গুপ্তচক্র(মাসুদ রানা ১৭)

guptochokro2গুপ্তচক্র তখনকার গল্প বলে যখন বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ। মাসুদ রানা তখনো পি.সি.আই এর,বি.সি.আই এর হয়নি। এই গল্পে সেই মাসুদ রানার দেখা মেলে যে তখনো এখনকার মত সুপারহিউম্যানে পরিণত হয়নি। এখনকার রানা যেমন যে কোন বিষয়,তা জিওলজি হোক আর আর্কিওলজি হোক, বিশেষজ্ঞ হয়। এই রানা সেরকম নয়। তাই তো রাহাত খান যখন তাকে ফুয়েল এক্সপার্ট এর ছদ্মবেশ নিতে বলে রানা অকপটে বলে সে তো এই সম্পর্কে কিছুই জানেনা। এমনকি রানা মনে মনে ভাবে বুড়োর মাথা একেবারেই বিগড়ে গেছে!!

গুপ্তচক্র মাসুদ রানা আর সোহানার প্রথম একত্রে মিশনের কাহিনী বলে। সোহানাও তখন এখনকার মত অতিমানবী নয়। সে তখন নিতান্তই এক সাধারন তরুণী। তাই তো রানা মনে মনে খুশি নয় সোহানাকে এই মিশনে সঙ্গী হিসেবে পেয়ে।তার উপর এমনেই রানা সহ তার সব কলিগ তখন সোহানার উপর ক্ষেপা।তাদের মতে এই মেয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।তাকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।এসবের মধ্যে যদি রানাকে সাথে নিতে হয় সোহানাকে!!তবে রাহাত খানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধু রানা নয় খোদ রাহাত খানই সন্দিহান!সে মনে করে জীবনে প্রথমবারের মত ভুল সিদ্ধান্ত নিল না তো!

কাহিনী সংক্ষেপ-
মাসুদ রানার এক লক্ষ দেনমোহরে বিয়ে হয়ে গেল সোহানার সাথে,তাও আবার রানার অজান্তে!রাহাত খান দিয়েছেন।যদিও বিয়েটা নকল।তারপর রানা তার স্ত্রী সোহানাকে নিয়ে চলল তার নতুন কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশে।সে এখন ফুয়েল এক্সপার্ট।পথে নানা বাঁধা পেরিয়ে দুজনে উপস্থিত হল ছোট্ট এক দ্বীপে।সেখানে পরিচয় হল আত্মভোলা এক প্রফেসর আর আদিম প্রকৃতির কোচিমার সাথে।সবকিছুই ভাল মনে হচ্ছে এখানে।কিন্তু রানার সন্দেহ যাচ্ছে না কেন?রাতে ঝোপঝাড় নড়ছে,সরছে,চোখের সামনে সংখ্যা কমে যাচ্ছে ঝোপঝাড়ের!রানা হঠাৎ নিজেকে আবিস্কার করল এক গুপ্তচক্রান্তের ভেতরে।

বইটি পড়া শুরু করার পরেই মুগ্ধ হওয়া শুরু।আশ্চর্য সাবলীল ভাষায় বর্ণনা।বইয়ের কাহিনী শুরু হয় সোহানার প্রতি অন্যদের বিষোদগার থেকে।সোহানা সবার শান্তি কেড়ে নিচ্ছে।অল্প কয়েকদিনেই সে হয়ে উঠেছে রাহাত খানের সবচেয়ে প্রিয়।তারই পরামর্শে রাহাত খান অনেক কাজ করে।যেমন রানাকে এক মাসের জন্য ট্রেনিংএ পাঠানো,কিংবা অন্যদের কবিতার বই পাঠানো।সব মিলিয়ে বেশ মজার সব মুহর্ত।যেহেতু রানা-সোহানার প্রথম মিশন তাই বেশ আগ্রহের সাথেই পড়া শুরু করেছিলাম এবং সঠিক প্রতিদানও পাচ্ছিলাম।রানা-সোহানার অম্ল-মধুর সম্পর্কও বেশ ভাল লাগছিল।তাই বেশ দ্রুতই পৃষ্ঠা উল্টাতে লাগল।কিন্তু বইয়ের মাঝপথে এসে আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়ল।কারন কাহিনী যেরকম ভাবছিলাম,মোড় নিচ্ছিল তার অন্যদিকে।তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আগ্রহ ফিরে পেলাম,আবার গতি পেল পড়া।

বইটিকে যদি কাল্পনিক দুই ভাগে ভাগ করা হয়,তবে নিঃসন্দেহে প্রথম অংশ অনেক বেশি উপভোগ্য।দ্বিতীয় অংশ অতটা উপভোগ্য না হলেও ভালই।তবে বইটির শেষ কয়েক পৃষ্ঠা আমার খুব একটা ভাল লাগেনি।হয়ত সে সময় মিস করেছি বর্তমানের সুপারহিরো রানাকে!যদিও তার আগে পুরোটা সময় এই পুরনো রানাকেই বেশ ভাল লাগছিল।আসলে শেষ কয়েক পৃষ্ঠায় রানার ভূমিকা খুবই কম ছিল,যা আমার মোটেও ভাল লাগেনি।তাছাড়া কাহিনী যেরকম ভেবেছিলাম তার অন্যদিকে মোড় নেওয়ার কথা তো আগেই বলেছি।তবে সব মিলে বইটা পড়ে সময়টা ভালই কেটেছে।

এই বইটি সব মিলিয়ে ভাল লাগলেও এরচেয়ে প্রিয় রানার বই আরও আছে আমার।কিন্তু তারপরেও এই বইটি আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে।কারন এটি রানা-সোহানার প্রথম মিশন আর বইটির দুর্দান্ত প্রথম অংশ।এছাড়া সবসময়ের প্রাপ্তি –আমাদের প্রিয় কাজী আনোয়ার হোসেন এর দুর্দান্ত লেখনী।তাই বলতে পারি যারা এখনো বইটি পড়েনি তাদের উচিৎ অতিদ্রুত বইটি পড়ে ফেলা।

এক নজরে-
বইয়ের নাম-গুপ্তচক্র
লেখক-কাজী আনোয়ার হোসেন
প্রকাশক-সেবা
প্রথম প্রকাশ-জুন,১৯৭০
প্রচ্ছদ-হাশেম খান
আমার রেটিং-৭/১০

Write a Review with Facebook