তে পারেন কাকাবাবু।

রবিনহুড

Robin Hoodরবিনহুড বিশ্বর সবচেয়ে আলোচিত এবং বির্তকিত একটি নাম।যে নামের সাথ জড়িয়ে আছে শ্রদ্ধা,ভালবাসা আর ভয়।অসহায় দরিদ্র মানুষের বন্ধু আর অত্যাচারি শাসকদের কাছে মূর্তিমান আতন্ক।রবিনহুড নামের কেউ ছিল কিনা তা নিয়ে অনেকে অনক মত আছে।ইংরেজি উপকথার বেশ জনপ্রিয় একটি চরিত্র। ছোট বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই এক নামে রবিনকে চেনে।রবিনহুড শুধু ইংরেজি সাহিত্যের নয় বিশ্বসাহিত্যর একটি অংশ হয়ে আছে।রবিনহুডকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নাটক এবং সিনেমা।

ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড,ত্রুসেডে অংশগ্রহণ করতে যাওয়ার আগে রাজ্যের ক্ষমতা প্রিন্স জনের হাতে তুলে দিয়ে যান।জন ক্ষমতা পেয়ে লোভে অন্ধ হয়ে যায়।প্রজাদের বেশি কর দিতে বাধ্য করে।কর দিতে না পারলে চলত অমানবিক নির্যাতন।নির্দোষ দুজন বন্দিকে বাচাতে একজন বনরক্ষিকে হত্যার মাধ্যমে রবিনের দস্যু জিবনের শুরু।ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ারের শেরউড বনে রবিন ও তার সহকারীরা ঘাঁটি গেড়েছিলো।তাদের পোষাক ছিল সবুজ রং এর।বন্ধু হিসেবে লিটল জন, মেইড ম্যারিয়ান,পাদ্রী ফ্রায়ার টাক ও রবিনের ভাগ্নে উইল স্কারলেট নাম উল্লেখযোগ্য।এদের মধ্যে লিটল জন ছিল রবিনের ছায়াসঙ্গি।নামে লিটল হলেও তার আকার ছিল দৈত্যের মত।দস্যুদের নেতৃত্ব নওয়ার সময় রবিনহুড বলেছিল নেতৃত্ব অর্জন করে নিতে হয়,জোড় করে তা হয় না।রবিনহুড তা অর্জন করে নিয়ে ছিল এবং একবাক্যে সবাই তার নেতৃত্ব মেনে নিয়ে ছিল।প্রজাদের অত্যাচারী প্রিন্স জন ছিল তার দুচোখের বিষ।রাজা রিচার্ডকে রবিনহুড শ্রদ্ধা এবং ভালবাসতো রাজার সিংহ হৃদয়ের জন্য।এক সময় রাজা রিচার্ডের অনুরোধে রবিনহুড এবং তার অনুচর সবাই রাজার সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়।রাজা রিচার্ডের মারা যাওয়ার পর সিংহাসনে বসলো প্রিন্স জন।চারজন সঙ্গি নিয়ে আবার শেরউড বনে ফিরে আসে রবিন।অনুচরাও ফিরে আসতে থাকে একে একে।রবিনকে ধরার জন্য জন বিশাল বিশাল সেনাবাহিনী পাঠায় শেরউড বনে।অনেক অনুচর হারায় রবিন।মারিয়ানকে হারিয়ে একেবারে ভেঙ্গে পরে রবিন।রাজা জনের মৃত্যুর পর দল ভেঙ্গে দেয়।সাবই চলে গেলেও লিটল জন থেকে যায় রবিনহুডের সাথে।

