তিন নম্বর চোখ(কিশোর কল্পবিজ্ঞান)

Kishor_Kalpobigyan_Samagra_সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। এই নামটির সাথে পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু তার লেখার সাথে পরিচয় হয় বেশ পরে। মুলত ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে কাকাবাবু সমগ্র পড়ি। সেই ছিল প্রথম তার কোন লেখা পড়া। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার অনেক লেখা পড়ার সুযোগ এসেছে। কিন্তু ২-১টি ছাড়া তেমন একটা পড়া হয়নি। আসলে আগ্রহ পাইনি। এর মধ্যে একদিন তার একটা বইয়ের নাম জানতে পারলাম। তিন নম্বর চোখ, একটি কিশোর কল্পবিজ্ঞান। কল্পবিজ্ঞান শুনেই মুলত আগ্রহ জন্মায়। এরপর তার অন্যান্য কল্পবিজ্ঞান নিয়েও খোঁজ করা শুরু করলাম। জানতে পারলাম আকাশ দস্যু, অন্ধকারে সবুজ আলো উপন্যাসের কথাও। এসব খোঁজের মাঝে একদিন তার লেখা “কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র”  খুঁজে পেলাম। তারপর আর দেরি না করে পড়া শুরু করি তিন নম্বর চোখ।

সুজয়।ডাকনাম জয়।বার-তের বছরের এক ছেলে।এই জয়কে ঘিরেই তিন নম্বর চোখ বইয়ের কাহিনী।জয় তার বাবা,মা আর ছোড়দির প্রত্যেক বছর দূরদূরান্তে বেড়াতে যায়।এবার তারা জলগাঁও গিয়েছে।জয়ের মামাবাড়ি।দুই মামাত ভাইয়ের সাথে জয় বেশ আনন্দেই সময় কাটাচ্ছে।সারাদিন ক্রিকেট খেলা,ছুটোছুটি,হাসাহাসি করে তাদের দিন কাটচ্ছে।জয়কে ওর কাকাবাবুর দেওয়া এয়ার গান দিয়েছিল।সেটা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা।এসব পর্যন্ত ঠিকই ছিল।কিন্তু এরপর একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল।তারপর থেকে জয়ের জীবনটাই বদলে গেল।

কাহিনী সংক্ষেপ-
ঘোড়ার আবার শিং হয় না কি!!কিন্তু জয় যে দেখল!তার দুই মামাত ভাই রাণা আর খোকন যে এ কথা মানতেই চায় না।তাই বাধ্য হয়ে ঘোড়ার গাড়িটিকেই থামায় ওরা।কিন্তু কোথায় শিং!শিং যে হাওয়া।উল্টো জয় দেখল,যে গাড়িটিতে একটু আগে ১ জন ছিল এখন কিভাবে যেন ২ জন এসে গেছে।কি করে এটা সম্ভব।এ কথা রাণা-খোকনদের বলতে তারা বলল লোক ১জনই ছিল,১জনই আছে!!তারা তো জয়ের উপর হেসেই অস্থির।কি হয়েছে জয়ের।ও কি পাগল হয়ে গেল,নাকি ও অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই দেখতে পায়!

একটু বিজ্ঞান আর অনেকখানি কল্পনা।এই দুই এর মিশেলেই তিন নম্বর চোখ।যদিও লেখাটিকে আমার ঠিক সায়েন্স ফিকশন মনে হয়নি।আসলে এর আগে জুল ভার্ন,মুহম্মদ জাফর ইকবাল,আইজ্যাক আসিমভ এদের লেখা পড়ে এসেছি।তাদের লেখা সায়েন্স ফিকশনের সাথে এই লেখার ধরন ঠিক মেলে না।উল্টো কাকাবাবুর উপন্যাসগুলোর লেখার স্টাইলের সাথে তিন নম্বর চোখের কিছুটা মিল আছে!(এটাই তো স্বাভাবিক)তবে তা বলে লেখাটি পড়ার মজা বিন্দুমাত্র কমে না।লেখাটি পড়ার সময় বেশ অন্য ধরনের একটি আনন্দ পেয়েছি।তাই পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা বেশ দ্রুতই পড়েছিলাম।

মাত্র ৫৬ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস।উপন্যাস না বলে হয়ত উপন্যাসিকা বললেই ঠিক হত।কিন্তু এই ছোট লেখাটিতেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর চমৎকার লেখনী ফুটে উঠেছে।লেখাটি ছোট হলেও দুর্দান্ত এ কথা বলা চলে।কিন্তু সমস্যা হল লেখাটি হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল।অন্তত আমার কাছে তাই মনে হল।লেখাটি আরেকটু বড় হতেই পারত।কাহিনী যেভাবে এগোচ্ছিল তাতে আরও কিছু আশা করাটা অন্যায় নয়।লেখাটি যে সকল চরিত্র,ঘটনা দিয়ে সাজানো হয়েছে তাতে আরও জমজমাট কিছু দিয়ে লেখাটি শেষ হবে আশা করেছিলাম।কিন্তু এ দেখি ছোট গল্পের মত আশা জাগিয়েই শেষ।এসবের কারনে আমার মনে কিঞ্চিৎ হতাশা থাকলেও তাতে লেখাটির আবেদন কমে যায় না।লেখাটি মুলত কিশোরদের জন্য লেখা হলেও আমার মতে সকল বয়সী পাঠকই পড়তে পারে।

এক নজরে
উপন্যাসের নাম-তিন নম্বর চোখ।
বইয়ের নাম-কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র।
লেখক-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রকাশক-পত্র ভারতী।
আমার রেটিং-৩.৭৫/৫

Write a Review with Facebook