দি ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ

A Clockwork Orangeস্ট্যনলী কুবরিকের দি ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ ছবিটি দেখলে বুঝা যায় যে সিনেমা হতে পারে বিনোদনের সবচেয়ে আলোকজ্জল মাধ্যম। স্ট্যনলী কুবরিকের প্রতিটি ছবিই মাস্টারপিস। তবে এই ছবিটি তার নিজস্ব  মাত্রাকেই ছাড়িয়ে গেছে। অ্যান্থনি বার্জেসের ১৯৬২ সালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় এই মুভিটি । কিছু ছবি  থাকে যার কোনো তুলনা হয় না। এটা সেরকমেরই একটা ছবি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছবিটি অসাধারণ। সহিংসতা আর সেক্সুয়াল হ্যারেজম্যান্ট নিয়ে অনেক ছবিই তৈরী হয়েছে। কিন্তু সে সব ছবি কতটা ভিতরে যেতে পেরেছে তা সবারই প্রশ্ন। স্ট্যনলী কুবরিকের এই সিনেমাটি একদম ভেতরকার কাহিনী তুলে এনেছে। ছবিটির মূল চরিত্র সতের বছর বয়সী অ্যালেক্স ডিলার্জ ইংল্যান্ড শহরের এক সুদর্শন তরুন। সুদর্শন এবং রুচিশিল। সে দুধ খেতে পছন্দ কর । আর ভালোবাসতো গান। তৎকালীন বিখ্যাত  ব্যান্ড ‘বিটোফেন’ এর দারুণ ভক্ত ছিল সে। চার সদস্য বিশিষ্ট এ গ্যাৎ এর দলনেতা ছিল অ্যালেক্স। স্কুল বিদ্বেশী এই চার তরুণ ছিল ভীষণ দূরন্ত আর নির্ভীক। চুরি, ডাকাতি, মারামারি, ধর্ষণ, বৃদ্ধ লোককে মারধর করা, এমনকি খুন তাদের কাছে কোন ব্যাপারই ছিল না। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম তো আর কেউ বদলাতে পারেনা। তাই তার কাজের ফল তাকে পেতেই হয়। এক সময় বন্ধুদর সাথে  অ্যালেক্সের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। অ্যালেক্সের একাধিপত্যই এর কারণ ছিল। বন্ধুরা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাকে ফেলে  চলে যায় এবং সে পুলিশের কাছে ধরা পরে। একজন মহিলাকে খুনের অপরাধে তাকে ১৪ বছরের সাজা পেতে হয়। কারাগারে তাকে লুডোভিকো চিকিৎসা দেয়া হয়। এই চিকিৎসায়  আসামীদেরকে লুডোভিকো কৌশলের মাধ্যমে খারাপ থেকে ভাল মানুষে পরিণত করা হয়। এই  চিকিৎসার মাধ্যমে অ্যালেক্স ভাল মানুষে পরিণত হয়। প্রকৃতঅর্থে অবশ্য ভাল নয়। এখনও তার খারাপ কাজগুলো করার ইচ্ছা থাকবে, কিন্তু সে চাইলেও সেগুলো করতে পারবে না   চিকিৎসার প্রভাবের কারণে। অ্যালেক্স জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর এভাবেই এগুতে থাকে ছবির কাহিনী। লুডোভিকো চিকিৎসার প্রভাব এবং সমাজে অগ্রণযোগ্যত এই দুইয়ের সংমিশ্রণে বিচিত্র রুপ ধারণ করে অ্যালেক্সের জীবন। এভাবে অপরাধ ও শাস্তির চিরন্তন দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলা হয় সিনেমাটিতে। অসাধারণ এই ছবিটি দর্শক একটানা দেেখে যেতে বাধ্য হবে। একই সাথে পর্দা কাঁপানো আর হৃদয় ছোঁয়া স্ট্যনলী কুবরিকের দি ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ ছবিটি। 

Write a Review with Facebook