কাজী আনোয়ার হোসেন সাথে আমি কারও তুলনায় যাব না।তুলনা করলে কাজীদাকে ছোট করা হবে।শুধু বলবো আমার কিশোরবেলা আনন্দময় হয়ে ছিল তাঁর জন্য সেবা প্রকাশনীর মাধ্যমে।আমার ছেলেবেলার অনেকটা অংশ জুড়ে আছে কাজীদা এবং সেবা।কি অদ্ভুদ সুন্দর ছিল সেই দিন গুলো।রবিনহুড বইটি কাজীদা সেরা কাজগুলোর একটি।রবিনহুড কিংবদন্তির মত।তাকে নিয়ে,তার বীবত্ব ও মহত্ত্বের নিয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য গান ও কবিতা।কেন রবিনহুড এত বিখ্যাত হয়েছিল?তার পরের কাহিনী জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।

ড্রাকুলা

Draculaযদি একটি জরিপ করা যেতো তাহলে আমার মনে হয় ৭০% পাঠক বলতো ব্রাম স্টোকার ড্রাকুলা পড়ে আমি ভয় পেয়েছি। পৃথিবীতে হরর কাহিনী অনেক লেখা হয়েছে এবং হবে। কিন্তু ব্রাম স্টোকার ড্রাকুলারের মত হরর কাহিনী পাঠকরা আর পাবেনা। পৃথিবীর হরর কাহিনীর ইতিহাসে ড্রাকুলার অবস্থান সবার উপরে। ড্রাকুলা লিখে বিখ্যাত হয়ে যান আইরিশ লেখক ব্রাম স্টোকার। ভ্যাম্পায়ার কাহিনীর জনপ্রিয়তার পিছনে এই উপন্যাসটির অবদানই সবচেয়ে বেশি। হরর কাহিনী পড়ে পাঠক যদি ভয় নাপায় তাহলে বুঝতে হবে গল্পটিতে প্রাণ নেই। ড্রাকুলা পড়ে ভয় পায়নি এরকম মানুষ হাতে গোনা এক দুই জন হবে। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভ্যাম্পায়ার কাউন্ট ড্রাকুলা। বইটি আমি স্কুলে থাকতে পড়েছিলাম এবং অসাধারন লেগেছিল। বইটি বাংলা অনুবাদ করেছিল সেবা প্রকাশনী, অনুবাদক ছিলেন রকিব হাসান। সেবার অনুবাদগুলো পড়লে মূল বই পড়ার প্রয়োজন হয় না। কারন অনুবাদের ভাষা এক কথায় অপূর্ব।

উপন্যাসের কাহিনী শুরু হয়েছে এক ইংরেজ আইনজীবীকে দিয়ে। জোনাথন হার্কার মাত্র পড়ালেখা শেষ করে চাকরিতে যোগ দিয়েছে। কোম্পানির একটি কাজে তাকে যেতে হয়েছিলো ড্রাকুলার দুর্গে। আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য কাউন্ট ড্রাকুলাকে। কাউন্ট কিছু সম্পত্তি কিনবে ইংল্যান্ডে তাই তার এখানে আসা। অনেকেই তাকে ড্রাকুলার দুর্গে যেতে নিষেধ করে। হার্কারের জানা ছিল না ড্রাকুলা ছিলো অস্ট্রিয়ার ট্রানসালভানিয়ার এক রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার। দিনের বেলা মানুষের মতোই থাকতো, লোকজনের সাথে ভদ্র ব্যবহার করতো। আর রাত হলেই অস্থির হয়ে যেতো রক্তের নেশায়।ড্রাকুলার দুর্গে আসার পর থেকে জোনাথনের কাছে সবকিছু কেমন রহস্যময় মনে হয়।বিশেষ করে কাউন্টের আচরন। ইংল্যন্ড ও লন্ডন সম্পর্কে ড্রাকুলার কোন জ্ঞান ছিলো না। এ বিষয়ে সে হার্কারের কাছ থেকে শিক্ষা নিত।একসময় বুঝতে পারে সে অসলে বন্দি। অনেক কষ্টে জোনাথন পালাতে পারে কাউন্ট ড্রাকুলার দুর্গে থেকে। এর কিছুদিন পরই একটি রাশিয়ান জাহাজে ঘটে রহস্যময় ঘটনা। জাহাজটি ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলো। অজ্ঞাত কারণে এর সব নাবিক নিখোঁজ হয়ে যায়। শুধুমাত্র ক্যাপ্টেনের লাশ পাওয়া যায় হালের সাথে বাঁধা অবস্থায়। ক্যাপ্টেনের ডাইরি পড়ে জানা যায়, এখানে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। তারপর থেকেই জাহাজের মাঝিমাল্লারা একে একে নিখোঁজ হতে থাকে। জাহাজ থেকে কুকুরের মতো একটি জানোয়ারকে লাফিয়ে সাগরতীরে নেমে যেতেও দেখেছিল ক্যাপ্টেন। আর জাহাজের মালের তালিকায় ছিল ট্রানসিলভানিয়া থেকে আসা রুপালি বালি ও গুঁড়ো মাটি।এরপর শুরু হয় কাহিনীর মূল পর্ব।গল্পর শেষ জানতে হলে এখনি পড়ে ফেলুন বইটি। ভয় আপনি পাবেনই।

সিক্সটি ওয়ান আওয়ার্সঃ লি চাইল্ড

61 bookলি চাইল্ডের রোমহর্ষক টানটান উত্তেজনার উপন্যাস হল ‘সিক্সটি ওয়ান আওয়ার্স’। লেখক তার অসাধারণ চিন্তাশক্তি এবং মননশীল লেখনী দ্বারা এই উপন্যাসটিকে করে তুলেছেন অধিক আকর্ষণীয়। এটি পড়তে গেলে পাঠকের মনে হবে, তারা যেন নিজেরাই এই উপন্যাসের এক অংশ! এক বাস দুর্ঘটনায় জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে পড়েন জ্যাক রিচার। কিন্তু তার জন্য সাহায্যের আশায় অপেক্ষা করে থাকেন এক নারী, যে কিনা এক অপরাধী সংগঠনের ব্ল্যাকমেইলের শিকার। জ্যাক রিচারও তাকে সাহায্য করতে চান, কিন্তু ৬১ ঘন্টায় সবকিছু উলট-পালট হয়ে যায়। কিন্তু কি এমন ঘটে এই ৬১ ঘন্টায় যে পুরো উপন্যাসের মোড় ঘুরে যায়? জানতে হলে পড়ুন ‘ সিক্সটি ওয়ান আওয়ার্স’।

ওড থমাসঃ ডিন নুটয

odd thomash bookমৃতরা কথা বলতে পারেনা, যোগাযোগ করতে পারেনা তারা এই বাস্তব দুনিয়ার সাথে। কিন্তু ওড থমাস এক বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী। তার এই বিস্ময়কর ক্ষমতার বলে তিনি যোগাযোগ করতে পারেন সেইসব আত্মাদের সাথে, যারা ইতিমধ্যেই দেহ ত্যাগ করেছে। তার এই আশ্চর্যজনক ক্ষমতা তার জন্য আশীর্বাদ না অভিশাপ তিনি তা বুঝতে পারেন না। তবে জেসব আত্মাকে তিনি আহ্বান করেন, তাদের সাথে সবসময় বন্ধুসুলভ আচরন করার চেষ্টা করেন তিনি। কখনো তারা ওড এর কাছে সুখ-দুঃখের কথা বলেন, কখনো তাদের উপর যে অবিচারগুলো হয়েছে, সেগুলোর বিচার চান! মোট কথা এই বিদেহী আত্মাগুলোর সাথে ওড এর এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে।

সব ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন শহরে এক অচেনা লোকের আবির্ভাব হয়। সে অত্যন্ত ধূর্ত এক অপরাধী থাকে। থমাসের সাথে গড়ে উঠে তার শীতল সম্পর্ক বা শত্রুতা। কিন্তু এর মধ্যেই থমাস লক্ষ্য করেন পঞ্জিকার পাতাগুলো যেন উল্টে যেতে শুরু করেছে! ভবিষ্যতের দিকে না এগিয়ে জীবনযাত্রা কেমন যেন অতীতে ফিরে যাচ্ছে! কিন্তু কারণ কি এই রহস্যময় কাহিনীর?